📘 নবীজির সংসার > 📄 সব সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন

📄 সব সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, "নিজের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হোক, এটি নবীজি পছন্দ করতেন না।” ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, “নিজের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে নবীজি সবচেয়ে বেশি মনঃক্ষুণ্ণ হতেন।”
নবীজির অন্যতম গুণ ছিল সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং তিনি প্রায়শই তা ব্যবহার করতেন। আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন, “তোমাদের দুনিয়ার দুটি জিনিসকে আমার নিকট অধিক পছন্দনীয় করা হয়েছে—সুগন্ধি আর নারী, আর সালাতকে করা হয়েছে আমার চোখের শীতলতা।”
নবীজি রসুন ও পেঁয়াজের মতো হালাল জিনিসকে পরিহার করে চলতেন শুধু এ-কারণেই যে, এগুলো মুখে দুর্গন্ধ তৈরি করে। এবার তুলনা করুন সে-সব ধূমপায়ীর কথা, যারা মুখে সিগারেটের গন্ধ নিয়ে বাসায় ফেরে আর তাদের স্ত্রী সর্বোত্তম সাজে সেজে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে; স্বামীর মুখের সিগারেটের দুর্গন্ধ তার মনে কেমন প্রভাব ফেলবে?

টিকাঃ
৭৩. বুখারী (৬৯৭২) ও মুসলিম (১৪৭৪)।
৭৪. আল-মুজাম আল-আওসাতে (৮৭৬৪) আত-তাবারানী。
৭৫. নাসাঈ (৩৯৩৯)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 স্ত্রীর জন্য নিজেকে সুশোভিত করতেন ও অন্যদের নির্দেশ দিতেন

📄 স্ত্রীর জন্য নিজেকে সুশোভিত করতেন ও অন্যদের নির্দেশ দিতেন


আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন, “যার চুল আছে, সে যেন একে সম্মান করে।”
আসিম আবাদী বলেন, “এর অর্থ হলো, চুল যেন পরিষ্কার রাখা হয়, তেল দেওয়া হয়, আঁচড়ানো হয় এবং এলোমেলো না রাখা হয়। কারণ সবাই পরিষ্কার-সুন্দর বেশভূষা দেখতে পছন্দ করে।”
একজন স্বামীর উচিত স্ত্রীর জন্য উত্তম বেশে সাজা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। যেমন, ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, “আমি চাই যেমন আমার স্ত্রী আমার জন্য সাজুক, তেমনি আমিও যেন তার জন্য সাজি। কারণ, আল্লাহ বলেন, “পুরুষদের উপর নারীদেরও অধিকার আছে, যেমন নিয়ম অনুযায়ী পুরুষদের নারীদের উপর অধিকার আছে।” ৭৮ (আল কুরআন, ২: ২২৮) ৭৯
সাহল ইবনে সাদ আল-আনসারী থেকে বর্ণিত, “একবার এক লোক রাসূলুল্লাহর কক্ষের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল, তাঁর হাতে একটি চিরুনি এবং সেটি দিয়ে তিনি নিজের চুল ঠিক করছিলেন।” ৮০

টিকাঃ
৭৬. আবু দাউদ (৪১৬৩)।
৭৭. 'আওন আল-মা'বুদ (১১৮৩/৯)।
৭৮. স্বামীর উপর স্ত্রীর নির্দিষ্ট অধিকার আছে, ঠিক যেমন স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার রয়েছে。
৭৯. তাফসীর ইবন জারীর আত-তাবারি (৫৩২/৪)।
৮০. বুখারী (৫৯২৪) ও মুসলিম (২১৫৬)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 স্ত্রীর কাছে নবীজি ﷺ তাঁর চুল ধুয়ে ও আঁচড়িয়ে নিতেন

📄 স্ত্রীর কাছে নবীজি ﷺ তাঁর চুল ধুয়ে ও আঁচড়িয়ে নিতেন


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “ইতিকাফের সময় আল্লাহর রাসূল আমার দিকে তার মাথা হেলে দিতেন এবং আমি তার চুল আঁচড়ে দিতাম। ৮১” ৮২
আয়িশা রাযি. আরও থেকে বর্ণিত, “আমার মাসিকের সময়ও আমি রাসূলুল্লাহর চুল ধুয়ে দিতাম।” ৮৩

টিকাঃ
৮১. তার ঘরের জানালা মসজিদের অনেক কাছাকাছি ছিল, তাই তিনি জানালা দিয়ে মাথা ভেতরে হেলে দিতে পারতেন।
৮২. বুখারী (২০২৯) ও মুসলিম (২৯৭)।
৮৩. বুখারী (৩০১) ও মুসলিম (২৯৭)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 হারাম না হলে স্ত্রীদের অনুরোধ মানার চেষ্টা করতেন

📄 হারাম না হলে স্ত্রীদের অনুরোধ মানার চেষ্টা করতেন


জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. হজ্বের সময় আয়িশার রাযি. মাসিক হওয়ার ঘটনা এবং এতে তার কান্নায় ভেঙে পড়ার বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “আল্লাহর রাসূল মানুষের সাথে ব্যবহারে অনেক সহজ-সরল ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী কোনো কিছু করতে চাইলে তিনি তাতে অনুমতি দিতেন।” ৮৪
আরেক ঘটনা সম্পর্কে আয়িশা রাযি. বলেন, “একদিন আল্লাহর রাসূল আমার সঙ্গে বসেছিলেন, এমন সময় বেশ কিছু উচ্চকণ্ঠে আওয়াজ শুনতে পেয়ে দেখতে গেলেন, কী হচ্ছে। তিনি দেখলেন, কিছু আবেসিনীয় বালক বল্লম নিয়ে খেলা করছে। তিনি আমাকে বলেন, "আয়িশা, তুমি আসবে তাদের খেলা দেখতে?" আমি উঠে গিয়ে তার কাঁধে থুতনি রেখে খেলা দেখতে লাগলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার (দেখা) শেষ হলো?' তাঁর কাছে আমার অবস্থান দেখার জন্য (কতক্ষণ এভাবে থাকেন) প্রত্যেকবার আমি 'না' বলতে লাগলাম।” ৮৫
ইবনে বাত্তাল রাহ. বলেন, “নবীজি কতটা মহান চরিত্রের ছিলেন, তা এ ঘটনা প্রমাণ করে এবং প্রত্যেকের উচিত হারাম না হলে স্ত্রীর খুশিকে নিজের জন্য কষ্টকর হলেও প্রাধান্য দেওয়া।” ৮৬
অন্য এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, “আমি তাদের খেলা দেখছিলাম এবং আমিই শেষে খেলা দেখা বন্ধ করে সরে এলাম।” ৮৭

টিকাঃ
৮৪. মুসলিম (১২১৩)।
৮৫. তিরমিযী (৩৬৯১)। মূল হাদিস বুখারী (৪৫৫) ও মুসলিম (৮৯২)।
৮৬. ইবনে বাত্তালের বুখারীর ব্যাখ্যা (৫৪৮/২)।
৮৭. মুসলিম (৮৯২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00