📄 ঘুম থেকে উঠেই দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি দিনে বা রাতে যখনই ঘুমাতেন, ঘুম থেকে উঠে প্রথমে মিসওয়াক করতেন, তারপর উযু করতেন।” ৬৯
আল-কুরতুবী রাহ. বলেন, “ঘন ঘন মিসওয়াক করা যে বেশ পছন্দনীয় সুন্নাহ, এর প্রমাণ এই হাদীস। কারণ, সারা দিন পার হলে মুখের গন্ধ দুর্গন্ধে পরিণত হবে, এটাই স্বাভাবিক।” ৭০
ইবনে কায়্যিম রাহ. বলেন, “রাসূলুল্লাহ মিসওয়াক ব্যবহার করতে পছন্দ করতেন। ঘুম থেকে উঠে, উযুর পূর্বে, সালাতের শুরুতে এবং বাসায় প্রবেশের পর মিসওয়াক করতেন। মিসওয়াকের জন্য তিনি আরাক” গাছের ডাল ব্যবহার করতেন।” ৭২
ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দাম্পত্য জীবনে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ, স্বামী বা স্ত্রীর যে-কারও অপরিচ্ছন্নতার কারণে দুজনের মাঝে রোগ হতে পারে।
টিকাঃ
৬৯. আবু দাউদ (৫৭)।
৭০. আল-মুফহিম (১৩৬/৩)।
৭১. আরাক গাছ এক প্রকার মরু উদ্ভিদ, যার বৈজ্ঞানিক নাম সালভাডোরা পারসিকা (Salvadora persica)। এই গাছের কচি ডাল দিয়ে দাঁত মাজার মিসওয়াক তৈরি হয়। - সম্পাদক
৭২. যাদুল মা'আদ (১৬৭/১)।
📄 সব সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, "নিজের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হোক, এটি নবীজি পছন্দ করতেন না।” ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, “নিজের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে নবীজি সবচেয়ে বেশি মনঃক্ষুণ্ণ হতেন।”
নবীজির অন্যতম গুণ ছিল সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং তিনি প্রায়শই তা ব্যবহার করতেন। আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন, “তোমাদের দুনিয়ার দুটি জিনিসকে আমার নিকট অধিক পছন্দনীয় করা হয়েছে—সুগন্ধি আর নারী, আর সালাতকে করা হয়েছে আমার চোখের শীতলতা।”
নবীজি রসুন ও পেঁয়াজের মতো হালাল জিনিসকে পরিহার করে চলতেন শুধু এ-কারণেই যে, এগুলো মুখে দুর্গন্ধ তৈরি করে। এবার তুলনা করুন সে-সব ধূমপায়ীর কথা, যারা মুখে সিগারেটের গন্ধ নিয়ে বাসায় ফেরে আর তাদের স্ত্রী সর্বোত্তম সাজে সেজে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে; স্বামীর মুখের সিগারেটের দুর্গন্ধ তার মনে কেমন প্রভাব ফেলবে?
টিকাঃ
৭৩. বুখারী (৬৯৭২) ও মুসলিম (১৪৭৪)।
৭৪. আল-মুজাম আল-আওসাতে (৮৭৬৪) আত-তাবারানী。
৭৫. নাসাঈ (৩৯৩৯)।
📄 স্ত্রীর জন্য নিজেকে সুশোভিত করতেন ও অন্যদের নির্দেশ দিতেন
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন, “যার চুল আছে, সে যেন একে সম্মান করে।”
আসিম আবাদী বলেন, “এর অর্থ হলো, চুল যেন পরিষ্কার রাখা হয়, তেল দেওয়া হয়, আঁচড়ানো হয় এবং এলোমেলো না রাখা হয়। কারণ সবাই পরিষ্কার-সুন্দর বেশভূষা দেখতে পছন্দ করে।”
একজন স্বামীর উচিত স্ত্রীর জন্য উত্তম বেশে সাজা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। যেমন, ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, “আমি চাই যেমন আমার স্ত্রী আমার জন্য সাজুক, তেমনি আমিও যেন তার জন্য সাজি। কারণ, আল্লাহ বলেন, “পুরুষদের উপর নারীদেরও অধিকার আছে, যেমন নিয়ম অনুযায়ী পুরুষদের নারীদের উপর অধিকার আছে।” ৭৮ (আল কুরআন, ২: ২২৮) ৭৯
সাহল ইবনে সাদ আল-আনসারী থেকে বর্ণিত, “একবার এক লোক রাসূলুল্লাহর কক্ষের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল, তাঁর হাতে একটি চিরুনি এবং সেটি দিয়ে তিনি নিজের চুল ঠিক করছিলেন।” ৮০
টিকাঃ
৭৬. আবু দাউদ (৪১৬৩)।
৭৭. 'আওন আল-মা'বুদ (১১৮৩/৯)।
৭৮. স্বামীর উপর স্ত্রীর নির্দিষ্ট অধিকার আছে, ঠিক যেমন স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার রয়েছে。
৭৯. তাফসীর ইবন জারীর আত-তাবারি (৫৩২/৪)।
৮০. বুখারী (৫৯২৪) ও মুসলিম (২১৫৬)।
📄 স্ত্রীর কাছে নবীজি ﷺ তাঁর চুল ধুয়ে ও আঁচড়িয়ে নিতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “ইতিকাফের সময় আল্লাহর রাসূল আমার দিকে তার মাথা হেলে দিতেন এবং আমি তার চুল আঁচড়ে দিতাম। ৮১” ৮২
আয়িশা রাযি. আরও থেকে বর্ণিত, “আমার মাসিকের সময়ও আমি রাসূলুল্লাহর চুল ধুয়ে দিতাম।” ৮৩
টিকাঃ
৮১. তার ঘরের জানালা মসজিদের অনেক কাছাকাছি ছিল, তাই তিনি জানালা দিয়ে মাথা ভেতরে হেলে দিতে পারতেন।
৮২. বুখারী (২০২৯) ও মুসলিম (২৯৭)।
৮৩. বুখারী (৩০১) ও মুসলিম (২৯৭)।