📄 বাসার কাজে স্ত্রীদের সাহায্য করতেন
আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত, আয়িশাকে রাযি. জিজ্ঞাসা করা হলো, “রাসূলুল্লাহ বাড়ির ভেতরে কী কী কাজ করতেন?” তিনি জবাব দিলেন, “নবীজি স্ত্রীদের কাজে সাহায্য করতেন এবং সালাতের সময় হলে উঠে চলে যেতেন।” ৬২
অন্য এক বর্ণনায় আছে, “নবীজি তো একজন মানুষই ছিলেন, যিনি নিজেই নিজের কাপড় সেলাই করতেন, ভেড়ার দুধ দোয়াতেন এবং পুরুষরা বাসায় সচরাচর যে-সব কাজ করে, সেগুলো করতেন।” ৬৩
আরেক বর্ণনায় আছে, “নবীজি নিজের জামা নিজে ধুতেন, নিজের জুতা নিজে মেরামত করতেন এবং পুরুষরা বাসায় সচরাচর যে-সব কাজ করে, সেগুলো করতেন।” ৬৪
বর্তমান সময়ে কিছু পুরুষ আছে, যারা স্ত্রীর ঘাড়ে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেয়। তাকে ক্লান্ত বা অসুস্থ দেখেও তার কোনো ভাবান্তর হয় না, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় না। এমন আচরণ অবশ্যই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের পরিপন্থী।
টিকাঃ
৬২. বুখারী (৬৭৬)।
৬৩. আদাবুল মুফরাদ (৫৪১) ও তিরমিযী (১১৩)।
৬৪. আহমদ (২৪৩৮২)।
📄 বাহনে উঠতে স্ত্রীকে সাহায্য করতেন
আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, “একবার দেখলাম, সাফিয়্যা রাযি. উটে ওঠার চেষ্টা করছেন। এটা দেখে নবীজি তাকে তাঁর নিজের গাউন দিয়ে ঢেকে দিলেন (যেন ওঠার সময় আওরাহ ৬৫ অসাবধানতাবশত উন্মুক্ত হয়ে না পড়ে), তারপর উটের সামনে হাঁটু গেড়ে বসলেন, যেন তাঁর হাঁটুর ওপর পা রেখে তিনি উটে উঠতে পারেন।” ৬৬
এ থেকে বোঝা যায়, স্ত্রীদের সাথে নবীজির আচরণ কতটা কোমল ও ভালোবাসাপূর্ণ ছিল।
টিকাঃ
৬৫. আওরাহ শব্দের সাধারণ অর্থ ঢেকে রাখার বস্তু। তবে এখানে আওরাহ বলতে নারীরা ঘর থেকে বের হলে শরীরের যতটুকু ঢাকতে হয় অর্থাৎ পর্দা করতে হয় সেটার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। – সম্পাদক
৬৬. বুখারী (২৮৯৩) ও মুসলিম (১৩৬৫)।
📄 শারীরিক পরিচ্ছন্নতা ও সুবাসের ব্যাপারে খেয়াল রাখতেন
বাসায় ফিরেই আল্লাহর রাসূল মিসওয়াক দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতেন, যেন তাঁর স্ত্রী তাঁর মুখ থেকে দুর্গন্ধ না পায়। সুরায় ইবনে হানী রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশাকে রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, “বাসায় ঢুকে নবীজি প্রথম কোন কাজ করতেন?" তিনি উত্তরে বললেন, “মিসওয়াক দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতেন।” ৬৭
সুয়ূতী রাহ. বলেন, “তাঁর এরকম অভ্যাসের পেছনে কারণ ছিল সারাদিন বাইরে কথা বলে তাঁর মুখের গন্ধ বদলে যেত। স্ত্রীদের সাথে সুন্দরতম ব্যবহারে রাসূল এতটাই যত্নবান ছিলেন যে, এই সামান্যতম দুর্গন্ধ না রাখার ব্যাপারেও তিনি খেয়াল রাখতেন।” ৬৮
টিকাঃ
৬৭. মুসলিম (২৫৩)।
৬৮. হাসিয়াত, আস-সুয়ূতি (১০/১)।
📄 ঘুম থেকে উঠেই দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি দিনে বা রাতে যখনই ঘুমাতেন, ঘুম থেকে উঠে প্রথমে মিসওয়াক করতেন, তারপর উযু করতেন।” ৬৯
আল-কুরতুবী রাহ. বলেন, “ঘন ঘন মিসওয়াক করা যে বেশ পছন্দনীয় সুন্নাহ, এর প্রমাণ এই হাদীস। কারণ, সারা দিন পার হলে মুখের গন্ধ দুর্গন্ধে পরিণত হবে, এটাই স্বাভাবিক।” ৭০
ইবনে কায়্যিম রাহ. বলেন, “রাসূলুল্লাহ মিসওয়াক ব্যবহার করতে পছন্দ করতেন। ঘুম থেকে উঠে, উযুর পূর্বে, সালাতের শুরুতে এবং বাসায় প্রবেশের পর মিসওয়াক করতেন। মিসওয়াকের জন্য তিনি আরাক” গাছের ডাল ব্যবহার করতেন।” ৭২
ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দাম্পত্য জীবনে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ, স্বামী বা স্ত্রীর যে-কারও অপরিচ্ছন্নতার কারণে দুজনের মাঝে রোগ হতে পারে।
টিকাঃ
৬৯. আবু দাউদ (৫৭)।
৭০. আল-মুফহিম (১৩৬/৩)।
৭১. আরাক গাছ এক প্রকার মরু উদ্ভিদ, যার বৈজ্ঞানিক নাম সালভাডোরা পারসিকা (Salvadora persica)। এই গাছের কচি ডাল দিয়ে দাঁত মাজার মিসওয়াক তৈরি হয়। - সম্পাদক
৭২. যাদুল মা'আদ (১৬৭/১)।