📘 নবীজির সংসার > 📄 স্ত্রীর অনুপযুক্ত আচরণও সহ্য করতেন

📄 স্ত্রীর অনুপযুক্ত আচরণও সহ্য করতেন


নুমান ইবনে আল-বশির থেকে বর্ণিত, “আবু বাকর রাযি. আল্লাহর রাসূলের ﷺ ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। এ-সময় বাইরে থেকে তিনি শুনতে পেলেন আয়িশা রাযি. রাসূলুল্লাহর ﷺ চেয়ে উঁচু গলায় কথা বলছে। ঘরে প্রবেশের অনুমতি পেয়ে তিনি আয়িশাকে রাযি. (কিছুটা রাগান্বিত হয়ে) নিজের দিকে টেনে বললেন, “তোমার সাহস কত! আল্লাহর রাসূলের ﷺ সাথে উঁচু গলায় কথা বল!” আল্লাহর রাসূল ﷺ (তাকে রক্ষা করার জন্য) তাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে গেলেন। আবু বাকর রাযি. চলে গেলে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে (সান্ত্বনা দিয়ে) বললেন, “দেখলে, কীভাবে তোমাদের মাঝে এসে তোমাকে রক্ষা করলাম!” কিছুক্ষণ পর আবু বাকর ফিরে এসে তাঁদের দুজনকে হাস্যোজ্জ্বল দেখলেন। আবু বাকর বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আপনাদের যুদ্ধে যেমন শরিক হয়েছিলাম, আপনাদের খুশিতেও তেমনি আমাকে শরিক করুন।” ৫৯

টিকাঃ
৫৯. আহমাদ (১৭৯২৭)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 স্ত্রী সারাদিন দূরে থাকলে তা সহ্য করতেন

📄 স্ত্রী সারাদিন দূরে থাকলে তা সহ্য করতেন


উমার রাযি. বলেন, “আমরা কুরাইশরা স্ত্রীদের ওপর প্রভাবশালী ছিলাম, কিন্তু মদীনায় এসে দেখলাম, এখানে স্ত্রীরা স্বামীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে রাখে। আমাদের স্ত্রীরা তাদের দেখে এসব শিখতে লাগল। একদিন আমি আমার স্ত্রীর ওপর রেগে গেলাম এবং আমার স্ত্রী আমার সাথে তর্ক করতে লাগল। আমি আরও রেগে গেলাম। তার তর্ক করা আমার একদমই সহ্য হলো না। (এটা দেখে) সে আমাকে বলল, 'আমার কথার পিঠে কথা বলা আপনার পছন্দ হচ্ছে না, কিন্তু আল্লাহর শপথ, রাসূলুল্লাহর স্ত্রীরা তার কথার পিঠে কথা বলে। এমনকি কেউ কেউ তো রাত না হওয়া পর্যন্ত সারাদিন রাসূল থেকে দূরে থাকে।' আমি (এ-কথা শুনে) দ্রুত (আমার মেয়ে) হাফসার সাথে দেখা করতে গেলাম। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'তোমাদের কেউ কি নবীজির কথার পিঠে কথা বলে?' সে উত্তর দিল, 'হ্যাঁ।' তারপর জিজ্ঞেস করলাম, 'তুমি কখনো রাত না আসা পর্যন্ত তার থেকে নিজেকে সারা দিন পৃথক রাখ?' সে উত্তর দিল, 'হ্যাঁ।” ৬০
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এই রেওয়ায়েত প্রমাণ করে যে, নারীদের সাথে কঠিন আচরণ করা নিন্দনীয়। কারণ, নবীজি নারীদের সঙ্গে ব্যবহারে আনসারদের প্রথা মেনে নিয়ে তার নিজের লোকদের (কুরাইশ) প্রথা ছেড়ে দিয়েছিলেন। এ থেকে আরও বোঝা যায় যে, স্ত্রীর সাথে ধৈর্যসহ আচরণ করা উচিত এবং তার ভুলগুলো ক্ষমা করে দেওয়া উচিত; কিন্তু সেটি যদি আল্লাহর অধিকার হয়, তবে তা ভিন্ন কথা।” ৬১

টিকাঃ
৬০. বুখারী (৮৯) ও মুসলিম (১৪৭৯)।
৬১. ফাতহুল বারী (২৯১/৯)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 বাসার কাজে স্ত্রীদের সাহায্য করতেন

📄 বাসার কাজে স্ত্রীদের সাহায্য করতেন


আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত, আয়িশাকে রাযি. জিজ্ঞাসা করা হলো, “রাসূলুল্লাহ বাড়ির ভেতরে কী কী কাজ করতেন?” তিনি জবাব দিলেন, “নবীজি স্ত্রীদের কাজে সাহায্য করতেন এবং সালাতের সময় হলে উঠে চলে যেতেন।” ৬২
অন্য এক বর্ণনায় আছে, “নবীজি তো একজন মানুষই ছিলেন, যিনি নিজেই নিজের কাপড় সেলাই করতেন, ভেড়ার দুধ দোয়াতেন এবং পুরুষরা বাসায় সচরাচর যে-সব কাজ করে, সেগুলো করতেন।” ৬৩
আরেক বর্ণনায় আছে, “নবীজি নিজের জামা নিজে ধুতেন, নিজের জুতা নিজে মেরামত করতেন এবং পুরুষরা বাসায় সচরাচর যে-সব কাজ করে, সেগুলো করতেন।” ৬৪
বর্তমান সময়ে কিছু পুরুষ আছে, যারা স্ত্রীর ঘাড়ে তার সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেয়। তাকে ক্লান্ত বা অসুস্থ দেখেও তার কোনো ভাবান্তর হয় না, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় না। এমন আচরণ অবশ্যই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের পরিপন্থী।

টিকাঃ
৬২. বুখারী (৬৭৬)।
৬৩. আদাবুল মুফরাদ (৫৪১) ও তিরমিযী (১১৩)।
৬৪. আহমদ (২৪৩৮২)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 বাহনে উঠতে স্ত্রীকে সাহায্য করতেন

📄 বাহনে উঠতে স্ত্রীকে সাহায্য করতেন


আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, “একবার দেখলাম, সাফিয়্যা রাযি. উটে ওঠার চেষ্টা করছেন। এটা দেখে নবীজি তাকে তাঁর নিজের গাউন দিয়ে ঢেকে দিলেন (যেন ওঠার সময় আওরাহ ৬৫ অসাবধানতাবশত উন্মুক্ত হয়ে না পড়ে), তারপর উটের সামনে হাঁটু গেড়ে বসলেন, যেন তাঁর হাঁটুর ওপর পা রেখে তিনি উটে উঠতে পারেন।” ৬৬
এ থেকে বোঝা যায়, স্ত্রীদের সাথে নবীজির আচরণ কতটা কোমল ও ভালোবাসাপূর্ণ ছিল।

টিকাঃ
৬৫. আওরাহ শব্দের সাধারণ অর্থ ঢেকে রাখার বস্তু। তবে এখানে আওরাহ বলতে নারীরা ঘর থেকে বের হলে শরীরের যতটুকু ঢাকতে হয় অর্থাৎ পর্দা করতে হয় সেটার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। – সম্পাদক
৬৬. বুখারী (২৮৯৩) ও মুসলিম (১৩৬৫)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00