📄 আদর করে স্ত্রীদের উপনামে ডাকতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “একদিন কিছু হাবশি বালক মসজিদে ঢুকে খেলতে শুরু করল। তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে বললেন, 'হুমাইরা ৩২, তুমি কি তাদের (খেলা) দেখবে?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।” ৩৩ কাজি 'আইয়্যায রাহ. বলেন, “এভাবে উপনাম দিয়ে তিনি তাঁর প্রেম ও ভালোবাসার প্রকাশ করতেন।” ৩৪
টিকাঃ
৩২. এটি একটি উপনাম, যা এসেছে আরবি শব্দ আল-হামরা থেকে—অর্থ: লালচে সাদা রঙ; আয়িশার (রা) গায়ের রঙের জন্য এ-শব্দটি তিনি ব্যবহার করেছেন।
৩৩. সুনান আল-কুবরাতে (৮৯৫১) নাসাঈ।
৩৪. মাশারিক আল-আনওয়ার (৭০২/১)।
📄 স্ত্রীদের নিয়ে দাওয়াত কবুল করতেন
আনাস থেকে বর্ণিত, “আল্লাহর রাসূলের ﷺ এক ফার্সি (বংশোদ্ভূত) প্রতিবেশী ছিল, সে ছিল স্যুপ তৈরিতে দক্ষ। একবার সে আল্লাহর রাসূলের জন্য স্যুপ প্রস্তুত করে তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতে এল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'আয়িশারও কি দাওয়াত আছে, সেও কি আমন্ত্রিত?' সে বলল, 'না।' তখন আল্লাহর রাসূলও বললেন, 'না (তিনি আমন্ত্রণ কবুল করবেন না)।' সে আবার তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতে ফিরে এল। আল্লাহর রাসূল আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'এখানে কি আয়িশাও আছে, সেও কি আমন্ত্রিত?' সে বলল, 'না।' আল্লাহর রাসূলও বললেন, 'না (তিনি আমন্ত্রণ কবুল করবেন না)।' সে আবার তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতে ফিরে এল। আল্লাহর রাসূল ﷺ আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'এখানে তো আয়িশাও আছে, নাকি!' তৃতীয়বারে লোকটি বলল, 'হ্যাঁ।' তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ তার আমন্ত্রণ কবুল করলেন এবং আয়িশাকে রাযি. নিয়ে তার বাড়িতে গেলেন।” ৩৫
নববী রাহ. বলেন, “আল্লাহর রাসূল ﷺ আয়িশাকে ছাড়া একাই আমন্ত্রণে যাওয়া অপছন্দ করতেন। এ থেকে দেখা যায়, তিনি স্ত্রীদের প্রতি কতটা কোমল ছিলেন এবং তাদের অধিকার কীভাবে রক্ষা করতেন। স্ত্রীদের সাথে সর্বোচ্চ মর্যাদার সাথে তিনি আচরণ করতেন।” ৩৬
টিকাঃ
৩৫. মুসলিম (২০৩৭)।
৩৬. মুসলিম গ্রন্থের ব্যাখ্যায় (২০৯/১৩) নববী।
📄 স্ত্রীরা দেখা শেষে চলে যাবার সময় নিজে এগিয়ে দিতেন
সাফিয়্যা বিনতে হুওয়াই রাযি. থেকে বর্ণিত, "নবীজি ﷺ ইতিকাফে (ইবাদাতের জন্য বাইরের দুনিয়া থেকে আলাদা হয়ে মসজিদে অবস্থান করা) ছিলেন এবং আমি রাতে তাঁর সাথে দেখা করতে গেলাম। তাঁর সাথে কথা বলে আমি উঠে এলাম। তিনি ﷺ আমার সঙ্গে উঠে এসে বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে এলেন। দুজন আনসারী আমাদের পাশ দিয়ে গেল। নবীজিকে ﷺ দেখে তারা যাওয়ার গতি বাড়াল। নবীজি ﷺ বলে উঠলেন, 'থামো, সে সাফিয়্যা বিনতে হুওয়াই (আমার স্ত্রী)।' তারা বললেন, 'সুবহানাল্লাহ, আল্লাহর রাসূল (আমরা আপনার সম্পর্কে কোনো সন্দেহ করি না!)' এ-কথা শুনে নবীজি ﷺ বললেন, 'শয়তান মানুষের রক্তের মধ্যে দিয়ে চলে। আমার আশঙ্কা হলো, সে হয়তো সে তোমাদের অন্তরে (সন্দেহ) ওয়াসওয়াসা দেবে।” ৩৭
আল্লাহর রাসূল ﷺ ইবাদাতে (ইতিকাফ) বিঘ্ন ঘটিয়েও পথে রক্ষার জন্য স্ত্রীকে বাড়ি পর্যন্ত দিয়ে এলেন—যদিও ইতিকাফ অবস্থায় কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নিয়ত করার পর মসজিদ থেকে বের হওয়া উচিত না।
টিকাঃ
৩৭. বুখারী (২০৩৮) ও মুসলিম (২১৭৫)।
📄 নবীজি ﷺ স্ত্রীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ জীবন কাটিয়েছেন
আল্লাহর রাসূল কার্যতভাবেই আল্লাহর কথার বাস্তবায়ন নিজের পারিবারিক জীবনে করেছেন, "তাদের সাথে দয়ার্দ্র জীবন যাপন করো।"; (আল কুরআন, ৪: ১৯) তাই আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, “মুমিনদের মধ্যে ঈমানে সর্বোৎकृष्ट তারাই, যারা ব্যবহারে সর্বোত্তম; আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারাই, যারা স্ত্রীদের সাথে ব্যবহারে সর্বোত্তম।” ৩৮
টিকাঃ
৩৮. তিরমিযী (১০৮২)।