📄 একই চাদরের নিচে স্ত্রীর সঙ্গে ঘুমাতেন
নবীজির আরেক স্ত্রী উম্মে সালামা থেকে বর্ণিত, “একবার এক পশমি চাদরের নিচে আমি নবীজির সঙ্গে শুয়ে ছিলাম; সে-অবস্থায় আমার মাসিক শুরু হলো। চাদর থেকে আস্তে করে বের হয়ে আমার মাসিকের কাপড় পরলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার কি ঋতুস্রাব হয়েছে?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি আমাকে ডাকলেন, আমি আবার চাদরের ভেতর শুয়ে পড়লাম।” ২৭
নববী রাহ. বলেন, “সম্ভবত তিনি আশঙ্কা করছিলেন মাসিকের রক্ত হয়তো নবীজির গায়ে লেগে যাবে, তাই আস্তে করে বের হয়ে গিয়েছিলেন। এটিও হতে পারে যে, তিনি রক্ত আসায় বিরক্ত হয়ে কাপড় পরিবর্তন করে পরিষ্কার কাপড় পরার জন্য বের হয়েছিলেন।” ২৮
নবীজির স্ত্রী মায়মুনা রাযি. থেকে বর্ণিত, “মাসিক অবস্থায়ও আল্লাহর রাসূলের সাথে আমি শুয়ে থাকতাম এবং আমাদের মাঝখানে কাপড় থাকত।” ২৯
অনেক ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে মাসিক অবস্থায় দূরত্ব বজায় রাখে এবং একসাথে ঘুমায় না পর্যন্ত। এটি রাসূলের সুন্নাহর পরিপন্থী। এটি মেয়েদের মানসিকভাবেও আঘাত দেয়। কারণ, মাসিকের সময় মানসিকভাবে মেয়েরা বিপর্যস্ত থাকে এবং খুব দ্রুত মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এ-অবস্থায় স্বামী যদি তার থেকে দূরে থাকে, তবে সেটি তার জন্য আরও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়, তাকে আরও বিষণ্ণ করে তোলে।
টিকাঃ
২৭. বুখারী (২৯৮) ও মুসলিম (২৯৬)।
২৮. মুসলিম গ্রন্থের (২০৭/৩) ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।
২৯. মুসলিম (২৯৫)।
📄 স্ত্রীর সাথে একই পাত্র থেকে গোসল করতেন
আয়িশা রাযি. বলেন, “আমি আল্লাহর রাসূলের সাথে একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। তিনি আমার আগে পানি নেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতেন, আর আমি তাঁর আগে নেওয়ার জন্য। তিনি বলতেন, 'আমার জন্য রাখো।' আমি বলতাম, 'আমার জন্য রাখুন।” ৩০
উম্মে সালামা থেকে বর্ণিত, “মাসিক অবস্থাতেও আল্লাহর রাসূল ﷺ ও আমি একই পাত্রে থেকে গোসল করতাম।” ৩১
টিকাঃ
৩০. বুখারী (২৫০) মুসলিম (৩২১) এবং নাসাঈ (২৩৯)।
৩১. বুখারী (৩২২) ও মুসলিম (৩২২)।
📄 আদর করে স্ত্রীদের উপনামে ডাকতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “একদিন কিছু হাবশি বালক মসজিদে ঢুকে খেলতে শুরু করল। তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে বললেন, 'হুমাইরা ৩২, তুমি কি তাদের (খেলা) দেখবে?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।” ৩৩ কাজি 'আইয়্যায রাহ. বলেন, “এভাবে উপনাম দিয়ে তিনি তাঁর প্রেম ও ভালোবাসার প্রকাশ করতেন।” ৩৪
টিকাঃ
৩২. এটি একটি উপনাম, যা এসেছে আরবি শব্দ আল-হামরা থেকে—অর্থ: লালচে সাদা রঙ; আয়িশার (রা) গায়ের রঙের জন্য এ-শব্দটি তিনি ব্যবহার করেছেন।
৩৩. সুনান আল-কুবরাতে (৮৯৫১) নাসাঈ।
৩৪. মাশারিক আল-আনওয়ার (৭০২/১)।
📄 স্ত্রীদের নিয়ে দাওয়াত কবুল করতেন
আনাস থেকে বর্ণিত, “আল্লাহর রাসূলের ﷺ এক ফার্সি (বংশোদ্ভূত) প্রতিবেশী ছিল, সে ছিল স্যুপ তৈরিতে দক্ষ। একবার সে আল্লাহর রাসূলের জন্য স্যুপ প্রস্তুত করে তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতে এল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'আয়িশারও কি দাওয়াত আছে, সেও কি আমন্ত্রিত?' সে বলল, 'না।' তখন আল্লাহর রাসূলও বললেন, 'না (তিনি আমন্ত্রণ কবুল করবেন না)।' সে আবার তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতে ফিরে এল। আল্লাহর রাসূল আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'এখানে কি আয়িশাও আছে, সেও কি আমন্ত্রিত?' সে বলল, 'না।' আল্লাহর রাসূলও বললেন, 'না (তিনি আমন্ত্রণ কবুল করবেন না)।' সে আবার তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতে ফিরে এল। আল্লাহর রাসূল ﷺ আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'এখানে তো আয়িশাও আছে, নাকি!' তৃতীয়বারে লোকটি বলল, 'হ্যাঁ।' তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ তার আমন্ত্রণ কবুল করলেন এবং আয়িশাকে রাযি. নিয়ে তার বাড়িতে গেলেন।” ৩৫
নববী রাহ. বলেন, “আল্লাহর রাসূল ﷺ আয়িশাকে ছাড়া একাই আমন্ত্রণে যাওয়া অপছন্দ করতেন। এ থেকে দেখা যায়, তিনি স্ত্রীদের প্রতি কতটা কোমল ছিলেন এবং তাদের অধিকার কীভাবে রক্ষা করতেন। স্ত্রীদের সাথে সর্বোচ্চ মর্যাদার সাথে তিনি আচরণ করতেন।” ৩৬
টিকাঃ
৩৫. মুসলিম (২০৩৭)।
৩৬. মুসলিম গ্রন্থের ব্যাখ্যায় (২০৯/১৩) নববী।