📘 নবীজির সংসার > 📄 স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে কুণ্ঠাবোধ করতেন না

📄 স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে কুণ্ঠাবোধ করতেন না


আল্লাহর রাসূল খাদিজা রাযি. সম্পর্কে বলেন, “তার প্রতি ভালোবাসা আল্লাহ নিজেই আমার হৃদয়ে গেঁথে দিয়েছেন।” ১৭
নববী রাহ. বলেন, “এ-হাদীস এটিই ইঙ্গিত করে আল্লাহর এ-অনুমোদন খাদিজার (নবীজির প্রতি) ভালোবাসাপূর্ণ আচরণের কারণেই সম্ভব হয়েছে।” ১৮
আয়িশার জন্য আল্লাহর রাসূলের ভালোবাসা অনেক সুস্পষ্ট ও সুবিদিত ছিল। নবীজি কাউকে তার মতো ভালোবাসেননি এবং কেবল তাকেই তিনি কুমারী হিসাবে বিয়ে করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল তার জন্য তার ভালোবাসা কখনোই লুকাতেন না।
আমর ইবনে আল-আস রাযি. আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞাস করলেন, ""মানুষের মধ্যে কে আপনার সবচেয়ে প্রিয়?' নবীজি বললেন, 'আয়িশা।' তিনি (আমর) তখন জিজ্ঞেস করলেন, 'পুরুষদের মধ্যে কে?' তিনি বললেন, 'তার বাবা।” ১৯
নবীজির সুন্নাতের বাইরে গিয়ে অনেক ব্যক্তি স্ত্রীর প্রতি বছরের পর বছর ভালোবাসার কথা জানায় না। অনেকে তো স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশকে বেমানান ও অপুরুষোচিত মনে করে। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ব্যক্ত করা এমন এক কাজ, যার মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক মমতাপূর্ণ ও শক্তিশালী হয় এবং সুখী পারিবারিক জীবন লাভ করা সম্ভব হয়। স্বামী স্ত্রীকে ভালোবাসায় সিক্ত রাখবে এবং মাঝে মাঝেই তাঁকে ভালোবাসার কথা জানাবে—এমনটি মেয়েরা খুব পছন্দ করে। দুর্ভাগ্যবশত কিছু নারী কেবলমাত্র মিষ্টি মিষ্টি কথার কারণেই অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, যা তারা কখনোই তাদের স্বামীর কাছ থেকে পায় না।

টিকাঃ
১৭. মুসলিম (২৪৩৫)
১৮. মুসলিম (২০১/১৫) গ্রন্থের ব্যাখ্যা, নববী (রাহ.)
১৯. বুখারী (৩৬৬২) ও মুসলিম (২৩৮৪)

📘 নবীজির সংসার > 📄 বাসা থেকে বের হবার সময় স্ত্রীকে চুমো দিতেন

📄 বাসা থেকে বের হবার সময় স্ত্রীকে চুমো দিতেন


উরওয়া রাযি. তার খালা আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, “আয়িশা রাযি. বলেন, 'নবীজি তাঁর স্ত্রীদের চুমো দিয়ে উযু না করেই জামাআতের সাথে সালাতের জন্য বেরিয়ে যেতেন।' আমি বললাম, 'এটি নিশ্চয়ই আপনার ক্ষেত্রে হতো।' তিনি শুনে হেসে উঠলেন।” ২০
নবীজি সাওম রেখেও তাঁর স্ত্রীদের চুমো দিতেন। ” আয়িশা রাযি. বলেন, “নবীজি * সাওম রেখে তাঁর স্ত্রীদের চুমো দিতেন এবং আলিঙ্গন করতেন। আর তোমাদের মধ্যে প্রবৃত্তির উপর সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ তাঁরই ছিল।” ২২

টিকাঃ
২০. তিরমিযী (৭৯), আবু দাউদ (১৭৮), নাসাঈ (১৭০) ও ইবনে মাজাহ (৫০২)
২১. উত্তেজনা ব্যতিরেক নিজ স্ত্রীকে সিয়ামরত অবস্থায় চুমু দেয়া জায়িজ। এতে সিয়ামের কোন সমস্যা হয় না। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন-
يقبل وهو صائم ويباشر وهو صائم ، وكان املككم لإربه অর্থাৎ - রাসূলুল্লাহ সিয়ামরত অবস্থায় চুমু খেতেন এবং সিয়ামরত অবস্থায় আলিঙ্গন করতেন। তবে নিজ আবেগ উত্তেজনার উপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিল তোমাদের সকলের চেয়ে বেশি। [বুখারী-১৯২৭] তবে যুবকদের এটা থেকে নিরাপদ থাকাই শ্রেয়। কেননা হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত-
أن رجلا سأل النبي ﷺ عن المباشرة للصائم فرخص له وأتاه آخر فسأله فنهاه فإذا الذي رخص له شيخ والذي نهاه شاب ২৫ অর্থাৎ - জনৈক ব্যক্তি নবী কে সিয়ামরত অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বনের ব্যপারে প্রশ্ন করলে তিনি অনুমতি দেন। ইত্যবসরে অপর একজন এরূপ প্রশ্ন করলে তাকে নিষেধ করেন। তখন আমরা দেখলাম যে, যাকে অনুমতি দিলেন তিনি ছিলেন বৃদ্ধ আর যাকে নিষেধ করেন তিনি ছিলেন যুবক। [আবু দাউদ-২৩৮৭] অনেক মুহাক্কিক উলামায়ে কিরাম বলেন, মূলত এখানে বয়সের চেয়ে কারো উত্তেজিত হওয়ার সম্ভাব্যতা দেখে হুকুম নির্ধারণ হবে। সাধারণত বৃদ্ধ লোকের উত্তেজিত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় তাকে অনুমতি দেয়া হয়েছে আর যুবককে নিষেধ করা হয়েছে; যেহেতু যুবকদের শারীরিক উত্তেজনা প্রবল থাকে। তবে কেউ যদি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণের ব্যপারে আত্মবিশ্বাস রাখে তবে তার জন্য জায়িজ। সম্পাদক
২২. বুখারী (১৯২৭) ও মুসলিম (১১০৬)

📘 নবীজির সংসার > 📄 আয়িশা রাযি. পান করার পর তার পান করার স্থানে ঠোঁট লাগিয়ে পান করতেন

📄 আয়িশা রাযি. পান করার পর তার পান করার স্থানে ঠোঁট লাগিয়ে পান করতেন


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “ঋতুবতী অবস্থায় আমি পান করে (পাত্রটি) নবীজির হাতে দিলে আমি যেখানে মুখ লাগাতাম, তিনি পাত্রের সে-জায়গাতেই মুখ লাগিয়ে পান করতেন। আমি কোনো হাড় থেকে মাংস খেলে তিনি হাড়ের সেখানেই মুখ লাগিয়ে খেতেন, যেখানে আমি খেয়েছি।” ২৩
আলি আল-কারী রাহ. বলেন, “আয়িশার রাযি. প্রতি ভালোবাসা দেখানোর জন্য তিনি তার প্রতিটি পদচিহ্ন অনুসরণ করতেন।” ২৪
এটি বলার অপেক্ষা রাখে না, রাসূলের এই সুন্নাত অনুসরণ করলে স্ত্রী স্বামীকে ভালোবাসতে বাধ্য।

টিকাঃ
২৩. মুসলিম (৩০০)
২৪. মিরক্কাত আল-মাফাতীহ (৪৮৭/২)

📘 নবীজির সংসার > 📄 আয়িশার রাযি. উরুতে মাথা রেখে ঘুমাতেন

📄 আয়িশার রাযি. উরুতে মাথা রেখে ঘুমাতেন


আয়িশা রাযি. বলেন, “আমরা একবার নবীজি সঙ্গে সফরে বের হয়েছিলাম। সে-বার আমার গলার হার ভেঙে (হারিয়ে) গেল। আল্লাহর রাসূল অন্য লোকদের সঙ্গে নিয়ে খুঁজলেন। সে-স্থানে কোনো জলাধার ছিল না, আবার লোকদের কাছে কোনো পানিও ছিল না। আবু বাকর রাযি. এসে আমাকে বকতে লাগতেন। তখন আল্লাহর রাসূল আমার উরুতে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। আবু বাকর আমাকে বকতে বকতে পাশ বরাবর ঝাঁকাতে লাগলেন। আমার তখন কিছু করার ছিল না, কারণ, নবীজি আমার উরুর উপর ঘুমিয়ে ছিলেন।” ২৫

আয়িশা রাযি. আরও বলেন, “ঋতুবতী অবস্থায় আমার উরুর ওপর নবীজি মাথা রেখে ঘুমাতেন। তারপর ঘুম থেকে উঠে তিনি কুরআন তিলাওয়াত করতেন।” ২৬

এই রেওয়ায়েত নবীজির উন্নত চরিত্র ও আখলাকের প্রতিফলন। এ থেকে আমরা আরও শিক্ষা পাই, মাসিক অবস্থায় স্ত্রীকে স্পর্শ করা, তার সাথে বসা ও খাওয়াদাওয়া করা থেকে বিরত থাকা অনুচিত。

টিকাঃ
২৫. বুখারী (৪৬০৭) ও মুসলিম (৫৫০)।
২৬. বুখারী (৩৬৭২) ও মুসলিম (২৬৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00