📄 স্ত্রীদের অধিকার রক্ষায় তিনি ﷺ ছিলেন তৎপর
আল্লাহর রাসূল ﷺ খাদিজার রাযি. জীবদ্দশায় ও তার মৃত্যুর পর অনেক প্রশংসা করতেন; এমনকি সব স্ত্রীর মধ্যে তারই সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করতেন। তিনি অনেক আগ্রহ নিয়ে তার গুণগুলোর কথা বলতেন, হৃদয়ে তার স্থানের কথা জানাতেন। মৃত্যুর পরও তাঁর হৃদয়ের সিংহাসন জুড়ে ছিলেন খাদিজা রাযি.।
📄 খাদিজার রাযি. নাম বলার সময় তার প্রশংসা করতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “যখনই আল্লাহর রাসূল খাদিজার রাযি. নাম উল্লেখ করতেন, তার প্রশংসা করতেন। তার প্রশংসা করা এবং আল্লাহর কাছে দুআ করার ব্যাপারে কখনোই তিনি যেন ক্লান্ত হতেন না।” ৮
বর্তমান যুগে মানুষের বৈবাহিক অবস্থাগুলো আসলেই অবাক করার মতো। আজকাল যখন কোনো ব্যক্তি তার প্রথম স্ত্রী মৃত্যুর পর নতুন স্ত্রীকে বিয়ে করে— বিয়ের আসরেই দেখা যায়, সে দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রশংসা করছে আর প্রথম স্ত্রীর ভুলগুলো আলোচনা করছে। আরেকদিকে দেখা যায়, তালাকের পর স্ত্রীর দোষগুলো স্বামী বলে বেড়াচ্ছে আর এর সাথে সেগুলোর ব্যাপারে সে কতটা ধৈর্যশীল ছিল, বর্ণনা করতে থাকে। কিছু কিছু মানুষ তো এমন থাকে, যত ভালোই হোক না কেন, স্ত্রীর কোনো ভালো গুণের কথা কারও কাছেই বলে না।
টিকাঃ
৬. বুখারী (৩৮১৮) ও মুসলিম (২৪৩৫)।
৭. ফাতহুল বারী (১৩৭/৭)।
৮. তাবারানী (৩১৯/১)।
📄 খাদিজার রাযি. কথা মনে পড়লে খুশি হয়ে উঠতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “একবার খাদিজার বোন হালা বিনতে খুওয়াইলিদ আল্লাহর রাসূলের ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলেন। তার গলার স্বর খাদিজার কণ্ঠের অনুরূপ ছিল। এতে রাসূলর খাদিজার রাযি. কথা মনে পড়ল। তিনি খুশিতে বলে উঠলেন, 'হে আল্লাহ, এটা যেন হালা (খাদিজার বোন) হয়!' আমি ঈর্ষা অনুভব করলাম; বললাম, 'আপনি কুরাইশের সেই বৃদ্ধা মহিলার কথা এখনো বলেন, যার কিনা দাঁত পড়ে গিয়েছিল (বৃদ্ধ বয়সে কারণে); অনেক আগেই যে কিনা মারা গিয়েছে আর আল্লাহ আপনার জন্য উত্তম আরেকজন দিয়ে তাকে প্রতিস্থাপন করেছেন।' তাঁর মুখের অভিব্যক্তি অন্ধাকারচ্ছন্ন হয়ে উঠল, যা আমি তাঁর মধ্যে কেবলমাত্র আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে দেখতে পেতাম (পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মতো আযাবের ভয়ে) কিংবা তাঁর ওপর যখন ওহী আসত। তিনি বললেন, ‘আল্লাহ আমাকে তার চেয়ে উত্তম কাউকে দিয়ে প্রতিস্থাপন করেননি। সে আমার ওপর বিশ্বাস করেছিল, যখন লোকেরা আমাকে অবিশ্বাস করত। সে আমাকে তার সম্পদ দিয়ে শক্তি যুগিয়েছিল, যখন লোকেরা আমাকে পরিত্যাগ করেছিল। তার মাধ্যমেই আল্লাহ আমাকে সন্তান দিয়েছেন।' এ-কথা শুনে আয়িশা রাযি. তাঁকে বললেন, 'যিনি আপনাকে সত্য বাণীসহ পাঠিয়েছেন, আমি তাঁর কসম করে বলছি, আজকের পর আমি তার প্রশংসা ছাড়া আর কোনো কথা বলব না।” ৯
ইবনে হাজর বলেন, “এ-হাদীস প্রমাণ করে যে, যখন কেউ কাউকে ভালোবাসে, তখন সে সে-সব বিষয়কেও ভালোবাসে, যা মাশুক (প্রেমাস্পদ) ভালোবাসে। মাশুকের সাথে সম্পর্কিত, এমনকি তার সাথে চেহারায় মিল আছে, এমন ব্যক্তিদেরকেও সে ভালোবাসে।” ১০
টিকাঃ
৯. আহমাদ (২৪৩৪৩) এবং আত-তাবারানী (১৪/২৩)
১০. ফাতহুল বারী (১৪০/৭)
📄 খাদিজার রাযি. বান্ধবীদের উপহার পাঠাতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ খাদিজার কথা ঘন ঘন উল্লেখ করতেন। যখনই নবীজি কোনো ভেড়া কুরবানি করতেন, মাংস কেটে টুকরো করার পর কিছু অংশ তার বান্ধবীদের কাছেও পাঠাতেন।” ১১
অন্য এক বর্ণনায় আছে, “যখনই নবীজি কোনো ভেড়া কুরবানি করতেন, তিনি তার বান্ধবীদের খোঁজ নিতেন এবং তাদের জন্য উপহারস্বরূপ মাংস পাঠাতেন।” ১২
আল-মুবারাকপুরী রাহ. বলেন, “খাদিজার বান্ধবীদের উপহার দেওয়া তার প্রতি নবীজির ভালোবাসার প্রতিফলন; তার দয়ার কথা স্মরণ করে এমনটা করতেন তিনি।” ১৩
নববী রাহ. বলেন, “এ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, নবীজি স্ত্রীদের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন এবং তাদের জীবদ্দশায় ও তাদের মৃত্যুর পরেও উদারতার সাথে আচরণ করতেন। তাদের বান্ধবী ও আত্মীয়দের প্রতিও তিনি ছিলেন উদার।” ১৪
আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, “যখনই আল্লাহর রাসূল ﷺ কোনো উপহার পেতেন, তিনি বলতেন, 'এটি অমুকের কাছে নিয়ে যাও, কেননা সে খাদিজার বান্ধবী। এর কিছু তমুকের বাসায় নিয়ে যাও, কারণ সে খাদিজাকে ভালোবাসে।” ১৫
টিকাঃ
১১. বুখারী (৩৫৩৪) ও মুসলিম (২৪৩৫)
১২. তিরমিযী (১৯৪০)
১৩. তুহফাতুল আওযায়ী (১৩৪/৬)
১৪. মুসলিম (২০২/১৫) এর ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)
১৫. আদাবুল মুফরাদ (২৩২)