📄 প্রচুর ব্যস্ততা সত্ত্বেও স্ত্রীদের সাথে গল্প করতেন
এক রাতে আয়িশা রাযি. নবীজিকে উম্মে জারের গল্প বলছিলেন। একবার এগারোজন নারী একসাথে জড়ো হয়ে কোনো গোপনীয়তা ছাড়াই নিজ নিজ স্বামীর ব্যাপারে বলবে বলে শপথ নিল। তারপর প্রত্যেকেই তার স্বামী সম্পর্কে বলল। উন্মে জার তার স্বামীর অনুগ্রহ ও ভালোবাসার বর্ণনা দেওয়ার পর দেখা গেল, তদের মধ্যে তার স্বামীই সর্বোত্তম ছিল। আয়িশা রাযি. বলেন, “আল্লাহর রাসূল আমাকে বললেন, 'আমি তোমার কাছে তেমন, যেমনটা ছিল আবু জার উম্মে জারের কাছে।” ৩
একজন স্বামীকে অবশ্যই তার স্ত্রীর জন্য সময় বের করে তার কাছে বসে তার কথা শোনা উচিত, গল্প করা উচিত। অনেক স্ত্রী অভিযোগ করে তাদের স্বামী সারাদিন কর্মক্ষেত্রে থাকে এবং তারা বাড়ি ফিরে এসে হয় টিভি দেখতে বসে যায়, নাহয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইন্টারনেটে ব্যস্ত থাকে। আর তার স্ত্রী চেয়ে থাকে—কখন সে একটু তার দিকে মনোযোগ দেবে। কিন্তু দেখা যায়, স্বামী কাজ শেষ করে ক্লান্ত হয়ে পড়ায় কথা বলার কোনো আগ্রহই তার মধ্যে থাকে না। একসময় মরা মানুষের মতো ঘুমিয়ে পড়ে। অনেকে তো টিভি দেখতে দেখতে রিমোট কন্ট্রোল হাতেই ঘুমিয়ে যায়। এসব আচরণের কারণে বেচারা স্ত্রী নিজেকে অবহেলিত মনে করতে থাকে।
অনেক ব্যবসায়ী বাড়িতে ফিরে এসেও ব্যবসার কাগজে ডুবে থাকে, যেন অফিসের প্রথম শিফট শেষ করে এসে বাসায় দ্বিতীয় শিফট শুরু করেছে। আর ওদিকে তার স্ত্রী তার সামান্য মনোযোগ পাবার আশায় ব্যাকুল হয়ে বসে থাকে। বর্তমানে স্বামীদের জন্য যোগাযোগের আধুনিক মাধ্যমগুলো স্ত্রীর সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখার পথ সুগম করে দিয়েছে। চাইলেই সে এসএমএস বার্তা পাঠাতে পারে বা কল দিয়ে কথা বলে খোঁজখবর নিতে পারে। এতে এক মিনিটেরও বেশি সময় লাগে না, কিন্তু এটাই স্ত্রীর কাছে অনেক কিছু।
টিকাঃ
৩. বুখারী (৫১৮৯) ও মুসলিম (২৪৪৮)।
📄 ইবাদাতে সময় দেওয়ার পাশাপাশি স্ত্রীদেরকেও সময় দিতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি (ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত) সালাত পড়তেন। এরপর আমি জেগে থাকলে আমার সাথে কথা বলতেন। নাহলে জামাআতের সময় হওয়া পর্যন্ত শুয়ে থাকতেন।” ৪
টিকাঃ
৪. বুখারী (১১৬১)।
📄 ভ্রমণের সময় স্ত্রীর সাথে গল্প করতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ কোনো যাত্রায় বের হওয়ার আগে স্ত্রীর মাঝে লটারি করতেন। একবার লটারিতে আমার ও হাফসার নাম এল। আমরা দুজনে তাঁর সাথে বের হলাম। নবীজি (উটের পিঠে) সারা দিন ভ্রমণে থাকতেন আর রাত হলে আমার সাথে হাঁটতেন আর গল্প করতেন।” ৫
টিকাঃ
৫. বুখারী (৫২১১) ও মুসলিম (২৪৪৫)।
📄 স্ত্রীদের অধিকার রক্ষায় তিনি ﷺ ছিলেন তৎপর
আল্লাহর রাসূল ﷺ খাদিজার রাযি. জীবদ্দশায় ও তার মৃত্যুর পর অনেক প্রশংসা করতেন; এমনকি সব স্ত্রীর মধ্যে তারই সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করতেন। তিনি অনেক আগ্রহ নিয়ে তার গুণগুলোর কথা বলতেন, হৃদয়ে তার স্থানের কথা জানাতেন। মৃত্যুর পরও তাঁর হৃদয়ের সিংহাসন জুড়ে ছিলেন খাদিজা রাযি.।