📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 গাওওয়ায় তাবুকের ব্যাপারে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি

📄 গাওওয়ায় তাবুকের ব্যাপারে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি


কুরআনে কারীমে গাযওয়ায়ে তাবুক সম্পর্কে যেসব আলোচনা এসেছে, তা পবিত্র কুরআনের জিহাদ বিষয়ক বিশদ আলোচনা হিসেবে বিবেচিত হয়। এ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়ে প্রথমে مسلمانوںকে খ্রিষ্টান শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করা ঈমান থেকে বিচ্যুতি ও মুনাফিকি। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন :
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ ٱنفِرُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱثَّاقَلْتُمْ إِلَى ٱلْأَرْضِ ۚ أَرَضِيتُم بِٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا مِنَ ٱلْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَٰعُ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا فِى ٱلْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ إِلَّا تَنفِرُوا۟ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْـًٔا ۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের হয়েছে কী, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়, তখন তোমরা আরো জোরে মাটি কামড়ে ধরো। তোমরা কি আখেরাতের স্থলে দুনিয়ার জীবনকেই বেশি পছন্দ করো? আখেরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী তো অতি সামান্য। তোমরা যদি যুদ্ধাভিযানে বের না হও, তাহলে তোমাদেরকে ভয়াবহ শাস্তি দেয়া হবে, আর তোমাদের স্থলে অন্য সম্প্রদায়কে আনা হবে এবং তোমরা তার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান。

সূরা তাওবার বর্ণনাভঙ্গির দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, সেখানে গাযওয়ায়ে তাবুকের ব্যাপারে বেশকিছু ভিন্নতর বর্ণনাভঙ্গি অবলম্বন করা হয়েছে। যারা গাযওয়ায়ে তাবুকে অংশগ্রহণ করেননি, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে তাদের তিরস্কার করেছেন। গাযওয়ায়ে তাবুকে অংশগ্রহণের জন্য যেভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে বা অংশগ্রহণ না করা ব্যক্তিদের যেভাবে তিরস্কার করা হয়েছে অন্য কোনো যুদ্ধে সেভাবে করা হয়নি। তিনি বলেন:
اِنْفِرُوْا خِفَافًا وَّ ثِقَالًا وَّ جَاهِدُوْا بِاَمْوَالِكُمْ وَّاَنْفُسِكُمْ فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ
তোমরা হালকা ও ভারি উভয় অবস্থায় যুদ্ধে বের হও এবং তোমাদের মাল ও জান নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে。

গাযওয়ায়ে তাবুক ছিল নবীজির জীবনের শেষ জিহাদ। এই যুদ্ধকে আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে একটি নামের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন। কুরআনে এই যুদ্ধকে কঠিন সময়ের যুদ্ধ বলে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
لَقَدْ تَابَ اللّٰهُ عَلَى النَّبِيِّ وَ الْمُهَاجِرِيْنَ وَ الْاَنْصَارِ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْهُ فِيْ سَاعَةِ الْعُسْرَةِ
অবশ্যই আল্লাহ নবী, মুহাজির ও আনসারদের তাওবা কবুল করলেন, যারা তার অনুসরণ করেছে সংকটপূর্ণ মুহূর্তে。

গাযওয়ায়ে তাবুকের বিবরণে আল্লাহ তাআলা দরিদ্র সাহাবীদের নিয়ে মুনাফেকদের উপহাসের জবাবে তাদেরকে ভয়াবহ শাস্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
اَلَّذِيْنَ يَلْمِزُوْنَ الْمُطَّوَّعِيْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ فِي الصَّدَقٰتِ وَ الَّذِيْنَ لَا يَجِدُوْنَ اِلَّا جُهْدَهُمْ فَيَسْخَرُوْنَ مِنْهُمْ سَخِرَ اللّٰهُ مِنْهُمْ وَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ
মুমিনদের মধ্যে যারা স্বতস্ফূর্তভাবে দান করে এবং যারা নিজেদের শ্রম ছাড়া কিছুই পায় না, তাদেরকে যারা দোষারোপ করে ও বিদ্রূপ করে, আল্লাহ তাদেরকে বিদ্রূপ করেন আর তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি。
এই গাযওয়ায় অংশগ্রহণকারী ত্রিশ হাজার মুজাহিদের জন্য আল্লাহ তাআলা অসীম সাওয়াব বরাদ্দ রেখেছেন মর্মেও ঘোষণা দিয়েছেন।

টিকাঃ
১৫৬৯. ফিকহুস সীরাহ লিলগাযালী: ৪০৪।
১৫৭০. সুরা তাওবা ৩৮-৩৯।
১৫৭১. সুরা তাওবা ৪১।
১৫৭২. সুরা তাওবা ১১৭।
১৫৭৩. সুরা তাওবা ৭৯।

কুরআনে কারীমে গাযওয়ায়ে তাবুক সম্পর্কে যেসব আলোচনা এসেছে, তা পবিত্র কুরআনের জিহাদ বিষয়ক বিশদ আলোচনা হিসেবে বিবেচিত হয়। এ যুদ্ধের বিবরণ দিতে গিয়ে প্রথমে مسلمانوںকে খ্রিষ্টান শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করা ঈমান থেকে বিচ্যুতি ও মুনাফিকি। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন :
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ ٱنفِرُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱثَّاقَلْتُمْ إِلَى ٱلْأَرْضِ ۚ أَرَضِيتُم بِٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا مِنَ ٱلْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَٰعُ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا فِى ٱلْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ إِلَّا تَنفِرُوا۟ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْـًٔا ۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের হয়েছে কী, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়, তখন তোমরা আরো জোরে মাটি কামড়ে ধরো। তোমরা কি আখেরাতের স্থলে দুনিয়ার জীবনকেই বেশি পছন্দ করো? আখেরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী তো অতি সামান্য। তোমরা যদি যুদ্ধাভিযানে বের না হও, তাহলে তোমাদেরকে ভয়াবহ শাস্তি দেয়া হবে, আর তোমাদের স্থলে অন্য সম্প্রদায়কে আনা হবে এবং তোমরা তার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান。

সূরা তাওবার বর্ণনাভঙ্গির দিকে খেয়াল করলে দেখা যায়, সেখানে গাযওয়ায়ে তাবুকের ব্যাপারে বেশকিছু ভিন্নতর বর্ণনাভঙ্গি অবলম্বন করা হয়েছে। যারা গাযওয়ায়ে তাবুকে অংশগ্রহণ করেননি, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে তাদের তিরস্কার করেছেন। গাযওয়ায়ে তাবুকে অংশগ্রহণের জন্য যেভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে বা অংশগ্রহণ না করা ব্যক্তিদের যেভাবে তিরস্কার করা হয়েছে অন্য কোনো যুদ্ধে সেভাবে করা হয়নি। তিনি বলেন:
اِنْفِرُوْا خِفَافًا وَّ ثِقَالًا وَّ جَاهِدُوْا بِاَمْوَالِكُمْ وَّاَنْفُسِكُمْ فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ
তোমরা হালকা ও ভারি উভয় অবস্থায় যুদ্ধে বের হও এবং তোমাদের মাল ও জান নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে。

গাযওয়ায়ে তাবুক ছিল নবীজির জীবনের শেষ জিহাদ। এই যুদ্ধকে আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে একটি নামের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন। কুরআনে এই যুদ্ধকে কঠিন সময়ের যুদ্ধ বলে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
لَقَدْ تَابَ اللّٰهُ عَلَى النَّبِيِّ وَ الْمُهَاجِرِيْنَ وَ الْاَنْصَارِ الَّذِيْنَ اتَّبَعُوْهُ فِيْ سَاعَةِ الْعُسْرَةِ
অবশ্যই আল্লাহ নবী, মুহাজির ও আনসারদের তাওবা কবুল করলেন, যারা তার অনুসরণ করেছে সংকটপূর্ণ মুহূর্তে。

গাযওয়ায়ে তাবুকের বিবরণে আল্লাহ তাআলা দরিদ্র সাহাবীদের নিয়ে মুনাফেকদের উপহাসের জবাবে তাদেরকে ভয়াবহ শাস্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
اَلَّذِيْنَ يَلْمِزُوْنَ الْمُطَّوَّعِيْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ فِي الصَّدَقٰتِ وَ الَّذِيْنَ لَا يَجِدُوْنَ اِلَّا جُهْدَهُمْ فَيَسْخَرُوْنَ مِنْهُمْ سَخِرَ اللّٰهُ مِنْهُمْ وَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ
মুমিনদের মধ্যে যারা স্বতস্ফূর্তভাবে দান করে এবং যারা নিজেদের শ্রম ছাড়া কিছুই পায় না, তাদেরকে যারা দোষারোপ করে ও বিদ্রূপ করে, আল্লাহ তাদেরকে বিদ্রূপ করেন আর তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি。
এই গাযওয়ায় অংশগ্রহণকারী ত্রিশ হাজার মুজাহিদের জন্য আল্লাহ তাআলা অসীম সাওয়াব বরাদ্দ রেখেছেন মর্মেও ঘোষণা দিয়েছেন।

টিকাঃ
১৫৬৯. ফিকহুস সীরাহ লিলগাযালী: ৪০৪।
১৫৭০. সুরা তাওবা ৩৮-৩৯।
১৫৭১. সুরা তাওবা ৪১।
১৫৭২. সুরা তাওবা ১১৭।
১৫৭৩. সুরা তাওবা ৭৯।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 গাওয়ায় তাবুকে পরামর্শভিত্তিক কার্যক্রম

📄 গাওয়ায় তাবুকে পরামর্শভিত্তিক কার্যক্রম


রসূলুল্লাহ সা. এই যুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি আবু বকর সিদ্দীক ও ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর পরামর্শ নিয়েছেন। তেমনই কিছু ঘটনা:
ক. উট জবাইয়ের ব্যাপারে ওমর রা.-এর পরামর্শ গ্রহণ
তাবুক অভিযানে তীব্র ক্ষুৎপিপাসা লোকদের পর্যুদস্ত করলে তারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনি অনুমতি দিলে আমরা আমাদের পানিবাহী উটগুলো যবাই করে খেতে পারি এবং আমাদের পায়ে সেগুলোর চর্বি মালিশ করতে পারি। রসূল সা. বললেন, তাই করো।
তখন ওমর রা. এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! এমন করা হলে তো বাহনের স্বল্পতা দেখা দেবে। তার চাইতে বরং এখনও লোকদের কাছে যতটুকু পাথেয় আছে আপনি তা এক স্থানে জমা করতে বলুন এবং তাতে তাদের জন্য বরকতের দোআ করে দিন। আল্লাহর কাছে আমাদের আশা তিনি খাবারে বরকত দেবেন।
রসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ, তাই করো। তিনি চামড়ার একটি দস্তরখান আনিয়ে তা বিছিয়ে দিলেন। তারপর লোকদের কাছে থাকা অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে আসতে বললেন। লোকেরা যার কাছে যা ছিল তা নিয়ে আসতে লাগলো। কেউ এক মুঠো ভুট্টা নিয়ে এলেন, কেউ আনলেন এক মুঠো খেজুর, আবার কেউ নিয়ে এলেন রুটির টুকরো। এভাবে বিছানো চামড়ার ওপরে সামান্য পরিমান খাবার জমা হয়ে গেলো। রসূলুল্লাহ সা. তাতে বরকতের দোআ করলেন। তারপর তাদের বললেন, 'তোমরা তোমাদের পাত্রগুলোতে খাবার তুলে নিতে থাকো।' সবাই যার যার পাত্র ভরে নিতে থাকলেন।
খ. মদীনায় ফেরার ব্যাপারে ওমরের পরামর্শ
রসূল সা. তাবুক প্রান্তরে উপনীত হয়ে জানতে পারেন, বাইজান্টাইন সেনারা مسلمانوں ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। রসূল সা. তখন সাহাবীদের সঙ্গে সিরিয়ার সীমান্ত অতিক্রমের ব্যাপারে পরামর্শ করেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. তখন পরামর্শ দিয়েছিলেন, সিরিয়ায় প্রবেশ না করে মদীনায় ফিরে যাওয়া ভালো হবে। তিনি তার এই বক্তব্যের পক্ষে বাইজান্টাইনদের সংখ্যাধিক্য এবং সেখানে मुसलमानों অনুপস্থিতির যুক্তি তুলে ধরেন। তার বক্তব্য ছিল যুক্তিযুক্ত। কারণ, বাইজান্টাইনদের সাথে তাদের শহরে ঢুকে যুদ্ধ করা ছিল অত্যন্ত দুষ্কর। তাদের শহরে সংঘবদ্ধ বিশাল শত্রুবাহিনীর আক্রমণে মুসলমানরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তো।
রাজনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক জীবনে পরামর্শের গুরুত্ব অপরিসীম। নবীজি বিভিন্ন কাজে পরামর্শ করতেন。

টিকাঃ
১৫৭৪. মুহাম্মদ আহমদ বাশমীল প্রণীত গাযওয়ায়ে তাবুক : ১৭৬-১৭৭।

রসূলুল্লাহ সা. এই যুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি আবু বকর সিদ্দীক ও ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর পরামর্শ নিয়েছেন। তেমনই কিছু ঘটনা:
ক. উট জবাইয়ের ব্যাপারে ওমর রা.-এর পরামর্শ গ্রহণ
তাবুক অভিযানে তীব্র ক্ষুৎপিপাসা লোকদের পর্যুদস্ত করলে তারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনি অনুমতি দিলে আমরা আমাদের পানিবাহী উটগুলো যবাই করে খেতে পারি এবং আমাদের পায়ে সেগুলোর চর্বি মালিশ করতে পারি। রসূল সা. বললেন, তাই করো।
তখন ওমর রা. এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! এমন করা হলে তো বাহনের স্বল্পতা দেখা দেবে। তার চাইতে বরং এখনও লোকদের কাছে যতটুকু পাথেয় আছে আপনি তা এক স্থানে জমা করতে বলুন এবং তাতে তাদের জন্য বরকতের দোআ করে দিন। আল্লাহর কাছে আমাদের আশা তিনি খাবারে বরকত দেবেন।
রসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ, তাই করো। তিনি চামড়ার একটি দস্তরখান আনিয়ে তা বিছিয়ে দিলেন। তারপর লোকদের কাছে থাকা অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে আসতে বললেন। লোকেরা যার কাছে যা ছিল তা নিয়ে আসতে লাগলো। কেউ এক মুঠো ভুট্টা নিয়ে এলেন, কেউ আনলেন এক মুঠো খেজুর, আবার কেউ নিয়ে এলেন রুটির টুকরো। এভাবে বিছানো চামড়ার ওপরে সামান্য পরিমান খাবার জমা হয়ে গেলো। রসূলুল্লাহ সা. তাতে বরকতের দোআ করলেন। তারপর তাদের বললেন, 'তোমরা তোমাদের পাত্রগুলোতে খাবার তুলে নিতে থাকো।' সবাই যার যার পাত্র ভরে নিতে থাকলেন।
খ. মদীনায় ফেরার ব্যাপারে ওমরের পরামর্শ
রসূল সা. তাবুক প্রান্তরে উপনীত হয়ে জানতে পারেন, বাইজান্টাইন সেনারা مسلمانوں ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। রসূল সা. তখন সাহাবীদের সঙ্গে সিরিয়ার সীমান্ত অতিক্রমের ব্যাপারে পরামর্শ করেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. তখন পরামর্শ দিয়েছিলেন, সিরিয়ায় প্রবেশ না করে মদীনায় ফিরে যাওয়া ভালো হবে। তিনি তার এই বক্তব্যের পক্ষে বাইজান্টাইনদের সংখ্যাধিক্য এবং সেখানে मुसलमानों অনুপস্থিতির যুক্তি তুলে ধরেন। তার বক্তব্য ছিল যুক্তিযুক্ত। কারণ, বাইজান্টাইনদের সাথে তাদের শহরে ঢুকে যুদ্ধ করা ছিল অত্যন্ত দুষ্কর। তাদের শহরে সংঘবদ্ধ বিশাল শত্রুবাহিনীর আক্রমণে মুসলমানরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তো।
রাজনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক জীবনে পরামর্শের গুরুত্ব অপরিসীম। নবীজি বিভিন্ন কাজে পরামর্শ করতেন。

টিকাঃ
১৫৭৪. মুহাম্মদ আহমদ বাশমীল প্রণীত গাযওয়ায়ে তাবুক : ১৭৬-১৭৭।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 কঠিন শারীরিক প্রশিক্ষণ

📄 কঠিন শারীরিক প্রশিক্ষণ


তাবুকের ঘটনায় যেসব শিক্ষণীয় বিষয় আমরা দেখতে পাই তম্মধ্যে একটি হলো কঠিন শারীরিক প্রশিক্ষণ। মুসলমানরা এ গাযওয়ায় বিভিন্ন ধরনের কষ্ট-ক্লেশে নিপতিত হন। مسلمانوں জন্য সময়টা ছিল অত্যন্ত কঠিন। একদিকে ছিল গ্রীষ্মের প্রচন্ড খরতাপ। যুদ্ধক্ষেত্রের অবস্থানও ছিল বহুদূরে। বাহনের সংখ্যা ছিল স্বল্প। দীর্ঘ সফরে প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি পানিস্বল্পতাও ছিল। পাশাপাশি মুসলিম সেনাবাহিনীর ব্যয়নির্বাহ ও খাদ্যসংস্থানের সংকটও ছিল অনেক। নিশ্চয়ই এ ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দীর্ঘ যুদ্ধযাত্রা অত্যন্ত কঠিন একটি সামরিক প্রশিক্ষণ।
এর মাধ্যমে রসূল সা. সাহাবীদের আরবভূখণ্ডের বাইরে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দীন প্রচারে সাহাবীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়াস পান। এই যুদ্ধটি ছিল আল্লাহর রসূলের জীবদ্দশায় সংঘটিত শেষ যুদ্ধ। মহান রবের ডাকে সাড়া দেওয়ার পূর্বে রসূল Sa.-এর এই মর্মে আশ্বস্ত হওয়া প্রয়োজন ছিল যে, তার বাহিনী যে কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য পরিপূর্ণ প্রস্তুত। এর ফলাফল দেখা যায় খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে সিরিয়া ও পারস্য সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ঈমানী শক্তির পাশাপাশি তাদের শারীরিক প্রশিক্ষণও বেশ কাজে লাগে。

টিকাঃ
১৫৭০. আর রসূলুল কায়েদ: ২৮১-২৮২।

তাবুকের ঘটনায় যেসব শিক্ষণীয় বিষয় আমরা দেখতে পাই তম্মধ্যে একটি হলো কঠিন শারীরিক প্রশিক্ষণ। মুসলমানরা এ গাযওয়ায় বিভিন্ন ধরনের কষ্ট-ক্লেশে নিপতিত হন। مسلمانوں জন্য সময়টা ছিল অত্যন্ত কঠিন। একদিকে ছিল গ্রীষ্মের প্রচন্ড খরতাপ। যুদ্ধক্ষেত্রের অবস্থানও ছিল বহুদূরে। বাহনের সংখ্যা ছিল স্বল্প। দীর্ঘ সফরে প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি পানিস্বল্পতাও ছিল। পাশাপাশি মুসলিম সেনাবাহিনীর ব্যয়নির্বাহ ও খাদ্যসংস্থানের সংকটও ছিল অনেক। নিশ্চয়ই এ ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দীর্ঘ যুদ্ধযাত্রা অত্যন্ত কঠিন একটি সামরিক প্রশিক্ষণ।
এর মাধ্যমে রসূল সা. সাহাবীদের আরবভূখণ্ডের বাইরে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দীন প্রচারে সাহাবীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়াস পান। এই যুদ্ধটি ছিল আল্লাহর রসূলের জীবদ্দশায় সংঘটিত শেষ যুদ্ধ। মহান রবের ডাকে সাড়া দেওয়ার পূর্বে রসূল Sa.-এর এই মর্মে আশ্বস্ত হওয়া প্রয়োজন ছিল যে, তার বাহিনী যে কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য পরিপূর্ণ প্রস্তুত। এর ফলাফল দেখা যায় খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে সিরিয়া ও পারস্য সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ঈমানী শক্তির পাশাপাশি তাদের শারীরিক প্রশিক্ষণও বেশ কাজে লাগে。

টিকাঃ
১৫৭০. আর রসূলুল কায়েদ: ২৮১-২৮২।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 গাওয়ায় তাবুকের গুরুত্বপূর্ণ সুফল

📄 গাওয়ায় তাবুকের গুরুত্বপূর্ণ সুফল


গবেষকরা গাযওয়ায়ে তাবুকের আরো কিছু ফলাফল বের করেছেন। যেমন:
ক. আরবদের ওপর বাইজান্টাইনদের যে প্রভাব ছিল তা অনেক কমে যায়। এটা مسلمانوں ক্ষেত্রে যেমন, কাফেরদের ক্ষেত্রেও তেমনই প্রযোজ্য। আরবরা মনে করতো, বাইজান্টাইনরা অপরাজেয় শক্তি। বিশেষত মুতাযুদ্ধে مسلمانوں পিছু হটার কারণে বাইজান্টাইনদের সম্পর্কে এমন ধারণা আরেকটু শক্তিশালী হয়। এমতাবস্থায় সাধারণ আরবদের মন থেকে এমন ধারণা দূর করার লক্ষ্যে গাযওয়ায়ে তাবুকের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। এখানে জাতিগত বা বংশগত স্বার্থ বা নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা ছিল না; বরং এর লক্ষ্য ছিল মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহর দাসত্বের দিকে নিয়ে আসা।
গাযওয়ায়ে তাবুকের মাধ্যমে উপরোক্ত উদ্দেশ্য পরিপূর্ণভাবে অর্জিত হয়। একদিকে ইসলামী রাষ্ট্র মুক্ত হয় তাদের প্রভাব থেকে। পাশাপাশি বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধীনস্থ সীমান্তের খ্রিষ্টান এলাকাগুলো مسلمانوں নিয়ন্ত্রনে আসে। অপর দিকে, যেসব গোত্র গাযওয়ায়ে তাবুকের পরেও ইসলামী রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রনে আসেনি, তারাও যথেষ্ট প্রভাবিত হয়। তারা এলাকা ছেড়ে যেতে থাকে। সার্বিক বিবেচনায় গাযওয়ায়ে তাবুককে সিরিয়ান অঞ্চলে ইসলামী বিজয়ের প্রথম ধাপ বলা চলে।
মোটকথা, রসূলুল্লাহ সা.-এর নেতৃত্বে मुसलमानों মক্কা বিজয়, খায়বার বিজয় ও তাবুক যুদ্ধের মাধ্যমে আরব গোত্রগুলো রসূল Sa. ও ইসলামের দ্বারা প্রভাবিত হয়। বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ও নাজরানের বিভিন্ন গোষ্ঠী রসূলের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হয়। জিযিয়া প্রদান করে। ইসলাম গ্রহণ করে। এতদ্ভিন্ন তাদের কোনো বিকল্প ছিল না। মদীনা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে বহু প্রতিনিধিদল গাযওয়ায়ে তাবুকের পর নবীজির দরবারে আসে। এ ছিল ইসলামের সত্যিকার বিজয়। প্রতিনিধিদলের অধিক আগমনের ফলে নবম হিজরিটি 'আমুল উযুদ' বা প্রতিনিধিদলের বছর নামে পরিচিতি পায়। নবীজীবনের যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনার ইতি ঘটে গাযওয়ায়ে তাবুকের মাধ্যমে। এই গাযওয়ায় আমরা অসংখ্য শিক্ষণীয় ও তাৎপর্যবহ বিষয় জানতে পারি।
॥ আলহামদুলিল্লাহ ॥

টিকাঃ
১৫৭৬. আবদুর রহমান আহমাদ প্রণীত আল মুসলিমুনা ওয়ার রুম ফি আহদিন নবুওয়াতি: ১০২।
১৫৭৭. নাযরাতুন নায়ীম: ১/৩৯৫-৩৯৬।

গবেষকরা গাযওয়ায়ে তাবুকের আরো কিছু ফলাফল বের করেছেন। যেমন:
ক. আরবদের ওপর বাইজান্টাইনদের যে প্রভাব ছিল তা অনেক কমে যায়। এটা مسلمانوں ক্ষেত্রে যেমন, কাফেরদের ক্ষেত্রেও তেমনই প্রযোজ্য। আরবরা মনে করতো, বাইজান্টাইনরা অপরাজেয় শক্তি। বিশেষত মুতাযুদ্ধে مسلمانوں পিছু হটার কারণে বাইজান্টাইনদের সম্পর্কে এমন ধারণা আরেকটু শক্তিশালী হয়। এমতাবস্থায় সাধারণ আরবদের মন থেকে এমন ধারণা দূর করার লক্ষ্যে গাযওয়ায়ে তাবুকের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। এখানে জাতিগত বা বংশগত স্বার্থ বা নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা ছিল না; বরং এর লক্ষ্য ছিল মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহর দাসত্বের দিকে নিয়ে আসা।
গাযওয়ায়ে তাবুকের মাধ্যমে উপরোক্ত উদ্দেশ্য পরিপূর্ণভাবে অর্জিত হয়। একদিকে ইসলামী রাষ্ট্র মুক্ত হয় তাদের প্রভাব থেকে। পাশাপাশি বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অধীনস্থ সীমান্তের খ্রিষ্টান এলাকাগুলো مسلمانوں নিয়ন্ত্রনে আসে। অপর দিকে, যেসব গোত্র গাযওয়ায়ে তাবুকের পরেও ইসলামী রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রনে আসেনি, তারাও যথেষ্ট প্রভাবিত হয়। তারা এলাকা ছেড়ে যেতে থাকে। সার্বিক বিবেচনায় গাযওয়ায়ে তাবুককে সিরিয়ান অঞ্চলে ইসলামী বিজয়ের প্রথম ধাপ বলা চলে।
মোটকথা, রসূলুল্লাহ সা.-এর নেতৃত্বে मुसलमानों মক্কা বিজয়, খায়বার বিজয় ও তাবুক যুদ্ধের মাধ্যমে আরব গোত্রগুলো রসূল Sa. ও ইসলামের দ্বারা প্রভাবিত হয়। বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ও নাজরানের বিভিন্ন গোষ্ঠী রসূলের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হয়। জিযিয়া প্রদান করে। ইসলাম গ্রহণ করে। এতদ্ভিন্ন তাদের কোনো বিকল্প ছিল না। মদীনা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে বহু প্রতিনিধিদল গাযওয়ায়ে তাবুকের পর নবীজির দরবারে আসে। এ ছিল ইসলামের সত্যিকার বিজয়। প্রতিনিধিদলের অধিক আগমনের ফলে নবম হিজরিটি 'আমুল উযুদ' বা প্রতিনিধিদলের বছর নামে পরিচিতি পায়। নবীজীবনের যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনার ইতি ঘটে গাযওয়ায়ে তাবুকের মাধ্যমে। এই গাযওয়ায় আমরা অসংখ্য শিক্ষণীয় ও তাৎপর্যবহ বিষয় জানতে পারি।
॥ আলহামদুলিল্লাহ ॥

টিকাঃ
১৫৭৬. আবদুর রহমান আহমাদ প্রণীত আল মুসলিমুনা ওয়ার রুম ফি আহদিন নবুওয়াতি: ১০২।
১৫৭৭. নাযরাতুন নায়ীম: ১/৩৯৫-৩৯৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00