📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 গাযওয়ায়ে হুনাইন ও তায়েফের ফলাফল

📄 গাযওয়ায়ে হুনাইন ও তায়েফের ফলাফল


১. মুসলমানরা হাওয়াযিন ও বনু সাকিফ গোত্রের ওপর বিজয় লাভ করে।
২. হুনাইন এবং তায়েফ ছিল আরবের মুশরিকদের বিরুদ্ধে নবীজির সর্বশেষ গাযওয়া।
৩. এ গাযওয়ায় গণিমতলব্ধ সম্পদ দ্বারা রসূল সা. মক্কার সরদার ও গ্রাম্য ব্যক্তিদের মনতুষ্টির জন্য ব্যাপক পরিমাণে খরচ করেছেন। এতে তারা ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয়। এদিকে আনসার সাহাবীরা অনেক মর্যাদার অধিকারী হয়েছিলেন। রসূল সা. তাদের জন্য, তাদের সন্তানদের জন্য ও তাদের নারীদের জন্য কল্যাণের দোআ করেছিলেন। আনসারদের মর্যাদা এতটাই বেশি ছিল যে, রসূল সা. তাদের সাথেই মদীনায় ফিরে যান।
৪. মক্কাবাসী ও হাওয়াযিন গোত্রের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামী সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি লাভ করে। এই উভয় সম্প্রদায়ের লোকেরা আরবদের বিভিন্ন মূর্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। পাশাপাশি তায়েফবাসীকে সংকীর্ণ অবস্থায় নিয়ে আসা এবং তাদেরকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার ক্ষেত্রে হাওয়াযিন সম্প্রদায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে।
৫. এই গাযওয়ার মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্রের পরিধি বৃদ্ধি পায়। রসূলুল্লাহ সা.-এর পক্ষ থেকে পবিত্র মক্কা ও হাওয়াযিন গোত্রের জন্য গভর্নর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। এসব অঞ্চল ইসলামী রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিস্তৃত ইসলামী সাম্রাজ্যের যে কোনো জায়গায় রসূলুল্লাহ সা.-এর জন্য নির্ভয়ে তার বাহিনী প্রেরণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে। মক্কা বিজয়ের পর মদীনা মুনাওয়ারায় ধারাবাহিকভাবে ইসলাম কবুল করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের আগমন ঘটতে থাকে। গোটা আরব উপদ্বীপ থেকে সমূলে উৎপাদিত হয় শিরক ও মূর্তিপূজা। নবীজি সা. প্রতিষ্ঠা করেন যাকাতের বিধান। তা সংগ্রহের লক্ষ্যে বিভিন্ন লোককে দায়িত্ব দেওয়া হয়。

টিকাঃ
১৩৯৯. আল আসাসু ফিস সুন্নাহ: ২/৯২১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00