📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 উমরার করণীয় ও বর্জনীয়

📄 উমরার করণীয় ও বর্জনীয়


ইয়ালা ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, রসূলুল্লাহ সা. জিরানায় অবস্থান করার সময় তার কাছে এক ব্যক্তি জুব্বা পরে উপস্থিত হয়। তার শরীরে সুগন্ধি লাগানো ছিল বা হলুদ রঙের সুগন্ধির চিহ্ন ছিল। রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে সে জিজ্ঞেস করে, আমি উমরার সময় কী কী কাজ করতে পারি? এই ব্যাপারে আপনার দিকনির্দেশনা কী? এ সময় রসূলুল্লাহ সা.-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়। আল্লাহর রসূল সা. নিজেকে কাপড় দিয়ে আবৃত করে নেন। ইয়ালা ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, আমার আশা ছিল যে, আমি রসূল সা.-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থা প্রত্যক্ষ করবো। ওমর কাপড়ের একদিক ওঠালে আমি দেখলাম যেন রসূল সা.-এর কাছ থেকে নাক ডাকার মতো একধরনের শব্দ আসছে। ওহি অবতরণ শেষ হওয়ার পর রসূলুল্লাহ সা. বললেন, উমরা সম্পর্কে যে আমাকে জিজ্ঞেস করেছে সে কোথায়? সে আসার পর তিনি তাকে বললেন, তুমি হলুদ রঙের এ সুগন্ধির চিহ্ন ধুয়ে ফেলো অথবা তাকে এ কথা বলেছেন, সুগন্ধির চিহ্ন ধুয়ে ফেলো এবং তোমার জুব্বা খুলে ফেলো। তুমি উমরার ক্ষেত্রে এমনসব কাজ করতে পারবে, যা তুমি হজের মধ্যে করতে পারো。

টিকাঃ
১০৭৭. সহীহ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ : ৫৭৮।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 নিহত কাফিরদের সরঞ্জাম হত্যাকারী মুসলমানের

📄 নিহত কাফিরদের সরঞ্জাম হত্যাকারী মুসলমানের


আবু কাতাদাহ রা. বর্ণনা করেন, হুনাইন যুদ্ধের দিন আমি দেখলাম একজন মুশরিক ও একজন মুসলমান পরস্পরের সাথে লড়াই করছে। এই সময় আর একজন মুশরিক ওই মুশরিককে সাহায্য করতে এগিয়ে এলো। তখন আমি তার ওপর আক্রমণ চালিয়ে তার হাত কেটে ফেললাম। অন্য হাত দিয়ে সে আমাকে জাপ্টে ধরলো। সে আমাকে কিছুতেই ছাড়ছিল না বরং মেরে ফেলার উপক্রম করেছিল। কিছুক্ষনের মধ্যেই সে অধিক রক্তপাতে দুর্বল হয়ে না পড়লে আমাকে সে মেরেই ফেলতো। সে পড়ে গেলে আমি তাকে হত্যা করলাম। অতঃপর চারদিকে যে যুদ্ধ চলছিল সেজন্য তার দিকে আমি আর ভ্রূক্ষেপ করিনি। এই সময় জনৈক মক্কাবাসী এসে তার জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিলো। যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর রসূলুল্লাহ সা. বললেন, 'যুদ্ধে শত্রুপক্ষের নিহত ব্যক্তিদের যাবতীয় জিনিসপত্র হত্যাকারী পাবে।' আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, আমি একজনকে হত্যা করেছি। তার অনেক জিনিসপত্র ছিল। পরে যুদ্ধের প্রচন্ডতায় আমি আর তার দিকে মনোযোগ দিতে পারিনি। তার জিনিষপত্র কে নিয়েছে জানি না। মক্কাবাসী একজন বললো, ইয়া রসূলাল্লাহ, আবু কাতাদার কথা সত্য। ওই নিহত ব্যক্তির যাবতীয় জিনিসপত্র আমার কাছে রয়েছে। এগুলোর ব্যাপারে ওকে আমার সাথে আপোষ করিয়ে দিন। আবু বকর সিদ্দীক রা. বললেন, আল্লাহর কসম এ জিনিসপত্রের ব্যাপারে আপোষ করতে বলবে না। আল্লাহর দীনের এক বীর যোদ্ধার যুদ্ধলব্ধ জিনিসে তুমি ভাগ বসাতে চাও? রসূলুল্লাহ সা. জিনিসগুলো আমাকে দিয়ে দিলেন। আবু কাতাদাহ রা. বলেন, অতঃপর আমি ওইসব জিনিসপত্র বিক্রি করলাম আর সেই মূল্য দিয়ে ছোট একটা খেজুরের বাগান ক্রয় করলাম। এটাই ছিল ইসলাম গ্রহণের পর আমার অর্জিত প্রথম সম্পদ。

এ বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায়, আবু কাতাদা আনসারী নিজের মুসলমান ভাইয়ের নিরাপত্তার জন্য নিজের সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করে কাফের ব্যক্তিটিকে হত্যা করেছিলেন। অন্যদিকে আবু বকর সিদ্দীকও সঠিক প্রাপকের কাছে তার অধিকার পৌছে দেওয়ার জন্য নিজের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তার ঈমানের দৃঢ়তা ও বিশ্বাসের গভীরতা আঁচ করা যায়। তার এই আচরণে ভ্রাতৃত্ববোধের উত্তম নিদর্শন ফুটে ওঠে。

টিকাঃ
১৩৭৮. সহীহ বুখারী: ৪৩২২।
১৩৭৯. আত তারীখুল ইসলামী: ৮/২৬।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 গণিমতের সম্পদ যেখানতে নিয়েছো

📄 গণিমতের সম্পদ যেখানতে নিয়েছো


গাযওয়ায়ে হুনাইне রসূলুল্লাহ সা. গণিমতের উটের পার্শ্বে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং উটের ঘাড়ের ওপর থেকে একটা পশম হাতে নিয়ে তা দেখিয়ে বললেন 'হে মুসলিম জনতা, আল্লাহর কসম, তোমাদের ফাই থেকে-এমনকি এই পশম থেকেও আমার প্রাপ্য এক পঞ্চমাংশের বেশী নয়। অথচ সেই এক পঞ্চমাংশও আমি তোমাদেরকেই দিয়ে দিয়েছি। সুতরাং যদি কেউ এই সম্পদ থেকে একটা সুই-সুতাও নিয়ে থাকো, তবে তা ফিরিয়ে দাও। মনে রেখো, যে ব্যক্তি খেয়ানত করবে, কেয়ামতের দিন ওই খেয়ানত তার জন্য আগুনের রূপ নেবে এবং চরম অপমান ও লাঞ্ছনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

জনৈক আনসারী সাহাবী তার উটের হাওদার ছিঁড়ে যাওয়া অংশ সেলাই করার জন্য কিছু পশমের সুতা নিয়েছিলেন তিনি তা ফেরত দিলেন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, 'এটা আমার প্রাপ্য অংশ থেকে তোমাকে দিলাম।' তিনি বললেন, আপনি খেয়ানত সম্পর্কে যে কথা বলেছেন, তাতে আমার এ জিনিসের মোটেই প্রয়োজন নেই। অতঃপর তা ফেরত দিলেন。

আকিল ইবনে আবী তালিব গাযওয়ায়ে হুনাইন যুদ্ধ শেষে নিজের স্ত্রীর কাছে যান। সেসময় তার তরবারি ছিল রক্তাক্ত। তখন তিনি তাকে একটি সুঁই দিয়ে বললেন, এই সুইটি দিয়ে তুমি পোশাক সেলাই করতে পারবে। কিন্তু যখন তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর ঘোষককে একথা বলতে শুনলেন, 'তোমাদের মধ্যে যে যা কিছু গণিমতের সম্পদ থেকে নিয়েছে; তা যেন ফিরিয়ে দেয়। এমনকি সুঁই-সুতা নিয়ে থাকলেও যেন ফিরিয়ে দেয়।' ঘোষণা শুনে আকিল পুনরায় ঘরে ফিরে এসে স্ত্রীর কাছ থেকে সেই সুইটি নিয়ে গণিমতের সম্পদে জমা করে দেন。

খেয়ানতের ব্যাপারে এতোটাই কঠোরতা অবলম্বন করা হয়। কোথাও সামান্য কিছু পড়ে থাকলেও সাহাবায়ে কেরাম রা. সেদিকে ফিরেও তাকাতেন না। রসূল সা. তাদের এভাবেই গড়ে তুলেছিলেন। কেননা খেয়ানত মানুষের মারাত্মক বদ অভ্যাস। এর দ্বারা ইসলামী সমাজ কলুষিত হয়ে পড়ে。

টিকাঃ
১৩৮০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৫৩।
১৩৮১. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৩।
১৩৮২. সীরাতে ইবনে হিশাম: ৪/১৪৫।
১৩৮৩. সাদিক আরজুন প্রণীত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ: ৪/৩৮৭, ৩৮৮।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 জাহেলী যুগে করা মানত পূরণ

📄 জাহেলী যুগে করা মানত পূরণ


আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, হুনাইন যুদ্ধ থেকে ফেরার সময় ওমর রা. রসূল সা.-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমি জাহেলি যুগে এতেকাফ করার মানত করেছিলাম, সেটি কি পালন করতে হবে? রসূল সা. তাকে তা পালনের আদেশ দেন。

টিকাঃ
১৩৮৪. সহীহ বুখারী: ৪৩২০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00