📄 বযেবৃদ্ধ, শিশু ও নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করা নিষেধ
খালেদ ইবনে ওয়ালীদ এক নারীকে হত্যা করেন। তার লাশের কাছে উপস্থিত হয়ে রসূলুল্লাহ সা. বিপুল লোক সমাগম দেখতে পান। তিনি জিজ্ঞেস করেন, 'এখানে কি হয়েছে?' সকলে বললো, খালেদ ইবনে ওয়ালীদ এক নারীকে হত্যা করেছেন। রসূলুল্লাহ সা. তাঁর এক সহচরকে বললেন, 'খালেদের সাথে গিয়ে দেখা করো এবং বলো, রসূলুল্লাহ সা. তোমাকে শিশু, নারী, শ্রমিক ও দাস দাসীদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন。
টিকাঃ
১৩৭৪. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৩৬।
১৩৭০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৩৫।
📄 জিরানাকে মিকাত হিসেবে স্বীকৃতি
রসূলুল্লাহ সা. মক্কায় প্রবেশের সময় জিরানা নামক জায়গায় উমরার জন্য ইহরাম বাঁধেন। তায়েফ বা সে অঞ্চল থেকে মক্কায় প্রবেশকারী লোকদের জন্য সেটি মিকাত। বর্তমানে অধিকাংশ অজ্ঞ মানুষ মক্কা থেকে জি'রানায় গিয়ে ইহরাম বেঁধে আসে। অথচ রসূলুল্লাহ সা. কখনো এমনটি করেননি এবং আলেমগণ সেখানে যাওয়াকেও মুসতাহাব বা সওয়াবের কাজ বলেননি। সাধারণ মানুষেরা নিজেদের ধারণামতে রসূলুল্লাহ সা.-এর অনুসরণ হবে বলে এই ধরনের ভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়। রসূলুল্লাহ সা. সে অঞ্চল থেকে মক্কায় প্রবেশের সময় জি'রানায় ইহরাম বেঁধেছিলেন। তিনি কখনো মক্কা থেকে সেখানে গিয়ে এহরাম বেঁধে পুনরায় প্রবেশ করেননি。
টিকাঃ
১৩৭৬. যাদুল মাআদ: ৩/৫০৪।
📄 উমরার করণীয় ও বর্জনীয়
ইয়ালা ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, রসূলুল্লাহ সা. জিরানায় অবস্থান করার সময় তার কাছে এক ব্যক্তি জুব্বা পরে উপস্থিত হয়। তার শরীরে সুগন্ধি লাগানো ছিল বা হলুদ রঙের সুগন্ধির চিহ্ন ছিল। রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে সে জিজ্ঞেস করে, আমি উমরার সময় কী কী কাজ করতে পারি? এই ব্যাপারে আপনার দিকনির্দেশনা কী? এ সময় রসূলুল্লাহ সা.-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়। আল্লাহর রসূল সা. নিজেকে কাপড় দিয়ে আবৃত করে নেন। ইয়ালা ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, আমার আশা ছিল যে, আমি রসূল সা.-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থা প্রত্যক্ষ করবো। ওমর কাপড়ের একদিক ওঠালে আমি দেখলাম যেন রসূল সা.-এর কাছ থেকে নাক ডাকার মতো একধরনের শব্দ আসছে। ওহি অবতরণ শেষ হওয়ার পর রসূলুল্লাহ সা. বললেন, উমরা সম্পর্কে যে আমাকে জিজ্ঞেস করেছে সে কোথায়? সে আসার পর তিনি তাকে বললেন, তুমি হলুদ রঙের এ সুগন্ধির চিহ্ন ধুয়ে ফেলো অথবা তাকে এ কথা বলেছেন, সুগন্ধির চিহ্ন ধুয়ে ফেলো এবং তোমার জুব্বা খুলে ফেলো। তুমি উমরার ক্ষেত্রে এমনসব কাজ করতে পারবে, যা তুমি হজের মধ্যে করতে পারো。
টিকাঃ
১০৭৭. সহীহ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ : ৫৭৮।
📄 নিহত কাফিরদের সরঞ্জাম হত্যাকারী মুসলমানের
আবু কাতাদাহ রা. বর্ণনা করেন, হুনাইন যুদ্ধের দিন আমি দেখলাম একজন মুশরিক ও একজন মুসলমান পরস্পরের সাথে লড়াই করছে। এই সময় আর একজন মুশরিক ওই মুশরিককে সাহায্য করতে এগিয়ে এলো। তখন আমি তার ওপর আক্রমণ চালিয়ে তার হাত কেটে ফেললাম। অন্য হাত দিয়ে সে আমাকে জাপ্টে ধরলো। সে আমাকে কিছুতেই ছাড়ছিল না বরং মেরে ফেলার উপক্রম করেছিল। কিছুক্ষনের মধ্যেই সে অধিক রক্তপাতে দুর্বল হয়ে না পড়লে আমাকে সে মেরেই ফেলতো। সে পড়ে গেলে আমি তাকে হত্যা করলাম। অতঃপর চারদিকে যে যুদ্ধ চলছিল সেজন্য তার দিকে আমি আর ভ্রূক্ষেপ করিনি। এই সময় জনৈক মক্কাবাসী এসে তার জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিলো। যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর রসূলুল্লাহ সা. বললেন, 'যুদ্ধে শত্রুপক্ষের নিহত ব্যক্তিদের যাবতীয় জিনিসপত্র হত্যাকারী পাবে।' আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, আমি একজনকে হত্যা করেছি। তার অনেক জিনিসপত্র ছিল। পরে যুদ্ধের প্রচন্ডতায় আমি আর তার দিকে মনোযোগ দিতে পারিনি। তার জিনিষপত্র কে নিয়েছে জানি না। মক্কাবাসী একজন বললো, ইয়া রসূলাল্লাহ, আবু কাতাদার কথা সত্য। ওই নিহত ব্যক্তির যাবতীয় জিনিসপত্র আমার কাছে রয়েছে। এগুলোর ব্যাপারে ওকে আমার সাথে আপোষ করিয়ে দিন। আবু বকর সিদ্দীক রা. বললেন, আল্লাহর কসম এ জিনিসপত্রের ব্যাপারে আপোষ করতে বলবে না। আল্লাহর দীনের এক বীর যোদ্ধার যুদ্ধলব্ধ জিনিসে তুমি ভাগ বসাতে চাও? রসূলুল্লাহ সা. জিনিসগুলো আমাকে দিয়ে দিলেন। আবু কাতাদাহ রা. বলেন, অতঃপর আমি ওইসব জিনিসপত্র বিক্রি করলাম আর সেই মূল্য দিয়ে ছোট একটা খেজুরের বাগান ক্রয় করলাম। এটাই ছিল ইসলাম গ্রহণের পর আমার অর্জিত প্রথম সম্পদ。
এ বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায়, আবু কাতাদা আনসারী নিজের মুসলমান ভাইয়ের নিরাপত্তার জন্য নিজের সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করে কাফের ব্যক্তিটিকে হত্যা করেছিলেন। অন্যদিকে আবু বকর সিদ্দীকও সঠিক প্রাপকের কাছে তার অধিকার পৌছে দেওয়ার জন্য নিজের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তার ঈমানের দৃঢ়তা ও বিশ্বাসের গভীরতা আঁচ করা যায়। তার এই আচরণে ভ্রাতৃত্ববোধের উত্তম নিদর্শন ফুটে ওঠে。
টিকাঃ
১৩৭৮. সহীহ বুখারী: ৪৩২২।
১৩৭৯. আত তারীখুল ইসলামী: ৮/২৬।