📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 অপরিচিত মহিলাদের কাছে হিজাবদের যাতায়াত নিষেধ

📄 অপরিচিত মহিলাদের কাছে হিজাবদের যাতায়াত নিষেধ


এর আগে মহিলাদের প্রতি আকর্ষণ না থাকার যুক্তিতে মহিলাদের কাছে হিজড়াদের যাতায়াতের অনুমতি ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে হিজড়াদের যাতায়াতের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। হাদীসে এসেছে: যায়নাব বিনতে উম্মে সালামাহ তার মা উম্মে সালামাহ হতে বর্ণনা করেন, আমার কাছে এক হিজড়া ব্যক্তি বসা ছিল। এ সময় রসূলুল্লাহ সা. আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি শুনলাম, সে (হিজড়া ব্যক্তি) আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া রা.-কে বলছে, হে আবদুল্লাহ, কী বলো? আগামীকাল যদি আল্লাহ তোমাদেরকে তায়েফের ওপর বিজয় দান করেন তাহলে গাইলানের কন্যাকে নিয়ে নিয়ো। কেননা, সে এতই কোমলদেহী যে, সামনের দিকে আসার সময়ে তার পিঠে চারটি ভাঁজ পড়ে আবার পিঠ ফেরালে সেখানে আটটি ভাঁজ পড়ে। (উম্মে সালামা রা. বলেন) তখন রসূল সা. বললেন, এদেরকে তোমাদের কাছে আসতে দিয়ো না। রসূলুল্লাহ সা. সামাজিক শিষ্টাচার ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন。

টিকাঃ
১৩৭০. সহীহ বুখারী: ৪৩২৪।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 বযেবৃদ্ধ, শিশু ও নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করা নিষেধ

📄 বযেবৃদ্ধ, শিশু ও নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করা নিষেধ


খালেদ ইবনে ওয়ালীদ এক নারীকে হত্যা করেন। তার লাশের কাছে উপস্থিত হয়ে রসূলুল্লাহ সা. বিপুল লোক সমাগম দেখতে পান। তিনি জিজ্ঞেস করেন, 'এখানে কি হয়েছে?' সকলে বললো, খালেদ ইবনে ওয়ালীদ এক নারীকে হত্যা করেছেন। রসূলুল্লাহ সা. তাঁর এক সহচরকে বললেন, 'খালেদের সাথে গিয়ে দেখা করো এবং বলো, রসূলুল্লাহ সা. তোমাকে শিশু, নারী, শ্রমিক ও দাস দাসীদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন。

টিকাঃ
১৩৭৪. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৩৬।
১৩৭০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৩৫।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 জিরানাকে মিকাত হিসেবে স্বীকৃতি

📄 জিরানাকে মিকাত হিসেবে স্বীকৃতি


রসূলুল্লাহ সা. মক্কায় প্রবেশের সময় জিরানা নামক জায়গায় উমরার জন্য ইহরাম বাঁধেন। তায়েফ বা সে অঞ্চল থেকে মক্কায় প্রবেশকারী লোকদের জন্য সেটি মিকাত। বর্তমানে অধিকাংশ অজ্ঞ মানুষ মক্কা থেকে জি'রানায় গিয়ে ইহরাম বেঁধে আসে। অথচ রসূলুল্লাহ সা. কখনো এমনটি করেননি এবং আলেমগণ সেখানে যাওয়াকেও মুসতাহাব বা সওয়াবের কাজ বলেননি। সাধারণ মানুষেরা নিজেদের ধারণামতে রসূলুল্লাহ সা.-এর অনুসরণ হবে বলে এই ধরনের ভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়। রসূলুল্লাহ সা. সে অঞ্চল থেকে মক্কায় প্রবেশের সময় জি'রানায় ইহরাম বেঁধেছিলেন। তিনি কখনো মক্কা থেকে সেখানে গিয়ে এহরাম বেঁধে পুনরায় প্রবেশ করেননি。

টিকাঃ
১৩৭৬. যাদুল মাআদ: ৩/৫০৪।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 উমরার করণীয় ও বর্জনীয়

📄 উমরার করণীয় ও বর্জনীয়


ইয়ালা ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, রসূলুল্লাহ সা. জিরানায় অবস্থান করার সময় তার কাছে এক ব্যক্তি জুব্বা পরে উপস্থিত হয়। তার শরীরে সুগন্ধি লাগানো ছিল বা হলুদ রঙের সুগন্ধির চিহ্ন ছিল। রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে সে জিজ্ঞেস করে, আমি উমরার সময় কী কী কাজ করতে পারি? এই ব্যাপারে আপনার দিকনির্দেশনা কী? এ সময় রসূলুল্লাহ সা.-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়। আল্লাহর রসূল সা. নিজেকে কাপড় দিয়ে আবৃত করে নেন। ইয়ালা ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, আমার আশা ছিল যে, আমি রসূল সা.-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থা প্রত্যক্ষ করবো। ওমর কাপড়ের একদিক ওঠালে আমি দেখলাম যেন রসূল সা.-এর কাছ থেকে নাক ডাকার মতো একধরনের শব্দ আসছে। ওহি অবতরণ শেষ হওয়ার পর রসূলুল্লাহ সা. বললেন, উমরা সম্পর্কে যে আমাকে জিজ্ঞেস করেছে সে কোথায়? সে আসার পর তিনি তাকে বললেন, তুমি হলুদ রঙের এ সুগন্ধির চিহ্ন ধুয়ে ফেলো অথবা তাকে এ কথা বলেছেন, সুগন্ধির চিহ্ন ধুয়ে ফেলো এবং তোমার জুব্বা খুলে ফেলো। তুমি উমরার ক্ষেত্রে এমনসব কাজ করতে পারবে, যা তুমি হজের মধ্যে করতে পারো。

টিকাঃ
১০৭৭. সহীহ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ : ৫৭৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00