📄 দাসীদের ব্যাপারে কুরআনের কারীমের আয়াত
আল্লাহ তাআলা বলেন: وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ
এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া সব সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ।
আওতাসের বিবাহিতা দাসীদের ব্যাপারে উপরোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়। যুদ্ধবন্দীদের মধ্য থেকে দাসীদেরকে তাদের স্বামীদের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছিল। এ আয়াত এখানে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যখন তাদের ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে এ ধরনের যুদ্ধবন্দী নারীরা দাসী হিসেবে সম্ভোগের জন্য বৈধ হয়ে যাবে। কারণ, তাদের কাফের স্বামীরা যুদ্ধবন্দী হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে。
টিকাঃ
১৩৭১. সুরা নিসা: আয়াত ২৪।
১৩৭২. আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ : ২/৫২০।
📄 অপরিচিত মহিলাদের কাছে হিজাবদের যাতায়াত নিষেধ
এর আগে মহিলাদের প্রতি আকর্ষণ না থাকার যুক্তিতে মহিলাদের কাছে হিজড়াদের যাতায়াতের অনুমতি ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে হিজড়াদের যাতায়াতের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। হাদীসে এসেছে: যায়নাব বিনতে উম্মে সালামাহ তার মা উম্মে সালামাহ হতে বর্ণনা করেন, আমার কাছে এক হিজড়া ব্যক্তি বসা ছিল। এ সময় রসূলুল্লাহ সা. আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি শুনলাম, সে (হিজড়া ব্যক্তি) আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া রা.-কে বলছে, হে আবদুল্লাহ, কী বলো? আগামীকাল যদি আল্লাহ তোমাদেরকে তায়েফের ওপর বিজয় দান করেন তাহলে গাইলানের কন্যাকে নিয়ে নিয়ো। কেননা, সে এতই কোমলদেহী যে, সামনের দিকে আসার সময়ে তার পিঠে চারটি ভাঁজ পড়ে আবার পিঠ ফেরালে সেখানে আটটি ভাঁজ পড়ে। (উম্মে সালামা রা. বলেন) তখন রসূল সা. বললেন, এদেরকে তোমাদের কাছে আসতে দিয়ো না। রসূলুল্লাহ সা. সামাজিক শিষ্টাচার ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন。
টিকাঃ
১৩৭০. সহীহ বুখারী: ৪৩২৪।
📄 বযেবৃদ্ধ, শিশু ও নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করা নিষেধ
খালেদ ইবনে ওয়ালীদ এক নারীকে হত্যা করেন। তার লাশের কাছে উপস্থিত হয়ে রসূলুল্লাহ সা. বিপুল লোক সমাগম দেখতে পান। তিনি জিজ্ঞেস করেন, 'এখানে কি হয়েছে?' সকলে বললো, খালেদ ইবনে ওয়ালীদ এক নারীকে হত্যা করেছেন। রসূলুল্লাহ সা. তাঁর এক সহচরকে বললেন, 'খালেদের সাথে গিয়ে দেখা করো এবং বলো, রসূলুল্লাহ সা. তোমাকে শিশু, নারী, শ্রমিক ও দাস দাসীদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন。
টিকাঃ
১৩৭৪. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৩৬।
১৩৭০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৩৫।
📄 জিরানাকে মিকাত হিসেবে স্বীকৃতি
রসূলুল্লাহ সা. মক্কায় প্রবেশের সময় জিরানা নামক জায়গায় উমরার জন্য ইহরাম বাঁধেন। তায়েফ বা সে অঞ্চল থেকে মক্কায় প্রবেশকারী লোকদের জন্য সেটি মিকাত। বর্তমানে অধিকাংশ অজ্ঞ মানুষ মক্কা থেকে জি'রানায় গিয়ে ইহরাম বেঁধে আসে। অথচ রসূলুল্লাহ সা. কখনো এমনটি করেননি এবং আলেমগণ সেখানে যাওয়াকেও মুসতাহাব বা সওয়াবের কাজ বলেননি। সাধারণ মানুষেরা নিজেদের ধারণামতে রসূলুল্লাহ সা.-এর অনুসরণ হবে বলে এই ধরনের ভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়। রসূলুল্লাহ সা. সে অঞ্চল থেকে মক্কায় প্রবেশের সময় জি'রানায় ইহরাম বেঁধেছিলেন। তিনি কখনো মক্কা থেকে সেখানে গিয়ে এহরাম বেঁধে পুনরায় প্রবেশ করেননি。
টিকাঃ
১৩৭৬. যাদুল মাআদ: ৩/৫০৪।