📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 বিজয়ের কারণসমূহ

📄 বিজয়ের কারণসমূহ


খ. ১. নবীজির দৃঢ়তা ও অবিচলতায় এবং তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে পেছনে সরে যাওয়া সবাই ফিরে এসে যুদ্ধের ময়দান নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসে।
২. মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন স্বয়ং রসূলুল্লাহ সা.। তিনি কেবল নিজেই অবিচল ছিলেন না; বরং নিজের বাহন নিয়ে দ্রুত গতিতে শত্রুবাহিনীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। অধিকাংশ মুজাহিদ যখন পেছনে চলে যাচ্ছিলেন, রসূল সা. তখন শত্রুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় আব্বাস রা. রসূল Sa.-এর বাহনকে লাগাম টেনে ধরে থামিয়ে রাখারও চেষ্টা করেন।
৩. রসূলুল্লাহ Sa.-এর সাথে ছিলেন সাহসী সাহাবীরা। তাদের এ সাহসিকতা দেখে যারা পেছনে চলে যাচ্ছিলো তারা ফিরে আসেন ও সাহসিকতার সাথে লড়াই চালিয়ে যান।
৪. পলায়নরত মুজাহিদরা দ্রুত ফিরে এসে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।
৫. অধিকাংশ মুজাহিদ যখন পিছু হটছিলেন, শত্রুপক্ষ তখন তাদের পিছু ধাওয়া করেনি। এটা শত্রুদের একটি মারাত্মক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল। ফলে মুজাহিদ বাহিনী আবার নিজেদের অবস্থানে ফিরে আসার সুযোগ পায়। শত্রুপক্ষকে তাদের এ ভুলের মাশুল দিতে হয়েছিল। রসূলুল্লাহ Sa.-এর নেতৃত্বে মুসলমানরা দ্বিতীয়বার ময়দানে এসে যুদ্ধের পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।
৬. রসূলুল্লাহ Sa. এক মুষ্টি কঙ্কর হাতে নিয়েছিলেন এবং কাফেরদের দিকে তা নিক্ষেপ করেছিলেন। তখন তিনি এ কথা বলছিলেন, মুহাম্মাদের রবের শপথ! তারা নিঃসন্দেহে পরাজিত হয়েছে।
৭. আল্লাহর সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করে রসূলুল্লাহ Sa. যুদ্ধের শুরু থেকে বিজয়ের জন্য দোআ করছিলেন।
৮. রণাঙ্গনে ফেরেশতাদের অবতরণ ও তাদের অংশগ্রহণও ছিল যুদ্ধজয়ের হেতু। সূরা তাওবায় আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, وَأَنْزَلَ جُنُودًا لَمْ تَرَوْهَا وَعَذَبَ الَّذِينَ كَفَرُوا ‘আর পাঠালেন এমন এক সেনাবাহিনী যা তোমরা দেখতে পাওনি, আর তিনি কাফেরদেরকে শাস্তি প্রদান করলেন। এভাবেই আল্লাহ কাফেরদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকেন।'

টিকাঃ
১৩৬৯. শরহুন নববী আলা সহীহ মুসলিম: ১২/১১৬।
১৩৭০. আবু ফারিস প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ৪২৩।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 গাযওয়ায়ে হুনাইন ও তায়েফ থেকে প্রাপ্ত বিধিবিধান

📄 গাযওয়ায়ে হুনাইন ও তায়েফ থেকে প্রাপ্ত বিধিবিধান


ক. দাসীদের ব্যাপারে কুরআনে কারীমের আয়াত

আল্লাহ তাআলা বলেন: وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ
এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া সব সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ。

আওতাসের বিবাহিতা দাসীদের ব্যাপারে উপরোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়। যুদ্ধবন্দীদের মধ্য থেকে দাসীদেরকে তাদের স্বامীদের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছিল। এ আয়াত এখানে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যখন তাদের ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে এ ধরনের যুদ্ধবন্দী নারীরা দাসী হিসেবে সম্ভোগের জন্য বৈধ হয়ে যাবে। কারণ, তাদের কাফের স্বামীরা যুদ্ধবন্দী হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে。

খ. অপরিচিত মহিলাদের কাছে হিজড়াদের যাতায়াত নিষেধ

এর আগে মহিলাদের প্রতি আকর্ষণ না থাকার যুক্তিতে মহিলাদের কাছে হিজড়াদের যাতায়াতের অনুমতি ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে হিজড়াদের যাতায়াতের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। হাদীসে এসেছে: যায়নাব বিনতে উম্মে সালামাহ তার মা উম্মে সালামাহ হতে বর্ণনা করেন, আমার কাছে এক হিজড়া ব্যক্তি বসা ছিল। এ সময় রসূলুল্লাহ Sa. আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি শুনলাম, সে (হিজড়া ব্যক্তি) আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া রা.-কে বলছে, হে আবদুল্লাহ, কী বলো? আগামীকাল যদি আল্লাহ তোমাদেরকে তায়েফের ওপর বিজয় দান করেন তাহলে গাইলানের কন্যাকে নিয়ে নিয়ো। কেননা, সে এতই কোমলদেহী যে, সামনের দিকে আসার সময়ে তার পিঠে চারটি ভাঁজ পড়ে আবার পিঠ ফেরালে সেখানে আটটি ভাঁজ পড়ে। (উম্মে সালামা রা. বলেন) তখন রসূল Sa. বললেন, এদেরকে তোমাদের কাছে আসতে দিয়ো না। রসূলুল্লাহ Sa. সামাজিক শিষ্টাচার ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।

গ. বয়োবৃদ্ধ, শিশু ও নারীদের যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করা নিষেধ

খালেদ ইবনে ওয়ালীদ এক নারীকে হত্যা করেন। তার লাশের কাছে উপস্থিত হয়ে রসূলুল্লাহ Sa. বিপুল লোক সমাগম দেখতে পান। তিনি জিজ্ঞেস করেন, 'এখানে কি হয়েছে?' সকলে বললো, খালেদ ইবনে ওয়ালীদ এক নারীকে হত্যা করেছেন। রসূলুল্লাহ Sa. তাঁর এক সহচরকে বললেন, 'খালেদের সাথে গিয়ে দেখা করো এবং বলো, রসূলুল্লাহ Sa. তোমাকে শিশু, নারী, শ্রমিক ও দাস দাসীদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।

ঘ. জিরানাকে মিকাত হিসেবে স্বীকৃতি

রসূলুল্লাহ Sa. মক্কায় প্রবেশের সময় জিরানা নামক জায়গায় উমরার জন্য ইহরাম বাঁধেন। তায়েফ বা সে অঞ্চল থেকে মক্কায় প্রবেশকারী লোকদের জন্য সেটি মিকাত। বর্তমানে অধিকাংশ অজ্ঞ মানুষ মক্কা থেকে জি'রানায় গিয়ে ইহরাম বেঁধে আসে। অথচ রসূলুল্লাহ Sa. কখনো এমনটি করেননি এবং আলেমগণ সেখানে যাওয়াকেও মুসতাহাব বা সওয়াবের কাজ বলেননি। সাধারণ মানুষেরা নিজেদের ধারণামতে রসূলুল্লাহ Sa.-এর অনুসরণ হবে বলে এই ধরনের ভ্রান্তিতে লিপ্ত হয়। রসূলুল্লাহ Sa. সে অঞ্চল থেকে মক্কায় প্রবেশের সময় জি'রানায় ইহরাম বেঁধেছিলেন। তিনি কখনো মক্কা থেকে সেখানে গিয়ে এহরাম বেঁধে পুনরায় প্রবেশ করেননি。

ঙ. উমরার করণীয় ও বর্জনীয়

ইয়ালা ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, রসূলুল্লাহ Sa. জিরানায় অবস্থান করার সময় তার কাছে এক ব্যক্তি জুব্বা পরে উপস্থিত হয়। তার শরীরে সুগন্ধি লাগানো ছিল বা হলুদ রঙের সুগন্ধির চিহ্ন ছিল। রসূলুল্লাহ Sa.-এর কাছে এসে সে জিজ্ঞেস করে, আমি উমরার সময় কী কী কাজ করতে পারি? এই ব্যাপারে আপনার দিকনির্দেশনা কী? এ সময় রসূলুল্লাহ Sa.-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়। আল্লাহর রসূল Sa. নিজেকে কাপড় দিয়ে আবৃত করে নেন। ইয়ালা ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, আমার আশা ছিল যে, আমি রসূল Sa.-এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়ার অবস্থা প্রত্যক্ষ করবো। ওমর কাপড়ের একদিক ওঠালে আমি দেখলাম যেন রসূল Sa.-এর কাছ থেকে নাক ডাকার মতো একধরনের শব্দ আসছে। ওহি অবতরণ শেষ হওয়ার পর রসূলুল্লাহ Sa. বললেন, উমরা সম্পর্কে যে আমাকে জিজ্ঞেস করেছে সে কোথায়? সে আসার পর তিনি তাকে বললেন, তুমি হলুদ রঙের এ সুগন্ধির চিহ্ন ধুয়ে ফেলো অথবা তাকে এ কথা বলেছেন, সুগন্ধির চিহ্ন ধুয়ে ফেলো এবং তোমার জুব্বা খুলে ফেলো। তুমি উমরার ক্ষেত্রে এমনসব কাজ করতে পারবে, যা তুমি হজের মধ্যে করতে পারো。

চ. নিহত কাফিরের সরঞ্জাম তার হত্যাকারী মুসলমানের

আবু কাতাদাহ রা. বর্ণনা করেন, হুনাইন যুদ্ধের দিন আমি দেখলাম একজন মুশরিক ও একজন মুসলমান পরস্পরের সাথে লড়াই করছে। এই সময় আর একজন মুশরিক ওই মুশরিককে সাহায্য করতে এগিয়ে এলো। তখন আমি তার ওপর আক্রমণ চালিয়ে তার হাত কেটে ফেললাম। অন্য হাত দিয়ে সে আমাকে জাপ্টে ধরলো। সে আমাকে কিছুতেই ছাড়ছিল না বরং মেরে ফেলার উপক্রম করেছিল। কিছুক্ষনের মধ্যেই সে অধিক রক্তপাতে দুর্বল হয়ে না পড়লে আমাকে সে মেরেই ফেলতো। সে পড়ে গেলে আমি তাকে হত্যা করলাম। অতঃপর চারদিকে যে যুদ্ধ চলছিল সেজন্য তার দিকে আমি আর ভ্রুক্ষেপ করিনি। এই সময় জনৈক মক্কাবাসী এসে তার জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিলো। যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর রসূলুল্লাহ Sa. বললেন, 'যুদ্ধে শত্রুপক্ষের নিহত ব্যক্তিদের যাবতীয় জিনিসপত্র হত্যাকারী পাবে।' আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, আমি একজনকে হত্যা করেছি। তার অনেক জিনিসপত্র ছিল। পরে যুদ্ধের প্রচন্ডতায় আমি আর তার দিকে মনোযোগ দিতে পারিনি। তার জিনিষপত্র কে নিয়েছে জানি না। মক্কাবাসী একজন বললো, ইয়া রসূলাল্লাহ, আবু কাতাদার কথা সত্য। ওই নিহত ব্যক্তির যাবতীয় জিনিসপত্র আমার কাছে রয়েছে। এগুলোর ব্যাপারে ওকে আমার সাথে আপোষ করিয়ে দিন। আবু বকর সিদ্দীক রা. বললেন, আল্লাহর কসম এ জিনিসপত্রের ব্যাপারে আপোষ করতে বলবে না। আল্লাহর দীনের এক বীর যোদ্ধার যুদ্ধলব্ধ জিনিসে তুমি ভাগ বসাতে চাও? রসূলুল্লাহ Sa. জিনিসগুলো আমাকে দিয়ে দিলেন। আবু কাতাদাহ রা. বলেন, অতঃপর আমি ওইসব জিনিসপত্র বিক্রি করলাম আর সেই মূল্য দিয়ে ছোট একটা খেজুরের বাগান ক্রয় করলাম। এটাই ছিল ইসলাম গ্রহণের পর আমার অর্জিত প্রথম সম্পদ。

এ বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায়, আবু কাতাদা আনসারী নিজের মুসলমান ভাইয়ের নিরাপত্তার জন্য নিজের সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করে কাফের ব্যক্তিটিকে হত্যা করেছিলেন। অন্যদিকে আবু বকর সিদ্দীকও সঠিক প্রাপকের কাছে তার অধিকার পৌছে দেওয়ার জন্য নিজের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তার ঈমানের দৃঢ়তা ও বিশ্বাসের গভীরতা আঁচ করা যায়। তার এই আচরণে ভ্রাতৃত্ববোধের উত্তম নিদর্শন ফুটে ওঠে。

ছ. গণিমতের সম্পদ খেয়ানতে নিষেধাজ্ঞা

গাযওয়ায়ে হুনাইনে রসূলুল্লাহ Sa. গণিমতের উটের পার্শ্বে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং উটের ঘাড়ের ওপর থেকে একটা পশম হাতে নিয়ে তা দেখিয়ে বললেন 'হে মুসলিম জনতা, আল্লাহর কসম, তোমাদের ফাই থেকে-এমনকি এই পশম থেকেও আমার প্রাপ্য এক পঞ্চমাংশের বেশী নয়। অথচ সেই এক পঞ্চমাংশও আমি তোমাদেরকেই দিয়ে দিয়েছি। সুতরাং যদি কেউ এই সম্পদ থেকে একটা সুই-সুতাও নিয়ে থাকো, তবে তা ফিরিয়ে দাও। মনে রেখো, যে ব্যক্তি খেয়ানত করবে, কেয়ামতের দিন ওই খেয়ানত তার জন্য আগুনের রূপ নেবে এবং চরম অপমান ও লাঞ্ছনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

জনৈক আনসারী সাহাবী তার উটের হাওদার ছিঁড়ে যাওয়া অংশ সেলাই করার জন্য কিছু পশমের সুতা নিয়েছিলেন তিনি তা ফেরত দিলেন। রসূলুল্লাহ Sa. বললেন, 'এটা আমার প্রাপ্য অংশ থেকে তোমাকে দিলাম।' তিনি বললেন, আপনি খেয়ানত সম্পর্কে যে কথা বলেছেন, তাতে আমার এ জিনিসের মোটেই প্রয়োজন নেই। অতঃপর তা ফেরত দিলেন。

আকিল ইবনে আবী তালিব গাযওয়ায়ে হুনাইন যুদ্ধ শেষে নিজের স্ত্রীর কাছে যান। সেসময় তার তরবারি ছিল রক্তাক্ত। তখন তিনি তাকে একটি সুঁই দিয়ে বললেন, এই সুইটি দিয়ে তুমি পোশাক সেলাই করতে পারবে। কিন্তু যখন তিনি রসূলুল্লাহ Sa.-এর ঘোষককে একথা বলতে শুনলেন, 'তোমাদের মধ্যে যে যা কিছু গণিমতের সম্পদ থেকে নিয়েছে; তা যেন ফিরিয়ে দেয়। এমনকি সুঁই-সুতা নিয়ে থাকলেও যেন ফিরিয়ে দেয়।' ঘোষণা শুনে আকিল পুনরায় ঘরে ফিরে এসে স্ত্রীর কাছ থেকে সেই সুইটি নিয়ে গণিমতের সম্পদে জমা করে দেন。

খেয়ানতের ব্যাপারে এতোটাই কঠোরতা অবলম্বন করা হয়। কোথাও সামান্য কিছু পড়ে থাকলেও সাহাবায়ে কেরাম রা. সেদিকে ফিরেও তাকাতেন না। রসূল Sa. তাদের এভাবেই গড়ে তুলেছিলেন। কেননা খেয়ানত মানুষের মারাত্মক বদ অভ্যাস। এর দ্বারা ইসলামী সমাজ কলুষিত হয়ে পড়ে。

জ. জাহেলি যুগে করা মানত পূরণ

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, হুনাইন যুদ্ধ থেকে ফেরার সময় ওমর রা. রসূল Sa.-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমি জাহেলি যুগে এতেকাফ করার মানত করেছিলাম, সেটি কি পালন করতে হবে? রসূল Sa. তাকে তা পালনের আদেশ দেন。

টিকাঃ
১৩৭২. আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ : ২/৫২০।
১৩৭০. সহীহ বুখারী: ৪৩২৪।
১৩৭৪. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৩৬।
১৩৭০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৩৫।
১৩৭৬. যাদুল মাআদ: ৩/৫০৪।
১৩৭৭. সহীহ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ : ৫৭৮।
১৩৭৮. সহীহ বুখারী: ৪৩২২।
১৩৭৯. আত তারীখুল ইসলামী: ৮/২৬।
১৩৮০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৫৩।
১৩৮১. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৩।
১৩৮২. সীরাতে ইবনে হিশাম: ৪/১৪৫।
১৩৮৩. সাদিক আরজুন প্রণীত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ: ৪/৩৮৭, ৩৮৮।
১৩৮৪. সহীহ বুখারী: ৪৩২০।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 দাসীদের ব্যাপারে কুরআনের কারীমের আয়াত

📄 দাসীদের ব্যাপারে কুরআনের কারীমের আয়াত


আল্লাহ তাআলা বলেন: وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ
এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া সব সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ।
আওতাসের বিবাহিতা দাসীদের ব্যাপারে উপরোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়। যুদ্ধবন্দীদের মধ্য থেকে দাসীদেরকে তাদের স্বামীদের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছিল। এ আয়াত এখানে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যখন তাদের ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে এ ধরনের যুদ্ধবন্দী নারীরা দাসী হিসেবে সম্ভোগের জন্য বৈধ হয়ে যাবে। কারণ, তাদের কাফের স্বামীরা যুদ্ধবন্দী হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে。

টিকাঃ
১৩৭১. সুরা নিসা: আয়াত ২৪।
১৩৭২. আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ : ২/৫২০।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 অপরিচিত মহিলাদের কাছে হিজাবদের যাতায়াত নিষেধ

📄 অপরিচিত মহিলাদের কাছে হিজাবদের যাতায়াত নিষেধ


এর আগে মহিলাদের প্রতি আকর্ষণ না থাকার যুক্তিতে মহিলাদের কাছে হিজড়াদের যাতায়াতের অনুমতি ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে হিজড়াদের যাতায়াতের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। হাদীসে এসেছে: যায়নাব বিনতে উম্মে সালামাহ তার মা উম্মে সালামাহ হতে বর্ণনা করেন, আমার কাছে এক হিজড়া ব্যক্তি বসা ছিল। এ সময় রসূলুল্লাহ সা. আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি শুনলাম, সে (হিজড়া ব্যক্তি) আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া রা.-কে বলছে, হে আবদুল্লাহ, কী বলো? আগামীকাল যদি আল্লাহ তোমাদেরকে তায়েফের ওপর বিজয় দান করেন তাহলে গাইলানের কন্যাকে নিয়ে নিয়ো। কেননা, সে এতই কোমলদেহী যে, সামনের দিকে আসার সময়ে তার পিঠে চারটি ভাঁজ পড়ে আবার পিঠ ফেরালে সেখানে আটটি ভাঁজ পড়ে। (উম্মে সালামা রা. বলেন) তখন রসূল সা. বললেন, এদেরকে তোমাদের কাছে আসতে দিয়ো না। রসূলুল্লাহ সা. সামাজিক শিষ্টাচার ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন。

টিকাঃ
১৩৭০. সহীহ বুখারী: ৪৩২৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00