📄 বেদুইন ও গ্রাম্য লোকদের অপসন্দরণে ধৈর্যধারণ
বেদুইন ও গ্রাম্য লোকেরা প্রতিনিয়ত অসদাচরণ করতো। যখন-তখন সম্পদ ও পদের লোভ করতো। দয়ার নবী এসব ক্ষেত্রে চরম ধৈর্য ও দূরদর্শিতা দেখাতেন। তিনি ছিলেন একজন সহিষ্ণু ও প্রজ্ঞাবান শিক্ষক। মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি ও অভ্যাস অনুপাতে তাদের সাথে আচরণ করতেন। সর্বোত্তম চরিত্রের দ্যুতি ছড়াতেন। গ্রাম্য লোকদের চাহিদা ও অভিরুচির প্রতি লক্ষ রেখে সেই অনুযায়ী ব্যবহার করতেন। দয়া ও অনুগ্রহের দৃষ্টিতে শিক্ষা দিতেন। অথচ সে সময়কার শাসকদের সামনে মানুষদের মাথা নুইয়ে প্রবেশ করতে হতো। সিজদাবনত হতে হতো। আবেদন-নিবেদন করতে হলে বিভিন্ন ধরনের উপাধি যোগ করে তোষামোদ সহকারে চাইতে হতো।
কিন্তু নবীজির ব্যাপারটি ছিল ভিন্ন। একজন সাধারণ মানুষের মতো তিনি তাদের সাথে কথা বলতেন। তাদের সাথে আনন্দ-বেদনা, রাগ-অনুরাগ প্রকাশ করতেন। তিনি কখনও তাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে ভিন্ন জায়গায় থাকতেন না। সাহাবায়ে কেরামও নবীজির সামনে ভদ্র আচরণ করতেন। তারা প্রিয়নবীর সামনে মৃদু আওয়াজে কথা বলতেন। হৃদয় উজাড় করে নবীজিকে ভালোবাসতেন। অন্যদিকে রূঢ় মানসিকতার অধিকারী বেদুইন ও গ্রাম্য ব্যক্তিরা মাঝেমধ্যে বেয়াদবি করতো। কঠোর আচরণ করতো। নবীজির সাথে উঁচু আওয়াজে অশালীন ভাষায় কথা বলতো। এমন ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে তাদেরকে সতর্কও করা হতো। এখানে আমরা এমন বেদুইন ও গ্রাম্য লোকদের সাথে রসূলুল্লাহ সা.-এর অনুপম সুন্দর আচরণের কয়েকটি দৃষ্টান্ত পেশ করবো :
টিকাঃ
১৩৫৪. আল মুজতামা আল মাদানী লিলউমরী: ২১৯।
📄 গ্রাম্য ব্যক্তির সুসংবাদ ফিরিয়ে দেওয়া
ক. আবু মুসা আশআরী রা. বলেন, আমি মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী জিইরানা নামক স্থানে রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে অবস্থান করছিলাম। তখন তার কাছে ছিলেন বেলাল রা.। এই সময় রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এক বেদুইন এসে বললো, আপনি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তা পূরণ করবেন না? তিনি তাকে বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ করো। সে বললো, 'সুসংবাদ গ্রহণ করো' এই কথাটি তো আপনি আমাকে অনেকবারই বলেছেন। তখন নবীজি ক্রোধ ভরে আবু মুসা ও বেলাল রা.-এর দিকে ফিরে বললেন, লোকটি সুসংবাদ ফিরিয়ে দিয়েছে। তোমরা দুজন তা গ্রহণ করো। তারা উভয়ে বললেন, আমরা তা গ্রহণ করলাম। এরপর নবীজি পানির একটি পাত্র আনতে বললেন। এর মধ্যে নিজের উভয় হাত ও মুখমণ্ডল ধুয়ে কুলি করলেন। তারপর বললেন, তোমরা উভয়ে এ থেকে পান করো এবং নিজেদের মুখমণ্ডল ও বুকে ছিটিয়ে দাও আর সুসংবাদ গ্রহণ করো। তারা উভয়ে পাত্রটি তুলে নিয়ে নির্দেশ মতো কাজ করলেন। এমন সময় উম্মে সালামা রা. পর্দার আড়াল থেকে ডেকে বললেন, তোমাদের মায়ের জন্যও কিছু রাখো। তারা এ থেকে অতিরিক্ত কিছু উম্মে সালামা রা.-এর জন্য রাখলেন。
টিকাঃ
১৩৫৫. সহীহ বুখারী: ৪৩২৮।
📄 সম্পদবন্টন নিয়ে জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তির অভিযোগ
খ. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, গাযওয়ায়ে হুনাইনের দিন রসূলুল্লাহ সা. গণিমতের মাল বণ্টনে কতিপয় ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেন। তিনি আকরা ইবনে হাবিস রা.-কে একশো উট দেন। উয়ায়না রা.-কেও অনুরূপ দেন। আরবের শীৰ্ষস্থানীয় কিছু লোককেও গণিমতের মাল দেন। সেদিন তাদেরকে অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেন। তখন এক ব্যক্তি বললো, আল্লাহর কসম! এ বণ্টনে ইনসাফ করা হয়নি। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়নি।
আবদুল্লাহ রা. বলেন, এ কথা শুনে আমি মনে মনে বললাম, এ সংবাদ অবশ্যই আমি রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট পৌঁছে দেবো। তারপর আমি তার কাছে এসে সে যা বলেছিল তা বলে দিলাম। এতে রসূলুল্লাহ সা.-এর পবিত্র চেহারা লাল হয়ে গেলো। তারপর তিনি বললেন, 'যখন আল্লাহ ও তার রসূল সা. ন্যায়বিচার করেননি তবে ন্যায়বিচার আর কেইবা করবে? তারপর তিনি বললেন, আল্লাহ মুসা আ. এর প্রতি দয়া করুন। তাকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেওয়া হয়েছে। তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন।' বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম, ভবিষ্যতে আর কখনও এ ধরনের সংবাদ আমি তার কাছে পৌছাবো না。
টিকাঃ
১৩৫৬. সহীহ মুসলিম: ১০৬২।
📄 ইসলাম গ্রহণের পর হাওয়াযিনদের সাথে নবীজির আচরণ
হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণের পর জিরানাহ নামক জায়গায় রসূল Sa.-এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার জ্ঞাতি-গোষ্ঠী ও আত্মীয়-স্বজন। আমাদের ওপর কী ভয়াবহ বিপদ আপতিত হয়েছে তা আপনার অজানা নেই। অতএব আমাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করুন। আল্লাহ আপনার ওপর অনুগ্রহ করবেন।
হাওয়াযিনের এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো। তার পর বনু সাআদ ইবনে বকরের একজন উঠে দাঁড়ালো। এ ব্যক্তি হলো যুহাইর ওরফে আবু সুরাদ। সে বললো, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, যুদ্ধবন্দীদের ভেতর আপনার ফুফু, খালা ও আপনার লালন-পালনকারিণীরাই রয়েছে। আমরা যদি হারেস ইবনে আবু শিমার অথবা নুমান ইবনে মুনযিরকে দুধ খাওয়াতাম এবং তারা যদি আজ আপনার জায়গায় অধিষ্ঠিত হতো, তাহলে তারাও আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতো। আপনি তো তাদের চেয়েও উত্তম। তিনি আবৃত্তি করলেন,
امنن علينا رسول الله في كرم فإنك المرء نرجوه و ندخر ইয়া রসূলাল্লাহ! মহানুভবতার মাধ্যমে আমাদের ওপর কৃপা করুন। আপনি তো এমন ব্যক্তি যাঁর ওপর আমরা আশা করতে পারি। এমন আরো কিছু কবিতা আবৃত্তির পর তিনি বলেন:
امنن على نسوة قد كنت ترضعها إذ فوك يملؤه من محضها درر امنن على نسوة قد كنت ترضعها إذ يزينك ما تأتي وما تذر আপনি অনুগ্রহ করুন সেইসব নারীদের প্রতি, যাদের দুধ আপনি পান করেছিলেন। যাদের দুধ সবসময় আপনার পেট পরিপূর্ণ করে রাখতো। অনুগ্রহ করুন ওইসব নারীদের প্রতি, যাদের দুধ সেবন করে আপনি লালিত-পালিত হয়েছেন। আপনি যা করেন এবং যা ছাড়েন তা আপনার মর্যাদাকে সুশোভিত করে।
গোটা হাওয়াযিন সম্প্রদায়ের মুক্তিলাভের এটাই ছিল প্রকৃত কারণ। রসূলুল্লাহ Sa.-এর অনুগ্রহ তাদের প্রবীণ, নবীন, ব্যক্তিবিশেষ ও সর্বসাধারণের ওপর পতিত হয়।
রসূলুল্লাহ Sa. বললেন, 'তোমরা তোমাদের সম্পদ এবং স্ত্রী ও শিশুদের মধ্যে কোনটিকে অগ্রাধিকার দিতে চাও?' তারা বললো, আপনি যদি দুটোর একটাই নিতে বলেন তাহলে আমাদের শিশু ও নারীদেরকেই ফিরিয়ে দিন। তিনি বললেন, 'যেসব নারী ও শিশু আমার ও বনু আবদুল মুত্তালিব গোষ্ঠীর কাছে রয়েছে তাদেরকে আমি দিয়ে দিচ্ছি। আর অন্যদের জন্য তোমরা যোহরের নামাযের সময় উপস্থিত হও। তখন मुसलमानों সবার কাছে এই বলে আবেদন জানাবে যে, আমরা আমাদের স্ত্রী ও শিশুদের ফেরত চাই। যারা মুলমানদের কাছে রয়েছে তাদের জন্য রসূলুল্লাহ Sa.-কে অনুরোধ করছি তিনি যেন مسلمانوںকে সুপারিশ করেন আর যারা রসূলুল্লাহ Sa.-এর নিকট রয়েছে তাদের জন্য मुसलमानोंকে অনুরোধ করছি তারা যেন রসূলুল্লাহ Sa. কে অনুরোধ করেন। তখন আমি আমার কাছে যারা রয়েছে তাদেরকে ফেরত দেবো এবং मुसलमानोंকে অনুরোধ করবো যেন তারাও ফেরত দেয়।'
যোহরের নামাযের সময় হাওয়াযিন ও বনু সাআদের প্রতিনিধিরা রসূলুল্লাহু Sa.-এর নির্দেশ মতো কাজ করলো। রসূলুল্লাহ Sa. তাদের সামনে তার অধিকারে থাকা নারী শিশুদের মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে মুহাজির ও আনসারগণও বললেন, আমাদের কাছে যারা আছে আমরা তাদেরকে রসূলুল্লাহ Sa.-এর কাছে সমর্পণ করলাম। কেবল আকরা ইবনে হারেস নিজের ও বনু তামীমের, উয়াইদা ইবনে হিসন নিজের ও বনু ফাজারের এবং আব্বাস ইবনে মিরদাস নিজের ও বনু সুলাইমের পক্ষ থেকে এ আবেদনে সাড়া দিলো না। কিন্তু বনু সুলাইম বললো, আমাদের যার কাছে যতো নারী ও শিশু আছে তাদেরকে রসূলুল্লাহ Sa.-এর হাতে অর্পণ করলাম।
রসূলুল্লাহ Sa. বললেন, 'তোমাদের মধ্যে যারা নিজ নিজ অধিকার ত্যাগ করতে চাও না তাদেরকে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, এরপর সর্বপ্রথমে যে যুদ্ধবন্দী আমার হস্তগত হবে তা থেকে তাদের প্রত্যেককে একটির বদলে ছয়টি করে দেবো। এদের শিশু ও নারী ফেরত দাও।'
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহর রসূল Sa. বলেছিলেন, 'তোমাদের এসব ভাইয়েরা তাওবা করে ফিরে এসেছে। আমি তাদের যুদ্ধবন্দীদের ফিরিয়ে দিতে চাই। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি সন্তুষ্টচিত্তে তা ফিরিয়ে দিতে চায় তাহলে যেন ফিরিয়ে দেয়। আর কেউ যদি নিজের অংশ ধরে রাখতে চায়, তারা তা দিয়ে দিলে আমি পরে যে গণিমতের সম্পদ পাবো, তা থেকে তাদের এর বিনিময় আদায় করে দেবো।'
মানুষেরা এক বাক্যে বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা বিনা শর্তেই তাদের যুদ্ধবন্দীগুলো ফিরিয়ে দিচ্ছি। রসূল Sa. বলেন, আমি এখন বুঝতে পারছি না, তোমাদের কে সন্তুষ্টচিত্তে ফিরিয়ে দিচ্ছে আর কে চাপে পড়ে দিচ্ছে। তাই তোমরা এখন ফিরে যাও। এ ব্যাপারে আমরা তোমাদের নেতাদের সাথে কথা বলবো। লোকেরা ফিরে গেলো। প্রত্যেকে তাদের নেতাদের সাথে কথা বললো। অতঃপর তারা ফিরে এসে রসূল Sa.-কে জানালেন, আমরা স্বেচ্ছায় সকল যুদ্ধবন্দীদের ফিরিয়ে দিতে চাই।
অতঃপর রসূলুল্লাহ Sa. হাওয়াযিনের প্রতিনিধিদের জিজ্ঞেস করলেন, 'মালেক ইবনে আউফের খবর কি?' তারা বললো, সে তায়েফে বনু সাকীফের সাথে রয়েছে। রসূলুল্লাহ Sa. বললেন, 'মালেককে তোমরা জানিয়ে দাও, সে যদি মুসলমান হয়ে আমার কাছে হাজির হয়, তাহলে আমি তাকে তার সমস্ত সম্পদ ও বন্দী লোকদেরকে ফেরত দেবো এবং আরো একশো উট দেবো।'
মালেকের আশংকা ছিল, রসূলুল্লাহ Sa.-এর প্রস্তাব বনু সাকীফ জানতে পারলে তারা তাকে আটকে রাখবে। তাই সে রসূলুল্লাহ Sa.-এর কাছে যাওয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করলো। সে পথিমধ্যে কোন এক জায়গায় একটি উটকে তার বাহন হিসেবে প্রস্তুত করে রাখলো। অতঃপর তায়েফ থেকে গভীর রাতে একটি ঘোড়ায় চড়ে ওই উটের কাছে পৌঁছলো। অতঃপর সেই উটের পিঠে চড়ে রসূলুল্লাহ Sa.-এর কাছে হাজির হলো। জিরানা অথবা মক্কায় রসূল Sa.-এর সাথে তার সাক্ষাত হলে রসূলুল্লাহ Sa. তার সকল বন্দী ও সম্পদ ফেরত দিলেন এবং একশোটি উটও দিলেন। সে ইসলাম গ্রহণ করলো এবং নিষ্ঠাবান মুসমলমানে পরিণত হলো। রসূলুল্লাহ Sa. মালেক ইবনে আউফকে তার স্বগোত্রীয় মুসলমানদের এবং বনু সুমালা, বনু সালেমা ও বনু কাহম গোত্রের মুসলমানদের আমীর নিযুক্ত করেন। মালেক ইবনে আউফ রসূলুল্লাহ Sa.-এর প্রশংসায় একটি কবিতা আবৃত্তি করে। কবিতাটি নিম্নরূপ:
ما إن رأيت ولا سمعت بمثله في الناس كلهم بمثل محمد أوفى وأعطى للجزيل إذا اجتدى ومتى تشأ يخبرك عما في غد وإذا الكتيبة عردت أنيابها بالسمهري وضرب كل مهند فكأنه ليث على أشباله وسط الهباءة خادر في مرصد
সমগ্র মানব সমাজে আমি মুহাম্মাদের সমতুল্য কোন মানুষ দেখিনি, বা এমন কোনো মানুষের কথা শুনিনি। তিনি কাউকে কোনো কিছু দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তা যথাযথভাবে রক্ষা করেন এবং বিপুল পরিমাণে দান করেন।
উপরন্তু তুমি যদি চাও তবে তিনি আগামীকাল কী ঘটবে তাও বলে দিতে পারেন। যখন বড় বড় গোত্রপতিরা নিজ নিজ বাহিনী ও অস্ত্রশস্ত্র সহ পালিয়ে গেছে এবং অত্যন্ত তীক্ষ্ণধার তরবারীর আঘাতে আঘাতে পর্যুদস্ত হয়েছে।
ধূলিধূসরিত রণাঙ্গনে তখনো তিনি শাবকদের পাহারায় নিয়োজিত ও ঘাঁটিতে ওত পেতে থাকা সিংহের মত অবিচল।
রসূলুল্লাহ Sa. প্রতিপক্ষের সাথে সবসময় কোমল আচরণ করতেন। এর ফলে বনু হাওয়াযিন ও তাদের মতো সম্প্রদায়গুলো ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়। এখানকার শিরকী কর্মকাণ্ড সমূলে উৎপাটনের লক্ষ্যে শক্তিশালী গোত্রগুলোকে ব্যবহার করেন নবীজি Sa.। এভাবেই ইসলাম সুকৌশলে তায়েফের চারপাশের অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সাকিফ গোত্রের লোকেরা কোনো দিকে নড়াচড়া করতে পারছিল না। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও হয়ে পড়ে নড়বড়ে। তাদের নেতা উরওয়া ইবনে মাসউদ সাকাফীর মতো ব্যক্তিও ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। রসূল Sa. হুনাইন যুদ্ধের গণিমতের সম্পদ বণ্টন করে উমরা আদায় করে মদীনায় পৌঁছার পূর্বেই তিনি রসূলের সাথে পথিমধ্যে মিলিত হন। নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করে তায়েফে প্রত্যাবর্তন করেন।
ওখানকার লোকেরা তাকে খুব ভালোবাসতো। সেখানে ফিরে গিয়ে নিজের গোত্রের লোকদের ইসলামের দিকে আহ্বান করেন এবং একটি উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে আযান দিতে শুরু করেন। ইতোমধ্যে কেউ তাকে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করে ফেলে। মৃত্যুর সময় তিনি তায়েফ অবরোধকালীন শহীদ হওয়া مسلمانوں সাথে দাফন করার জন্য তার গোত্রের লোকদের অসিয়ত করেন।
নবীজির এমন সুন্দর আচরণ দেখে বিমুগ্ধ হয়ে যায় সাধারণ মানুষ। কতটা বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞার সাথে রসূল Sa. মক্কার আশেপাশের অঞ্চল থেকে শিরকের শেকড় উপড়ে ফেলেছেন, তা দেখে মানুষ আশ্চর্য হয়। তিনি মক্কার গভর্নর নিযুক্ত করেন আত্তাব ইবনে উসাইদকে। আর মক্কাবাসীর শিক্ষক ও দীনি ইলম শেখানোর দায়িত্ব দেন মুআয ইবনে জাবালকে। মালেক ইবনে আউফকে হাওয়াযিন গোত্রের নেতা বানান। অতঃপর নবীজি Sa. উমরা করেন এবং মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন。
টিকাঃ
১৩৫৭. 'লালন পালনকারিণী বলতে দুগ্ধ-দাত্রীদেরকে বুঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা.-এর দুধমাতা হালিমা এই বনু সাআদ গোত্রেরই মহিলা ছিলেন এবং তা হাওয়াযিনেরই একটি শাখা।
১৩৫৮. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৫২।
১৩৫৯. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৫২।
১৩৬০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৬৩-৩৬৪।
১৩৬১. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩৫২-৩৩।
১৩৬২. সহীহ বুখারী: ৪৩১৯।
১৩৬৩. সীরাতে ইবনে হিশাম: ৪/১৪৪।
১৩৬৪. সীরাতে ইবনে হিশাম: ৪/১৯২।
১০০৬৮০. সীরাতে ইবনে হিশাম: ৪/১৫৩।