📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ার কারণ

📄 অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ার কারণ


রসূলুল্লাহ সা.-এর অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ার কারণ স্পষ্ট। আশেপাশের এলাকাগুলো বনু সাকিফ গোত্রের আওতাধীন ছিল না। বরং তা ছিল ইসলামী রাষ্ট্রের আওতাধীন। এই পরিস্থিতিতে কোথাও থেকে দুর্গবন্দী লোকদের কাছে সাহায্য আসার সম্ভাবনা ছিল না। একজন বিচক্ষণ সেনাপতি জানেন এমন অবস্থায় শত্রুদের অবরুদ্ধ করে রাখা আর না রাখা সমান। এ প্রেক্ষিতে রসূল সা. অবরোধ চালিয়ে যাবেন নাকি উঠিয়ে নেবেন এ ব্যাপারে সাহাবাদের পরামর্শের জন্য ডাকেন。

পরামর্শ সভায় নওফেল ইবনে মুআবিয়া দায়লী রা. বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! শিয়াল তার গর্তে প্রবেশ করেছে। যদি আপনি তাদের দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ করে রাখেন, তাহলে তাদের ধরে ফেলতে পারবেন আর যদি তাদের ছেড়ে চলে যান তাহলে তারা আপনার কোনো ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হবে না।

তার এ পরামর্শ নবীজির মনঃপূত হয়। তাই তিনি ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এতে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে কিছুটা শোরগোল তৈরি হয় এবং তাঁরা বলতে থাকেন, তায়েফ বিজয় করা ব্যতীত কি আমরা ফিরে যাবো? পরে রসূল সা. বলেন, তাহলে আগামীকাল আমরা যুদ্ধে যাবো। কিন্তু দ্বিতীয় দিন যুদ্ধে যাওয়ার পর কিছু মুসলমান হতাহত হওয়া ব্যতীত আর কোনো ফল আসেনি। অতঃপর রসূল সা. বলেন, ইনশাআল্লাহ! আমরা আগামীকাল ফিরে যাবো। রসূল সা.-এর এ সিদ্ধান্তে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে খুশির বন্যা বয়ে যায় এবং তারা কোনো ধরনের দ্বিমত না করেই ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। সাহাবায়ে কেরামের অবস্থা দেখে রসূল সা. মুচকি হাসছিলেন。

তারা নিজেদের সাজ সরঞ্জাম নিয়ে ফিরে যাবার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রসূল সা. বলেন, তোমরা বলো, 'আমরা ফিরে যাচ্ছি, আমরা তাওবা করছি এবং আমরা ইবাদতকারী, আমরা আমাদের রবের প্রশংসাকারী।

যাত্রাপথে রসূল সা.-কে বলা হলো, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনি সাকিফ গোত্রের লোকদের জন্য বদদোআ করুন। রসূল সা. তখন আল্লাহর দরবারে দোআ করলেন, হে আল্লাহ! সাকিফ গোত্রের লোকদের হেদায়াত দিন এবং তাদের ফিরিয়ে আনুন。

টিকাঃ
১৩৩৪. দিরাসাত ফি আহদিন নবুওয়াতি লিশশুজা: ২০৬।
১৩৩৫. সহীহ মুসলিম: ১৭৭৮।
১০০৬. যাদুল মাআদ: ৩/৪৯৭।
১০০৭. যাদুল মাআদ: ৩/৪৯৭। সহীহ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ: ৫৬৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00