📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 যুদ্ধের উপযোগী জায়গা নির্বাচনে নবীজি

📄 যুদ্ধের উপযোগী জায়গা নির্বাচনে নবীজি


মুজাহিদরা যেখানে অবস্থান করছিল, সেটা ছিল কাফেরদের দুর্গের কাছে অরক্ষিত উন্মুক্ত প্রান্তর। তখনও সম্পূর্ণ মুজাহিদ বাহিনী তাঁবু স্থাপন করতে পারেনি, এমন সময়ে শত্রুরা বৃষ্টির মতো তীর নিক্ষেপ করতে থাকে। অনেকেই তীরবিদ্ধ হয়। তায়েফবাসীর তীরের আওতা থেকে দূরে নিরাপদ জায়গায় তাঁবু ফেলতে পরামর্শ দেন হুবাব ইবনে মুনজির রা.। রসূল সা. এ পরামর্শ গ্রহণ করেন। হুবাব ইবনে মুনজির রা.-এর সামরিক জ্ঞান ছিল অসাধারণ। তাই রসূল সা. তাকে উপযুক্ত জায়গা নির্বাচনের দায়িত্ব দেন। তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন এবং উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করে রসূল সা.- কে জানান। রসূল সা. তখন সবাইকে সেখানে যেতে বলেন。

উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন হলেন আমর ইবনে উমাইয়া দামেরী রা.। তিনি বলেন, যখন আমরা তাদের দুর্গের কাছে ছাউনি করলাম তখন শত্রুরা বৃষ্টির মতো তীর নিক্ষেপ করতে লাগলো। অবস্থার ভয়াবহতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। পরে আমরা তাদের প্রতিরোধ করতে গেলে আমাদের বহু মানুষ হতাহত হয়। এদিকে আল্লাহর রসূল সা. হুবাবকে ডেকে কিছুটা দূরে গিয়ে উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করার আদেশ দেন। হুবাব রা. সেখান থেকে বেরিয়ে তায়েফের মসজিদ (মসজিদে ইবনে আব্বাস)-এর স্থানটি নির্বাচন করেন। অতঃপর রসূল সা. সবাইকে সেখানে যেতে বলেন。

টিকাঃ
১০০২. ওয়াকেদী প্রণীত মাগাযী: ১/৪১৬।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 কাফেরদের মানসিক পীড়া দেওয়ার কৌশল

📄 কাফেরদের মানসিক পীড়া দেওয়ার কৌশল


তায়েফবাসীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ যুদ্ধ চলাকালে বহুসংখ্যক মুসলমান শহীদ হন। এমতাবস্থায় রসূল সা. সেখানকার আঙুর ও খেজুরের বাগানসমূহ জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর মাধ্যমে তায়েফবাসীকে মানসিক পীড়া দেওয়াও ছিল উদ্দেশ্য। সাকিফ গোত্রের লোকেরা রসূল সা.-কে তাদের সাথে তার আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে এ কাজ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করে। রসূলুল্লাহ সা. ঘোষণা দেন, তায়েফের ক্রিতদাসদের কেউ যদি দুর্গ থেকে বেরিয়ে এসে مسلمانوں পক্ষাবলম্বন করে তাহলে সে মুক্ত হয়ে যাবে। এ কথা শুনে তেত্রিশজনের একটি দল দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে। এদের মধ্যে আবু বকরাহ সাকাফীও ছিলেন। তারা তখনই ইসলাম গ্রহণ করেন। রসূলুল্লাহ সা. তাদের মুক্ত বলে ঘোষণা দেন। পরে সাকিফ গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করলেও তিনি এসব দাসদের তাদের হাতে অর্পণ করেননি。

টিকাঃ
১৩৩৩. 'আস সীরাতুন নববিয়‍্যাহ আসসহীহাহ: ২/৫১০।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ার কারণ

📄 অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ার কারণ


রসূলুল্লাহ সা.-এর অবরোধ উঠিয়ে নেওয়ার কারণ স্পষ্ট। আশেপাশের এলাকাগুলো বনু সাকিফ গোত্রের আওতাধীন ছিল না। বরং তা ছিল ইসলামী রাষ্ট্রের আওতাধীন। এই পরিস্থিতিতে কোথাও থেকে দুর্গবন্দী লোকদের কাছে সাহায্য আসার সম্ভাবনা ছিল না। একজন বিচক্ষণ সেনাপতি জানেন এমন অবস্থায় শত্রুদের অবরুদ্ধ করে রাখা আর না রাখা সমান। এ প্রেক্ষিতে রসূল সা. অবরোধ চালিয়ে যাবেন নাকি উঠিয়ে নেবেন এ ব্যাপারে সাহাবাদের পরামর্শের জন্য ডাকেন。

পরামর্শ সভায় নওফেল ইবনে মুআবিয়া দায়লী রা. বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! শিয়াল তার গর্তে প্রবেশ করেছে। যদি আপনি তাদের দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ করে রাখেন, তাহলে তাদের ধরে ফেলতে পারবেন আর যদি তাদের ছেড়ে চলে যান তাহলে তারা আপনার কোনো ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হবে না।

তার এ পরামর্শ নবীজির মনঃপূত হয়। তাই তিনি ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এতে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে কিছুটা শোরগোল তৈরি হয় এবং তাঁরা বলতে থাকেন, তায়েফ বিজয় করা ব্যতীত কি আমরা ফিরে যাবো? পরে রসূল সা. বলেন, তাহলে আগামীকাল আমরা যুদ্ধে যাবো। কিন্তু দ্বিতীয় দিন যুদ্ধে যাওয়ার পর কিছু মুসলমান হতাহত হওয়া ব্যতীত আর কোনো ফল আসেনি। অতঃপর রসূল সা. বলেন, ইনশাআল্লাহ! আমরা আগামীকাল ফিরে যাবো। রসূল সা.-এর এ সিদ্ধান্তে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে খুশির বন্যা বয়ে যায় এবং তারা কোনো ধরনের দ্বিমত না করেই ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। সাহাবায়ে কেরামের অবস্থা দেখে রসূল সা. মুচকি হাসছিলেন。

তারা নিজেদের সাজ সরঞ্জাম নিয়ে ফিরে যাবার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রসূল সা. বলেন, তোমরা বলো, 'আমরা ফিরে যাচ্ছি, আমরা তাওবা করছি এবং আমরা ইবাদতকারী, আমরা আমাদের রবের প্রশংসাকারী।

যাত্রাপথে রসূল সা.-কে বলা হলো, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনি সাকিফ গোত্রের লোকদের জন্য বদদোআ করুন। রসূল সা. তখন আল্লাহর দরবারে দোআ করলেন, হে আল্লাহ! সাকিফ গোত্রের লোকদের হেদায়াত দিন এবং তাদের ফিরিয়ে আনুন。

টিকাঃ
১৩৩৪. দিরাসাত ফি আহদিন নবুওয়াতি লিশশুজা: ২০৬।
১৩৩৫. সহীহ মুসলিম: ১৭৭৮।
১০০৬. যাদুল মাআদ: ৩/৪৯৭।
১০০৭. যাদুল মাআদ: ৩/৪৯৭। সহীহ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ: ৫৬৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00