📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 মক্কা বিজয় অভিযান হতে প্রাপ্ত শিক্ষা ও নবীজির অবস্থানস্থল

📄 মক্কা বিজয় অভিযান হতে প্রাপ্ত শিক্ষা ও নবীজির অবস্থানস্থল


ক. মক্কা বিজয় অভিযান হতে যেসব শিক্ষা ও বিধান পাওয়া যায়, তা হলো:
১. মুসাফিরের জন্য রমযান মাসে রোজা না রাখার এখতিয়ার রয়েছে। আলোচ্য গাযওয়ায় আমরা দেখতে পাই, রসূল সা. মদীনা থেকে আসার সময় কুদাইদ এলাকা পর্যন্ত রোযা রেখেছিলেন। এরপর থেকে কেউ আর রোযা রাখেননি।
২. রসূল সা. চাশতের আট রাকাত নামায আদায় করেন। এতে অনেকে উক্ত নামাযকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা বলেছেন।
৩. মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাযকে দুই রাকাত করে আদায় করবে। রসূল সা. মক্কায় ঊনিশ দিন অবস্থান করেছিলেন এবং নামায কসর হিসেবে আদায় করেন।
৪. মুতা বিয়ে অর্থাৎ তিন দিনের জন্য সাময়িক বিয়ের বৈধতা থাকলেও মক্কা বিজয়ের দিন থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এটাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ইমাম নববী রহ.-এর মতে, মুতা বিয়ে দুইবার হালাল ও দুইবার হারাম করা হয়। প্রথমত খায়বার যুদ্ধের পূর্বে এ ধরনের বিয়ে বৈধ ছিল। খায়বার যুদ্ধের দিন তা হারাম করে দেওয়া হয়। মক্কা বিজয়ের সময় আবার বৈধ করে দেওয়া হয় এবং মক্কা বিজয়ের দিন থেকে কেয়ামত পর্যন্ত তা একেবারে হারাম করে দেওয়া হয়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, মুতা বিবাহ খায়বার যুদ্ধের দিন নিষিদ্ধ করা হয়নি; বরং মক্কা বিজয়ের দিনই প্রথমবারের মতো মুতা বিবাহ হারাম ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে ইমামগণের দীর্ঘ মতবিরোধ রয়েছে। তবে সবাই এ ব্যাপারে একমত যে, মক্কা বিজয়ের দিন কেয়ামত পর্যন্ত এটাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
৫. রসূল সা. ঘোষণা করেন, সন্তান সবসময় জন্মদাত্রীর স্বামীর বলে সাব্যস্ত হবে। ব্যভিচারীর জন্য প্রস্তরাঘাতের শাস্তি ছাড়া কিছুই থাকবে না। ওয়ালীদা ইবনে জামআর হাদীসে এমন বক্তব্য এসেছে। তার অভিভাবকত্ব নিয়ে সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. আবদুল্লাহ ইবনে জামআর সাথে বিবাদে জড়ালে রসূল সা. বলেন, সন্তানটির অভিভাক আবদুল্লাহ ইবনে জামাআ। কেননা শিশুটি তার ঔরসে জন্মগ্রহণ করেছিল।
৬. অসিয়ত হতে হবে এক-তৃতীয়াংশ সম্পদের কমের ক্ষেত্রে। এরচেয়ে বেশি সম্পদের ক্ষেত্রে ওসিয়ত করা বৈধ নয়। সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা.-এর মৃত্যুশয্যার ঘটনা দ্বারা আমরা এমনটি জানতে পারি। যখন তিনি মক্কায় মৃত্যুশয্যায় পতিত হয়ে আল্লাহর রসূল সা.-এর কাছে এক-তৃতীয়াংশের চাইতে অধিক সম্পদের অসিয়ত করতে চান, তখন রসূল সা. তাকে এ কাজ করতে বারণ করেন।

ক. মক্কা বিজয় অভিযান হতে যেসব শিক্ষা ও বিধান পাওয়া যায়, তা হলো:
১. মুসাফিরের জন্য রমযান মাসে রোজা না রাখার এখতিয়ার রয়েছে। আলোচ্য গাযওয়ায় আমরা দেখতে পাই, রসূল সা. মদীনা থেকে আসার সময় কুদাইদ এলাকা পর্যন্ত রোযা রেখেছিলেন। এরপর থেকে কেউ আর রোযা রাখেননি।
২. রসূল সা. চাশতের আট রাকাত নামায আদায় করেন। এতে অনেকে উক্ত নামাযকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা বলেছেন।
৩. মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাযকে দুই রাকাত করে আদায় করবে। রসূল সা. মক্কায় ঊনিশ দিন অবস্থান করেছিলেন এবং নামায কসর হিসেবে আদায় করেন।
৪. মুতা বিয়ে অর্থাৎ তিন দিনের জন্য সাময়িক বিয়ের বৈধতা থাকলেও মক্কা বিজয়ের দিন থেকে কেয়ামত পর্যন্ত এটাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ইমাম নববী রহ.-এর মতে, মুতা বিয়ে দুইবার হালাল ও দুইবার হারাম করা হয়। প্রথমত খায়বার যুদ্ধের পূর্বে এ ধরনের বিয়ে বৈধ ছিল। খায়বার যুদ্ধের দিন তা হারাম করে দেওয়া হয়। মক্কা বিজয়ের সময় আবার বৈধ করে দেওয়া হয় এবং মক্কা বিজয়ের দিন থেকে কেয়ামত পর্যন্ত তা একেবারে হারাম করে দেওয়া হয়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, মুতা বিবাহ খায়বার যুদ্ধের দিন নিষিদ্ধ করা হয়নি; বরং মক্কা বিজয়ের দিনই প্রথমবারের মতো মুতা বিবাহ হারাম ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে ইমামগণের দীর্ঘ মতবিরোধ রয়েছে। তবে সবাই এ ব্যাপারে একমত যে, মক্কা বিজয়ের দিন কেয়ামত পর্যন্ত এটাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
৫. রসূল সা. ঘোষণা করেন, সন্তান সবসময় জন্মদাত্রীর স্বামীর বলে সাব্যস্ত হবে। ব্যভিচারীর জন্য প্রস্তরাঘাতের শাস্তি ছাড়া কিছুই থাকবে না। ওয়ালীদা ইবনে জামআর হাদীসে এমন বক্তব্য এসেছে। তার অভিভাবকত্ব নিয়ে সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. আবদুল্লাহ ইবনে জামআর সাথে বিবাদে জড়ালে রসূল সা. বলেন, সন্তানটির অভিভাক আবদুল্লাহ ইবনে জামাআ। কেননা শিশুটি তার ঔরসে জন্মগ্রহণ করেছিল।
৬. অসিয়ত হতে হবে এক-তৃতীয়াংশ সম্পদের কমের ক্ষেত্রে। এরচেয়ে বেশি সম্পদের ক্ষেত্রে ওসিয়ত করা বৈধ নয়। সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা.-এর মৃত্যুশয্যার ঘটনা দ্বারা আমরা এমনটি জানতে পারি। যখন তিনি মক্কায় মৃত্যুশয্যায় পতিত হয়ে আল্লাহর রসূল সা.-এর কাছে এক-তৃতীয়াংশের চাইতে অধিক সম্পদের অসিয়ত করতে চান, তখন রসূল সা. তাকে এ কাজ করতে বারণ করেন।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 মক্কায় নবীজির অবস্থানস্থল

📄 মক্কায় নবীজির অবস্থানস্থল


খ. রসূল সা. মক্কা বিজয়ের সময় হাজুন নামক এলাকার একটি ঘরে অবস্থান করেন। এখানে বনু হাশেম ও মুসলমানদের বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কুরায়েশরা। উসামা ইবনে যায়েদ রা. আল্লাহর রসূল সা.-কে তার নিজের ঘরে অবস্থান করতে বললে তিনি বলেছিলেন, আমাদের জন্য কি আকিল থাকার কোনো ঘর রেখেছে?
উল্লেখ্য, আবু তালিবের ইনতেকালের সময় আকিল ও তালিব অমুসলিম ছিল এবং তারা তার ওয়ারিশ হয়েছিল। তারা তার যাবতীয় সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছিল। আলী ও জাফর ইবনে আবু তালিব রা. পিতার কোনো সম্পদ পাননি। কেননা তারা মুসলমান ছিলেন আর মৃত্যুর সময় আবু তালিব কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ থেকে বোঝা যায় শরীয়তের বিধান অনুযায়ী কোনো মুসলমান কাফিরের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে কিছু পাবে না।

খ. রসূল সা. মক্কা বিজয়ের সময় হাজুন নামক এলাকার একটি ঘরে অবস্থান করেন। এখানে বনু হাশেম ও মুসলমানদের বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কুরায়েশরা। উসামা ইবনে যায়েদ রা. আল্লাহর রসূল সা.-কে তার নিজের ঘরে অবস্থান করতে বললে তিনি বলেছিলেন, আমাদের জন্য কি আকিল থাকার কোনো ঘর রেখেছে?
উল্লেখ্য, আবু তালিবের ইনতেকালের সময় আকিল ও তালিব অমুসলিম ছিল এবং তারা তার ওয়ারিশ হয়েছিল। তারা তার যাবতীয় সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছিল। আলী ও জাফর ইবনে আবু তালিব রা. পিতার কোনো সম্পদ পাননি। কেননা তারা মুসলমান ছিলেন আর মৃত্যুর সময় আবু তালিব কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ থেকে বোঝা যায় শরীয়তের বিধান অনুযায়ী কোনো মুসলমান কাফিরের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে কিছু পাবে না।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 মক্কা বিজয়ের ফলাফল

📄 মক্কা বিজয়ের ফলাফল


মক্কা বিজয়ের ফলে মুসলমানরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়। যেমন:
ক. মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে পবিত্র মক্কা। মক্কায় কাফেরদের ক্ষমতা চিরতরে শেষ হয়ে যায়। হুনাইন ও তায়েফে কুফরের দুর্গ ধ্বংস করতে এবং সেখান থেকে সমগ্র বিশ্বে ইসলামের বাণী সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে এই বিজয় ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
খ. মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় আরবজুড়ে। নবীজির স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয় কুরায়েশদের ইসলাম গ্রহণের ফলে। আরব ভূখণ্ডে ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো শক্তি আর বাকি থাকেনি। গোটা আরব চলে আসে ইসলামের ছায়াতলে। এর ফলে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে অন্যায়-অবিচার রুখে দেয়ার এবং সেগুলোকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসার পথ সুগম হয়।
গ. ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিরাট প্রভাব ফেলে মক্কা বিজয়। যারা এই ইতিহাস ভালোভাবে গবেষণা করেন, তারা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেন। সামাজিক প্রভাবের কথা বললে বলতে হয়, ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকেই যারা ইসলামের বিরোধিতায় সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল, তারাই চলে আসে ইসলামের ছায়াতলে। নামায পড়ানো এবং ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার জন্য রসূল সা. মক্কায় মুআয ইবনে জাবাল রা.-কে রেখে গিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক প্রভাবের কথা বললে বলতে হয়, মানুষের মাঝে ইসলামী বিধানমতে বিচারকার্য পরিচালনার লক্ষ্যে রসূল সা. আত্তাব ইবনে উসাইদকে মক্কার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন।
ধর্মীয় প্রভাবের কথা বললে বলতে হয়, মক্কা বিজয়ের কারণে গোটা আরবে ইসলাম স্বীকৃতি পায়। সবাই একথা মেনে নিতে বাধ্য হয়, ইসলাম আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম-যা তিনি তার বান্দাদের জন্য নির্বাচিত করেছেন। তাই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নেয়।
ঘ. মুসলমানদের সাহায্য করার যে প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন সময় দিয়েছেন, তা যেন মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে কার্যকর হয়। যার জন্য মুসলমানদের অনেক কুরবানি দিতে হয়েছিল। আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্তির শর্তসমূহ পূর্ণ করার মাধ্যমে তারা এই সম্মান ও বিজয় লাভ করেন।
ওই দৃশ্যটির কথা ভাবুন! বেলাল বায়তুল্লাহর ছাদে উঠলেন। যোহরের নামাযের আযান দিলেন। নিস্তব্ধ মক্কাবাসী নতুন ইবাদতের আহ্বান যেন মোহাবিষ্ট হয়ে শুনছিল। গোটা মক্কায় গুঞ্জরিত হচ্ছিলো এ আযানের ধ্বনি। শয়তান সেদিন ছিল ভীষণ ক্ষিপ্ত। অনুচরদের সাথে নিয়ে পলায়ন করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না। 'আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার।' যে বেলাল চাবুকের আঘাত খেতে খেতে কেবল 'আহাদ আহাদ' বলে চিৎকার করতেন, আজ দীপ্তিময় কণ্ঠে সেই তিনি বায়তুল্লাহর ছাদে উঠে ঘোষণা করছিলেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ'। আর মক্কার সব মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো সেই আযানের মধুর ধ্বনি শুনে যাচ্ছিলো।

মক্কা বিজয়ের ফলে মুসলমানরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়। যেমন:
ক. মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে পবিত্র মক্কা। মক্কায় কাফেরদের ক্ষমতা চিরতরে শেষ হয়ে যায়। হুনাইন ও তায়েফে কুফরের দুর্গ ধ্বংস করতে এবং সেখান থেকে সমগ্র বিশ্বে ইসলামের বাণী সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে এই বিজয় ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
খ. মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় আরবজুড়ে। নবীজির স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয় কুরায়েশদের ইসলাম গ্রহণের ফলে। আরব ভূখণ্ডে ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো শক্তি আর বাকি থাকেনি। গোটা আরব চলে আসে ইসলামের ছায়াতলে। এর ফলে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে অন্যায়-অবিচার রুখে দেয়ার এবং সেগুলোকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসার পথ সুগম হয়।
গ. ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিরাট প্রভাব ফেলে মক্কা বিজয়। যারা এই ইতিহাস ভালোভাবে গবেষণা করেন, তারা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেন। সামাজিক প্রভাবের কথা বললে বলতে হয়, ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকেই যারা ইসলামের বিরোধিতায় সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল, তারাই চলে আসে ইসলামের ছায়াতলে। নামায পড়ানো এবং ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার জন্য রসূল সা. মক্কায় মুআয ইবনে জাবাল রা.-কে রেখে গিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক প্রভাবের কথা বললে বলতে হয়, মানুষের মাঝে ইসলামী বিধানমতে বিচারকার্য পরিচালনার লক্ষ্যে রসূল সা. আত্তাব ইবনে উসাইদকে মক্কার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন।
ধর্মীয় প্রভাবের কথা বললে বলতে হয়, মক্কা বিজয়ের কারণে গোটা আরবে ইসলাম স্বীকৃতি পায়। সবাই একথা মেনে নিতে বাধ্য হয়, ইসলাম আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম-যা তিনি তার বান্দাদের জন্য নির্বাচিত করেছেন। তাই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নেয়।
ঘ. মুসলমানদের সাহায্য করার যে প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন সময় দিয়েছেন, তা যেন মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে কার্যকর হয়। যার জন্য মুসলমানদের অনেক কুরবানি দিতে হয়েছিল। আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্তির শর্তসমূহ পূর্ণ করার মাধ্যমে তারা এই সম্মান ও বিজয় লাভ করেন।
ওই দৃশ্যটির কথা ভাবুন! বেলাল বায়তুল্লাহর ছাদে উঠলেন। যোহরের নামাযের আযান দিলেন। নিস্তব্ধ মক্কাবাসী নতুন ইবাদতের আহ্বান যেন মোহাবিষ্ট হয়ে শুনছিল। গোটা মক্কায় গুঞ্জরিত হচ্ছিলো এ আযানের ধ্বনি। শয়তান সেদিন ছিল ভীষণ ক্ষিপ্ত। অনুচরদের সাথে নিয়ে পলায়ন করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না। 'আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার।' যে বেলাল চাবুকের আঘাত খেতে খেতে কেবল 'আহাদ আহাদ' বলে চিৎকার করতেন, আজ দীপ্তিময় কণ্ঠে সেই তিনি বায়তুল্লাহর ছাদে উঠে ঘোষণা করছিলেন, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ'। আর মক্কার সব মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো সেই আযানের মধুর ধ্বনি শুনে যাচ্ছিলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00