📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 আল্লাহর ঘর রক্ষা

📄 আল্লাহর ঘর রক্ষা


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 উম্মে হানির আশ্রয়ে যারা নিরাপত্তা পেলো

📄 উম্মে হানির আশ্রয়ে যারা নিরাপত্তা পেলো


আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানী রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের প্রক্কালে বনু মাখযুম গোত্রের দুই লোক পালিয়ে এসে আমার কাছে আশ্রয় নেয়। উম্মে হানীর স্বামী ছিলেন মাখযুম গোত্রের হুবাইয়া ইবনে আবু ওয়াহাব। উম্মে হানী বর্ণনা করেন, তারা আমার কাছে আসার সাথে সাথে আমার ভাই আলী ইবেন আবু তালিব রা. আমার কাছে এসে বললেন, আমি ওদেরকে হত্যা করবো। আমি ঘরের দরজা বন্ধ করে রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে গেলাম। তিনি তখন গোসল করছিলেন। গোসলের পাত্রে খামির করা আটা লেগেছিল। ফাতিমা তাকে কাপড় দিয়ে আড়াল করে দিলেন। গোসল সম্পন্ন করে তিনি আট রাকাআত চাশতের নামায পড়লেন। তারপর আমার কথা শুনে বললেন, 'খোশ আমদেদ হে উম্মে হানী! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছো, আমিও তাকে আশ্রয় দিয়েছি। তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছো আমিও তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি। কাজেই আলী যেন তাদেরকে হত্যা না করে।

টিকাঃ
১২৮৫. সীরাতে ইবনে হিশাম: ৪/৫৯-৬০।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 ইঙ্গিতে হত্যা করানো নবীর জন্য শোভনীয় নয়

📄 ইঙ্গিতে হত্যা করানো নবীর জন্য শোভনীয় নয়


বনু আমের গোত্রের আবদুল্লাহ ইবনে সারাহ প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করেন। পরে ওহী লেখক হিসেবে নিয়োজিত হন। তারপর ইসলাম ত্যাগ করে মুশরিক হয়ে কুরায়েশদের কাছে ফিরে যান। এ জন্য রসূলুল্লাহ সা. তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সে পালিয়ে তার দুধভাই ওসমান ইবনে আফফানের কাছে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। ওসমান রা. তাকে লুকিয়ে রাখেন। পরে মক্কার অবস্থা স্বাভাবিক এবং জনগণ শান্ত হয়ে আসলে তিনি তাকে রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট হাজির করেন। ওসমান রা. তার প্রাণের নিরাপত্তা প্রার্থনা করেন。
রসূলুল্লাহ সা. কোনো জবাব না দিয়ে দীর্ঘ নীরবতা পালন করেন। অতঃপর বলেন 'আচ্ছা।'
পরে ওসমান রা. চলে গেলে রসূলুল্লাহ সা. তাঁর সাহাবীদের বলেন, 'আমি চুপ ছিলাম যাতে তোমরা কেউ তাকে হত্যা করার সুযোগ পাও।' আনসারী সাহাবাদের একজন বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আপনি তো ইশারায় আপনার উদ্দেশ্য বোঝাতে পারতেন। তিনি বললেন, 'ইঙ্গিতে মানুষ হত্যা করানো নবীর জন্য শোভনীয় নয়।'
ইবনে হিশাম রহ. বলেন, এই ব্যক্তি পরে আবার ইসলাম গ্রহণ করেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. তাঁর খিলাফতকালে তাকে সরকারি কাজে নিয়োজিত করেন। পরে তৃতীয় খলিফা ওসমান রা. তাঁকে সরকারি কাজের দায়িত্ব দেন। ইবনে কাসীর রহ. বর্ণনা করেন, তিনি ফজরের নামাযের পর অথবা ফজরের নামাযের সিজদায় নিজের ঘরে ইনতেকাল করেন。

টিকাঃ
১২৮৬. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/২৯৬।
১২৮৭. সীরাতে ইবনে হিশাম ৪/৫৮।
১২৮৮. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/২৯৬।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 ‘আমার জীবন, মরণ सबकुछই তোমাদের সাথে’

📄 ‘আমার জীবন, মরণ सबकुछই তোমাদের সাথে’


আবু হুরায়রা বলেন, তারপর আল্লাহর রসূল সা. সাফা পাহাড়ে আগমন করেন। বায়তুল্লাহ দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে পৌঁছলে তিনি ওপর দিকে তাকালেন এবং আল্লাহর জিকির করলেন এবং তার কাছে প্রার্থনা করলেন। আনসারগণ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ বলাবলি করছিল, হয়তো আল্লাহর রসূল নিজ দেশের প্রতি ও নিজ গোত্রের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তখন আল্লাহর রসূল সা.-এর কাছে ওহি আসার চিহ্নগুলো দৃষ্টিগোচর হয়। আমাদের প্রত্যেকেই তা অনুভব করে এবং আল্লাহর রসূল সা.-এর দিকে ওহির সমাপ্তি পর্যন্ত তাকিয়ে থাকে। যখন ওহি শেষ হয়েছে বলে মনে হলো, আল্লাহর রসূল সা. মাথা উঠালেন এবং বললেন, হে আনসার গোত্রের লোকেরা, তোমরা হয়তো বলাবলি করছো যে, আমাকে আমার গোত্রের ভালোবাসা ও জন্মভূমির মায়া পেয়ে বসেছে। আনসারগণ উত্তরে বললেন, আমরা এমনটি ধারণা করেছি। অতঃপর আল্লাহর রসূল সা. বললেন, তাহলে আর আমার বৈশিষ্ট্য কী? নিশ্চয়ই কখনো এমন হবে না। আমি আল্লাহর বান্দা ও তার প্রেরিত পুরুষ। আমি আল্লাহর পথে তোমাদের সাথে যোগ দিয়েছি। আমার জীবন তোমাদের সাথে এবং আমার মৃত্যুও তোমাদের সাথে। রসূলের মুখে এ ধরনের আবেগময় বাণী শুনে তারা কেঁদে ফেললেন এবং বলতে লাগলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা কেবল ধারণার বশবর্তী হয়েই এ কথা বলেছি। রসূল সা. বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার রসূল তোমাদের কথা মেনে নিচ্ছেন এবং তোমাদের ক্ষমা করছেন。

টিকাঃ
১২৮৯. সহীহ আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ: ৫২৯/৫৩০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00