📄 ফুজালা ইবনে উমায়েরের ইসলাম গ্রহণ
মক্কা বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ সা. যখন কা'বা তাওয়াফ করছিলেন তখন ফুজালা ইবেন উমায়ের লাইসী তাকে হত্যা করার ফন্দি আঁটেন। তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকটবর্তী হতেই রসূল সা. বললেন, 'কে, ফুজালা নাকি?' তিনি বললেন, হ্যাঁ হে আল্লাহর রসূল। রসূল সা. বললেন, 'তুমি মনে মনে কী ভাবছিলে?' তিনি বললেন, কিছুই না, আমি আল্লাহকে স্মরণ করছিলাম।
রসূলুল্লাহ সা. হেসে বললেন, 'আল্লাহর কাছে তাওবা করো।' অতঃপর তার বুকের ওপর নিজের হাত রাখলেন। তাতে তার মন শান্ত হলো। পরবর্তীতে ফুজালা বলতো, রসূলুল্লাহ সা. যে মুহূর্তে আমার বুকের ওপর থেকে হাত তুলে নিলেন, তখন থেকে পৃথিবীতে আর কোনো জিনিস আমার কাছে তার চাইতে প্রিয় বলে মনে হয়নি।
ফুজালা আরো বলেন, এরপর আমি নিজ পরিবারের কাছে চললাম। যাওয়ার সময় এমন এক নারীর সাথে দেখা হলো যার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল। সে বললো, এসো আমরা গল্প করি। আমি বললাম, না।
এ প্রসঙ্গে ফুজালা নিম্নরূপ কবিতা আবৃত্তি করেন:
قالت هلم إلى الحديث فقلت لا يأبى عليك الله والإسلام لو قد رأيت محمدا وقبيله بالفتح يوم تكسر الأصنام لرأيت دين الله أضحى بينا والشرك يغشى وجهه الإظلام
মহিলাটি আমাকে কথা বলতে ডাকলো। আমি বললাম, আল্লাহ ও ইসলাম তোমার আহ্বানে সাড়া দিতে নিষেধ করেন। তুমি যদি বিজয়ের দিন মুহাম্মাদ ও তার বাহিনীকে দেখতে, যে দিন মূর্তিগুলো ভেঙ্গে চূর্ণবিচর্ণ করা হচ্ছিলো, তাহলে দেখতে যে, আল্লাহর দীন উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে এবং শিরক অন্ধকারে ঢাকা পড়ে গেছে।
📄 আল্লাহর ঘর রক্ষা
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 উম্মে হানির আশ্রয়ে যারা নিরাপত্তা পেলো
আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানী রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের প্রক্কালে বনু মাখযুম গোত্রের দুই লোক পালিয়ে এসে আমার কাছে আশ্রয় নেয়। উম্মে হানীর স্বামী ছিলেন মাখযুম গোত্রের হুবাইয়া ইবনে আবু ওয়াহাব। উম্মে হানী বর্ণনা করেন, তারা আমার কাছে আসার সাথে সাথে আমার ভাই আলী ইবেন আবু তালিব রা. আমার কাছে এসে বললেন, আমি ওদেরকে হত্যা করবো। আমি ঘরের দরজা বন্ধ করে রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে গেলাম। তিনি তখন গোসল করছিলেন। গোসলের পাত্রে খামির করা আটা লেগেছিল। ফাতিমা তাকে কাপড় দিয়ে আড়াল করে দিলেন। গোসল সম্পন্ন করে তিনি আট রাকাআত চাশতের নামায পড়লেন। তারপর আমার কথা শুনে বললেন, 'খোশ আমদেদ হে উম্মে হানী! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছো, আমিও তাকে আশ্রয় দিয়েছি। তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছো আমিও তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি। কাজেই আলী যেন তাদেরকে হত্যা না করে।
টিকাঃ
১২৮৫. সীরাতে ইবনে হিশাম: ৪/৫৯-৬০।
📄 ইঙ্গিতে হত্যা করানো নবীর জন্য শোভনীয় নয়
বনু আমের গোত্রের আবদুল্লাহ ইবনে সারাহ প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করেন। পরে ওহী লেখক হিসেবে নিয়োজিত হন। তারপর ইসলাম ত্যাগ করে মুশরিক হয়ে কুরায়েশদের কাছে ফিরে যান। এ জন্য রসূলুল্লাহ সা. তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সে পালিয়ে তার দুধভাই ওসমান ইবনে আফফানের কাছে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। ওসমান রা. তাকে লুকিয়ে রাখেন। পরে মক্কার অবস্থা স্বাভাবিক এবং জনগণ শান্ত হয়ে আসলে তিনি তাকে রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট হাজির করেন। ওসমান রা. তার প্রাণের নিরাপত্তা প্রার্থনা করেন。
রসূলুল্লাহ সা. কোনো জবাব না দিয়ে দীর্ঘ নীরবতা পালন করেন। অতঃপর বলেন 'আচ্ছা।'
পরে ওসমান রা. চলে গেলে রসূলুল্লাহ সা. তাঁর সাহাবীদের বলেন, 'আমি চুপ ছিলাম যাতে তোমরা কেউ তাকে হত্যা করার সুযোগ পাও।' আনসারী সাহাবাদের একজন বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আপনি তো ইশারায় আপনার উদ্দেশ্য বোঝাতে পারতেন। তিনি বললেন, 'ইঙ্গিতে মানুষ হত্যা করানো নবীর জন্য শোভনীয় নয়।'
ইবনে হিশাম রহ. বলেন, এই ব্যক্তি পরে আবার ইসলাম গ্রহণ করেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. তাঁর খিলাফতকালে তাকে সরকারি কাজে নিয়োজিত করেন। পরে তৃতীয় খলিফা ওসমান রা. তাঁকে সরকারি কাজের দায়িত্ব দেন। ইবনে কাসীর রহ. বর্ণনা করেন, তিনি ফজরের নামাযের পর অথবা ফজরের নামাযের সিজদায় নিজের ঘরে ইনতেকাল করেন。
টিকাঃ
১২৮৬. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/২৯৬।
১২৮৭. সীরাতে ইবনে হিশাম ৪/৫৮।
১২৮৮. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/২৯৬।