📄 আবু বকর রা.-এর পিতার ইসলাম গ্রহণ
আসমা বিনতে আবু বকর রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. মক্কায় পৌঁছে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করলে আবু বকর রা. তার পিতাকে নিয়ে তাঁর কাছে হাজির হন। রসূলুল্লাহ সা. তাঁকে দেখে বললেন, 'এই বৃদ্ধকে ঘরে রেখে এলে না কেন? আমিই তার কাছে যেতাম।'
আবু বকর রা. বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ সা., আপনার যাওয়ার চাইতে তাঁর আসাই অধিকতর শোভন। রসূলুল্লাহ সা. তাঁকে নিজের সামনে বসালেন। অতঃপর তার বুকে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, 'আপনি ইসলাম গ্রহণ করুন।' আবু কুহাফা ইসলাম গ্রহণ করলেন। এরপর আবু বকর তাঁকে নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলেন। এ সময় আবু কুহাফার মাথায় 'সাগামা' নামক সাদা এক ধরনের গুল্ম জড়ানো ছিল। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, 'তার চুল থেকে এটা সরিয়ে দাও।'
রসূল সা. বয়সে প্রবীণদের কতটা গুরুত্ব ও সম্মান দিতেন-উপরোক্ত ঘটনা দ্বারা তা অনুমান করা যায়। তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাদের ছোটোদের স্নেহ করে না ও বড়দের সম্মান করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। অন্যত্র এসেছে:
إن من إجلال الله إكرام ذي الشيبة المسلم নিশ্চয়ই বৃদ্ধ মুসলিমকে সম্মান করা মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
একইভাবে তিনি ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামীদের ত্যাগ তিতিক্ষার কথা মনে রেখে তাদের সম্মান ও মর্যাদা দিতে বলতেন。
টিকাঃ
১২৭৯. সহীহ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ: ৫৩২।
১২৮০. সুনানে তিরমিযী: ১৯৮৬।
১২৮১. সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৪৩।
১২৮২. আত তারীখুল ইসলামী লিলহুমাইদী: ৭/১৯৫।
📄 ফুজালা ইবনে উমায়েরের ইসলাম গ্রহণ
মক্কা বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ সা. যখন কা'বা তাওয়াফ করছিলেন তখন ফুজালা ইবেন উমায়ের লাইসী তাকে হত্যা করার ফন্দি আঁটেন। তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকটবর্তী হতেই রসূল সা. বললেন, 'কে, ফুজালা নাকি?' তিনি বললেন, হ্যাঁ হে আল্লাহর রসূল। রসূল সা. বললেন, 'তুমি মনে মনে কী ভাবছিলে?' তিনি বললেন, কিছুই না, আমি আল্লাহকে স্মরণ করছিলাম।
রসূলুল্লাহ সা. হেসে বললেন, 'আল্লাহর কাছে তাওবা করো।' অতঃপর তার বুকের ওপর নিজের হাত রাখলেন। তাতে তার মন শান্ত হলো। পরবর্তীতে ফুজালা বলতো, রসূলুল্লাহ সা. যে মুহূর্তে আমার বুকের ওপর থেকে হাত তুলে নিলেন, তখন থেকে পৃথিবীতে আর কোনো জিনিস আমার কাছে তার চাইতে প্রিয় বলে মনে হয়নি।
ফুজালা আরো বলেন, এরপর আমি নিজ পরিবারের কাছে চললাম। যাওয়ার সময় এমন এক নারীর সাথে দেখা হলো যার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল। সে বললো, এসো আমরা গল্প করি। আমি বললাম, না।
এ প্রসঙ্গে ফুজালা নিম্নরূপ কবিতা আবৃত্তি করেন:
قالت هلم إلى الحديث فقلت لا يأبى عليك الله والإسلام لو قد رأيت محمدا وقبيله بالفتح يوم تكسر الأصنام لرأيت دين الله أضحى بينا والشرك يغشى وجهه الإظلام
মহিলাটি আমাকে কথা বলতে ডাকলো। আমি বললাম, আল্লাহ ও ইসলাম তোমার আহ্বানে সাড়া দিতে নিষেধ করেন। তুমি যদি বিজয়ের দিন মুহাম্মাদ ও তার বাহিনীকে দেখতে, যে দিন মূর্তিগুলো ভেঙ্গে চূর্ণবিচর্ণ করা হচ্ছিলো, তাহলে দেখতে যে, আল্লাহর দীন উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে এবং শিরক অন্ধকারে ঢাকা পড়ে গেছে।
📄 আল্লাহর ঘর রক্ষা
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 উম্মে হানির আশ্রয়ে যারা নিরাপত্তা পেলো
আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানী রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের প্রক্কালে বনু মাখযুম গোত্রের দুই লোক পালিয়ে এসে আমার কাছে আশ্রয় নেয়। উম্মে হানীর স্বামী ছিলেন মাখযুম গোত্রের হুবাইয়া ইবনে আবু ওয়াহাব। উম্মে হানী বর্ণনা করেন, তারা আমার কাছে আসার সাথে সাথে আমার ভাই আলী ইবেন আবু তালিব রা. আমার কাছে এসে বললেন, আমি ওদেরকে হত্যা করবো। আমি ঘরের দরজা বন্ধ করে রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে গেলাম। তিনি তখন গোসল করছিলেন। গোসলের পাত্রে খামির করা আটা লেগেছিল। ফাতিমা তাকে কাপড় দিয়ে আড়াল করে দিলেন। গোসল সম্পন্ন করে তিনি আট রাকাআত চাশতের নামায পড়লেন। তারপর আমার কথা শুনে বললেন, 'খোশ আমদেদ হে উম্মে হানী! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছো, আমিও তাকে আশ্রয় দিয়েছি। তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছো আমিও তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি। কাজেই আলী যেন তাদেরকে হত্যা না করে।
টিকাঃ
১২৮৫. সীরাতে ইবনে হিশাম: ৪/৫৯-৬০।