📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 সুওয়া ধ্বংস করতে আমর ইবনে আস

📄 সুওয়া ধ্বংস করতে আমর ইবনে আস


নুহ আ.-এর সম্প্রদায় সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا
আর তারা বলে, তোমরা তোমাদের উপাস্যদের বর্জন করো না; বর্জন করো না ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগূস, ইয়াউক ও নাসরকে।

এখানে বলা হয়েছে, সুওয়া' নামক মূর্তিটিকে মূলত নুহ আ.-এর সম্প্রদায়ের লোকেরা উপাসনা করতো। কালক্রমে এই মূর্তিটি হুযাইল গোত্রের অধিবাসীদের কাছে আসে। হুযাইল গোত্রের লোকেরা এই মূর্তির প্রতি অগাধ আস্থা ও শ্রদ্ধা পোষণ করতো। এমনকি তারা এর আশেপাশে হজ আদায় করতো।

মক্কা বিজয়ের পর হুযাইল গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করলে তাদের সুওয়া মূর্তিটি ধ্বংস করতে রসূল সা. আমর ইবনে আস রা.-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনী পাঠান। আমর রা. বলেন, যখন আমি মূর্তির কাছে গিয়ে পৌঁছলাম, তার রক্ষণাবেক্ষণকারী আমাকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি কেনো এসেছো? আমি বললাম, রসূল সা. আমাকে এই মূর্তিটি ধ্বংস করতে পাঠিয়েছেন। সে আমাকে বললো, তুমি এটি করতে পারবে না। আমি বললাম, কেন? সে বললো, এই মূর্তিটি ধ্বংস করা সম্ভব নয়। আমি বললাম, তুমি এখনো মিথ্যা ধারণা পোষণ করে বসে আছো! তোমার ধ্বংস হোক! এই মূর্তিটি না দেখতে পারে, না শুনতে পারে আর না কিছু করতে সক্ষম। অতঃপর আমি মূর্তিটি ধ্বংস করে ফেললাম। আমার সঙ্গীদের নির্দেশ দিলাম, এর আশেপাশের নির্মিত স্থাপনাগুলোও ধ্বংস করে দাও। অবশেষে মূর্তির সেবককে জিজ্ঞেস করলাম, এখন তুমি এ ব্যাপারে কী বলবে? তখন সে বললো, আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম।

এসব মূর্তি ধ্বংসের জন্য বাহিনী পাঠিয়ে রসূলুল্লাহ সা. বুঝিয়ে দিয়েছেন, কুফর ও শিরকের এমন নিদর্শন তথা মূর্তি ধ্বংসের সুযোগ পাওয়া মাত্র তা ধ্বংস করে দিতে হবে। এতে বিলম্ব করা জায়েয নয়। অনুরূপভাবে যেসব কবর ও পাথরকে সম্মান জানানো হয় এবং উপাসনা করা হয়, সেগুলোও সামর্থ্য থাকলে ধ্বংস করে দিতে হবে, অবশিষ্ট রাখা বৈধ হবে না। কেননা এগুলো লাত, উয্যা ও মানাতের পরিবর্তিত রূপ। এগুলোতেও শিরকের পরিমাণ কম নয়।

টিকাঃ
১২৬৬. সুরা নূহ: আয়াত ২৩।
১২৬৭. আসসারায়া ওয়াল বুয়ুসিন নববিয়‍্যাহ : ২৯২।
১২৬৮. সুবুলুর রাশাদ: ৬/৩০৩।
১২৬৯. ওয়াকেদী প্রণীত মাগাযী: ২/৮৭০।
১২৭০. আসসারায়া ওয়াল বুয়ুসিন নববিয়‍্যাহ : ৩০২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00