📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা

📄 সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা


ক. মক্কা বিজয়ের দিন মক্কার অধিবাসীরা সাধারণ ক্ষমা লাভ করে। অথচ তারা ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই রসূল সা. ও দীনি দাওয়াতের প্রতি জঘন্যতম আচরণ করে আসছিল। চাইলেই মুসলিম মুজাহিদরা তাদের নির্মূল করতে পারতো। কিন্তু না, নবীজি সেদিন দেখালেন ক্ষমার এক অতুল দৃষ্টান্ত। মুশরিকরা যা কল্পনাই করতে পারেনি। নবীজি সা. তাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমি তোমাদের সাথে কী আচরণ করবো বলে তোমরা ধারণা করো? জবাবে তারা বললো, হে সম্মানিত ভাই! আমরা কল্যাণের আশা করি। দয়ার নবী তাদের আশ্বস্ত করে বললেন,
لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ
আজ তোমাদের উপর কোনো ভৎর্সনা নেই, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। '

সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে মক্কার মুশরিকদের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। তাদেরকে হত্যা করা হয়নি। কাউকে বন্দীও করা হয়নি। তাদের সম্পদ ও ভূখণ্ডের মালিকানা তাদের হাতেই ছিল। পরিবর্তে তাদের ওপর কোনো ট্যাক্সও ধার্য করা হয়নি। অন্যান্য যেসব ভূখণ্ড যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলমানদের হাতে এসেছিল, সেসব ক্ষেত্রে এমন আচরণ করা হয়নি। কেননা, মক্কা মর্যাদাপূর্ণ ভূমি। মক্কায় মহান আল্লাহর ইবাদত করা হয়। পবিত্র কা'বার অবস্থান মক্কায়।
এ প্রেক্ষিতে জামহুর ইমামগণের মতে, মক্কার ভূমি বিক্রি করা বা মক্কায় অবস্থিত বাসস্থান ভাড়া দেওয়া নাজায়েয। সেখানকার অধিবাসীদের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তাতে তারা বসবাস করবে। তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গাগুলোতে আল্লাহর ঘরের মেহমান তথা হজ ও উমরাকারীরা এসে থাকবে। পক্ষান্তরে কিছু কিছু আলেমের উক্তি হচ্ছে, পৃথিবীর অন্যান্য নগরীর মতো মক্কা নগরীর ভূখণ্ড বিক্রি করা এবং সেখানকার ঘর ভাড়া দেওয়া জায়েয। দলিল-প্রমাণের আলোকে এই পক্ষের বক্তব্য শক্তিশালী। অন্য পক্ষ অর্থাৎ যারা নাজায়েয বলে মত দিয়েছেন, তাদের প্রমাণসমূহ মুরসাল ও মাওকূফ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

খ. যারা সাধারণ ক্ষমা পায়নি
দয়ার পাশাপাশি কঠোরতাও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য জরুরি। মক্কা বিজয়ের পরে রসূল সা. প্রায় দশজন ব্যক্তিকে সাধারণ ক্ষমার আওতার বাইরে রাখেন। তাদেরকে হত্যার নির্দেশ দেন। কেননা, তাদের অপরাধ ছিল অমার্জনীয়। ইসলাম ও مسلمانوں বিরুদ্ধে তাদের কুকীর্তি ছিল ক্ষমার অযোগ্য। এছাড়া মক্কা বিজয়ের পর তারা মক্কাবাসীদের পুনরায় مسلمانوں বিরুদ্ধে যুদ্ধে উসকানি দেবে এমন আশঙ্কাও ছিল প্রবল। এ কারণে রসূল সা. বলেছেন, যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই তাদের হত্যা করাবে।

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. ফাতহুল বারী গ্রন্থে লিখেন, আমি ক্ষমার অযোগ্য এসব ব্যক্তিদের নাম বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জমা করেছি। তারা হলো : আবদুল উয্যা ইবনে খাতাল, আবদুল্লাহ ইবনে সাআদ ইবনে আবী সারাহ, ইকরামা ইবনে আবু জেহেল, হুয়াইরিস ইবনে নুকাইদ, মুকাইস ইবনে হুবাবাহ, হাব্বার ইবনে আসওয়াদ ও ইবনে খাতালের দুই দাসী ফারতানী ও কারীবা, আবদুল মুত্তালিবের মুক্ত দাসী সারা।
আবু মা'শারের বর্ণনায় ক্ষমার অযোগ্যদের তালিকায় হারেস ইবনে তালাল খুযায়ীর নামও রয়েছে। ইমাম হাকিমের বর্ণনায় ক্ষমার অযোগ্যদের তালিকায় কাআব ইবনে যুহাইর, ওয়াহশী ইবনে হারব ও হিন্দ বিনতে উতবার নামও পাওয়া যায়।

উপরোক্ত তালিকার কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছিল। কেউ কেউ নবীজির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ইসলাম গ্রহণ করে। নবীজি সা. তাদের ক্ষমা করে দেন। পরবর্তীকালে তারা ইসলামী আদর্শে জীবনযাপন করে।

গ. মক্কা বিজয়ের দিন নবীজির ভাষণ ও মক্কাবাসীর ইসলাম গ্রহণ
রসূলুল্লাহ সা. মক্কা বিজয়ের দিন সকালে জানতে পারেন, তার মিত্রপক্ষ বনু খুযাআর লোকেরা জাহেলিয়া যুগে তাদের গোত্রের নিহত এক ব্যক্তির বদলায় হুযাইল গোত্রের এক মুশরিক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এটা শুনে রসূল সা. রাগান্বিত হন। তিনি ভাষণ দিতে দাঁড়ান এবং বলেন: 'হে জনতা! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর সূচনা লগ্ন থেকে মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন। আল্লাহর সম্মানে কেয়ামত পর্যন্ত এখানে যাবতীয় হত্যাকাণ্ড হারাম। যারা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী, তাদের জন্য এখানে রক্তপাত করা হারাম। এখানকার গাছ কাটা এবং ঘাস উপড়ানোও হারাম। আমার আগে কাউকে এর অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমার পরবর্তীদের জন্যও এটা বৈধ নয়। এখানকার মুশরিকদের অপরাধের শাস্তি হিসেবে কিছু সময়ের জন্য আমাকে এ অঞ্চলের বৈধতা দান করা হয়েছে। অতঃপর পূর্বেকার মতো আগামীতেও এই বিধান বলবৎ থাকবে। তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত রয়েছে, তারা যেন অনুপস্থিত সবাইকে জানিয়ে দেয়। কেউ যদি তোমাদের বলে, নবীজি সা. এখানে কাফেরদের হত্যা করেছিলেন, জবাবে তোমরা বলবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তার রসূলের জন্য তা বৈধ করেছিলেন। পরে আর কারো জন্য এটা বৈধ নয়।
হে খুযাআ গোত্রের লোকেরা! তোমরা হত্যা থেকে নিজেদের হাত গুটিয়ে ফেলো। যে লোককে তোমরা হত্যা করেছো, আমি তার রক্তপণ আদায় করে দেবো। আজকের পর কাউকে হত্যা করা হলে নিহত ব্যক্তির পরিবারের জন্য দুটি অধিকার থাকবে; একটি হলো, প্রতিশোধ হিসেবে হত্যাকারীকে হত্যা করা, আরেকটি হচ্ছে, রক্তপণ নেওয়া।

নবীজির সাধারণ ক্ষমা মক্কাবাসীদের অন্তরে তোলপাড় সৃষ্টি করে। তারা প্রভাবিত হয় নবীজির মহানুভবতায়। মক্কার নারী-পুরুষ দলে দলে ইসলামে দীক্ষিত হয়। আর এভাবেই আল্লাহর নেয়ামত পূর্ণতা পায়।

রসূলুল্লাহ সা. শিশু-বৃদ্ধ-নারী-पुरुष নির্বিশেষে সবার বায়আত নেন। সাফা পাহাড়ে আল্লাহর রসূল সা. তাদের বায়আত নেওয়া শুরু করেন। প্রথমে পুরুষদের বায়আত নেন। এই বায়আত ছিল ইসলামের বিধান পালন, আল্লাহ ও তার রসূলের আনুগত্যের ব্যাপারে। মুজাশি রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের পর আমি আমার ভাই (মুজালিদ)-কে নিয়ে রসূল সা.-এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার ভাইকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি যেন আপনি তার নিকট হতে হিজরত করার ব্যাপারে বায়আত গ্রহণ করেন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, (মক্কা বিজয়ের পূর্বে মক্কা থেকে মদীনায়) হিজরতকারীরা হিজরতের সমুদয় বরকত নিয়ে গেছে। আমি বললাম, তা হলে কোন্ বিষয়ের ওপর আপনি তার নিকট হতে বায়আত গ্রহণ করবেন? তিনি বললেন:
أبايعه على الإسلام والإيمان والجهاد
আমি তার নিকট হতে বায়আত গ্রহণ করবো ইসলাম, ঈমান ও জিহাদের ওপর。

ইমাম বুখারী হতে বর্ণিত, রসূল সা. মক্কা বিজয়ের দিন বলেছিলেন, ‘(মক্কা) বিজয়ের পর আর হিজরত নেই; বরং রয়েছে কেবল জিহাদ ও নিয়‍্যাত। যখন তোমাদের জিহাদের ডাক দেওয়া হয়, তখন বেরিয়ে পড়ো。

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের যে বিধান मुसलमानों জন্য আবশ্যক ছিল, মক্কা বিজয়ের পর তা রহিত হয়ে গেছে। এর কারণ হচ্ছে, মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম শক্তি ও মর্যাদা লাভ করেছে। ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে অসংখ্য মানুষ। কিন্তু দারুল কুফর থেকে দারুল ইসলামের দিকে হিজরত করা বা যেখানে দীনি বিষয়াদি যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয়, সেখান থেকে নিরাপদ এলাকায় হিজরতের বিধান কেয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে মর্যাদার ক্ষেত্রে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের সাথে অন্য হিজরত তুলনীয় হবে না।

অনুরূপভাবে যারা মক্কা বিজয়ের পর কেয়ামত পর্যন্ত জিহাদ ও আল্লাহর পথে জীবন ও সম্পদ ব্যয় করেছেন বা করবেন তারা কখনো মক্কা বিজয়ের পূর্বে যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করেছেন এবং যারা জিহাদ করেছেন তাদের সমমর্যাদার হবেন না। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
وَمَا لَكُمْ أَلَّا تُنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنْ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করছ না? অথচ আসমানসমূহ ও জমিনের উত্তরাধিকারতো আল্লাহরই? তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যারা পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আর তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ অবগত।

পুরুষদের থেকে বায়আত নেয়ার পর তিনি মহিলাদের থেকে বায়আত গ্রহণ করেন। মহিলাদের দলে হিন্দ বিনতে উতবাও ছিলেন। হামযার প্রতি তার আচরণের কারণে লজ্জিত হয়ে অবগুণ্ঠন টেনে তিনি তথায় উপস্থিত হন। ওই ঘটনার কারণে রসূলুল্লাহ সা. তাকে পাকড়াও করতে পারেন বলে তিনি আশংকা করছিলেন। বায়আতের উদ্দেশ্যে নারীরা রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এলে তিনি বলেন, 'তোমরা আমার নিকট এই মর্মে বায়আত গ্রহণ করো যে, আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করবে না। চুরি করবে না।'

হিন্দ বললেন, আবু সুফিয়ান কৃপণ ব্যক্তি। আমি আবু সুফিয়ানের মাল- সম্পদ না বলে নিলে কি সমস্যা হবে? রসূল সা. বললেন, তার সম্পদ থেকে তোমার এবং তোমার সন্তানদের প্রয়োজন পূরণ হয় এই পরিমাণ সম্পদ নিতে পারো। যখন রসূল সা. এই মর্মে শপথ করাচ্ছিলেন যে, 'ব্যভিচার করবে না।' হিন্দ বলে উঠলেন, কোনো স্বাধীন নারী কি ব্যভিচার করতে পারে? রসূল সা. তাকে চিনতে পারলেন এবং বললেন, নিশ্চয়ই তুমি হিন্দ বিনতে উতবাহ। তিনি বললেন, হ্যাঁ। আপনি আমাকে পূর্বের অপরাধের জন্য ক্ষমা করে দিন! আল্লাহ আপনার মঙ্গল করবেন। অতঃপর আল্লাহর রসূল সা. তাকে ক্ষমা করে দেন।

আল্লাহর রসূল সা. নারীদের বায়আত করানোর ক্ষেত্রে তাদের হাতে স্পর্শ করেননি। তিনি কখনো নিজের নিকটাত্মীয় বা স্ত্রীগণ ব্যতীত অন্য কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেননি। সহীহাইনে এসেছে: আয়েশা রা. বলেন, আল্লাহর শপথ! রসূল সা.-এর হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রসূল সা. নারীদের শুধু কথার মাধ্যমে বায়আত করাতেন এবং তিনি এই কথা বলতেন, একজন নারীর জন্য আমার বক্তব্য শত নারীর জন্য আমার বক্তব্যের মতো।

টিকাঃ
১২৩৫. আল মুজতামা আল মাদানী লিলউমরী: ১৭৯।
১২৩৬. আল মুজতামা আল মাদানী লিলউমরী: ১৮০।
১২৩৭. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৪৫১।
১২৩৮. ফাতহুল বারী: ৯/৮।
১২৩৯. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৪৫১।
১২৪০. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৪৫১।
১২৪১. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৪৫৬।
১২৪২. সহীহ বুখারী: ৪৩০৫।
১২৪৩. সহীহ বুখারী: ২৭৮৩।
১২৪৪. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৪৫৭।
১২৪৫. সূরা হাদীদ: আয়াত ১০।
১২৪৬. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩১৯।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 যারা সাধারণ ক্ষমা পায়নি

📄 যারা সাধারণ ক্ষমা পায়নি


দয়ার পাশাপাশি কঠোরতাও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য জরুরি। মক্কা বিজয়ের পরে রসূল সা. প্রায় দশজন ব্যক্তিকে সাধারণ ক্ষমার আওতার বাইরে রাখেন। তাদেরকে হত্যার নির্দেশ দেন। কেননা, তাদের অপরাধ ছিল অমার্জনীয়। ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের কুকীর্তি ছিল ক্ষমার অযোগ্য। এছাড়া মক্কা বিজয়ের পর তারা মক্কাবাসীদের পুনরায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উসকানি দেবে এমন আশঙ্কাও ছিল প্রবল। এ কারণে রসূল সা. বলেছেন, যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই তাদের হত্যা করাবে।

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. ফাতহুল বারী গ্রন্থে লিখেন, আমি ক্ষমার অযোগ্য এসব ব্যক্তিদের নাম বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জমা করেছি। তারা হলো : আবদুল উয্যা ইবনে খাতাল, আবদুল্লাহ ইবনে সাআد ইবনে আবী সারাহ, ইকরামা ইবনে আবু জেহেল, হুয়াইরিস ইবনে নুকাইদ, মুকাইস ইবনে হুবাবাহ, হাব্বার ইবনে আসওয়াদ ও ইবনে খাতালের দুই দাসী ফারতানী ও কারীবা, আবদুল মুত্তালিবের মুক্ত দাসী সারা।
আবু মা'শারের বর্ণনায় ক্ষমার অযোগ্যদের তালিকায় হারেস ইবনে তালাল খুযায়ীর নামও রয়েছে। ইমাম হাকিমের বর্ণনায় ক্ষমার অযোগ্যদের তালিকায় কাআব ইবনে যুহাইর, ওয়াহশী ইবনে হারব ও হিন্দ বিনতে উতবার নামও পাওয়া যায়।

উপরোক্ত তালিকার কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছিল। কেউ কেউ নবীজির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ইসলাম গ্রহণ করে। নবীজি সা. তাদের ক্ষমা করে দেন। পরবর্তীকালে তারা ইসলামী আদর্শে জীবনযাপন করে।

টিকাঃ
১২৩৭. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৪৫১।
১২৩৮. ফাতহুল বারী: ৯/৮।
১২৩৯. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৪৫১।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 মক্কা বিজয়ের দিন নবীজির ভাষণ ও মদীনাবাসীর ইসলাম গ্রহণ

📄 মক্কা বিজয়ের দিন নবীজির ভাষণ ও মদীনাবাসীর ইসলাম গ্রহণ


রসূলুল্লাহ সা. মক্কা বিজয়ের দিন সকালে জানতে পারেন, তার মিত্রপক্ষ বনু খুযাআর লোকেরা জাহেলিয়া যুগে তাদের গোত্রের নিহত এক ব্যক্তির বদলায় হুযাইল গোত্রের এক মুশরিক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এটা শুনে রসূল সা. রাগান্বিত হন। তিনি ভাষণ দিতে দাঁড়ান এবং বলেন: 'হে জনতা! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর সূচনা লগ্ন থেকে মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন। আল্লাহর সম্মানে কেয়ামত পর্যন্ত এখানে যাবতীয় হত্যাকাণ্ড হারাম। যারা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী, তাদের জন্য এখানে রক্তপাত করা হারাম। এখানকার গাছ কাটা এবং ঘাস উপড়ানোও হারাম। আমার আগে কাউকে এর অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমার পরবর্তীদের জন্যও এটা বৈধ নয়। এখানকার মুশরিকদের অপরাধের শাস্তি হিসেবে কিছু সময়ের জন্য আমাকে এ অঞ্চলের বৈধতা দান করা হয়েছে। অতঃপর পূর্বেকার মতো আগামীতেও এই বিধান বলবৎ থাকবে। তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত রয়েছে, তারা যেন অনুপস্থিত সবাইকে জানিয়ে দেয়। কেউ যদি তোমাদের বলে, নবীজি সা. এখানে কাফেরদের হত্যা করেছিলেন, জবাবে তোমরা বলবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তার রসূলের জন্য তা বৈধ করেছিলেন। পরে আর কারো জন্য এটা বৈধ নয়।
হে খুযাআ গোত্রের লোকেরা! তোমরা হত্যা থেকে নিজেদের হাত গুটিয়ে ফেলো। যে লোককে তোমরা হত্যা করেছো, আমি তার রক্তপণ আদায় করে দেবো। আজকের পর কাউকে হত্যা করা হলে নিহত ব্যক্তির পরিবারের জন্য দুটি অধিকার থাকবে; একটি হলো, প্রতিশোধ হিসেবে হত্যাকারীকে হত্যা করা, আরেকটি হচ্ছে, রক্তপণ নেওয়া।
নবীজির সাধারণ ক্ষমা মক্কাবাসীদের অন্তরে তোলপাড় সৃষ্টি করে। তারা প্রভাবিত হয় নবীজির মহানুভবতায়। মক্কার নারী-পুরুষ দলে দলে ইসলামে দীক্ষিত হয়। আর এভাবেই আল্লাহর নেয়ামত পূর্ণতা পায়।
রসূলুল্লাহ সা. শিশু-বৃদ্ধ-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার বায়আত নেন। সাফা পাহাড়ে আল্লাহর রসূল সা. তাদের বায়আত নেওয়া শুরু করেন। প্রথমে পুরুষদের বায়আত নেন। এই বায়আত ছিল ইসলামের বিধান পালন, আল্লাহ ও তার রসূলের আনুগত্যের ব্যাপারে। মুজাশি রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের পর আমি আমার ভাই (মুজালিদ)-কে নিয়ে রসূল সা.-এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার ভাইকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি যেন আপনি তার নিকট হতে হিজরত করার ব্যাপারে বায়আত গ্রহণ করেন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, (মক্কা বিজয়ের পূর্বে মক্কা থেকে মদীনায়) হিজরতকারীরা হিজরতের সমুদয় বরকত নিয়ে গেছে। আমি বললাম, তা হলে কোন্ বিষয়ের ওপর আপনি তার নিকট হতে বায়আত গ্রহণ করবেন? তিনি বললেন:
أبايعه على الإسلام والإيمان والجهاد
আমি তার নিকট হতে বায়আত গ্রহণ করবো ইসলাম, ঈমান ও জিহাদের ওপর。
ইমাম বুখারী হতে বর্ণিত, রসূল সা. মক্কা বিজয়ের দিন বলেছিলেন, ‘(মক্কা) বিজয়ের পর আর হিজরত নেই; বরং রয়েছে কেবল জিহাদ ও নিয়‍্যাত। যখন তোমাদের জিহাদের ডাক দেওয়া হয়, তখন বেরিয়ে পড়ো。
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের যে বিধান مسلمانوں জন্য আবশ্যক ছিল, মক্কা বিজয়ের পর তা রহিত হয়ে গেছে। এর কারণ হচ্ছে, মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম শক্তি ও মর্যাদা লাভ করেছে। ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে অসংখ্য মানুষ। কিন্তু দারুল কুফর থেকে দারুল ইসলামের দিকে হিজরত করা বা যেখানে দীনি বিষয়াদি যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয়, সেখান থেকে নিরাপদ এলাকায় হিজরতের বিধান কেয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে মর্যাদার ক্ষেত্রে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের সাথে অন্য হিজরত তুলনীয় হবে না।
অনুরূপভাবে যারা মক্কা বিজয়ের পর কেয়ামত পর্যন্ত জিহাদ ও আল্লাহর পথে জীবন ও সম্পদ ব্যয় করেছেন বা করবেন তারা কখনো মক্কা বিজয়ের পূর্বে যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করেছেন এবং যারা জিহাদ করেছেন তাদের সমমর্যাদার হবেন না। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
وَمَا لَكُمْ أَلَّا تُنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنْ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করছ না? অথচ আসমানসমূহ ও জমিনের উত্তরাধিকারতো আল্লাহরই? তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যারা পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আর তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আল্লাহ সবিশেষ অবগত।
পুরুষদের থেকে বায়আত নেয়ার পর তিনি মহিলাদের থেকে বায়আত গ্রহণ করেন। মহিলাদের দলে হিন্দ বিনতে উতবাও ছিলেন। হামযার প্রতি তার আচরণের কারণে লজ্জিত হয়ে অবগুণ্ঠন টেনে তিনি তথায় উপস্থিত হন। ওই ঘটনার কারণে রসূলুল্লাহ সা. তাকে পাকড়াও করতে পারেন বলে তিনি আশংকা করছিলেন। বায়আতের উদ্দেশ্যে নারীরা রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এলে তিনি বলেন, 'তোমরা আমার নিকট এই মর্মে বায়আত গ্রহণ করো যে, আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করবে না। চুরি করবে না।'
হিন্দ বললেন, আবু সুফিয়ান কৃপণ ব্যক্তি। আমি আবু সুফিয়ানের মাল- সম্পদ না বলে নিলে কি সমস্যা হবে? রসূল সা. বললেন, তার সম্পদ থেকে তোমার এবং তোমার সন্তানদের প্রয়োজন পূরণ হয় এই পরিমাণ সম্পদ নিতে পারো। যখন রসূল সা. এই মর্মে শপথ করাচ্ছিলেন যে, 'ব্যভিচার করবে না।' হিন্দ বলে উঠলেন, কোনো স্বাধীন নারী কি ব্যভিচার করতে পারে? রসূল সা. তাকে চিনতে পারলেন এবং বললেন, নিশ্চয়ই তুমি হিন্দ বিনতে উতবাহ। তিনি বললেন, হ্যাঁ। আপনি আমাকে পূর্বের অপরাধের জন্য ক্ষমা করে দিন! আল্লাহ আপনার মঙ্গল করবেন। অতঃপর আল্লাহর রসূল সা. তাকে ক্ষমা করে দেন।
আল্লাহর রসূল সা. নারীদের বায়আত کرানোর ক্ষেত্রে তাদের হাতে স্পর্শ করেননি। তিনি কখনো নিজের নিকটাত্মীয় বা স্ত্রীগণ ব্যতীত অন্য কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেননি। সহীহাইনে এসেছে: আয়েশা রা. বলেন, আল্লাহর শপথ! রসূল সা.-এর হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রসূল সা. নারীদের শুধু কথার মাধ্যমে বায়আত করাতেন এবং তিনি এই কথা বলতেন, একজন নারীর জন্য আমার বক্তব্য শত নারীর জন্য আমার বক্তব্যের মতো।

টিকাঃ
১২৪০. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৪৫১।
১২৪১. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৪৫৬।
১২৪২. সহীহ বুখারী: ৪৩০৫।
১২৪৩. সহীহ বুখারী: ২৭৮৩।
১২৪৪. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৪৫৭।
১২৪৫. সূরা হাদীদ: আয়াত ১০।
১২৪৬. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৩১৯।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 বনু জুযায়মার দিকে খালেদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে প্রেরণ

📄 বনু জুযায়মার দিকে খালেদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে প্রেরণ


রসূল সা. খালেদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে বনু জুযায়মা গোত্রকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য পাঠান। এটা ছিল অষ্টম হিজরির শাওয়াল মাসে হুনাইন যুদ্ধের পূর্বের ঘটনা। বনু সুলাইম, মুদলাজ ও আনসার-মুহাজির সাহাবীগণের সমন্বয়ে প্রায় পাঁচশো ত্রিশজনের এ বাহিনী বনু জুযায়মা অভিমুখে বের হয়ে পড়ে। খালেদ ইবনে ওয়ালিদের নেতৃত্বে আসা এ বাহিনী দেখে বনু জুযায়মা অস্ত্রসজ্জিত হয়ে প্রতিরোধ করতে এলে খালেদ বলেন, সব মানুষেরা ইসলামগ্রহণ করেছে; সুতরাং তোমরা অস্ত্র ফেলে দাও। বনু জুযায়মার জুহদর নামক ব্যক্তি চেঁচিয়ে বলে উঠলো, তোমাদের ধ্বংস হোক! নিশ্চয়ই ইনি সেনাপতি খালেদ ইবনে ওয়ালীদ। তিনি তোমাদের অস্ত্রমুক্ত করে প্রথমে বন্দী করবেন, অতঃপর হত্যা করবেন। আল্লাহর শপথ! আমি অস্ত্রসমর্পণ করবো না। তবে কিছু সময় পর সে অস্ত্রসমর্পণ করলে সবাই অস্ত্রসমর্পণ করে। অস্ত্রসমর্পণ সমাপ্ত হলে খালেদ ইবনে ওয়ালিদের আদেশে তাদের একত্রিত করা হয় এবং তিনি সে গোত্রের লোকজনকে ইসলাম গ্রহণ করার আহ্বান জানান কিন্তু তারা স্পষ্টভাবে এ কথা বলেনি যে, 'আমরা ইসলাম গ্রহণ করলাম'; বরং তারা এ কথা বলে যে, 'আমরা ধর্মান্তরিত হলাম। আমরা ধর্মান্তরিত হলাম।' ফলে খালেদ রা. তাদেরকে বন্দী ও হত্যা করার জন্যে পাকড়াও করেন। ইবনে ওমর রা. বলেন, খালেদ আমাদের প্রত্যেকের হাতে একজন করে বন্দীকে তুলে দেন। পরের দিন সকাল বেলা আমাদের প্রত্যেককে নির্দেশ দেন নিজ নিজ বন্দীকে হত্যা করতে। জবাবে আমি বললাম, আল্লাহর কসম আমি আমার বন্দীকে হত্যা করবো না এবং তার মতো আরও অনেকে বন্দীদের হত্যা করতে অস্বীকৃতি জানালেন। ফলে কিছু বন্দী নিহত হয় এবং কিছু জীবিত থাকে। ইবনে ওমর রা. বলেন, এরপর সকলে রসূল সা.-এর কাছে ফিরে এসে খালেদের কর্মকাণ্ড সবিস্তারে তাকে জানায়। তখন নবী করীম সা. দুহাত উঠিয়ে দোআ করেন: 'হে আল্লাহ! খালেদ যে কাজ করেছে, তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে খালেদ ইবনে ওয়ালীদ ও আবদুর রহমান ইবনে আউফ-এর মাঝে এ নিয়ে বেশ বাদানুবাদ হয়। আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা.-এর ধারণা ছিল হয়তো খালেদ ইবনে ওয়ালীদ জাহেলি যুগে জুযায়মা কর্তৃক তার চাচা ফাকিহ ইবনে মুগীরা-এর হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তাদের এই উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডার ব্যাপারে সহীহ মুসলিমে এসেছে, একবার খালেদ ইবনে ওয়ালীদ রা. আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা.-এর মধ্যে কোনো ব্যাপারে দ্বন্দ্ব হয়। খালেদ ইবনে ওয়ালীদ আবদুর রহমান ইবনে আউফকে কিছু মন্দ কথা বললে রসূল সা. বলেন, 'তোমরা আমার সাহাবীদের কাউকে মন্দ বলো না। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও আল্লাহর রাস্তায় দান করো তবুও তা আমার সাহাবীদের দান করা সামান্য পরিমাণ সাদকার সমতুল্য হবে না।

রসূল সা. আলী রা.-কে তাদের রক্তপণ এবং তাদের মনোতুষ্টির জন্য আরও অতিরিক্ত কিছু সম্পদ দিয়ে আসার নির্দেশ দেন। এমন হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে রসূল সা. বনু জুযায়মার মন জয় করেন। দূর করে দেন তাদের মনের দুঃখ-বেদনা। খালেদ ইবনে ওয়ালিদ রা.-এর উক্ত আচরণ ছিল একটি ইজতিহাদি ভুল। এর প্রমাণ হচ্ছে, রসূল সা. এ ব্যাপারে খালেদ ইবনে ওয়ালীদ রা.-কে তিরস্কার করেননি। কোনো প্রকার শাস্তিও দেননি।

টিকাঃ
১২৪৭. আসসারায়া ওয়াল বুয়ুসিন নববিয়্যাহ: ২৪৮।
১২৪৮. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৪৬৪।
১২৪৯. আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ফি যুয়িল মাসাদিরিল আসলিয়্যাহ ৫৭৯।
১২৫০. আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ফি যুয়িল মাসাদিরিল আসলিয়্যাহ ৫৭৯।
১২৫১. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৫৭৯।
১২৫২. আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ফি যুয়িল মাসাদিরিল আসলিয়্যাহ: ৫৭৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00