📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 শত্রুদের বেখবর রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা

📄 শত্রুদের বেখবর রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা


গ. মদীনার ভেতরে-বাইরে গোপনে সংবাদ সংগ্রহের লক্ষ্যে রসূলুল্লাহ সা. বিভিন্ন লোক নিয়োগ দেন। কেউ যেন এই তথ্য পাচার না করতে পারে, এটা ছিল এই গোয়েন্দাবৃত্তির লক্ষ্য। এর দায়িত্বশীল বানানো হয় ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.-কে। তিনি তাদের این মর্মে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তোমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী প্রতিটি সন্দেহজনক ব্যক্তিকে তোমরা ফিরিয়ে আনবে। যারা মক্কা অভিমুখে যাত্রা করছেন, সতর্কতার সাথে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করবে এবং তাদের কাছ থেকে মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করবে। এভাবে তথ্য সংগ্রহের ফলে মুসলমানরা যথেষ্ট সুফল পায়। মুসলিম বাহিনীর গতিবিধি কাফেরদের কাছে পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত্রুরা আর প্রতিরোধের সুযোগ পায়নি।

টিকাঃ
১১৮২. ওয়াকেদী প্রণীত মাগাযী: ২/৭৯৭।
১১৮৩. আল কিয়াদাতুল আসকারীয়াহ ফি আহদির রসূল: ৩৬৫।

গ. মদীনার ভেতরে-বাইরে গোপনে সংবাদ সংগ্রহের লক্ষ্যে রসূলুল্লাহ সা. বিভিন্ন লোক নিয়োগ দেন। কেউ যেন এই তথ্য পাচার না করতে পারে, এটা ছিল এই গোয়েন্দাবৃত্তির লক্ষ্য। এর দায়িত্বশীল বানানো হয় ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.-কে। তিনি তাদের این মর্মে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তোমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী প্রতিটি সন্দেহজনক ব্যক্তিকে তোমরা ফিরিয়ে আনবে। যারা মক্কা অভিমুখে যাত্রা করছেন, সতর্কতার সাথে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করবে এবং তাদের কাছ থেকে মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করবে। এভাবে তথ্য সংগ্রহের ফলে মুসলমানরা যথেষ্ট সুফল পায়। মুসলিম বাহিনীর গতিবিধি কাফেরদের কাছে পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত্রুরা আর প্রতিরোধের সুযোগ পায়নি।

টিকাঃ
১১৮২. ওয়াকেদী প্রণীত মাগাযী: ২/৭৯৭।
১১৮৩. আল কিয়াদাতুল আসকারীয়াহ ফি আহদির রসূল: ৩৬৫।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 মুশরিকদের বেখবর রাখার জন্য আল্লাহর কাছে নবীজির দোআ

📄 মুশরিকদের বেখবর রাখার জন্য আল্লাহর কাছে নবীজির দোআ


ঘ. মানুষের পক্ষে যেসব কৌশল অবলম্বন করা সম্ভব, তা সম্পন্ন করার পর রসূলুল্লাহ সা. অভিযান সফল করার লক্ষ্যে আল্লাহর কাছে দোআ করে বলেন: 'হে আল্লাহ! আপনি তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তিতে হস্তক্ষেপ করুন। তারা যেন আমাদের অকস্মাৎ দেখতে পায় এবং আমাদের আক্রমণের খবর পায়। 'এভাবে নবীজি সা. জাগতিক যাবতীয় পন্থা অবলম্বনের পর আল্লাহর কাছে সব কাজে সফল হওয়ার জন্য ক্রন্দন করে দোআ করতেন।

টিকাঃ
১১৮৪. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/১৩৬।

ঘ. মানুষের পক্ষে যেসব কৌশল অবলম্বন করা সম্ভব, তা সম্পন্ন করার পর রসূলুল্লাহ সা. অভিযান সফল করার লক্ষ্যে আল্লাহর কাছে দোআ করে বলেন: 'হে আল্লাহ! আপনি তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তিতে হস্তক্ষেপ করুন। তারা যেন আমাদের অকস্মাৎ দেখতে পায় এবং আমাদের আক্রমণের খবর পায়। 'এভাবে নবীজি সা. জাগতিক যাবতীয় পন্থা অবলম্বনের পর আল্লাহর কাছে সব কাজে সফল হওয়ার জন্য ক্রন্দন করে দোআ করতেন।

টিকাঃ
১১৮৪. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/১৩৬।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 কুরায়শের পক্ষে হাতিবের গুপ্তচরবৃত্তি পত্র

📄 কুরায়শের পক্ষে হাতিবের গুপ্তচরবৃত্তি পত্র


ঙ. রসূলুল্লাহ সা. যখন মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন হাতিব ইবনে আবু বালতাআ রা. মক্কায় বসবাসরত তার আত্মীয়দের কাছে নবীজির পরিকল্পনার বিষয়ে একটি চিঠি লিখেন। বিষয়টি আল্লাহ তাআলা নবীজিকে ওহির মাধ্যমে জানিয়ে দেন। নবীজি অনতিবিলম্বে আলী ও মিকদাদ রা.-কে দিকনির্দেশনা দিয়ে পাঠান। তারা মদীনা থেকে বারো মাইল দূরে রওযায়ে খাখ নামক এলাকায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেন। তল্লাশি চালানোর হুমকি দেওয়া হলে সে তার বহনকৃত চিঠিটি তাদের হাতে অর্পণ করে। অতঃপর হাতেবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলে তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার ব্যাপারে দ্রুত কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আমি কুরায়েশদের স্বগোত্রীয় কেউ ছিলাম না বরং তাদের বন্ধু অর্থাৎ তাদের মিত্র গোত্রের একজন ছিলাম। আপনার সঙ্গে যেসব মুহাজির আছেন, কুরায়েশ গোত্রে তাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। যারা এদের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদের হেফাজত করছে। আর কুরায়েশ গোত্রে যেহেতু আমার বংশগত কোনো সম্পর্ক নেই, তাই আমি ভাবলাম, যদি আমি তাদের কোনো উপকার করে দেই, তাহলে তারা আমার পরিবার-পরিজনের হেফাজতে এগিয়ে আসবে। আমি আমার দীন পরিত্যাগ করা কিংবা ইসলাম গ্রহণের পর কুফরকে গ্রহণ করার জন্য এ কাজ করিনি। রসূলুল্লাহ সা. তখন বললেন, সে তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে।

ওমর রা. বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফেকের গর্দান উড়িয়ে দেবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, দেখ সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি তো জানো না, হয়তো আল্লাহ তাআলা বদরে যোগদানকারীদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে বলে দিয়েছেন, তোমরা যা খুশি করতে থাকো, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন:
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ عَدُوِّى وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَآءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِم بِٱلْمَوَدَّةِ وَقَدْ كَفَرُواْ بِمَا جَآءَكُم مِّنَ ٱلْحَقِّ يُخْرِجُونَ ٱلرَّسُولَ وَإِيَّاكُمْ أَن تُؤْمِنُواْ بِٱللَّهِ رَبِّكُمْ إِن كُنتُمْ خَرَجْتُمْ جِهَـٰدًا فِى سَبِيلِى وَٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِى تُسِرُّونَ إِلَيْهِم بِٱلْمَوَدَّةِ وَأَنَا أَعْلَمُ بِمَا أَخْفَيْتُمْ وَمَا أَعْلَنتُمْ وَمَن يَفْعَلْهُ مِنكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা তাদের কাছে বন্ধুত্বের খবর পাঠাও, অথচ যে সত্য তোমাদের কাছে এসেছে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা রসূলকে আর তোমাদেরকে শুধু এ কারণে বের করে দিয়েছে যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহতে বিশ্বাস কর। তোমরা যদি আমার সন্তুষ্টি কামনায় আমার পথে জিহাদে বের হয়ে থাক, তাহলে তোমরা কেন গোপনে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করছো? তোমরা যা গোপন কর আর তোমরা যা প্রকাশ কর, তা আমি খুব ভালো করেই জানি। তোমাদের মধ্যে যে তা করে সে সরল পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে গেছে।

সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ বলেন, কুরায়েশরা তাদেরকে নানাবিধ কষ্ট দিলেও তাদের কেউ কেউ কুরায়েশদের সাথে কোমল আচরণ করতে চাইতেন। যুদ্ধ-বিগ্রহের পরিবর্তে সম্প্রীতির পরিবেশ বিরাজমান রাখতে চাইতেন। আল্লাহ তাআলা তাদের মন থেকে এ জাতীয় চিন্তা-চেতনা চিরতরে মুছে ফেলার ইচ্ছা পোষণ করেন। তার পয়গাম হলো, কেবল দীনের খাতিরে যেন যাবতীয় হৃদ্যতা ও কোমলতা থাকে। তাই বিভিন্ন সময়ে তাদের সাথে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে এমন ঘটনার সম্মুখীন করে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন করা হচ্ছিলো। শেষ দিকে প্রকাশ্যে কঠোর ভাষায় এ ধরনের মানসিকতা বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

টিকাঃ
১১৮৫. সহীহ বুখারী: ৪২৭৪।
১১৮৬. সুরা মুমতাহিনা: ১।
১১৮৭. ফি যিলালিল কুরআন: ৬/৩৫৮।

ঙ. রসূলুল্লাহ সা. যখন মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন হাতিব ইবনে আবু বালতাআ রা. মক্কায় বসবাসরত তার আত্মীয়দের কাছে নবীজির পরিকল্পনার বিষয়ে একটি চিঠি লিখেন। বিষয়টি আল্লাহ তাআলা নবীজিকে ওহির মাধ্যমে জানিয়ে দেন। নবীজি অনতিবিলম্বে আলী ও মিকদাদ রা.-কে দিকনির্দেশনা দিয়ে পাঠান। তারা মদীনা থেকে বারো মাইল দূরে রওযায়ে খাখ নামক এলাকায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেন। তল্লাশি চালানোর হুমকি দেওয়া হলে সে তার বহনকৃত চিঠিটি তাদের হাতে অর্পণ করে। অতঃপর হাতেবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলে তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার ব্যাপারে দ্রুত কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আমি কুরায়েশদের স্বগোত্রীয় কেউ ছিলাম না বরং তাদের বন্ধু অর্থাৎ তাদের মিত্র গোত্রের একজন ছিলাম। আপনার সঙ্গে যেসব মুহাজির আছেন, কুরায়েশ গোত্রে তাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। যারা এদের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদের হেফাজত করছে। আর কুরায়েশ গোত্রে যেহেতু আমার বংশগত কোনো সম্পর্ক নেই, তাই আমি ভাবলাম, যদি আমি তাদের কোনো উপকার করে দেই, তাহলে তারা আমার পরিবার-পরিজনের হেফাজতে এগিয়ে আসবে। আমি আমার দীন পরিত্যাগ করা কিংবা ইসলাম গ্রহণের পর কুফরকে গ্রহণ করার জন্য এ কাজ করিনি। রসূলুল্লাহ সা. তখন বললেন, সে তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে।

ওমর রা. বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফেকের গর্দান উড়িয়ে দেবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, দেখ সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি তো জানো না, হয়তো আল্লাহ তাআলা বদরে যোগদানকারীদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে বলে দিয়েছেন, তোমরা যা খুশি করতে থাকো, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন:
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ عَدُوِّى وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَآءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِم بِٱلْمَوَدَّةِ وَقَدْ كَفَرُواْ بِمَا جَآءَكُم مِّنَ ٱلْحَقِّ يُخْرِجُونَ ٱلرَّسُولَ وَإِيَّاكُمْ أَن تُؤْمِنُواْ بِٱللَّهِ رَبِّكُمْ إِن كُنتُمْ خَرَجْتُمْ جِهَـٰدًا فِى سَبِيلِى وَٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِى تُسِرُّونَ إِلَيْهِم بِٱلْمَوَدَّةِ وَأَنَا أَعْلَمُ بِمَا أَخْفَيْتُمْ وَمَا أَعْلَنتُمْ وَمَن يَفْعَلْهُ مِنكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা তাদের কাছে বন্ধুত্বের খবর পাঠাও, অথচ যে সত্য তোমাদের কাছে এসেছে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা রসূলকে আর তোমাদেরকে শুধু এ কারণে বের করে দিয়েছে যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহতে বিশ্বাস কর। তোমরা যদি আমার সন্তুষ্টি কামনায় আমার পথে জিহাদে বের হয়ে থাক, তাহলে তোমরা কেন গোপনে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করছো? তোমরা যা গোপন কর আর তোমরা যা প্রকাশ কর, তা আমি খুব ভালো করেই জানি। তোমাদের মধ্যে যে তা করে সে সরল পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে গেছে।

সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ বলেন, কুরায়েশরা তাদেরকে নানাবিধ কষ্ট দিলেও তাদের কেউ কেউ কুরায়েশদের সাথে কোমল আচরণ করতে চাইতেন। যুদ্ধ-বিগ্রহের পরিবর্তে সম্প্রীতির পরিবেশ বিরাজমান রাখতে চাইতেন। আল্লাহ তাআলা তাদের মন থেকে এ জাতীয় চিন্তা-চেতনা চিরতরে মুছে ফেলার ইচ্ছা পোষণ করেন। তার পয়গাম হলো, কেবল দীনের খাতিরে যেন যাবতীয় হৃদ্যতা ও কোমলতা থাকে। তাই বিভিন্ন সময়ে তাদের সাথে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে এমন ঘটনার সম্মুখীন করে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন করা হচ্ছিলো। শেষ দিকে প্রকাশ্যে কঠোর ভাষায় এ ধরনের মানসিকতা বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

টিকাঃ
১১৮৫. সহীহ বুখারী: ৪২৭৪।
১১৮৬. সুরা মুমতাহিনা: ১।
১১৮৭. ফি যিলালিল কুরআন: ৬/৩৫৮।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 মক্কার পথে যাগ্রা এবং পথের কিছু ঘটনা

📄 মক্কার পথে যাগ্রা এবং পথের কিছু ঘটনা


ক. রসূলুল্লাহ সা.অষ্টম হিজরির দশ রমজান মক্কা অভিযানে রওনা হন। মদীনায় তার স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করা হয় আবু রুহম কুলসুম ইবনে হুসাইন ইবনে উতবা ইবনে খালফ আনসারীকে। মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের সাড়ে আট বছর পর দশ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে নবীজি মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করেন। যাত্রাপথে আল্লাহর রসূল সা. ও মুসলিম মুজাহিদরা উসফান ও কুদাইদ অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থিত কাদিন নামক জায়গায় পৌছা পর্যন্ত রোজা রাখলেও মাসের পরবর্তী রোযা আর রাখেননি। পথিমধ্যে জুহফা নামক জায়গায় আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব তার পরিবার-পরিজন নিয়ে হিজরত করে মদীনার উদ্দেশে যাওয়ার পথে রসূল সা.-এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। নবীজি সা. তাকে দেখে খুব খুশি হন। মক্কাবাসীর সামরিক ও অভ্যন্তরীণ খবরাখবর রসূল সা.-এর কাছে পৌঁছানোর দায়িত্বে নিয়োজিত আব্বাস রা. তার পরিবারসহ মক্কা থেকে বের হয়ে আসেন। এর দ্বারা তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের সমাপ্তির বিষয়টি বোঝা যায়। কেননা, মক্কায় তার অবস্থান ছিল নবীজির নির্দেশে।

খ. আবু সুফিয়ান ইবনে হারেস ও আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়্যার ইসলাম গ্রহণ
আবু সুফিয়ান ইবনে হারেস ও আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া ইবনে মুগীরা পথিমধ্যে (মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী) সানিয়াতুল উকাব নামক স্থানে রসূলুল্লাহ সা.-এর সান্নিধ্যে উপনীত হলো। তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর সাক্ষাতপ্রার্থী হলে উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আপনার চাচাতো ভাই ও শ্যালক এসেছে। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, 'ওদের দিয়ে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আমার চাচাতো ভাই তো আমাকে অপমান করেছে। আর আমার শ্যালক (আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া উম্মে সালামার সৎ ভাই) মক্কায় অবস্থানকালে আমার চরম বিরোধিতা করেছে।'

তারা যখন উভয়ে এই জবাব পেলো, তখন আবু সুফিয়ান ইবনে হারেস বললো, রসূলুল্লাহ সা. যদি আমাকে সাক্ষাত করার সুযোগ না দেন তাহলে আমি আমার এই ছেলে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে একদিকে চলে যাবো এবং ক্ষুধা তৃষ্ণায় ধুঁকে ধুঁকে মরবো।

একথা শুনে রসূলুল্লাহ সা.-এর মন বিগলিত হলো। তিনি অনুমতি দিলেন। তখন তারা উভয়ে তাঁর কাছে গেলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। আবু সুফিয়ান ইবনে হারেস ইতোপূর্বে রসূলুল্লাহ সা.-এর নিন্দাসূচক যেসব কবিতা আবৃত্তি করেছেন তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন। ইসলাম প্রহণ করার পর নতুন কবিতা আবৃত্তি করলেন। কবিতাটি এই:
لعمرك إني يوم أحمل راية لتغلب خيل اللات خيل محمد لكالمدلج الحيران أظلم ليله فهذا أواني حين أهدى وأهتدي هداني هاد غير نفسي ونالني مع الله من طردت كل مطرد أصد وأنأى جاهدا عن محمد وأدعى (وإن لم أنتسب) من محمد هم ما هم من لم يقل بهواهم وإن كان ذا رأي يلم ويفند أريد لأرضيهم ولست بلائط مع القوم ما لم أهد في كل مقعد فقل الثقيف لا أريد قتالها وقل الثقيف تلك: غيري أوعدي فما كنت في الجيش الذي نال عامرا وما كان عن جرا لساني ولا يدي قبائل جاءت من بلاد بعيدة نزائع جاءت من سهام و سردد
আমি যেদিন সেনাপতি হয়ে লড়াই করবো, মুহাম্মাদের বাহিনী মুশরিক বাহিনীর ওপর অবশ্যই জয়যুক্ত হবে।
মুশরিক বাহিনী রাতের আঁধারে দিশেহারা যাত্রীর মত। আজ আমার পালা এসেছে যখন আমি হেদায়াত লাভ করেছি।
আমাকে সেই হেদায়াতকারী হেদায়াত করেছেন, বদলে দিয়েছেন এবং আমাকে আল্লাহর সাহচর্যে পৌছিয়ে দিয়েছেন যাকে আমি দূরে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
সেদিন আমি মুহাম্মাদের মাঝে আন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম এবং তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে রণপায়তারা করেছিলাম, আর আমাকে মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে ডাকা হচ্ছিলো, যদিও আমি তাঁর ডাকে সাড়া দেইনি।
তিনি যে পথে চলছিলেন সে পথেই চলতে থাকলেন। মুশরিকদের খেয়াল খুশি মুতাবিক কথা বললেন না। যদিও তিনি বিশুদ্ধ মতের অধিকারী হিসেবে কথা বলছিলেন, তথাপি তাঁকে মিথ্যুক বলে অভিহিত করা হয়েছিল। যতক্ষন আমি হেদায়াত পাইনি ততক্ষণ প্রত্যেক বৈঠকে তাদেরকে (মুশরিকদেরকে) খুশি করতে চেয়েছিলাম এবং (মুসলিম) জনতার সাথে সংযুক্ত হইনি।
সুতরাং বনু সাকীফকে বলে দাও, আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করতে চাই না। বনু সাকীফকে বলে দাও, আমাকে নয় অন্য কাউকে ভীতি প্রদর্শন করুক।
কেননা আমি সেই বাহিনীর ভেতরে ছিলাম না যে বাহিনী জনপদকে আক্রমণ করেছিল এবং সে আক্রমণ আমার জিহ্বা কিংবা হাতের দ্বারা সংঘটিত হয়নি।
সে বাহিনীতে ছিল দূরাঞ্চল থেকে আগত গোত্রসমূহ এবং সাহাম ও সুরদাদ থেকে আগত অচেনা যোদ্ধারা।

কথিত আছে, তিনি যখন কবিতার এই অংশটি আবৃত্তি করছিলেন, 'আমাকে আল্লাহর সাহচর্যে পৌছিয়ে দিয়েছেন সেই ব্যক্তি যাকে আমি বহু দূরে তড়িয়ে দিয়েছিলাম'; তখন রসূলুল্লাহ সা. তার বুক চাপড়ে বলেছিলেন, 'তুমিই তো আমাকে দূরে তাড়িয়ে দিয়েছিলে।

আবু সুফিয়ান ইবনে হারেস সবসময় কবিতার মাধ্যমে নবীজির নিন্দা করতেন। এদিকে আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়্যা রসূল সা.-কে বলেছিলেন, আমি আপনার ওপর ঈমান আনবো না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আকাশে সিঁড়ি লাগিয়ে আমার সামনে আকাশে উঠবেন এবং সেখান থেকে একটি লিখিত কাগজে চারজন ফেরেশতার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে নিজের নবুয়ত প্রমাণ করবেন।

এমন মারাত্মক ধৃষ্টতাসুলভ অপরাধ সত্ত্বেও রসূল সা. তাদের আবেদনে সাড়া দেন এবং ক্ষমার হাত বাড়িয়ে দেন। এটা ছিল নবীজির উদারতা ও ক্ষমার একটি সাধারণ দৃষ্টান্ত। যে আবু সুফিয়ান ইবনুল হারেস নবীজির নিন্দায় কবিতা আবৃত্তি করতেন, তিনি নবীজির প্রশংসায় কবিতা আবৃত্তি করলেন। এরপর তিনি ইসলামের প্রতি অত্যন্ত অনুগত হন। গাযওয়ায়ে হুনাইনে নবীজির সাথে বীরত্বপূর্ণ কৃতিত্ব দেখান।

টিকাঃ
১১৮৮. আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ফি যুয়িল মাসাদিরিল আসলিয়্যাহ ৫৬০-৫৬১।
১১৮৯. আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ফি যুয়িল মাসাদিরিল আসলিয়্যাহ: ৫৬১।
১১৯০. সহীহ বুখারী: ৪২৭৬।
১১৯১. আবু ফারিস প্রণীত আসসীরাহ: ৪০৬। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/২৭২।
১১৯২. তাআম্মুলাত ফিসসীরাতিন নববিয়্যাহ ২৫৪।
১১৯৩. মুসতাদরাকে হাকিম: ৩/৪৩-৪৫।
১১৯৪. সীরাতে ইবনে হিশাম: ১/২৯৫-৩০০।
১১৯৫. আত তারীখুল ইসলামী: ৭/১৭২।

ক. রসূলুল্লাহ সা.অষ্টম হিজরির দশ রমজান মক্কা অভিযানে রওনা হন। মদীনায় তার স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করা হয় আবু রুহম কুলসুম ইবনে হুসাইন ইবনে উতবা ইবনে খালফ আনসারীকে। মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের সাড়ে আট বছর পর দশ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে নবীজি মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করেন। যাত্রাপথে আল্লাহর রসূল সা. ও মুসলিম মুজাহিদরা উসফান ও কুদাইদ অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থিত কাদিন নামক জায়গায় পৌছা পর্যন্ত রোজা রাখলেও মাসের পরবর্তী রোযা আর রাখেননি। পথিমধ্যে জুহফা নামক জায়গায় আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব তার পরিবার-পরিজন নিয়ে হিজরত করে মদীনার উদ্দেশে যাওয়ার পথে রসূল সা.-এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। নবীজি সা. তাকে দেখে খুব খুশি হন। মক্কাবাসীর সামরিক ও অভ্যন্তরীণ খবরাখবর রসূল সা.-এর কাছে পৌঁছানোর দায়িত্বে নিয়োজিত আব্বাস রা. তার পরিবারসহ মক্কা থেকে বের হয়ে আসেন। এর দ্বারা তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের সমাপ্তির বিষয়টি বোঝা যায়। কেননা, মক্কায় তার অবস্থান ছিল নবীজির নির্দেশে।

খ. আবু সুফিয়ান ইবনে হারেস ও আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়্যার ইসলাম গ্রহণ
আবু সুফিয়ান ইবনে হারেস ও আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া ইবনে মুগীরা পথিমধ্যে (মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী) সানিয়াতুল উকাব নামক স্থানে রসূলুল্লাহ সা.-এর সান্নিধ্যে উপনীত হলো। তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর সাক্ষাতপ্রার্থী হলে উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আপনার চাচাতো ভাই ও শ্যালক এসেছে। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, 'ওদের দিয়ে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আমার চাচাতো ভাই তো আমাকে অপমান করেছে। আর আমার শ্যালক (আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া উম্মে সালামার সৎ ভাই) মক্কায় অবস্থানকালে আমার চরম বিরোধিতা করেছে।'

তারা যখন উভয়ে এই জবাব পেলো, তখন আবু সুফিয়ান ইবনে হারেস বললো, রসূলুল্লাহ সা. যদি আমাকে সাক্ষাত করার সুযোগ না দেন তাহলে আমি আমার এই ছেলে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে একদিকে চলে যাবো এবং ক্ষুধা তৃষ্ণায় ধুঁকে ধুঁকে মরবো।

একথা শুনে রসূলুল্লাহ সা.-এর মন বিগলিত হলো। তিনি অনুমতি দিলেন। তখন তারা উভয়ে তাঁর কাছে গেলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। আবু সুফিয়ান ইবনে হারেস ইতোপূর্বে রসূলুল্লাহ সা.-এর নিন্দাসূচক যেসব কবিতা আবৃত্তি করেছেন তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন। ইসলাম প্রহণ করার পর নতুন কবিতা আবৃত্তি করলেন। কবিতাটি এই:
لعمرك إني يوم أحمل راية لتغلب خيل اللات خيل محمد لكالمدلج الحيران أظلم ليله فهذا أواني حين أهدى وأهتدي هداني هاد غير نفسي ونالني مع الله من طردت كل مطرد أصد وأنأى جاهدا عن محمد وأدعى (وإن لم أنتسب) من محمد هم ما هم من لم يقل بهواهم وإن كان ذا رأي يلم ويفند أريد لأرضيهم ولست بلائط مع القوم ما لم أهد في كل مقعد فقل الثقيف لا أريد قتالها وقل الثقيف تلك: غيري أوعدي فما كنت في الجيش الذي نال عامرا وما كان عن جرا لساني ولا يدي قبائل جاءت من بلاد بعيدة نزائع جاءت من سهام و سردد
আমি যেদিন সেনাপতি হয়ে লড়াই করবো, মুহাম্মাদের বাহিনী মুশরিক বাহিনীর ওপর অবশ্যই জয়যুক্ত হবে।
মুশরিক বাহিনী রাতের আঁধারে দিশেহারা যাত্রীর মত। আজ আমার পালা এসেছে যখন আমি হেদায়াত লাভ করেছি।
আমাকে সেই হেদায়াতকারী হেদায়াত করেছেন, বদলে দিয়েছেন এবং আমাকে আল্লাহর সাহচর্যে পৌছিয়ে দিয়েছেন যাকে আমি দূরে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
সেদিন আমি মুহাম্মাদের মাঝে আন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম এবং তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে রণপায়তারা করেছিলাম, আর আমাকে মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে ডাকা হচ্ছিলো, যদিও আমি তাঁর ডাকে সাড়া দেইনি।
তিনি যে পথে চলছিলেন সে পথেই চলতে থাকলেন। মুশরিকদের খেয়াল খুশি মুতাবিক কথা বললেন না। যদিও তিনি বিশুদ্ধ মতের অধিকারী হিসেবে কথা বলছিলেন, তথাপি তাঁকে মিথ্যুক বলে অভিহিত করা হয়েছিল। যতক্ষন আমি হেদায়াত পাইনি ততক্ষণ প্রত্যেক বৈঠকে তাদেরকে (মুশরিকদেরকে) খুশি করতে চেয়েছিলাম এবং (মুসলিম) জনতার সাথে সংযুক্ত হইনি।
সুতরাং বনু সাকীফকে বলে দাও, আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করতে চাই না। বনু সাকীফকে বলে দাও, আমাকে নয় অন্য কাউকে ভীতি প্রদর্শন করুক।
কেননা আমি সেই বাহিনীর ভেতরে ছিলাম না যে বাহিনী জনপদকে আক্রমণ করেছিল এবং সে আক্রমণ আমার জিহ্বা কিংবা হাতের দ্বারা সংঘটিত হয়নি।
সে বাহিনীতে ছিল দূরাঞ্চল থেকে আগত গোত্রসমূহ এবং সাহাম ও সুরদাদ থেকে আগত অচেনা যোদ্ধারা।

কথিত আছে, তিনি যখন কবিতার এই অংশটি আবৃত্তি করছিলেন, 'আমাকে আল্লাহর সাহচর্যে পৌছিয়ে দিয়েছেন সেই ব্যক্তি যাকে আমি বহু দূরে তড়িয়ে দিয়েছিলাম'; তখন রসূলুল্লাহ সা. তার বুক চাপড়ে বলেছিলেন, 'তুমিই তো আমাকে দূরে তাড়িয়ে দিয়েছিলে।

আবু সুফিয়ান ইবনে হারেস সবসময় কবিতার মাধ্যমে নবীজির নিন্দা করতেন। এদিকে আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়্যা রসূল সা.-কে বলেছিলেন, আমি আপনার ওপর ঈমান আনবো না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আকাশে সিঁড়ি লাগিয়ে আমার সামনে আকাশে উঠবেন এবং সেখান থেকে একটি লিখিত কাগজে চারজন ফেরেশতার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে নিজের নবুয়ত প্রমাণ করবেন।

এমন মারাত্মক ধৃষ্টতাসুলভ অপরাধ সত্ত্বেও রসূল সা. তাদের আবেদনে সাড়া দেন এবং ক্ষমার হাত বাড়িয়ে দেন। এটা ছিল নবীজির উদারতা ও ক্ষমার একটি সাধারণ দৃষ্টান্ত। যে আবু সুফিয়ান ইবনুল হারেস নবীজির নিন্দায় কবিতা আবৃত্তি করতেন, তিনি নবীজির প্রশংসায় কবিতা আবৃত্তি করলেন। এরপর তিনি ইসলামের প্রতি অত্যন্ত অনুগত হন। গাযওয়ায়ে হুনাইনে নবীজির সাথে বীরত্বপূর্ণ কৃতিত্ব দেখান।

টিকাঃ
১১৮৮. আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ফি যুয়িল মাসাদিরিল আসলিয়্যাহ ৫৬০-৫৬১।
১১৮৯. আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ফি যুয়িল মাসাদিরিল আসলিয়্যাহ: ৫৬১।
১১৯০. সহীহ বুখারী: ৪২৭৬।
১১৯১. আবু ফারিস প্রণীত আসসীরাহ: ৪০৬। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/২৭২।
১১৯২. তাআম্মুলাত ফিসসীরাতিন নববিয়্যাহ ২৫৪।
১১৯৩. মুসতাদরাকে হাকিম: ৩/৪৩-৪৫।
১১৯৪. সীরাতে ইবনে হিশাম: ১/২৯৫-৩০০।
১১৯৫. আত তারীখুল ইসলামী: ৭/১৭২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00