📄 বতনে ইযাম এলাকায় আবু কাতাদা-এর নেতৃত্বে সারিয়্যা প্রেরণ
খ. মক্কা অভিযানের আগে রসূল সা. প্রকৃত বাস্তবতা গোপন রেখে শত্রুদের বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে আশি সদস্যের একটি বাহিনী পাঠান। ইবনে সাআদ বলেন, রসূল সা. যখন মক্কা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি আবু কাতাদা ইবনে রিবয়ী রা.-এর নেতৃত্বে আশি সদস্যের একটি বাহিনী মদীনার বতনে ইযাম এলাকার দিকে পাঠান। এর উদ্দেশ্য ছিল, মানুষকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে দেওয়া। যেন মানুষ মনে করে যে, রসূল সা. ওই এলাকার উদ্দেশ্যে বের হচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে নবীজির মক্কা অভিযানের কথা জানতে পেরে তারা ফিরে আসেন এবং রসূল সা.-এর সাথে সুকিয়া নামক স্থানে সাক্ষাত করেন।
এটা ছিল নবীজির কৌশল। এর মাধ্যমে তিনি তার পরবর্তী সামরিক নেতাদের দিকনির্দেশনা দেন, তারা যেন শত্রুদের বিভ্রান্ত ও অমনোযোগী করার লক্ষ্যে এ ধরনের বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে। শত্রুদের চক্রান্ত ভেদ করে আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত রাখার এ এক অনন্য পন্থা।
টিকাঃ
১১৮০. ইবনে সাআদ প্রণীত তাবাকাতুল কুবরা : ২/১৩২।
১১৮১. আল কিয়াদাতুল আসকারীয়াহ ফি আহদির রসূল : ৪৯৮।
📄 শত্রুদের বেখবর রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা
গ. মদীনার ভেতরে-বাইরে গোপনে সংবাদ সংগ্রহের লক্ষ্যে রসূলুল্লাহ সা. বিভিন্ন লোক নিয়োগ দেন। কেউ যেন এই তথ্য পাচার না করতে পারে, এটা ছিল এই গোয়েন্দাবৃত্তির লক্ষ্য। এর দায়িত্বশীল বানানো হয় ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.-কে। তিনি তাদের این মর্মে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তোমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী প্রতিটি সন্দেহজনক ব্যক্তিকে তোমরা ফিরিয়ে আনবে। যারা মক্কা অভিমুখে যাত্রা করছেন, সতর্কতার সাথে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করবে এবং তাদের কাছ থেকে মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করবে। এভাবে তথ্য সংগ্রহের ফলে মুসলমানরা যথেষ্ট সুফল পায়। মুসলিম বাহিনীর গতিবিধি কাফেরদের কাছে পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত্রুরা আর প্রতিরোধের সুযোগ পায়নি।
টিকাঃ
১১৮২. ওয়াকেদী প্রণীত মাগাযী: ২/৭৯৭।
১১৮৩. আল কিয়াদাতুল আসকারীয়াহ ফি আহদির রসূল: ৩৬৫।
গ. মদীনার ভেতরে-বাইরে গোপনে সংবাদ সংগ্রহের লক্ষ্যে রসূলুল্লাহ সা. বিভিন্ন লোক নিয়োগ দেন। কেউ যেন এই তথ্য পাচার না করতে পারে, এটা ছিল এই গোয়েন্দাবৃত্তির লক্ষ্য। এর দায়িত্বশীল বানানো হয় ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.-কে। তিনি তাদের این মর্মে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তোমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী প্রতিটি সন্দেহজনক ব্যক্তিকে তোমরা ফিরিয়ে আনবে। যারা মক্কা অভিমুখে যাত্রা করছেন, সতর্কতার সাথে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করবে এবং তাদের কাছ থেকে মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করবে। এভাবে তথ্য সংগ্রহের ফলে মুসলমানরা যথেষ্ট সুফল পায়। মুসলিম বাহিনীর গতিবিধি কাফেরদের কাছে পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত্রুরা আর প্রতিরোধের সুযোগ পায়নি।
টিকাঃ
১১৮২. ওয়াকেদী প্রণীত মাগাযী: ২/৭৯৭।
১১৮৩. আল কিয়াদাতুল আসকারীয়াহ ফি আহদির রসূল: ৩৬৫।
📄 মুশরিকদের বেখবর রাখার জন্য আল্লাহর কাছে নবীজির দোআ
ঘ. মানুষের পক্ষে যেসব কৌশল অবলম্বন করা সম্ভব, তা সম্পন্ন করার পর রসূলুল্লাহ সা. অভিযান সফল করার লক্ষ্যে আল্লাহর কাছে দোআ করে বলেন: 'হে আল্লাহ! আপনি তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তিতে হস্তক্ষেপ করুন। তারা যেন আমাদের অকস্মাৎ দেখতে পায় এবং আমাদের আক্রমণের খবর পায়। 'এভাবে নবীজি সা. জাগতিক যাবতীয় পন্থা অবলম্বনের পর আল্লাহর কাছে সব কাজে সফল হওয়ার জন্য ক্রন্দন করে দোআ করতেন।
টিকাঃ
১১৮৪. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/১৩৬।
ঘ. মানুষের পক্ষে যেসব কৌশল অবলম্বন করা সম্ভব, তা সম্পন্ন করার পর রসূলুল্লাহ সা. অভিযান সফল করার লক্ষ্যে আল্লাহর কাছে দোআ করে বলেন: 'হে আল্লাহ! আপনি তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তিতে হস্তক্ষেপ করুন। তারা যেন আমাদের অকস্মাৎ দেখতে পায় এবং আমাদের আক্রমণের খবর পায়। 'এভাবে নবীজি সা. জাগতিক যাবতীয় পন্থা অবলম্বনের পর আল্লাহর কাছে সব কাজে সফল হওয়ার জন্য ক্রন্দন করে দোআ করতেন।
টিকাঃ
১১৮৪. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/১৩৬।
📄 কুরায়শের পক্ষে হাতিবের গুপ্তচরবৃত্তি পত্র
ঙ. রসূলুল্লাহ সা. যখন মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন হাতিব ইবনে আবু বালতাআ রা. মক্কায় বসবাসরত তার আত্মীয়দের কাছে নবীজির পরিকল্পনার বিষয়ে একটি চিঠি লিখেন। বিষয়টি আল্লাহ তাআলা নবীজিকে ওহির মাধ্যমে জানিয়ে দেন। নবীজি অনতিবিলম্বে আলী ও মিকদাদ রা.-কে দিকনির্দেশনা দিয়ে পাঠান। তারা মদীনা থেকে বারো মাইল দূরে রওযায়ে খাখ নামক এলাকায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেন। তল্লাশি চালানোর হুমকি দেওয়া হলে সে তার বহনকৃত চিঠিটি তাদের হাতে অর্পণ করে। অতঃপর হাতেবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলে তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার ব্যাপারে দ্রুত কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আমি কুরায়েশদের স্বগোত্রীয় কেউ ছিলাম না বরং তাদের বন্ধু অর্থাৎ তাদের মিত্র গোত্রের একজন ছিলাম। আপনার সঙ্গে যেসব মুহাজির আছেন, কুরায়েশ গোত্রে তাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। যারা এদের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদের হেফাজত করছে। আর কুরায়েশ গোত্রে যেহেতু আমার বংশগত কোনো সম্পর্ক নেই, তাই আমি ভাবলাম, যদি আমি তাদের কোনো উপকার করে দেই, তাহলে তারা আমার পরিবার-পরিজনের হেফাজতে এগিয়ে আসবে। আমি আমার দীন পরিত্যাগ করা কিংবা ইসলাম গ্রহণের পর কুফরকে গ্রহণ করার জন্য এ কাজ করিনি। রসূলুল্লাহ সা. তখন বললেন, সে তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে।
ওমর রা. বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফেকের গর্দান উড়িয়ে দেবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, দেখ সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি তো জানো না, হয়তো আল্লাহ তাআলা বদরে যোগদানকারীদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে বলে দিয়েছেন, তোমরা যা খুশি করতে থাকো, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন:
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ عَدُوِّى وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَآءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِم بِٱلْمَوَدَّةِ وَقَدْ كَفَرُواْ بِمَا جَآءَكُم مِّنَ ٱلْحَقِّ يُخْرِجُونَ ٱلرَّسُولَ وَإِيَّاكُمْ أَن تُؤْمِنُواْ بِٱللَّهِ رَبِّكُمْ إِن كُنتُمْ خَرَجْتُمْ جِهَـٰدًا فِى سَبِيلِى وَٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِى تُسِرُّونَ إِلَيْهِم بِٱلْمَوَدَّةِ وَأَنَا أَعْلَمُ بِمَا أَخْفَيْتُمْ وَمَا أَعْلَنتُمْ وَمَن يَفْعَلْهُ مِنكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা তাদের কাছে বন্ধুত্বের খবর পাঠাও, অথচ যে সত্য তোমাদের কাছে এসেছে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা রসূলকে আর তোমাদেরকে শুধু এ কারণে বের করে দিয়েছে যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহতে বিশ্বাস কর। তোমরা যদি আমার সন্তুষ্টি কামনায় আমার পথে জিহাদে বের হয়ে থাক, তাহলে তোমরা কেন গোপনে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করছো? তোমরা যা গোপন কর আর তোমরা যা প্রকাশ কর, তা আমি খুব ভালো করেই জানি। তোমাদের মধ্যে যে তা করে সে সরল পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে গেছে।
সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ বলেন, কুরায়েশরা তাদেরকে নানাবিধ কষ্ট দিলেও তাদের কেউ কেউ কুরায়েশদের সাথে কোমল আচরণ করতে চাইতেন। যুদ্ধ-বিগ্রহের পরিবর্তে সম্প্রীতির পরিবেশ বিরাজমান রাখতে চাইতেন। আল্লাহ তাআলা তাদের মন থেকে এ জাতীয় চিন্তা-চেতনা চিরতরে মুছে ফেলার ইচ্ছা পোষণ করেন। তার পয়গাম হলো, কেবল দীনের খাতিরে যেন যাবতীয় হৃদ্যতা ও কোমলতা থাকে। তাই বিভিন্ন সময়ে তাদের সাথে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে এমন ঘটনার সম্মুখীন করে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন করা হচ্ছিলো। শেষ দিকে প্রকাশ্যে কঠোর ভাষায় এ ধরনের মানসিকতা বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
টিকাঃ
১১৮৫. সহীহ বুখারী: ৪২৭৪।
১১৮৬. সুরা মুমতাহিনা: ১।
১১৮৭. ফি যিলালিল কুরআন: ৬/৩৫৮।
ঙ. রসূলুল্লাহ সা. যখন মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন হাতিব ইবনে আবু বালতাআ রা. মক্কায় বসবাসরত তার আত্মীয়দের কাছে নবীজির পরিকল্পনার বিষয়ে একটি চিঠি লিখেন। বিষয়টি আল্লাহ তাআলা নবীজিকে ওহির মাধ্যমে জানিয়ে দেন। নবীজি অনতিবিলম্বে আলী ও মিকদাদ রা.-কে দিকনির্দেশনা দিয়ে পাঠান। তারা মদীনা থেকে বারো মাইল দূরে রওযায়ে খাখ নামক এলাকায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেন। তল্লাশি চালানোর হুমকি দেওয়া হলে সে তার বহনকৃত চিঠিটি তাদের হাতে অর্পণ করে। অতঃপর হাতেবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলে তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার ব্যাপারে দ্রুত কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আমি কুরায়েশদের স্বগোত্রীয় কেউ ছিলাম না বরং তাদের বন্ধু অর্থাৎ তাদের মিত্র গোত্রের একজন ছিলাম। আপনার সঙ্গে যেসব মুহাজির আছেন, কুরায়েশ গোত্রে তাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। যারা এদের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদের হেফাজত করছে। আর কুরায়েশ গোত্রে যেহেতু আমার বংশগত কোনো সম্পর্ক নেই, তাই আমি ভাবলাম, যদি আমি তাদের কোনো উপকার করে দেই, তাহলে তারা আমার পরিবার-পরিজনের হেফাজতে এগিয়ে আসবে। আমি আমার দীন পরিত্যাগ করা কিংবা ইসলাম গ্রহণের পর কুফরকে গ্রহণ করার জন্য এ কাজ করিনি। রসূলুল্লাহ সা. তখন বললেন, সে তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে।
ওমর রা. বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফেকের গর্দান উড়িয়ে দেবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, দেখ সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি তো জানো না, হয়তো আল্লাহ তাআলা বদরে যোগদানকারীদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে বলে দিয়েছেন, তোমরা যা খুশি করতে থাকো, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন:
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ عَدُوِّى وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَآءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِم بِٱلْمَوَدَّةِ وَقَدْ كَفَرُواْ بِمَا جَآءَكُم مِّنَ ٱلْحَقِّ يُخْرِجُونَ ٱلرَّسُولَ وَإِيَّاكُمْ أَن تُؤْمِنُواْ بِٱللَّهِ رَبِّكُمْ إِن كُنتُمْ خَرَجْتُمْ جِهَـٰدًا فِى سَبِيلِى وَٱبْتِغَآءَ مَرْضَاتِى تُسِرُّونَ إِلَيْهِم بِٱلْمَوَدَّةِ وَأَنَا أَعْلَمُ بِمَا أَخْفَيْتُمْ وَمَا أَعْلَنتُمْ وَمَن يَفْعَلْهُ مِنكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা তাদের কাছে বন্ধুত্বের খবর পাঠাও, অথচ যে সত্য তোমাদের কাছে এসেছে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা রসূলকে আর তোমাদেরকে শুধু এ কারণে বের করে দিয়েছে যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহতে বিশ্বাস কর। তোমরা যদি আমার সন্তুষ্টি কামনায় আমার পথে জিহাদে বের হয়ে থাক, তাহলে তোমরা কেন গোপনে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করছো? তোমরা যা গোপন কর আর তোমরা যা প্রকাশ কর, তা আমি খুব ভালো করেই জানি। তোমাদের মধ্যে যে তা করে সে সরল পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে গেছে।
সাইয়্যেদ কুতুব শহীদ বলেন, কুরায়েশরা তাদেরকে নানাবিধ কষ্ট দিলেও তাদের কেউ কেউ কুরায়েশদের সাথে কোমল আচরণ করতে চাইতেন। যুদ্ধ-বিগ্রহের পরিবর্তে সম্প্রীতির পরিবেশ বিরাজমান রাখতে চাইতেন। আল্লাহ তাআলা তাদের মন থেকে এ জাতীয় চিন্তা-চেতনা চিরতরে মুছে ফেলার ইচ্ছা পোষণ করেন। তার পয়গাম হলো, কেবল দীনের খাতিরে যেন যাবতীয় হৃদ্যতা ও কোমলতা থাকে। তাই বিভিন্ন সময়ে তাদের সাথে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে এমন ঘটনার সম্মুখীন করে তাদের মানসিকতার পরিবর্তন করা হচ্ছিলো। শেষ দিকে প্রকাশ্যে কঠোর ভাষায় এ ধরনের মানসিকতা বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
টিকাঃ
১১৮৫. সহীহ বুখারী: ৪২৭৪।
১১৮৬. সুরা মুমতাহিনা: ১।
১১৮৭. ফি যিলালিল কুরআন: ৬/৩৫৮।