📄 যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি
রসূল সা. আমাদের হাতে কলমে শিখিয়েছেন কীভাবে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কীভাবে সমাজ সংস্কার ও বিনির্মানে ভূমিকা রাখতে হবে। সেনাবাহিনী প্রেরণ ও যুদ্ধযাত্রার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য কখন কীভাবে আসবে, তারও নিয়ম শিখিয়ে গেছেন তিনি। যুদ্ধের জন্য রসূল সা. আত্মিক ও বাহ্যিক উভয় ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। মক্কা অভিযানে যাত্রার আগেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তাই আমরা দেখতে পাই, নবীজি সা. যখন মক্কা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি সংবাদটি গোপন রাখেন। এর কারণ ছিল কাফেররা যেন নবীজির এই যুদ্ধযাত্রার খবর জানতে না পারে। ফলে তারা মুসলমানদের প্রতিরোধের সুযোগ পাবে না। হঠাৎ তাদের ওপর আক্রমণের উদ্দেশ্যে রসূল সা. বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন। যেমন:
📄 নিকটজনদের কাছেও অভিযানের বিষয় গোপন রাখা
ক. রসূল সা. এই অভিযানের যাবতীয় তথ্য সম্পূর্ণভাবে গোপন রাখেন। এমনকি তার সবচেয়ে কাছের মানুষ আবু বকর রা. এবং অন্যান্য সাহাবীদের কাছ থেকেও তা গোপন রাখা হয়। তার সবচাইতে প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা রা.-কেও তিনি এ ব্যাপারে কিছুই অবহিত করেননি। তাই কেউ আল্লাহর রসূল সা.-এর গন্তব্যস্থল, প্রস্তুতির কারণ বা কোন শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাচ্ছেন, এসব বিষয়ে জানতে পারেনি। এর একটি প্রমাণ হচ্ছে, আবু বকর সিদ্দীক রা. যখন তার মেয়ে আয়েশা রা.-কে রসূল সা.-এর গন্তব্যস্থল সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, রসূল সা. এ সম্পর্কে আমাকে কিছুই বলেননি।
নবীজির এই কৌশল দ্বারা বোঝা যায়, সামরিক কর্মকর্তাদের উচিত নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ক্ষেত্র বিশেষে নিজেদের আপনজন এমনকি স্ত্রীদের কাছেও গোপন রাখা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা নিজেদের অজ্ঞতাবশত এ ধরনের কথা কারও কাছে ফাঁস করে দেন, এর ফলে পরে অযাচিত বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
টিকাঃ
১১৮. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৪/২৮২। আর রসূলুল কায়েদ : ৩৩৩-৩৩৪।
১১৭৯. আল কিয়াদাতুল আসকারীয়াহ ফি আহদির রসূল: ৩৯৫-৩৯৬।
📄 বতনে ইযাম এলাকায় আবু কাতাদা-এর নেতৃত্বে সারিয়্যা প্রেরণ
খ. মক্কা অভিযানের আগে রসূল সা. প্রকৃত বাস্তবতা গোপন রেখে শত্রুদের বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে আশি সদস্যের একটি বাহিনী পাঠান। ইবনে সাআদ বলেন, রসূল সা. যখন মক্কা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি আবু কাতাদা ইবনে রিবয়ী রা.-এর নেতৃত্বে আশি সদস্যের একটি বাহিনী মদীনার বতনে ইযাম এলাকার দিকে পাঠান। এর উদ্দেশ্য ছিল, মানুষকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে দেওয়া। যেন মানুষ মনে করে যে, রসূল সা. ওই এলাকার উদ্দেশ্যে বের হচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে নবীজির মক্কা অভিযানের কথা জানতে পেরে তারা ফিরে আসেন এবং রসূল সা.-এর সাথে সুকিয়া নামক স্থানে সাক্ষাত করেন।
এটা ছিল নবীজির কৌশল। এর মাধ্যমে তিনি তার পরবর্তী সামরিক নেতাদের দিকনির্দেশনা দেন, তারা যেন শত্রুদের বিভ্রান্ত ও অমনোযোগী করার লক্ষ্যে এ ধরনের বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে। শত্রুদের চক্রান্ত ভেদ করে আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত রাখার এ এক অনন্য পন্থা।
টিকাঃ
১১৮০. ইবনে সাআদ প্রণীত তাবাকাতুল কুবরা : ২/১৩২।
১১৮১. আল কিয়াদাতুল আসকারীয়াহ ফি আহদির রসূল : ৪৯৮।
📄 শত্রুদের বেখবর রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা
গ. মদীনার ভেতরে-বাইরে গোপনে সংবাদ সংগ্রহের লক্ষ্যে রসূলুল্লাহ সা. বিভিন্ন লোক নিয়োগ দেন। কেউ যেন এই তথ্য পাচার না করতে পারে, এটা ছিল এই গোয়েন্দাবৃত্তির লক্ষ্য। এর দায়িত্বশীল বানানো হয় ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.-কে। তিনি তাদের این মর্মে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তোমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী প্রতিটি সন্দেহজনক ব্যক্তিকে তোমরা ফিরিয়ে আনবে। যারা মক্কা অভিমুখে যাত্রা করছেন, সতর্কতার সাথে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করবে এবং তাদের কাছ থেকে মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করবে। এভাবে তথ্য সংগ্রহের ফলে মুসলমানরা যথেষ্ট সুফল পায়। মুসলিম বাহিনীর গতিবিধি কাফেরদের কাছে পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত্রুরা আর প্রতিরোধের সুযোগ পায়নি।
টিকাঃ
১১৮২. ওয়াকেদী প্রণীত মাগাযী: ২/৭৯৭।
১১৮৩. আল কিয়াদাতুল আসকারীয়াহ ফি আহদির রসূল: ৩৬৫।
গ. মদীনার ভেতরে-বাইরে গোপনে সংবাদ সংগ্রহের লক্ষ্যে রসূলুল্লাহ সা. বিভিন্ন লোক নিয়োগ দেন। কেউ যেন এই তথ্য পাচার না করতে পারে, এটা ছিল এই গোয়েন্দাবৃত্তির লক্ষ্য। এর দায়িত্বশীল বানানো হয় ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.-কে। তিনি তাদের این মর্মে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তোমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী প্রতিটি সন্দেহজনক ব্যক্তিকে তোমরা ফিরিয়ে আনবে। যারা মক্কা অভিমুখে যাত্রা করছেন, সতর্কতার সাথে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করবে এবং তাদের কাছ থেকে মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করবে। এভাবে তথ্য সংগ্রহের ফলে মুসলমানরা যথেষ্ট সুফল পায়। মুসলিম বাহিনীর গতিবিধি কাফেরদের কাছে পৌঁছানোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত্রুরা আর প্রতিরোধের সুযোগ পায়নি।
টিকাঃ
১১৮২. ওয়াকেদী প্রণীত মাগাযী: ২/৭৯৭।
১১৮৩. আল কিয়াদাতুল আসকারীয়াহ ফি আহদির রসূল: ৩৬৫।