📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 জাহান্নামী বীর

📄 জাহান্নামী বীর


খায়বারে রসূলুল্লাহ সা. তার সঙ্গীদের মধ্য থেকে মুসলিম হওয়ার দাবীদার এক ব্যক্তি সম্পর্কে বললেন, লোকটি জাহান্নামী। এরপর যুদ্ধ আরম্ভ হলে লোকটি সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করলো এবং তার দেহ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেলো। এতে রসূলুল্লাহ সা.-এর ভবিষ্যদ্বাণীর ব্যাপারে কারো কারো মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল। অতঃপর লোকটি আঘাতের যন্ত্রণায় অসহ্য হয়ে তৃণীরের ভিতর হাত ঢুকিয়ে সেখান থেকে তীর বের করে আনলো এবং তীরটি নিজের বক্ষদেশে ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করলো। তা দেখে কতিপয় মুসলমান দ্রুত ছুটে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আপনার কথা সত্য প্রমাণিত করেছেন। ওই লোকটি নিজেই নিজের বক্ষে আঘাত করে আত্মহত্যা করেছে। তখন তিনি বললেন, 'হে অমুক! দাঁড়াও এবং ঘোষণা দাও যে, মুমিন ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। যদিও কখনো কখনো আল্লাহ ফাসিক ব্যক্তি দ্বারাও দীনের সাহায্য করে থাকেন।

টিকাঃ
১০৫৩. সহীহ বুখারী: ৪২০৪ সহীহ মুসলিমের (১১১) রেওয়ায়াতে খায়বারের পরিবর্তে হুনাইনের কথা উল্লেখ আছে। অথচ কাযী আয়ায রহ. বলেন- খায়বারের উল্লেখই বিশুদ্ধ। (নববী প্রণীত শারহু মুসলিম: ২/১২২

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 হাবশ থেকে জাফর রা. ও তার সঙ্গীদের প্রত্যাবর্তন

📄 হাবশ থেকে জাফর রা. ও তার সঙ্গীদের প্রত্যাবর্তন


রসূলুল্লাহ সা. তখনো খায়বারেই অবস্থান করছিলেন। হাবশা (আবিসিনিয়া) থেকে হযরত জাফর ইবনে আবী তালিব রা. হাবশায় হিজরতকারী অন্যান্য মুসলমান এবং তাদের সঙ্গে মিলিত ইয়েমেনবাসীকে নিয়ে সেখানে পৌছলেন। আল্লাহর রসূল সা. জাফর রা.-এর কপালে চুম্বন করলেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
ما أدري بأيهما أنا أُسر بفتح خيبر أم بقدوم جعفر؟ আল্লাহর কসম! আমি জানি না কোনটাতে আমি বেশী খুশী হয়েছি। খায়বার বিজয়ে না জাফরের আগমনে?

রসূল সা. আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী সাহাবীদের ফেরত আনার জন্য আমর ইবনে উমাইয়্যা দামেরী রা.-কে সম্রাট নাজাশীর দরবারে পাঠিয়েছিলেন। তিনি খায়বার বিজয়ের দিন সেখানে অবস্থানরত সাহাবীদের দুটি নৌকায় চড়িয়ে সাগর পার করে রসূল সা.-এর দরবারে নিয়ে আসেন। জাফর ইবনে আবু তালিব রা.-এর সফরসঙ্গী ছিলেন আবু মুসা আশআরী রা. ও তার অন্যান্য সাথিরা।

আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমরা যখন ইয়েমেনে ছিলাম, তখন আমাদের কাছে নবী সা.-এর হিজরতের খবর পৌছলো। তাই আমি ও আমার দুভাই আবু বুরদা ও আবু রুহম এবং আমাদের কাওমের বায়ান্ন, তিপ্পান্ন জন এর কিছু বেশি লোকসহ আমরা হিজরতের উদ্দেশে বের হলাম। আমি ছিলাম আমার অপর দুভাইয়ের চেয়ে বয়সে ছোট। আমরা একটি জাহাজে উঠলাম। জাহাজটি আমাদেরকে আবিসিনিয়ার বাদশাহ নাজাশির নিকট নিয়ে গেলো। সেখানে আমরা জাফর ইবনে আবু তালিবের সাক্ষাৎ পেলাম এবং তার সঙ্গেই আমরা থেকে গেলাম। অবশেষে নবী সা.-এর খায়বার বিজয়ের সময় সকলে একযোগে মদীনায় এসে তার সঙ্গে মিলিত হলাম।

জাফর রা. ও তার সাথে হিজরতকারীরা প্রায় দশ বছর হাবশায় অবস্থান করেন। ইতোমধ্যে পবিত্র কুরআনের অনেকাংশ অবতীর্ণ হয়ে যায়। বহু যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এসব কারণে মুসলমানদের কেউ কেউ ধারণা করলেন যে, আবিসিনিয়ায় হিজরতকারীরা এসব ভালো কাজ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ফযিলতের দিক থেকে অন্যদের চেয়ে তারা নিচু পর্যায়ের।

আবু মুসা আশআরী বলেন, এ সময়ে মুসলিমদের কেউ কেউ আমাদেরকে অর্থাৎ জাহাজে আগমনকারীদের বললো, হিজরতের ব্যাপারে আমরা তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী। আমাদের সঙ্গে আগমনকারী আসমা বিনতে উমাইস একবার রসূল সা.-এর সহধর্মিণী হাফসার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। তিনিও (স্বামী জাফরসহ) নাজাশির দেশে হিজরতকারীদের সঙ্গে হিজরত করেছিলেন। আসমা রা. হাফসার কাছেই ছিলেন। এ সময়ে ওমর রা. তার ঘরে প্রবেশ করলেন। ওমর রা. আসমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? হাফসা রা. বললেন, তিনি আসমা বিনতে উমাইস। ওমর রা. বললেন, ইনি আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী আসমা? সমুদ্রপথে আগত?

আসমা রা. বললেন, হ্যাঁ! তখন ওমর রা. বললেন, হিজরতের ব্যাপারে আমরা তোমাদের চেয়ে আগ্রগামী। সুতরাং তোমাদের তুলনায় রসূলুল্লাহ সা.-এর ওপর আমাদের হক বেশি। এতে আসমা রা. রেগে গেলেন এবং বললেন, কখনো হতে পারে না। আল্লাহর কসম! আপনারা তো রসূলুল্লাহ সা.-এর সঙ্গে ছিলেন, তিনি আপনাদের ক্ষুধার্তদের খাবারের ব্যবস্থা করতেন, আপনাদের অবুঝ লোকদেরকে নসিহত করতেন। আর আমরা ছিলাম রসূলুল্লাহ সা. থেকে বহুদূরে সর্বদা শত্রুবেষ্টিত আবিসিনিয়ায়। আল্লাহ ও তার রসূলের উদ্দেশেই ছিল আমাদের এ হিজরত। আল্লাহর কসম! আমি কোনো খাবার খাবো না, পানিও পান করবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি যা বলেছেন তা আমি রসূলুল্লাহ সা.-কে না জানাবো। সেখানে আমাদেরকে কষ্ট দেওয়া হতো, ভয় দেখানো হতো। শীঘ্রই আমি রসূল সা.-কে এসব কথা বলবো এবং তাকে জিজ্ঞেস করবো। তবে আল্লাহর কসম! আমি মিথ্যা বলবো না, পেঁচিয়ে বলবো না, বাড়িয়েও কিছু বলবো না। অতঃপর রসূল সা. আগমন করলে তিনি তার কাছে বিস্তারিত বললেন। উত্তরে আল্লাহর রসূল সা. তাকে বললেন, তারা তোমাদের চাইতে আমার বেশি নিকটতম নন। তারা একটিমাত্র হিজরত করেছে আর তোমরা দুটি হিজরত করেছো।

আসমা বিনতে উমাইস রা.-কে বলা রসূল সা.-এর এই বাণী তার সব সঙ্গীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি স্বয়ং বলেন, আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী দলের সদস্যরা দলে দলে আমার কাছে এসে এই হাদীস শুনতো। রসূল সা. তাদের মর্যাদা-সংক্রান্ত যে মন্তব্য করেছেন, এর চেয়ে খুশির বিষয় তাদের জন্য পৃথিবীতে আর কিছু ছিল না। রসূল সা. খায়বার বিজয়ে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের সাথে পরামর্শক্রমে আবিসিনিয়া থেকে আসা সাহাবীদের মাঝে গণিমতের অংশ বণ্টন করেন।

টিকাঃ
১০৫৪. সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/৩৫১-৩৫২।
১০৫৫. সহীহ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ: ৪৬১।
১০৫৬. সহীহ বুখারী: ৪২৩০।
১০৫৭. আসসীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ: ২/৪৬১।
১০৫৮. সহীহ বুখারী: ৪২৩১।
১০৫৯. ফিকহুস সীরাহ লিলগাজবান: ৫৩৫।
১০৬০. সহীহ মুসলিম: ২৫০২-২৫০৩।
১০৬১. আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ৩/৯২।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 গণিমতের সম্পদবন্টন

📄 গণিমতের সম্পদবন্টন


ক. খায়বার শহরের দ্বিতীয় অংশের পতন এবং মুসলিম বাহিনী খায়বারের ছোটো-বড়ো সবকটি দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ার পর মুসলমানরা মালে গণিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) একত্র করতে শুরু করে। নববী যুগে এর আগে মুসলমানরা কোনো যুদ্ধেই এতো অধিক পরিমাণ গণিমত অর্জন করেনি, যে পরিমাণ তারা এই যুদ্ধ থেকে অর্জন করেছিল। এই মহাবিজয়ে মুসলিম বাহিনী রণসমরঞ্জাম ছাড়াও অন্যান্য প্রচুর সম্পদ অর্জন করে।
বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রৌপ্য ছাড়াও মুসলমানরা এখানকার জমিজমা, বাগ-বাগিচা ও খেজুরের গুদাম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে ঘি, চর্বি, মধু ও তেল ছিল উল্লেখযোগ্য। রসূল সা. সবাইকে এসব খাবার থেকে খাদ্যগ্রহণ করতে অনুমতি দিয়েছিলেন এবং সেগুলো থেকে অন্যান্য যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মতো রাষ্ট্রীয় কোষাগারের জন্য এক পঞ্চমাংশ রাখা হয়নি।
কাপড়, গৃহস্থালী পণ্য, উট, গরু ও ছাগল জাতীয় সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ কুরআনে কারীমে বর্ণিত প্রয়োজনীয় খাতসমূহের জন্য রেখে অবশিষ্ট চার-পঞ্চমাংশ মুজাহিদদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়।
বিপুল সংখ্যক ইহুদি নারী মুসলমানদের যুদ্ধবন্দী হিসেবে হস্তগত হয়। গণিমতের সম্পদের আওতাভুক্ত হওয়ায় রসূল সা. তাদেরকে মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। কৃষিজমি ও খেজুরবাগানের মতো সম্পদগুলো রসূল সা. মোট ৩৬টি অংশে ভাগ করে প্রতিটি অংশকে আবার ১০০ অংশে বণ্টন করেন। ৩৬০০ ভাগে বণ্টিত এসব সম্পদের অর্ধেক তথা ১৮০০ অংশ মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়। আর বাকি অর্ধেক অংশ সংরক্ষিত রাখা হয় মুসলমানদের ভবিষ্যৎ ও সাধারণ প্রয়োজনে কাজে লাগানোর জন্য।
যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সন্ধান করার সময় সাহাবায়ে কেরাম রা. তাদের দুর্গে তাওরাতের কয়েকটি কপি পান। ইহুদিরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিবেদন করে এই কপিগুলো যেন তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং সাহাবাদেরকে ইহুদিদের এই কপিগুলো ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন। এ ক্ষেত্রে তিনি তাদের সাথে এমন আচরণ করেননি, যেমনটি রোমানরা জেরুজালেম হামলার সময় করেছিল। তারা সেখানকার যাবতীয় সম্মানিত ধর্মীয় পুস্তক জ্বালিয়ে দিয়েছিল। অথবা যেমনটি করেছিল খ্রিষ্টানরা, যখন তারা স্পেনে ইহুদিদের ওপর হামলা করে; তখন তাদের কাছে থাকা তাওরাতের সকল কপি পুড়িয়ে দেয়।
রসূল সা. খায়বারের ইহুদিদেরকে নিজেদের ভূমিতে কৃষিকাজ করার পর তার অর্ধেক অংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করে সেখানে বসবাসের অনুমতি দেন। পাশাপাশি তিনি এটিও শর্তে উল্লেখ করে দেন যে, মুসলমানরা যখন চাইবে তখন তাদের সেখান থেকে নির্বাসিত করতে পারবে। প্রথমোক্ত শর্তে চুক্তি করতে ইহুদিরাই ছিল বেশি আগ্রহী। তারা রসূল সা.-এর কাছে এই মর্মে নিবেদন করে যে, আমরা আপনাদের চাইতে কৃষিকার্যে অধিক দক্ষ। তাদের অনুরোধে রসূল সা. তাদেরকে নির্বাসিত করার ইচ্ছা পোষণ করলেও এ দুটি শর্ত দিয়ে তাদের সেখানেই থাকতে দেন।
চুক্তিনামার দ্বিতীয় ধারাটি ছিল, মুসলমানরা যখন চাইবে তখন তাদেরকে সেখান থেকে নির্বাসিত করতে পারবে। ইহুদিদের কৃষক হিসেবে সেখানে বহাল রাখা مسلمانوں জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রমাণিত হয়। আগে থেকেই ইহুদিরা কৃষিকাজে অভ্যস্থ ছিল। অন্যদের তুলনায় কৃষিক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা অনেক বেশি ছিল। তাই তাদের সেখানে বহাল রাখা যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত ছিল। কেননা তাদের মজুরি দিতে হতো না। তদুপরি মুসলমানরা সেখান থেকে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক অংশের মালিক হতো।
তাদের শক্তি ও মনোবল দমিয়ে রাখার জন্য রসূলুল্লাহ সা. এই শর্ত আরোপ করেন যে, মুসলমানরা যখন চাইবে, তাদের নির্বাসিত করতে পারবে। ইহুদিরা সবসময় এ নিয়ে ভীত থাকতো। ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর যুগে যখন তারা অন্যায়ভাবে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর হাত কনুইয়ের দিক থেকে ভেঙে দিয়েছিল তখন তিনি দ্বিতীয় শর্তের বাস্তবায়ন করেন। ইতোপূর্বে রসূলুল্লাহ সা.- এর যুগে তারা আবদুল্লাহ ইবনে সাহাল রা.-কে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছিল। ওমর রা.-এর যুগে দ্বিতীয়বার তাদের প্রতারণা ও শর্তভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে তাদের নির্বাসনে পাঠানো হয়।
খায়বারের ইহুদিরা নিজেদের স্বর্ণ ও রৌপ্য লুকিয়ে ফেলতে চেয়েছিল- যাতে তা মুসলমানদের হাতে না যায়। এদিকে বনু কুরায়যার সাথে নিহত হুয়াই ইবনে আখতাবের একটি মৃগনাভি বনু নাযির গোত্রের ইহুদিরা নির্বাসিত হওয়ার সময় লুকিয়ে ফেলেছিল।
রসূল সা. হুয়াই ইবনে আখতাবের চাচা সাইয়াকে জিজ্ঞেস করেন, হুয়াই ইবনে আখতাবের সেই মৃগনাভি কোথায়? উত্তরে তিনি বলেন, যুদ্ধের খরচ ও অন্যান্য কাজে তা ব্যয় করা হয়েছে। তখন আল্লাহর রসূল সা. বলেন, এত অল্প সময়ে এমন মূলব্যবান বস্তু তো খরচ হওয়ার কথা না! অতঃপর আল্লাহর রসূল সা. যুবায়ের ইবনে আওয়াম রা.-কে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসাবাদকালে মৃদু শাস্তি দিলে সে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয় যে, আমি হুয়াইকে অমুক নির্জন জায়গায় চলাফেরা করতে দেখেছি। সাহাবীরা সেখানে গিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে ওই মৃগনাভি পেয়ে যান।
ইহুদিদের সাথে কৃষিকাজের চুক্তির যেসব শর্ত নির্ধারিত হয়েছিল তার ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.-কে দায়িত্বশীল বানানো হয়। তিনি প্রতিবছর সেখানে গিয়ে ফসলের জরিপ করতেন। ইহুদিরা প্রথমে আল্লাহর রসূল সা.-এর কাছে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.-এর ফসল নির্ধারণ ও জরিপের কঠোরতার ব্যাপারে অভিযোগ করে। পরবর্তীকালে তারা আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা.-কে ঘুষের প্রস্তাব দেয়। জবাবে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা বলেন, হে আল্লাহর দুশমনরা! তোমরা আমাকে হারাম খাওয়াতে চাচ্ছো! আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে এসেছি যিনি আমার সবচাইতে প্রিয়। আর তোমরা আমার কাছে শূকর-বানরের চাইতেও নিকৃষ্ট। অবশ্য রসূল সা.-এর প্রতি আমার ভালোবাসা ও তোমাদের প্রতি ঘৃণার কারণে আমি ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত হব না। তার উত্তর শুনে তারা বলতে লাগলো, এমন ন্যায়বিচারের কারণেই পৃথিবী এখনো টিকে আছে।
খায়বারের কর্তৃত্ব গ্রহণ ও ইহুদিদের সাথে কৃষিকাজের চুক্তির ফলে মুসলমানরা একটি স্থায়ী উপার্জনের উপায় পায়। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, খায়বার বিজয়ের পূর্বে আমরা কখনো পরিতৃপ্ত হয়ে খেতে পারিনি। এই বিজয়ের পর মুসলমানদের অর্থনৈতিক অবস্থার ক্রমোন্নতি ঘটে। এদিকে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতকারীদেরকে আনসাররা যেসব খেজুরগাছ দিয়েছিলেন, খায়বার বিজয়ের পর মুহাজিররা তা ফিরিয়ে দেন।

টিকাঃ
১০৬২. আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ৩/১৪০।
১০৬৩. আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ৩/১৪১-১৪২।
১০৬৪. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ২/৪১৯।
১০৬৫. আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ: ১/৩২৮।
১০৬৬. তাআম্মুলাত ফি সীরাতির রসূল: ২২৮-২২৯।
১০৬৭. আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ: ১/৩৬২।
১০৬৮. ইমাম যাহাবী প্রণীত তারীখুল ইসলাম: আল মাগাযী: ৪২৪।
১০৬৯. ইমাম যাহাবী প্রণীত তারীখুল ইসলাম: আল মাগাযী: ৪২৪।
১০৭০. সহীহ বুখারী: ৪২৪৩।
১০৭১. মুঈনুস সীরাহ: ৩৫২।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 সাফিয়্যা বিনতে হুযাই-এর সাথে রসূল সা.-এর বিয়ে

📄 সাফিয়্যা বিনতে হুযাই-এর সাথে রসূল সা.-এর বিয়ে


খায়বারের কামুস নামক দুর্গ বিজয়ের পর মুসলমানদের হাতে যেসব যুদ্ধবন্দী আসে, তাদের একজন ছিলেন সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই ইবনে আখতাব। নবীজি সা. তাকে দিহয়া কালবী রা.-কে দান করেছিলেন। জনৈক ব্যক্তি রসূল সা.-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি দিহয়া কালবীর হাতে সাফিয়্যা বিনতে হুয়াইকে তুলে দিয়েছেন, অথচ নিজের গোত্রের নেত্রী হিসেবে তিনি আপনার উপযুক্ত। রসূল সা. তার পরামর্শ গ্রহণ করে দিহয়া কালবী রা.-কে এর পরিবর্তে অন্য কোনো একজন দাসী নিয়ে যেতে বলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যাকে আযাদ করে দেন এবং তাকে বিবাহ করেন। তার মুক্তিপণের বিনিময়কে মোহর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। বিয়ে সংঘটিত হয় তার ইসলাম গ্রহণের পর।

আল্লাহর রসূল সা. খায়বার অঞ্চল ত্যাগ করার পূর্বেই সাফিয়া রা. ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হয়ে যান। আল্লাহর রসূল সা. তাকে নিজের বাহনের পেছনে আরোহণ করান। খায়বার অঞ্চল থেকে ছয় মাইল অতিক্রম করে সেখানে ছাউনি ফেলা হলে আল্লাহর রসূল সা. তার সাথে রাত কাটাতে চান। কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। রসূল সা. এতে কিছুটা কষ্ট অনুভব করেন। পরবর্তী ছাউনি সাহবা নামক স্থানে ফেলা হয়। উম্মে সুলাইম সাফিয়্যা রা.-কে সুসজ্জিত করেন এবং সুগন্ধিযুক্ত করে রসূল সা.-এর কাছে পাঠিয়ে দেন। রসূল সা.-এর সাথে প্রথম রাত্রিযাপনকালে তিনি তাকে পূর্ববর্তী ছাউনিতে রাত্রিযাপনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের কারণ জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে সাফিয়্যা রা. বলেন, যেহেতু ওই অঞ্চলটি ইহুদিদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ছিল তাই আমি আপনার ব্যাপারে ভীত সন্ত্রস্ত ছিলাম যে, তারা এ কারণে আপনার ওপর আক্রমণ করে বসতে পারে। এ কথা শুনে তার প্রতি রসূল সা.-এর আন্তরিকতা আরও বৃদ্ধি পায়।

সাহবা প্রান্তরে রসূল সা. তিন দিন অবস্থান করে সেখানে ওলিমার আয়োজন করেন। তাতে মুসলমানদের দাওয়াত করেন। ওলিমায় মাংসের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। শুধু খেজুর, পনির ও ঘি-এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মুসলমানরা তখনও বুঝতে পারছিলেন না সাফিয়্যা উম্মাহাতুল মুমিনিনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নাকি এখনো দাসী হিসেবেই আছেন। কিন্তু যখন পরবর্তী সফরে আল্লাহর রসূল সা.-এর পেছনেই তার জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয় এবং তার আসন পর্দা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় তখন মুসলমানরা নিশ্চিত হলেন যে, তিনি উম্মাহাতুল মুমিনিনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

ইমাম বায়হাকী রহ. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর সূত্রে বিশুদ্ধ সনদে উল্লেখ করেন: রসূল সা. সাফিয়্যা রা.-এর চোখের দিকে একটি নীল দাগ দেখতে পেয়ে তাকে এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। সাফিয়্যা জানালেন, তিনি যখন ইহুদি সরদার কেনানা ইবনে রবী ইবনে আবিল হুকাইকের স্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি একবার স্বপ্নে দেখেন, আকাশের চাঁদ যেন তার কোলে এসে পড়েছে। তিনি তার স্বপ্নের কথা স্বামীর কাছে বর্ণনা করলে তার স্বামী রেগে যায় এবং তাকে চপেটাঘাত করে বলে, ইয়াসরিবের অধিপতি তোমার স্বামী হোক-এটাই কি তুমি কামনা করো?

পরবর্তীতে সাফিয়্যা রা.-এর স্বপ্ন সত্যে পরিণত করেন মহান আল্লাহ তাআলা। জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি দিয়ে সকল মুমিনদের মা হওয়ার সৌভাগ্য দান করেন তাকে। জান্নাতেও রসূল সা.-এর স্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন তিনি। রসূল সা. তাকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। তিনি উটে আরোহণ করার সময় আল্লাহর রসূল সা. তার উটের পাশে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসলেন, যেন তিনি তার হাঁটুতে পা রেখে উটে আরোহণ করতে পারেন। এদিকে সাফিয়্যা রা.ও রসূল সা.-এর হাঁটুতে পা রাখতে রাজি হচ্ছিলেন না। অবশেষে রসূল সা.-এর হাঁটুতে নিজের হাঁটু রেখে তিনি বাহনে আরোহণ করেন।

খোদ সাফিয়‍্যা রা. নবীজির চারিত্রিক সৌন্দর্যের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, আমি রসূল সা.-এর চাইতে অধিক ভদ্র কাউকে দেখিনি। খায়বার থেকে ফেরার পথে রাতে আমি আল্লাহর রসূল সা.-এর বাহনে আরোহী ছিলাম। আমার প্রচণ্ড নিদ্রা আসায় বারবার আমার মাথা বাহনের কাঠের সাথে ধাক্কা খাচ্ছিলো। রসূল সা. কোমল স্পর্শে আমাকে জাগিয়ে বলেন, কিছুটা সামলে বসো।

ইসলাম গ্রহণ করে পবত্রি হওয়ার পর তাকে কেউ ইহুদী বলে কটাক্ষ করলে তিনি ভীষণ কষ্ট পেতেন। একদিন রসূলুল্লাহ সা. তার ঘরে গিয়ে দেখেন, তিনি কাঁদছেন। কাঁদার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আয়েশা ও যায়নাব দাবি করে যে, তারা অন্য বেগমগণের চেয়ে উত্তম। কারণ, তারা আপনার বেগম হওয়া ছাড়াও চাচাতো বোন।

রসূল সা. তাকে খুশি করার জন্য বলেন, তুমি তাদেরকে এ কথা কেন বললে না যে, আমার বাবা হারূন আ., আমার চাচা মূসা আ. এবং আমার স্বামী মুহাম্মাদ। তাই তোমরা আমার চেয়ে ভালো হতে পারো কীভাবে!

রসূলুল্লাহ সা.-এর প্রতি হযরত সাফিয়্যার ছিল অন্তহীন ভালোবাসা। রসূল যখন আয়েশার গৃহে অন্তিম রোগশয্যায়, তখন একদিন সাফিয়্যা রা.-সহ অন্য বিবিগণ স্বামীকে দেখতে ও সেবা করতে একত্র হলেন। হযরত সাফিয়্যা রা. তখন অত্যন্ত ব্যথা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর নবী! আপনার এই সব কষ্ট আমি ভোগ করতে পারলে খুশি হতাম।' তার এমন কথা শুনে অন্য বিবিগণ একে অপরের দিকে এমনভাবে তাকাতে লাগলেন যেন তার কথায় তারা সন্দেহ করছেন। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'আল্লাহর কসম! সে সত্য বলেছে। '

প্রথম বাসর রাতে হযরত আবু আয়্যুব আনসারী রা. রসূলুল্লাহ সা.-এর অজান্তে কোষমুক্ত তরবারি হাতে সারা রাত রসূলুল্লাহ সা.-এর তাঁবুর দরজায় পাহারা দেন। সকালে রসূল সা. তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেন, এই নারীর পিতা, স্বামী, ভাইসহ সকল নিকট আত্মীয় নিহত হয়েছে। তাই আমার আশঙ্কা হচ্ছিলো, খারাপ কিছু করে না বসে। তার কথা শুনে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটু হাসলেন এবং তার জন্য দোআ করলেন-হে আল্লাহ, আবু আইয়ুব যেভাবে সারারাত আমার হেফাজতে দাঁড়িয়ে ছিল তুমি তাকে সেভাবে হেফাজত করো

সাফিয়্যার সাথে রসূল সা.-এর বিবাহ ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। শুধু কামনা চরিতার্থ করার জন্যই রসূল সা. তাকে বিবাহ করেননি। নবীজির একটি অভিপ্রায় ছিল, যেভাবে তিনি তার গোত্রে সম্মানিত ছিলেন, তেমনই যেন مسلمانوں মধ্যে তার একটি সম্মানিত অবস্থান তৈরি হয়। যার সাথে বংশমর্যাদার দিক থেকে তার কোনো মিল নেই, এমন ব্যক্তির সাথে তার থাকা কষ্টকর হতো। এমনিতেই নিজের ভাই, বাবা ও গোত্রের অন্যান্য লোকদের হারিয়ে তিনি ছিলেন অনেকটা বিপর্যস্ত। রসূল সা.-এর সাথে বিবাহ ও চমৎকার আচরণে তার কষ্ট দূরীভূত হয়েছে। অন্যদিকে এর মাধ্যমে রসূল সা.-এর সাথে ইহুদিদের আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে তাদের সাথে مسلمانوں শত্রুতা কমে আসার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাদের ইসলাম গ্রহণ ও مسلمانوں সাথে তাদের দ্বন্ধ হ্রাসের একটি উপলক্ষ ছিল এটি।

সাফিয়্যা রা. ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, বিচক্ষণ ও স্পষ্টভাষী। হযরত সাফিয়্যা রা.-এর এক দাসী একবার খলীফা হযরত ওমর রা.-এর নিকট অভিযোগ করলেন যে, এখনও তার মধ্যে ইহুদী ভাব বিদ্যমান। কারণ তিনি এখনও শনিবারকে মানেন এবং ইহুদীদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখেন। দাসীর কথার সত্যতা যাচায়ের জন্য হযরত ওমর রা. লোক মারফত হযরত সাফিয়্যা রা.-কে অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন। তিনি জবাব দেন, 'যখন থেকে আল্লাহ আমাকে শনিবারের পরিবর্তে জুমআ দান করেছেন, তখন থেকে শনিবারকে মানার কোনো প্রয়োজন নেই। ইহুদিদের সাথে আমার সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে আমার বক্তব্য হলো, সেখানে আমার আত্মীয়-স্বজন আছে। তাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার দিকে আমার দৃষ্টি রাখতে হয়। তারপর তিনি দাসীকে ডেকে জানতে চান, এ অভিযোগ করতে কে তোমাকে উৎসাহিত করেছেন? দাসী বললেন, শয়তান। হযরত সাফিয়্যা রা. চুপ হয়ে যান এবং দাসীকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে দেন।

উম্মুল মুমিনীন হযরত সফিয়‍্যা রা. রসূলুল্লাহ সা.-এর ইন্তেকালের পর চল্লিশ বছর জীবিত ছিলেন। এই সময়টুকু তিনি আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী, ইলম ও দাওয়াতের কাজে কাটান। খেলাফতে রাশেদার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি দেখেছেন। দিক-দিগন্তে দেখেছেন ইসলামের সুনির্মল আলো। হিজরী ৫০ বা মতান্তরে ৫২ সনের রমযান মাসে ৬০ বছর বয়সে হযরত সাফিয়্যা রা. মদীনায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এবং পৃথিবীর বুকে রেখে যান এক আলোকোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

টিকাঃ
১০৭২. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৩৮৩।
১০৭৩. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়‍্যাহ ২/৩৮৩।
১০৭৪. আসসুরা মাআল ইয়াহুদ ৩/১০১।
১০৭৫. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ২/৩৮৪।
১০৭৬. আসসুরা মাআল ইয়াহুদ ৩/১০৩।
১০৭৭. আসসুরা মাআল ইয়াহুদ ৩/১২২
১০৭৮. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ২/৩৮৪।
১০৭৯. আস সীরাতুল হালাবিয়া: ৩/৪৫।
১০৮০. তিরমিযী: ৩৮৯২।
১০৮১. তাবাকাতে ইবনে সাআদ: ৮/১২৮।
১০৮২. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ২/৩৮৫।
১০৮৩. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ২/৩৮৫।
১০৮৪. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২/২৩৩; আল ইসতিআব: ৪/৩৪৮।
১০৮৫. আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ২/৩৮৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00