📄 বনু কুরায়যার গণিমতসমূহ বন্টন
ক. বনু কুরায়যার ছেড়ে যাওয়া যেসব গণিমতের সম্পদ সাহাবায়ে কেরাম জমা করেছিলেন, তম্মধ্যে ছিল ১৫শ তরবারি, ২ হাজার বর্শা, ৩শ বর্ম, ছোট বড় ১৫শ ঢাল। এ ছাড়াও বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু তথা উট, বকরি ও গৃহস্থালী পণ্য। কয়েক মটকা মদও مسلمانوں হস্তগত হয়েছিল। তন্মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তিগুলো আনসার-মুহাজির নির্বিশেষে সকল মুজাহিদদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য রাষ্ট্রীয় কোষাগারের জন্য এক পঞ্চমাংশ সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। বণ্টনপদ্ধতিতে অশ্বারোহী সৈন্যদের দুই অংশ ও পদাতিক সৈন্যদের এক অংশ করে দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৬
আর যেসব মদ مسلمانوں হস্তগত হয়েছিল, তা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। রসূলুল্লাহ সা. সুয়াইদ ইবনে খাল্লাদের জন্যও গণিমতের একটি অংশ নির্ধারিত রেখেছিলেন। যাঁকে জনৈক ইহুদি নারী যাঁতা ফেলে হত্যা করেছিল। ১৯৯৭
তার উত্তরাধিকারীদের হাতে সেই সম্পদ অর্পণ করা হয়। বনু কুরায়যার দুর্গ অবরোধকালে নিহত হওয়া অন্য এক সাহাবীর জন্য গণিমতের অংশ নির্ধারণ করা হয়। ৯৯৮
তদ্রূপ রসূলুল্লাহ সা. গাযওয়ায়ে আহযাবে অংশগ্রহণকারী নারীসাহাবী যথা সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব, উম্মে উমারা, উম্মে সালিত, উম্মুল আলা, সামিরা বিনতে কায়েস ও সাআد ইবনে মুআয রা.-এর মাতা উম্মে সাআদকে গণিমতের নির্ধারিত অংশ না দিলেও তাদের জন্য কিছু অংশ বরাদ্দ রেখেছিলেন। ১৯৯
অন্যদিকে স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ছিল ভূমি ও গৃহ ইত্যাদি। এসব রসূলুল্লাহ সা. শুধু মুহাজির সাহাবীদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছিলেন। আনসারদের তা থেকে কিছুই দেননি। রসূলুল্লাহ সা. মুহাজিরদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, আনসারী সাহাবীদের কাছ থেকে তারা যে সকল ভূখণ্ড ও খেজুরের গাছ ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন, তা যেন তাদের ফিরিয়ে দেন।১০০০
এ যুদ্ধে প্রাপ্ত মুসলমানদের ভূসম্পদ ও ঘরবাড়ির ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَأَوْرَثَكُمْ أَرْضَهُمْ وَ دِيَارَهُمْ وَ أَمْوَالَهُمْ وَ أَرْضًا لَّمْ تَطَوْهَا وَ كَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرًا
আর তিনি তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করলেন তাদের ভূমি, তাদের ঘর-বাড়ি ও তাদের ধন-সম্পদের এবং এমন ভূমির যাতে তোমরা পদার্পণও করনি। আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান। ১০০১
প্রফেসর মুহাম্মাদ দরওয়াজা বলেন, এই আয়াতের ব্যাখ্যায় অধিকাংশ মুফাসসিরের মত হলো, 'এবং এমন এক ভূখণ্ডের মালিক করে দিয়েছেন'-বলে আল্লাহ খায়বারের ভূমি বুঝিয়েছেন। যা খায়বার বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী ও সুসংবাদ ছিল। কিন্তু আয়াতের পূর্বাপর বিশ্লেষণে এ কথা অনুধাবন করা যায় যে, এ আয়াতের মাধ্যমে মূলত বনু কুরায়যার ওইসব জমিজমা উদ্দেশ্য ছিল, যা তাদের ঘরবাড়ি থেকে দূরে অবস্থিত ছিল। যেসব জমি কোনো ধরনের যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত হওয়া বা অবরোধ করা ব্যতীতই مسلمانوں হস্তগত হয়েছিল।
এদিকে রসূলুল্লাহ সা. যুদ্ধবন্দীদের একটি অংশকে সাআد ইবনে ওবাদার সাথে সিরিয়া অভিমুখে প্রেরণ করেন, যেন তিনি সেখানে তাদের বিক্রি করে مسلمانوں জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধবাহন সংগ্রহ করতে পারেন, যা তারা ইহুদি ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করবেন। অন্যদিকে সাআد ইবনে জায়েদকে নজদ অভিমুখে কিছু যুদ্ধবন্দীসহ প্রেরণ করা হয়। তিনি তাদের সেখানেই বিক্রি করেন এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে যুদ্ধসামগ্রী ক্রয় করেন। ১০০২
টিকাঃ
১৯৯৬ আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ২/৯৬-৯৭।
১৯৭ আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ২/৯৭।
৯৯৮ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারহ: ১/৩৭৫।
১১৯ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারহ: ১/৩৭৫।
১০০০ আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ২/৯৮।
১০০১ সূরা আহযাব: ২৭।
১০০২ আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ২/৯৮।
📄 রায়হানা রা.-এর ইসলাম গ্রহণ
রায়হানা বিনতে আমর বনু কুরায়যার শাখা বনু আমর গোত্রভুক্ত ছিলেন। রসূলুল্লাহ সা. মনস্থ করেছিলেন, তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে রসূলুল্লাহ সা. তাকে বিয়ে করবেন। কিন্তু তিনি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন এবং কিছু সময় পর্যন্ত তিনি নিজের ধর্মের ওপরই অটল থাকেন। পরবর্তীকালে আল্লাহ তাআলা তাকে সঠিক বুঝ দান করেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। রসূলুল্লাহ সা. তাকে এক মাসের জন্য উম্মে মুনজির বিনতে কায়েস-এর ঘরে অবস্থানের জন্য পাঠান। তার ইদ্দতকালীন সময় শেষ হলে রসূলুল্লাহ সা. সেখানে তাশরিফ নিয়ে যান এবং তাকে এ মর্মে স্বাধীনতা দেন যে, তিনি চাইলে মুক্ত হয়ে রসূলুল্লাহ সা.-এর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন অথবা রসূলুল্লাহ সা.-এর দাসী হিসেবে থেকে যাবেন। তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর দাসী হিসেবে থাকাকেই প্রাধান্য দেন। ১০০৩
টিকাঃ
১০০৩ আবু ফারিস প্রণীত আসসরা মাআল ইয়াহুদ: ২/৯৯।
📄 আহযাবের যুদ্ধে ইসলামের প্রচার
কবি সাহাবারা নিজেদের বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধকালীন ঘটনাসমূহকে কবিতায় চিত্রায়িত করেছিলেন। আহযাবের যুদ্ধে তারা مسلمانوں বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোকেও কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। কাআব ইবনে মালিকের কবিতায় এসেছে,
وسائلة تسائل ما لقينا ولو شهدت رأتنا صابرينا صبرنا لا نرى الله عدلا على ما نابنا متوكلينا وكان لنا النبي وزير صدق به نعلو البرية أجمعينا
نقاتل معشرا ظلموا وعقوا وكانوا بالعداوة مرصدينا نعاجلهم إذا نهضوا إلينا بضرب يعجل المتسرعينا ترانا في فضافض سابغات كغدران الملا متسربلينا وفي أيماننا بيض خفاف بها نشفي مراح الشاغبينا بباب الخندقين كأن أسدا شوابكهن يحمين العرينا فوارسنا إذا بكروا وراحوا على الأعداء شوسا معلمينا لننصر أحمدا والله حتى نكون عباد صدق مخلصينا ويعلم أهل مكة حين ساروا وأحزاب أتوا متحزبينا بأن الله ليس له شريك وأن الله مولى المؤمنينا فإما تقتلوا سعدا سفاها فإن الله خير القادرينا سيدخله جنانا طيبات تكون مقامة للصالحينا كما قد ردكم فلا شريدا بغيظكم خزايا خائبينا خزايا لم تنالوا ثم خيرا وكدتم أن تكونوا دامرينا بريح عاصف هبت عليكم فكنتم تحتها متكمهينا
অনেক নারী জানতে চায়, কী বিপদ পতিত হয়েছে আমাদের ওপর।
তুমি উপস্থিত হলে সেসব বিপদে আমাদেরকে ধৈর্যশীল দেখতে পেতে। আল্লাহর উপর নির্ভর করে আমরা সবর করেছি আমাদের উপর আপতিত বিপদে। কারণ, আমরা তো দেখি না আল্লাহর কোনো বিকল্প।
নবী ছিলেন আমাদের জন্য সত্যিকার সাহায্যকারী। তাকে কেন্দ্র করেই তো আমরা হয়েছি সকল সৃষ্টির সেরা। আমরা লড়াই করি এমন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যারা যুলুম আর নাফরমানী করে। শত্রুতায় তারা আমাদেরকে লক্ষ্যবস্তু মনে করে। তারা আমাদের দিকে ছুটে এলে আমরা তাদের সমুচিত শিক্ষা দিই। আমরা এমন আঘাত হানি, যা ত্বরাকারী হানাদারদেরকে দ্রুত ঠেলে দেয় মৃত্যুর মুখে।
তুমি আমাদেরকে দেখতে পাবে পরিপূর্ণ বর্মসমূহের অভ্যন্তরে যা বিস্তীর্ণ পুকুরের ন্যায় প্রশস্ত। আমাদের দক্ষিণ হস্তে রয়েছে হালকা শুভ্র তলোয়ার, যা দ্বারা আমরা প্রতিবিধান করি অনিষ্টকারীদের তৎপরতায়, পরিখার মুখে যেন সিংহ দাঁড়িয়ে আছে। তাদের পাঞ্জা সিংহের বাসস্থল সংরক্ষণ করে।
আমাদের অশ্বারোহীদল সকাল-সন্ধ্যা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শত্রুদলের ওপর হামলা চালায়, যেন আমরা সাহায্য করি আল্লাহ এবং মুহাম্মাদ সা.-এর যাতে আমরা পরিণত হই আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দায়। মক্কাবাসী এবং শত্রুদল, যারা ঐক্যবদ্ধ দল রূপে বেরিয়ে এসেছে, তারা যাতে জানতে পারে যে, আল্লাহর কোন শরীক নেই, এবং তিনিই মুমিনদের অভিভাবক।
তোমরা যদি মুর্খতাবশতঃ সাদকে হত্যা করে থাকো। তবে মনে রাখবে যে, আল্লাহ সবচেয়ে বেশী শক্তিশালী। (তিনি এর বদলা নেবেন)। অবিলম্বে আল্লাহ তাকে প্রবেশ করাবেন উত্তম উদ্যানে যা হবে পুণ্যবানদের আবাসস্থল। যেমন তিনি তোমাদেরকে ফেরত পাঠিয়েছেন তোমাদের অপদস্থ করে।
এমনই অপদস্থ যে, সেখানে কল্যাণ থেকে তোমরা হবে বঞ্চিত। তখন তোমরা ধ্বংসের নিকটবর্তী হয়ে পড়েছিলে। ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা যা আপতিত হয় তোমাদের উপর। তোমরা হয়ে পড়েছিলে দৃষ্টিহীন।