📄 কাআব ইবনে আসাদ কুরায়ীর হত্যা
রসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে বনু কুরায়যার নেতা কাআব ইবনে আসাদকে উপস্থিত করা হয়। তার সাথে নবীজির যেসব কথোপকথন হয়, তা নিম্নরূপ :
রসূলুল্লাহ সা. : তুমি কাআব ইবনে আসাদ?
কাব ইবনে আসাদ: হ্যাঁ, আবুল কাসেম।
রসূলুল্লাহ সা.: তুমি কি ইবনে খিরাশের কাছ থেকে উপদেশ পাওনি? সে তো আমার সত্যায়ন করতো। সে কি তোমাকে আমার আনুগত্য করার কথা বলেনি এবং তোমাকে এ কথা বলেনি, যদি তুমি আমার দেখা পাও তাহলে যেন তার পক্ষ থেকে আমাকে সালাম প্রদান করো?
কাব ইবনে আসাদ: আবুল কাসেম! তাওরাতের শপথ, নিঃসন্দেহে এমনটি হয়েছিল। ইহুদিরা আমাকে তরবারির ভয়ে ভীত বলে লজ্জা দেওয়ার আশঙ্কা না-থাকলে নিঃসন্দেহে আমি আপনার আনুগত্য করতাম। কিন্তু এখন আমি ইহুদিধর্মের ওপরই অটল আছি।
অতঃপর রসূলুল্লাহ সা.-এর নির্দেশে তার শিরচ্ছেদ করা হয়। ৯৮৪
সীরাতগ্রন্থসমূহে বনু কুরায়যার ইহুদিদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, যখন তাদের একের পর এক শিরচ্ছেদের জন্য নেওয়া হচ্ছিলো, তারা কাআব ইবনে আসাদকে জিজ্ঞেস করছিল, এখন আমাদের কী পরিণতি হবে বলে আপনি মনে করেন? উত্তরে সে বলেছিল, প্রতিটি ক্ষেত্রে কি তোমরা তোমাদের বিবেক কাজে লাগাতে পারো না? তোমরা কি দেখছো না, যাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তারা আর ফিরে আসছে না? নিঃসন্দেহে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। ৯৮৫
কাব ইবনে আসাদের হত্যাকাণ্ড থেকে এ কথা স্পষ্ট হয়, সে মৃত্যু পর্যন্ত নিজেকে ইহুদিধর্মের ওপর অটল ও অবিচল রেখেছিল। অথচ সে ভালোভাবেই ধর্মের ভ্রান্তি সম্পর্কে অবগত ছিল। সে ভালোভাবেই রসূলুল্লাহ সা.-এর নবুওয়াতের সত্যতার ব্যাপারে ওয়াকিবহাল ছিল। কিন্তু ইহুদিরা তাকে তরবারির ভয়ে ভীত হয়ে ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছে বলে অপবাদ দেবে বিধায় সে ইসলামগ্রহণ করতে ইচ্ছুক ছিল না। ইহকালীন প্রশংসা, ভালোবাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার লোভ-লালসাই তাকে ঈমান গ্রহণ না করে কুফুরির ওপর অটল থাকতে বাধ্য করেছিল। ৯৮৬
টিকাঃ
৯৮৪ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারহ: ১/৩৬৮।
৯৮৫ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারহ: ১/৩৬৮।
১৮৬ আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ২/১১৫।
📄 কতিপয় ইহুদির ব্যাপারে নবীজির কাছে সুপারিশ
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 যুবায়ের ইবনে বাতার ব্যাপারে সাবিত ইবনে কায়সের সুপারিশ
সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে বলেন, আল্লাহর রসূল! আমাকে যুবায়ের ইবনে বাতা ইহুদিকে দান করুন। বুআস যুদ্ধে তার একটি অনুগ্রহের দায় এখনো রয়েছে আমার ওপর। রসূলুল্লাহ সা. তার প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। পরে জাবের ইবনে কায়েস যুবায়ের ইবনে বাতা-এর নিকট গেলেন এবং তাকে বললেন, হে আবু আবদুর রহমান, তুমি কি আমাকে চেনো? উত্তরে সে বলে, হ্যাঁ, কেউ কি তার ভাইকে ভুলে যেতে পারে? অতঃপর সাবিত বলেন, আমি বুআস যুদ্ধের দিন তোমার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অনুগ্রহের প্রতিদান আদায় করতে চাচ্ছি। উত্তরে যুবায়ের বলে, এটাই স্বাভাবিক। একজন উত্তম ব্যক্তি নিঃসন্দেহে অনুগ্রহের প্রতিদান আদায় করে থাকে। অতঃপর সাবিত বলেন, আমি এমনটিই করেছি। আমি রসূলুল্লাহ সা.-এর পক্ষ থেকে তোমার ব্যাপারে অনুমতি পেয়েছি। একথা বলে সাবিত তার বাঁধন খুলে দেন।
যুবায়ের তাকে বলেন, তোমরা আমার পরিবারের সবাইকে আটক করে রেখেছো। আমার তো সাথে নিয়ে যাওয়ার মতো কিছু নেই। এ কথা শুনে সাবিত পুনরায় রসূলুল্লাহ সা.-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং যুবায়েরের পরিবারের মুক্তির জন্য অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সা. তার অনুরোধ রক্ষা করেন। সাবিত যুবায়েরের কাছে এসে জানালেন, রসূলুল্লাহ সা. তোমার পরিবারকে মুক্ত করে দিয়েছেন। জবাবে যুবায়ের বলে, আমার বাগানে কয়েক ধরনের খেজুর রয়েছে। এসব ব্যতীত আমার জীবিকা নির্বাহের আর কোনো উপায় নেই। সাবিত রসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে পুনরায় উপস্থিত হয়ে এ মর্মে নিবেদন করলে রসূলুল্লাহ সা. তার সহায়-সম্পত্তি ফিরিয়ে দেন। সাবিত যুবায়েরকে লক্ষ্য করে বলেন, রসূলুল্লাহ সা. তোমার সহায়-সম্পত্তি ও পরিবার মুক্ত করে তোমার হাতে দিয়েছেন। এখন তুমি ইসলাম গ্রহণ করো ও চিরকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করো। যুবায়ের নিজের দুই সহচর তথা কাআব ইবনে আসাদ ও হুয়াই ইবনে আখতাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। ৯৮৭
সাবিত এদের দুজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, হয়তো আল্লাহ তাআলা তোমার সৎকর্মের কারণে তোমাকে জীবিত রেখেছেন। যুবায়ের সাবিতকে বলেন, হে সাবিত, আল্লাহর দোহাই দিয়ে তোমার কাছে আমি প্রার্থনা করছি এবং বুআস যুদ্ধের দিন আমি তোমার ওপর যে অনুগ্রহ করেছি তার দোহাই দিয়ে বলছি, আমাকেও মৃতদের অন্তর্ভুক্ত করে দাও। কারণ এ দুজনের মৃত্যুর পর আমার জীবনের প্রতি আর কোনো আগ্রহ নেই। সাবিত রসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে উক্ত কথোপকথন উপস্থাপন করলে রসূলুল্লাহ সা. যুবায়েরকে হত্যার আদেশ দেন। অতঃপর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ১৮৮
টিকাঃ
৯৮৭ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারহ: ১/৩৭২।
*৮৮ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারহ: ১/৩০২।
📄 রিফাআ ইবনে সামওয়ালের ব্যাপারে সালমা বিনতে কায়সের সুপারিশ
উম্মুল মুনজির সালমা বিনতে কায়েস রা. ছিলেন সালিত ইবনে কায়েসের বোন। তিনি ছিলেন রসূলুল্লাহ সা.-এর খালা এবং উভয় কেবলার অভিমুখী হয়ে নামায পড়া নারীদের অন্তর্ভুক্ত। রসূলুল্লাহ সা.-এর হাতে অন্যান্য নারীগণের মতো তিনিও বায়আত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি জনৈক ইহুদি রিফাআ ইবনে সামওয়াল কুরাজির ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে সুপারিশ করেছিলেন। যে পূর্ব থেকেই তার পরিচিত ছিল এবং তার কাছে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। সালমা রসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলেন, আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ! রিفاআকে মুক্ত করে দিন। সে ধারণা করছে, একদিন হয়তো সে নামাযও পড়বে এবং উটের গোশতও ভক্ষণ করবে। রসূলুল্লাহ সা. তার আবেদন মঞ্জুর করেন। এভাবেই তিনি রিفاআকে বাঁচাবার চেষ্টা করেন। ৯৮৯
আলোচ্য দুটি ঘটনা দ্বারা বুঝা যায়, ইসলাম নারীদের সম্মান করে এবং তাদের সুপারিশ গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। ৯৯০
টিকাঃ
৯৮৯ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারহ: ১/৩৭৩।
৯৯০ আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ২/১১৬।