📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 হুযাই ইবনে আখতাবের হত্যা

📄 হুযাই ইবনে আখতাবের হত্যা


ইমাম আবদুর রায্যাক রহ. তার মুসান্নাফ গ্রন্থে সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব সূত্রে আহযাব ও বনু কুরায়যার কিছু ঘটনা বর্ণনা করার পর বলেন, যখন রসূলুল্লাহ সা. কাফেরদের সম্মিলিত বাহিনীকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাদের সাথে হুয়াই ইবনে আখতাবও পালিয়ে গিয়েছিল। রাওহা প্রান্তরে পৌঁছানোর পর বনু কুরায়যাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা মনে পড়ে তার। তাই সে সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে ফিরে এসে বনু কুরায়যার সাথে কেল্লাবন্দী হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ সা.-এর সামনে বনু কুরায়যার লোকদের বন্দী হিসেবে উপস্থিত করার সময় তাকেও কাঁধে হাত বাধা অবস্থায় উপস্থিত করা হয়। রসূলুল্লাহ সা.-কে লক্ষ্য করে সে বলেছিল, আল্লাহর শপথ! আমি কখনও তোমার বিরুদ্ধে শত্রুতার কারণে নিজেকে তিরস্কার করিনি। কিন্তু আল্লাহ তাআলা যাকে সাহায্য না করেন সে লাঞ্ছিত অবস্থায় পতিত হয়। রসূলুল্লাহ সা. তাকে হত্যার আদেশ দিলে তাকে হত্যা করা হয়।
তার হত্যার আদেশ কার্যকর করার পূর্বে গোত্রের লোকদের প্রতি লক্ষ্য করে সে বলেছিল, হে লোকসকল, আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে আমার কোনো দুর্বলবোধ নেই। নিঃসন্দেহে এটি এমন হত্যাকাণ্ডগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ তা'আলা বনী ইসরাইলের নিয়তিতে লিখে দিয়েছিলেন। এরপর সে বসে পড়ে এবং তার শিরচ্ছেদ করা হয়।
তার হত্যাকাণ্ড বেশ কয়েকটি শিক্ষণীয় উপাদান রয়েছে। যেমন :
মন্দই হয়ে থাকে মন্দ পরিকল্পনাকারীদের পরিণতি। আরব ও ইহুদীদের সম্মিলিত বাহিনী ইসলাম ও مسلمانوں বিরুদ্ধে আবাসী হয়ে আক্রমণ করলে বনু কুরায়যার লোকেরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ও পেছন দিক থেকে তাদের ওপর আক্রমণ করার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেন। এতে তারা লাঞ্ছিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত হুওয়াই ইবনে আখতাবের যাবতীয় পরিকল্পনা অকেজো হয়ে যায়।
আল্লাহ তা'আলা অত্যাচারীদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিলেও পুরোপুরি ছেড়ে দেন না। তাদের মন্দ পরিণতির দিকেই ধাবিত করেন শেষ পর্যন্ত। আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠিন হয়ে থাকে। রসূলুল্লাহ সা. বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা অত্যাচারীদের ঢিল দিয়ে থাকেন। কিন্তু যখন গ্রেফতার করতে চান, তখন কেউ তাঁর পাকড়াও থেকে বাঁচতে পারে না। এরপর রসূলুল্লাহ সা. কুরআনে কারীমের আয়াত পাঠ করেন:
وَكَذٰلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرٰى وَهِيَ ظٰلِمَةٌ اِنَّ أَخْذَهٗ اَلِيْمٌ شَدِيْدٌ
আর এরূপই হয় তোমার রবের পাকড়াও যখন তিনি পাকড়াও করেন অত্যাচারী জনপদসমূহকে। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও বড়ই যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর।
হুওয়াই ইবনে আখতাব শেষ দিকে বাহাদুরি দেখাতে চেয়েছিল। সে স্বেচ্ছায় সামনে এসে নিজের শিরচ্ছেদ বাস্তাবায়ন করাতে চেয়েছিল, যেন এতে কেউ অত্যধিক খুশি হতে না পারে। অথচ সে নিজে ভালোভাবে জানতো, তার লড়াই মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তবুও সে নিজের ওপর নিজে অন্যায় করেছে এবং মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অন্যায় অহংকার তাকে জাহান্নামে পৌঁছে দিয়েছে। কেননা, সে আল্লাহ তাআলার ইবাদতের পরিবর্তে নিজের ইচ্ছাকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ أَيْتُنَا بَيِّنَتٍ مَّا كَانَ حُجَّتُهُمْ إِلَّا أَنْ قَالُوا ائْتُوْا بِأَبَابِنَا إِنْ كُنْتُمْ صَدِقِينَ
আর তাদের কাছে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের এ কথা বলা ছাড়া আর কোনো যুক্তি থাকে না যে, তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদের পিতৃপুরুষদের জীবিত করে নিয়ে এসো। ৯৮০
যে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় খুঁজে পায় না, তার হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণকারী কেউ থাকে না। আল্লাহ তাআলা বলেন :
إِنْ يَنْصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَ إِنْ يَخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِي يَنْصُرُكُمْ مِّنْ بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُوْنَ
যদি আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করেন তবে তোমাদের উপর বিজয়ী কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমাদেরকে লাঞ্ছিত করেন তবে কে এমন আছে যে, তোমাদেরকে এর পরে সাহায্য করবে? আর আল্লাহর উপরই যেন মুমিনগণ তাওয়াক্কুল করে। ৯৮১
রসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে হুয়াই ইবনে আখতাবের শত্রুতা শুধুমাত্র হিংসা ও বিদ্বেষমূলক ছিল। সে স্পষ্ট তা স্বীকার করেছিল যে, আল্লাহ তাআলা কখনও তার সহযোগিতা করেননি। আর এভাবেই হুয়াই ইবনে আখতাব আল্লাহর বন্ধুর বিরোধিতা করে নিজেকে শয়তানের কাতারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছিল। ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে মিত্রবিহীন বিপজ্জনক অবস্থায় নিপতিত করেছিলেন। আল্লাহ তাআলার সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত। যার পরিবর্তন ঊর্ধ্বজগৎ বা নিম্নজগতের কেউ করতে পারে না। ৯৮২
এ ব্যাপারে কুরআনে কারীমে এসেছে :
وَ إِنْ يَمْسَسْكَ اللهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يَمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোন দুর্দশা দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী কেউ নেই। আর যদি কোন কল্যাণ দ্বারা স্পর্শ করেন তবে তিনিই তো সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। ৯৮৩

টিকাঃ
মুসনাদে আবদুর রাজ্জাক : ৫/৩৭১।
সীরাতে ইবনে হিশাম : ৩/২৬১।
আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাজাল ইয়াহুদ: ২/১১২।
সূরা হুদ : ১০২।
৯৮০ সূরা জাসিয়া: ২৫।
৯৮১ সূরা আলে ইমরান: ১৬০।
৯৮২ আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ২/১১২-১১৪।
৯৮৩ সূরা আনআম: ১৭।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 কাআব ইবনে আসাদ কুরায়ীর হত্যা

📄 কাআব ইবনে আসাদ কুরায়ীর হত্যা


রসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে বনু কুরায়যার নেতা কাআব ইবনে আসাদকে উপস্থিত করা হয়। তার সাথে নবীজির যেসব কথোপকথন হয়, তা নিম্নরূপ :
রসূলুল্লাহ সা. : তুমি কাআব ইবনে আসাদ?
কাব ইবনে আসাদ: হ্যাঁ, আবুল কাসেম।
রসূলুল্লাহ সা.: তুমি কি ইবনে খিরাশের কাছ থেকে উপদেশ পাওনি? সে তো আমার সত্যায়ন করতো। সে কি তোমাকে আমার আনুগত্য করার কথা বলেনি এবং তোমাকে এ কথা বলেনি, যদি তুমি আমার দেখা পাও তাহলে যেন তার পক্ষ থেকে আমাকে সালাম প্রদান করো?
কাব ইবনে আসাদ: আবুল কাসেম! তাওরাতের শপথ, নিঃসন্দেহে এমনটি হয়েছিল। ইহুদিরা আমাকে তরবারির ভয়ে ভীত বলে লজ্জা দেওয়ার আশঙ্কা না-থাকলে নিঃসন্দেহে আমি আপনার আনুগত্য করতাম। কিন্তু এখন আমি ইহুদিধর্মের ওপরই অটল আছি।
অতঃপর রসূলুল্লাহ সা.-এর নির্দেশে তার শিরচ্ছেদ করা হয়। ৯৮৪
সীরাতগ্রন্থসমূহে বনু কুরায়যার ইহুদিদের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, যখন তাদের একের পর এক শিরচ্ছেদের জন্য নেওয়া হচ্ছিলো, তারা কাআব ইবনে আসাদকে জিজ্ঞেস করছিল, এখন আমাদের কী পরিণতি হবে বলে আপনি মনে করেন? উত্তরে সে বলেছিল, প্রতিটি ক্ষেত্রে কি তোমরা তোমাদের বিবেক কাজে লাগাতে পারো না? তোমরা কি দেখছো না, যাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তারা আর ফিরে আসছে না? নিঃসন্দেহে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। ৯৮৫
কাব ইবনে আসাদের হত্যাকাণ্ড থেকে এ কথা স্পষ্ট হয়, সে মৃত্যু পর্যন্ত নিজেকে ইহুদিধর্মের ওপর অটল ও অবিচল রেখেছিল। অথচ সে ভালোভাবেই ধর্মের ভ্রান্তি সম্পর্কে অবগত ছিল। সে ভালোভাবেই রসূলুল্লাহ সা.-এর নবুওয়াতের সত্যতার ব্যাপারে ওয়াকিবহাল ছিল। কিন্তু ইহুদিরা তাকে তরবারির ভয়ে ভীত হয়ে ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছে বলে অপবাদ দেবে বিধায় সে ইসলামগ্রহণ করতে ইচ্ছুক ছিল না। ইহকালীন প্রশংসা, ভালোবাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার লোভ-লালসাই তাকে ঈমান গ্রহণ না করে কুফুরির ওপর অটল থাকতে বাধ্য করেছিল। ৯৮৬

টিকাঃ
৯৮৪ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারহ: ১/৩৬৮।
৯৮৫ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারহ: ১/৩৬৮।
১৮৬ আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ২/১১৫।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 কতিপয় ইহুদির ব্যাপারে নবীজির কাছে সুপারিশ

📄 কতিপয় ইহুদির ব্যাপারে নবীজির কাছে সুপারিশ


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 যুবায়ের ইবনে বাতার ব্যাপারে সাবিত ইবনে কায়সের সুপারিশ

📄 যুবায়ের ইবনে বাতার ব্যাপারে সাবিত ইবনে কায়সের সুপারিশ


সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে বলেন, আল্লাহর রসূল! আমাকে যুবায়ের ইবনে বাতা ইহুদিকে দান করুন। বুআস যুদ্ধে তার একটি অনুগ্রহের দায় এখনো রয়েছে আমার ওপর। রসূলুল্লাহ সা. তার প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। পরে জাবের ইবনে কায়েস যুবায়ের ইবনে বাতা-এর নিকট গেলেন এবং তাকে বললেন, হে আবু আবদুর রহমান, তুমি কি আমাকে চেনো? উত্তরে সে বলে, হ্যাঁ, কেউ কি তার ভাইকে ভুলে যেতে পারে? অতঃপর সাবিত বলেন, আমি বুআস যুদ্ধের দিন তোমার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অনুগ্রহের প্রতিদান আদায় করতে চাচ্ছি। উত্তরে যুবায়ের বলে, এটাই স্বাভাবিক। একজন উত্তম ব্যক্তি নিঃসন্দেহে অনুগ্রহের প্রতিদান আদায় করে থাকে। অতঃপর সাবিত বলেন, আমি এমনটিই করেছি। আমি রসূলুল্লাহ সা.-এর পক্ষ থেকে তোমার ব্যাপারে অনুমতি পেয়েছি। একথা বলে সাবিত তার বাঁধন খুলে দেন।
যুবায়ের তাকে বলেন, তোমরা আমার পরিবারের সবাইকে আটক করে রেখেছো। আমার তো সাথে নিয়ে যাওয়ার মতো কিছু নেই। এ কথা শুনে সাবিত পুনরায় রসূলুল্লাহ সা.-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং যুবায়েরের পরিবারের মুক্তির জন্য অনুমতি চাইলেন। রসূলুল্লাহ সা. তার অনুরোধ রক্ষা করেন। সাবিত যুবায়েরের কাছে এসে জানালেন, রসূলুল্লাহ সা. তোমার পরিবারকে মুক্ত করে দিয়েছেন। জবাবে যুবায়ের বলে, আমার বাগানে কয়েক ধরনের খেজুর রয়েছে। এসব ব্যতীত আমার জীবিকা নির্বাহের আর কোনো উপায় নেই। সাবিত রসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে পুনরায় উপস্থিত হয়ে এ মর্মে নিবেদন করলে রসূলুল্লাহ সা. তার সহায়-সম্পত্তি ফিরিয়ে দেন। সাবিত যুবায়েরকে লক্ষ্য করে বলেন, রসূলুল্লাহ সা. তোমার সহায়-সম্পত্তি ও পরিবার মুক্ত করে তোমার হাতে দিয়েছেন। এখন তুমি ইসলাম গ্রহণ করো ও চিরকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করো। যুবায়ের নিজের দুই সহচর তথা কাআব ইবনে আসাদ ও হুয়াই ইবনে আখতাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। ৯৮৭
সাবিত এদের দুজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, হয়তো আল্লাহ তাআলা তোমার সৎকর্মের কারণে তোমাকে জীবিত রেখেছেন। যুবায়ের সাবিতকে বলেন, হে সাবিত, আল্লাহর দোহাই দিয়ে তোমার কাছে আমি প্রার্থনা করছি এবং বুআস যুদ্ধের দিন আমি তোমার ওপর যে অনুগ্রহ করেছি তার দোহাই দিয়ে বলছি, আমাকেও মৃতদের অন্তর্ভুক্ত করে দাও। কারণ এ দুজনের মৃত্যুর পর আমার জীবনের প্রতি আর কোনো আগ্রহ নেই। সাবিত রসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে উক্ত কথোপকথন উপস্থাপন করলে রসূলুল্লাহ সা. যুবায়েরকে হত্যার আদেশ দেন। অতঃপর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ১৮৮

টিকাঃ
৯৮৭ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারহ: ১/৩৭২।
*৮৮ আল ইয়াহুদু ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারহ: ১/৩০২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00