📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 মুসলমান পাপ করলে দ্রুত তাওবার মাধ্যমে ফিরে আসে

📄 মুসলমান পাপ করলে দ্রুত তাওবার মাধ্যমে ফিরে আসে


বনু কুরায়যার লোকেরা আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনজিরকে দুর্গত্যাগের ব্যাপারে পরামর্শ করার জন্য ডেকে পাঠালো। তিনি ইসলামপূর্ব সময়ে তাদের মিত্র ছিলেন। তারা পরামর্শ চাইলে তিনি তাদের নিজের গলার দিকে ইঙ্গিত করে বোঝালেন, তোমাদের ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সা.-এর পক্ষ থেকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারপর তিনি অনুতপ্ত হলেন এবং রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে না গিয়ে মসজিদে নববীতে চলে গেলেন। মসজিদের একটি খুঁটির সাথে নিজেকে বেঁধে বললেন, আমি যে ভুল করেছি তা আল্লাহ মাফ না করা পর্যন্ত আমি এই স্থান থেকে নড়বো না, যে মাটিতে আমি আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, সেখানে আমি আর কখনো কাউকে মুখ দেখাবো না।
রসূলুল্লাহ সা. অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছিলেন আবু লুবাবার জন্য। পরে ঘটনা শুনে বললেন, সে যদি আমার কাছে আসতো তাহলে আমি তার জন্য ক্ষমা চাইতাম। কিন্তু সে যখন এরূপ প্রতিজ্ঞা করেই ফেলেছে তখন আল্লাহ ক্ষমা না করা পর্যন্ত তাকে আমি মুক্ত করতে পারি না।
উম্মে সালামা রা. বলেন, আবু লুবাবাকে ক্ষমা করা হলে আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, আমি কি তাকে এ সুসংবাদ জানাবো? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জানাতে পারো। অতঃপর উম্মে সালামা তাঁর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বললেন, হে লুবাবা, সুসংবাদ! তোমাকে ক্ষমা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, তখনো পর্দার আয়াত নাযিল হয়নি।
এরপর তাকে মুক্ত করার জন্য মুসলমানরা তার কাছে ছুটে গেলো। কিন্তু আবু লুবাবা বললেন, রসূলুল্লাহ সা. নিজ হাতে মুক্ত না করা পর্যন্ত আমি নিজেকে মুক্ত করবো না। একথা জানতে পেরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফযরের নামাযে যাওয়ার সময় তার বাঁধন খুলে দেন। ৯৫০
উপর্যুক্ত ঘটনা থেকে অনুধাবন করা যায়, আবু লুবাবা যখন অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার মতো অপরাধ করে ফেললেন, তখন তিনি নিজের অপরাধকে লুকানোর চেষ্টা করেননি। যেহেতু মানুষের সামনে তার অপরাধ প্রকাশিত হয়নি, তিনি ইচ্ছে করলে তা লুকিয়ে রাখতে পারতেন এবং ইহুদিদেরও এ সম্পর্কে মুখ না-খোলার পরামর্শ দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন, আল্লাহ তাআলা সবকিছু সম্পর্কে অবগত। এদিকে রসূলুল্লাহ সা.-এর পক্ষ থেকে সামরিক সিদ্ধান্ত গোপন রাখার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। আর তাই তিনি নিজের অপরাধের কারণে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। ৯৫১
তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষা না-করে নিজেই নিজেকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসেন। এটি যেন আল্লাহর প্রিয় বান্দা কর্তৃক গুনাহ সংঘটিত হয়ে যাওয়ার পর আল্লাহ তাআলার নির্দেশিত পন্থার বাস্তবায়ন ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُوْنَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوْبُوْنَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُولَيكَ يَتُوْبُ اللهُ عَلَيْهِمْ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
নিশ্চয় তাওবা কবুল করা আল্লাহর জিম্মায় তাদের জন্য, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে। তারপর শীঘ্রই তাওবা করে। অতঃপর আল্লাহ এদের তাওবা কবুল করবেন আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। ৯৫২
নিজেই নিজের অপরাধের শাস্তি নির্ধারিত করা এবং তা বাস্তবায়ন করার এটি একটি অসাধারণ ঘটনা। এটা একমাত্র সত্যিকার ঈমানদার ব্যক্তির মাধ্যমেই সম্ভব। এমন বিশুদ্ধ ঈমানের অধিকারী ব্যক্তি নিজের কোনো অপরাধের ওপর স্থির থাকতে পারে না। অনুতাপ তাকে তাড়া করবেই।
রসূলুল্লাহ সা. নিজে এবং সাহাবায়ে কেরামও আবু লুবাবার তাওবা কবুল হওয়ায় খুশি হয়েছিলেন। ৯৫৩
সাহাবায়ে কেরাম সবাই তার তাওবা কবুল হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন। উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. রসূলুল্লাহ সা.-এর অনুমতি নিয়ে তাকে তার তাওবা কবুল হওয়ার সুসংবাদ জানান। আবু লুবাবার এই ঘটনা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَخُونُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ وَتَخُونُوٓا۟ أَمَٰنَٰتِكُمْ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও রসূলের খেয়ানত করো না। আর খেয়ানত করো না নিজদের আমানতসমূহের, অথচ তোমরা জানো। ৯৫৪
তার তাওবা সংক্রান্ত বিবরণীতে কুরআনে এসেছে: ৯৫৫
وَءَاخَرُونَ ٱعْتَرَفُوا۟ بِذُنُوبِهِمْ خَلَطُوا۟ عَمَلًا صَٰلِحًا وَءَاخَرَ سَيِّئًا عَسَى ٱللَّهُ أَن يَتُوبَ عَلَيْهِمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর অন্য কিছু লোক তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে, সৎকর্মের সঙ্গে তারা অসৎকর্মের মিশ্রণ ঘটিয়েছে। আশা করা যায়, আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ৯৫৬

টিকাঃ
৯৫০ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৬২।
৯৫১ আত তারীখুল ইসলামী লিল হুমাইদী: ৬/১৬৫।
৯৫২ সূরা নিসা: ১৭।
১৫০ সুয়ার ওয়া ইবার মিনাল জিহাদিন নববী ফিল মাদিনাহ: ২৬১।
৯৫৪ সূরা আনফাল: ২৭।
১৫৫ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৬২।
৯৫৬ সূরা তাওবা: ১০২।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 সাআদ ইবনে মুআয রা.-এর মর্যাদা

📄 সাআদ ইবনে মুআয রা.-এর মর্যাদা


গাযওয়ায়ে আহযাবে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যার মাধ্যমে সা'দ ইবনে মুআয রা.- এর মর্যাদা প্রমাণিত হয়। যেমন:
সাআদ ইবনে মুআয রা. আল্লাহর কাছে দোআ করছিলেন, 'হে আল্লাহ, যদি কুরায়েশদের সাথে আমাদের আরও যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে আপনি আমাকে জীবিত রাখুন। কেননা, আপনি জানেন আমি এমন লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ভালোবাসি যারা আপনার নবীকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছিল, তাকে নিজের বাসস্থান থেকে বহিষ্কার করেছিল।' আল্লাহ তাআলা তার এই প্রার্থনা কবুল করেছিলেন। তার আহত হওয়া অঙ্গ পুরোপুরি শুকিয়ে যায় এবং তিনি সুস্থ হয়ে যাচ্ছিলেন। ৯৫৭
গাযওয়ায়ে বনু কুরায়যার ঘটনার সময় তিনি প্রায় সুস্থই হয়ে উঠেছিলেন। রসূলুল্লাহ সা. তাকে বনু কুরায়যার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেন। তিনি কারও মিত্রতা বা ভর্ৎসনার প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে আল্লাহ তাআলার বিধানমতে সঠিক সিদ্ধান্ত দেন। এর মাধ্যমে তার ইখলাসের প্রমাণ পাওয়া যায়। ৯৫৮
বনু কুরায়যার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত শোনানোর জন্য তিনি এলে রসূলুল্লাহ সা. আনসারদের বলেন, তোমরা তোমাদের নেতার দিকে এগিয়ে যাও। ৯৫৯
আর এটি শুধু সাআদ-এর মর্যাদার জন্য ছিল। এটি ছিল তার বীরত্বের স্বীকৃতি। রসূলুল্লাহ সা. তাকে নেতা উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন এবং তাকে স্বাগত জানাতে দাঁড়ানোর আদেশ দিয়েছিলেন। ৯৬০
সাআদ ইবনে মুআয রা. বনু কুরায়যার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর পুনরায় আল্লাহর দরবারে হাত তোলেন। তিনি দোআ করেন, হে আল্লাহ, আমার ধারণায় হয়তো আমাদের বিরুদ্ধে শত্রুদের যুদ্ধ সমাপ্ত হয়েছে। বাস্তবেই যদি আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যকার যুদ্ধ সমাপ্ত করে থাকেন তাহলে আমার আহত স্থান পুনরায় প্রবাহিত করুন এবং আমাকে শাহাদাতের মৃত্যু দান করুন। ১৬১
তার দোআ কবুল করা হয়েছিল। সে রাতেই তার আহত স্থান হতে রক্ত প্রবাহিত হয় এবং তিনি শহীদ হন। ৯৬২
সাআদ ইবনে মুআযের প্রথম ও দ্বিতীয় দোআয় আমরা একটি আশ্চর্যজনক বিষয় দেখতে পাই। তার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য শাহাদাত ছিল না; বরং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহর পথে জিহাদ চলমান রাখাই ছিল তাঁর একমাত্র কাম্য। ইসলামের শক্তিবৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষার তরে তিনি জীবন উৎসর্গ করে দেন। ৯৬৩
সাআদ ইবনে মুআয রা. আল্লাহর এমন একজন বান্দা ছিলেন যদি তিনি আল্লাহর ওপর কোনো কসম আরোপ করতেন, তাহলে আল্লাহ তাঁর কসম পূর্ণ করতেন। আকাশ ও জমিনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান। আল্লাহ তাআলার অমোঘ বিধান এটিই ছিল, তাঁর থেকেই বনু কুরায়যার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে এবং তিনি হবেন বিচারক।
যুদ্ধের সমাপ্তি ও নিজের প্রতি নিজের দায়িত্ব সুনিপুনভাবে আদায় করার পর তাঁর বেঁচে থাকার কোনো ইচ্ছা ছিল না। যুদ্ধ সমাপ্ত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। বনু কুরাইযার ব্যাপারে শরীয়তসম্মত সিদ্ধান্ত দিয়ে তাঁর আত্মা প্রশান্তি লাভ করে। ইসলাম শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছার পর শাহাদাত ব্যতীত অন্য কোনো কামনা আর তাঁর ছিল না। আর এ জন্যই তিনি আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ, আমার আহত স্থান থেকে আবার রক্ত প্রবাহিত করুন এবং আমাকে তার দ্বারা শাহাদাতের মৃত্যু দান করুন। '৯৬৪
তাঁর চাওয়া পূরণ হয়েছিল। গতকালের বন্ধু আজকে শত্রুতে পরিণত হওয়া বনু কুরায়যার শেষ পরিণতি তিনি দেখে যেতে পেরেছিলেন এবং তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পেরেছিলেন। এমন সময়ে তাঁর আহত স্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করে ১৬৫
এবং তাঁর গোত্রের লোকেরা তাঁকে বনু আশহালে তাদের বাসস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সাহাবীদের সঙ্গে রসূলুল্লাহ সা.ও বের হন। দ্রুত হাঁটতে গিয়ে তাঁদের জুতার ফিতা ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিলো এবং তাঁদের চাদরগুলো পড়ে যাচ্ছিলো। সাহাবীরা রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এ মর্মে অভিযোগ করলে উত্তরে রসূলুল্লাহ সা. বলেন, আমি আশঙ্কা করছি, তোমাদের পৌঁছার পূর্বেই যেন ফেরেশতারা তাঁকে গোসল করিয়ে না দেন। যেমনটি হানযালার গোসলের ক্ষেত্রে হয়েছিল। রসূলুল্লাহ সা. তাঁর বাসস্থানে যখন পৌঁছেন তখন তাঁকে গোসল দেওয়া হচ্ছিলো এবং তাঁর মা কান্নাকাটি করে বলছিলেন, ‘সাআদের মৃত্যুতে তাঁর মা শোকগ্রস্ত। যে ছিল বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও ধৈর্যের প্রতিমূর্তি।’ রসূলুল্লাহ সা. উত্তরে বলেন, সব বিলাপকারীই মিথ্যা বলে কিন্তু সাআদের মা সত্যই বলছেন।
এরপর সাআদ-এর মৃতদেহ বের করা হলো। মৃতদেহ বহনকারী কেউ কেউ বললেন, আল্লাহর রসূল! আমরা এর চাইতে হালকা মৃতদেহ কখনও বহন করিনি। উত্তরে রসূলুল্লাহ সা. বললেন, সাআদ-এর মৃতদেহ কেন হালকা হবে না? আজ আসমান থেকে এতো বেশি ফেরেশতা নেমে এসেছেন, ইতোপূর্বে এতো বেশি ফেরেশতা আর কখনো নামেননি। তারাও আজ লাশ বহন করছেন। ১৬৬
সুনানে নাসায়ী গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর হতে সাআদ ইবনে মুআযের জানাযায় অংশগ্রহণকারী ফেরেশতাদের সংখ্যার বর্ণনা পাওয়া যায়। রসূলুল্লাহ সা. হতে তিনি বর্ণনা করেন, 'এই নেক বান্দার মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ খুশিতে উদ্বেলিত হয়েছে। আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে এবং তার জানাযায় ৭০ হাজার ফেরেশতা অংশগ্রহণ করেছেন। এ সকল ফেরেশতা ইতোপূর্বে কখনও পৃথিবীতে অবতরণ করেননি। এতসত্ত্বেও তার কবর একবার সংকীর্ণ হয়েছিল অতঃপর তা প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। ১৯৬৭
রসূলুল্লাহ সা. কীভাবে সাআদ ইবনে মুআযকে শেষ বিদায় জানিয়েছিলেন, সেদিকে আমরা এবার তাকাতে পারি। আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ রা. হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. সাআদ ইবনে মুআযের মৃত্যুশয্যার কাছে যান এবং বলেন, হে গোত্রের সরদার, আল্লাহ তাআলা তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। তুমি তোমার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছো এবং নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন। ১৬৮
সাহাবায়ে কেরামের সামনে রসূলুল্লাহ সা. সাআد ইবনে মুআয রা.-এর উত্তম আমলসমূহের প্রশংসা করতেন, যেন মানুষেরা তার মতো আমল করতে উদ্বুদ্ধ হয়। তাকে যেন আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে। ১৬৯
রসূলুল্লাহ সা. সাআদ ইবনে মুআয-এর মর্যাদা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, সাআদ ইবনে মুআয-এর মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছে। ১৭০
বারা ইবনে আযেব রা.-এর সূত্রে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে একবার রেশমের পোশাক উপহার হিসেবে এলো। সাহাবায়ে কেরাম তা স্পর্শ করে এর কমনীয়তায় অবাক হন। তাদেরকে অবাক হতে দেখে রসূলুল্লাহ সা. বলেন, তোমরা এই পোশাকের কমনীয়তায় আশ্চর্যবোধ করছো? নিঃসন্দেহে জান্নাতে সাআদ ইবনে মুআয-এর ব্যবহৃত রুমাল এর চাইতেও অনেক বেশি কমনীয়। ৯৭১
এমন মর্যাদাবান সৎকর্মের অধিকারী এবং আল্লাহ তাআলার দীনের জন্য উৎসর্গিতপ্রাণ হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুর পরে তার কবর সংকীর্ণ হয়েছিল। তার কবরে চারজন ব্যক্তি নেমেছিলেন; যথাক্রমে হারেস ইবনে আউস, উসাইদ ইবনে হুযাইর, আবু নায়েলা সালকান ও সালামা ইবনে সাল্লামা ইবনে ওয়াকাশ। তার মৃতদেহ কবরে নামানোর সময় রসূলুল্লাহ সা. সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার দাফন সমাপ্ত হলে রসূলুল্লাহ সা.-এর পবিত্র চেহারা পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং তিনি তিনবার 'সুবহানাল্লাহ' পাঠ করেন। সাহাবীরা নবীজির সাথে 'সুবহানাল্লাহ' পাঠ করলে জান্নাতুল বাকী প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এরপর রসূলুল্লাহ সা. তিনবার 'আল্লাহু আকবার' পাঠ করলে তার সঙ্গে সাহাবীরাও তিনবার 'আল্লাহু আকবার' পাঠ করেন। রসূলুল্লাহ সা.-কে তাসবিহ ও তাকবির পাঠ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তরে বলেন, তোমাদের যে সঙ্গীকে কবরে দাফন করা হলো, কবর তার জন্য সংকীর্ণ করা হয়েছিল এবং তাকে চেপে ধরেছিল। কবরের চেপে ধরা থেকে যদি কোনো ব্যক্তি বাঁচতে পারতো, তাহলে সাআد ইবনে মুআয নিঃসন্দেহে তা থেকে বেঁচে যেতেন। পরবর্তী সময়ে তার জন্য কবরকে প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। ৯৭২
রসূলুল্লাহ সা.-এর অত্যন্ত মর্যাদাবান এই সাহাবী পূর্ণ যৌবনে শাহাদাতবরণ করেছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র সাঁইত্রিশ বছর। ত্রিশ বছর বয়সে তিনি গোত্রের নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও এর আগে থেকেই তার মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি দৃশ্যমান ছিল। সাধারণত মানুষদের মধ্যে নেতৃত্ব ও অন্যান্য যোগ্যতার গুণাবলি চল্লিশ বছর বয়সের পর পরিপূর্ণভাবে দেখা যায়। যা যৌবনের শেষ সময়সীমায় এসে মানুষ পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَنًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصْلُهُ ثَلْثُونَ شَهْرًا حَتَّى إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِيْنَ سَنَةٌ قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
আর আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছে। তার গর্ভধারণ ও দুধপান ছাড়ানোর সময় লাগে ত্রিশ মাস। অবশেষে যখন সে তার শক্তির পূর্ণতায় পৌঁছে এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে, 'হে আমার রব, আমাকে সামর্থ্য দাও, তুমি আমার উপর ও আমার মাতা-পিতার উপর যে নিআমত দান করেছো, তোমার সে নিআমতের যেন আমি শোকর আদায় করতে পারি এবং আমি যেন সৎকর্ম করতে পারি, যা তুমি পছন্দ কর। আর আমার জন্য তুমি আমার বংশধরদের মধ্যে সংশোধন করে দাও। নিশ্চয় আমি তোমার কাছে তাওবা করলাম এবং নিশ্চয় আমি مسلمদের অন্তর্ভুক্ত'। ১৭৩
বড়ই ভাগ্যবান সাআদ। তার আগমনে আকাশবাসী আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছিল, দয়াময়ের আরশ তার ইন্তেকালে কেঁপে উঠছিল। ১৭৪
অত্যন্ত মর্যাদাবান এ সাহাবী সাআد ইবনে মুআয ছিলেন গৌরবর্ণের সুঢৌল স্বাস্থ্যের অধিকারী, সুন্দর শশ্রুমণ্ডিত। ১৭৫
তার চোখ ছিল বড় বড়। আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং রহমতের চাদরে ঢেকে নিন।

টিকাঃ
**৭ ফিকহুস সীরাহ লিলবুতী: ২২৮।
৯৫৮ আত তারীখুল ইসলামী: ৬/১৭০।
১৯২৯ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৬৩।
১৯৬০ সুয়ার ওয়া ইবার মিনাল জিহাদিন নববী ফিল মাদিনাহ: ২৬৫।
৯৬১ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৬৩।
৯৬২ ফিকহুস সীরাহ লিলবতী: ১১৮।
৯৬৩ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়‍্যাহ : ৩/৭০।
৯৬৪ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়‍্যাহ : ৩/৭১।
৯৬৫ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়্যাহ : ৩/৭৪।
১৬৬ সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১/২৮৭।
১৬৭ সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১/২৯৫।
১৬৮ সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১/২৮৮।
১৬৯ আত তারীখুল ইসলামী: ৬/১৭১।
১৭০ সহীহ মুসলিম: ২৪৬৬।
৯৭১ সহীহ মুসলিম: ২৪৬৮।
১৭২ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়‍্যাহ: ৪/৭৭।
১৭৩ সূরা আহকাফ: ১৫।
১৭৪ আল কিয়াদাতুর রাব্বানিয়াহ: ৪/৭৮।
১৭৫ সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১/২৯০।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 হুযাই ইবনে আখতাব ও কাআব ইবনে আসাদের হত্যা

📄 হুযাই ইবনে আখতাব ও কাআব ইবনে আসাদের হত্যা


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 হুযাই ইবনে আখতাবের হত্যা

📄 হুযাই ইবনে আখতাবের হত্যা


ইমাম আবদুর রায্যাক রহ. তার মুসান্নাফ গ্রন্থে সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব সূত্রে আহযাব ও বনু কুরায়যার কিছু ঘটনা বর্ণনা করার পর বলেন, যখন রসূলুল্লাহ সা. কাফেরদের সম্মিলিত বাহিনীকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাদের সাথে হুয়াই ইবনে আখতাবও পালিয়ে গিয়েছিল। রাওহা প্রান্তরে পৌঁছানোর পর বনু কুরায়যাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা মনে পড়ে তার। তাই সে সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে ফিরে এসে বনু কুরায়যার সাথে কেল্লাবন্দী হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ সা.-এর সামনে বনু কুরায়যার লোকদের বন্দী হিসেবে উপস্থিত করার সময় তাকেও কাঁধে হাত বাধা অবস্থায় উপস্থিত করা হয়। রসূলুল্লাহ সা.-কে লক্ষ্য করে সে বলেছিল, আল্লাহর শপথ! আমি কখনও তোমার বিরুদ্ধে শত্রুতার কারণে নিজেকে তিরস্কার করিনি। কিন্তু আল্লাহ তাআলা যাকে সাহায্য না করেন সে লাঞ্ছিত অবস্থায় পতিত হয়। রসূলুল্লাহ সা. তাকে হত্যার আদেশ দিলে তাকে হত্যা করা হয়।
তার হত্যার আদেশ কার্যকর করার পূর্বে গোত্রের লোকদের প্রতি লক্ষ্য করে সে বলেছিল, হে লোকসকল, আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে আমার কোনো দুর্বলবোধ নেই। নিঃসন্দেহে এটি এমন হত্যাকাণ্ডগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ তা'আলা বনী ইসরাইলের নিয়তিতে লিখে দিয়েছিলেন। এরপর সে বসে পড়ে এবং তার শিরচ্ছেদ করা হয়।
তার হত্যাকাণ্ড বেশ কয়েকটি শিক্ষণীয় উপাদান রয়েছে। যেমন :
মন্দই হয়ে থাকে মন্দ পরিকল্পনাকারীদের পরিণতি। আরব ও ইহুদীদের সম্মিলিত বাহিনী ইসলাম ও مسلمانوں বিরুদ্ধে আবাসী হয়ে আক্রমণ করলে বনু কুরায়যার লোকেরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ও পেছন দিক থেকে তাদের ওপর আক্রমণ করার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেন। এতে তারা লাঞ্ছিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত হুওয়াই ইবনে আখতাবের যাবতীয় পরিকল্পনা অকেজো হয়ে যায়।
আল্লাহ তা'আলা অত্যাচারীদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিলেও পুরোপুরি ছেড়ে দেন না। তাদের মন্দ পরিণতির দিকেই ধাবিত করেন শেষ পর্যন্ত। আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠিন হয়ে থাকে। রসূলুল্লাহ সা. বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা অত্যাচারীদের ঢিল দিয়ে থাকেন। কিন্তু যখন গ্রেফতার করতে চান, তখন কেউ তাঁর পাকড়াও থেকে বাঁচতে পারে না। এরপর রসূলুল্লাহ সা. কুরআনে কারীমের আয়াত পাঠ করেন:
وَكَذٰلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرٰى وَهِيَ ظٰلِمَةٌ اِنَّ أَخْذَهٗ اَلِيْمٌ شَدِيْدٌ
আর এরূপই হয় তোমার রবের পাকড়াও যখন তিনি পাকড়াও করেন অত্যাচারী জনপদসমূহকে। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও বড়ই যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর।
হুওয়াই ইবনে আখতাব শেষ দিকে বাহাদুরি দেখাতে চেয়েছিল। সে স্বেচ্ছায় সামনে এসে নিজের শিরচ্ছেদ বাস্তাবায়ন করাতে চেয়েছিল, যেন এতে কেউ অত্যধিক খুশি হতে না পারে। অথচ সে নিজে ভালোভাবে জানতো, তার লড়াই মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তবুও সে নিজের ওপর নিজে অন্যায় করেছে এবং মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অন্যায় অহংকার তাকে জাহান্নামে পৌঁছে দিয়েছে। কেননা, সে আল্লাহ তাআলার ইবাদতের পরিবর্তে নিজের ইচ্ছাকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ أَيْتُنَا بَيِّنَتٍ مَّا كَانَ حُجَّتُهُمْ إِلَّا أَنْ قَالُوا ائْتُوْا بِأَبَابِنَا إِنْ كُنْتُمْ صَدِقِينَ
আর তাদের কাছে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের এ কথা বলা ছাড়া আর কোনো যুক্তি থাকে না যে, তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদের পিতৃপুরুষদের জীবিত করে নিয়ে এসো। ৯৮০
যে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় খুঁজে পায় না, তার হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণকারী কেউ থাকে না। আল্লাহ তাআলা বলেন :
إِنْ يَنْصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَ إِنْ يَخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِي يَنْصُرُكُمْ مِّنْ بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُوْنَ
যদি আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করেন তবে তোমাদের উপর বিজয়ী কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমাদেরকে লাঞ্ছিত করেন তবে কে এমন আছে যে, তোমাদেরকে এর পরে সাহায্য করবে? আর আল্লাহর উপরই যেন মুমিনগণ তাওয়াক্কুল করে। ৯৮১
রসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে হুয়াই ইবনে আখতাবের শত্রুতা শুধুমাত্র হিংসা ও বিদ্বেষমূলক ছিল। সে স্পষ্ট তা স্বীকার করেছিল যে, আল্লাহ তাআলা কখনও তার সহযোগিতা করেননি। আর এভাবেই হুয়াই ইবনে আখতাব আল্লাহর বন্ধুর বিরোধিতা করে নিজেকে শয়তানের কাতারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছিল। ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে মিত্রবিহীন বিপজ্জনক অবস্থায় নিপতিত করেছিলেন। আল্লাহ তাআলার সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত। যার পরিবর্তন ঊর্ধ্বজগৎ বা নিম্নজগতের কেউ করতে পারে না। ৯৮২
এ ব্যাপারে কুরআনে কারীমে এসেছে :
وَ إِنْ يَمْسَسْكَ اللهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يَمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোন দুর্দশা দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী কেউ নেই। আর যদি কোন কল্যাণ দ্বারা স্পর্শ করেন তবে তিনিই তো সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। ৯৮৩

টিকাঃ
মুসনাদে আবদুর রাজ্জাক : ৫/৩৭১।
সীরাতে ইবনে হিশাম : ৩/২৬১।
আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাজাল ইয়াহুদ: ২/১১২।
সূরা হুদ : ১০২।
৯৮০ সূরা জাসিয়া: ২৫।
৯৮১ সূরা আলে ইমরান: ১৬০।
৯৮২ আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ২/১১২-১১৪।
৯৮৩ সূরা আনআম: ১৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00