📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 হালাল ও হারাম

📄 হালাল ও হারাম


কুরায়েש বংশের লোকেরা তাদের নিহত নেতা আমর ইবনে আবদুদের মৃতদেহ ফেরত নেওয়ার জন্য বিনিময় দেওয়ার প্রস্তাব দিলে রসূলুল্লাহ সা. বলেন, তাদের মৃতদেহ তাদের দিয়ে দাও। এটি একটি নিকৃষ্ট মৃতদেহ এবং তার বিনিময়ও নিকৃষ্ট। রসূলুল্লাহ সা. তার বিনিময়ে কোনো কিছু গ্রহণ করেননি।
এই ঘটনা এমন সময় সংঘটিত হয়েছিল যখন মুসলমানরা ভীষণ আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। কিন্তু ইসলামী বিধানমতে হালাল ও হারামের ব্যাপারে কোনো কিছুর সাথে আপোষ করা যায় না। চিন্তা করে দেখুন! নবীজির আদর্শ কেমন ছিল আর আমরা কোন পথে হাঁটছি! আমরা আজ যে কোনো অজুহাত দেখিয়ে সুদসহ যাবতীয় অবৈধ বিষয়কে বৈধ করার ফন্দি আঁটছি!৯৪২

টিকাঃ
১৪২ সহীহ আসসীরাতুন নাববিয়্যাহ: ৩৬১।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 রসূলুল্লাহ সা.-এর ফুফু সাফিয়্যার বীরত্ব

📄 রসূলুল্লাহ সা.-এর ফুফু সাফিয়্যার বীরত্ব


নারী ও শিশুদের যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রসূলুল্লাহ সা. তাদের একটি শক্তিশালী দুর্গে পৃথকভাবে রেখেছিলেন। কেননা, যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তাদের প্রতি লক্ষ রাখা मुसलमानों জন্য ছিল কষ্টসাধ্য। বনু কুরায়যার ইহুদিরা মুসলমান নারী ও শিশুদের দুর্গ পর্যবেক্ষণে একজন ইহুদিকে পাঠায়। রসূলুল্লাহ সা.-এর ফুফু সাফিয়া রা. তাকে দেখে ফেলেন। তিনি তাঁবুর একটি খুঁটি খুলে দুর্গ থেকে নিচে নেমে আসেন এবং তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। সাফিয়ার বীরত্বপূর্ণ এ কাজ মুসলমান নারী ও শিশুদের দুর্গে আক্রমণের পরিকল্পনা করা ইহুদিদের ভয় পাইয়ে দেয়। বনু কুরায়যা ধারণা করে, মুসলমান নারী ও শিশুদের দুর্গ مسلمانوں পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৪৩
সাফিয়া রা.-এর বীরত্বপূর্ণ এ ঘটনার মাধ্যমে একটি মাসআলা স্পষ্ট হয়ে যায়, পুরুষের অনুপস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলিম নারীরাও আত্মরক্ষায় প্রতিরক্ষা যুদ্ধ করতে পারবে। ৯৪৪

টিকাঃ
১৪৩ আবু ফারিস প্রণীত গাযওয়ায়ে আহ্যাব: [পৃষ্ঠা? দেয়া নেই]।
১৪৪ ড. আবদুল্লাহ সাঈদ প্রণীত আল মুস্তাফাদ মিনাল ইসলামিয়্যাতি: ৪০১।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 হাসান ইবনে সাবিত রা. সম্পর্কে অসত্য বর্ণনা

📄 হাসান ইবনে সাবিত রা. সম্পর্কে অসত্য বর্ণনা


হযরত সাফিয়া রা. এক ইহুদিকে ঘুরতে দেখে হযরত হাসসান ইবনে সাবিত রা.-কে বলেছিলেন, এক ইহুদি চারদিকে ঘোরাঘুরি করছে। সে আমাদের দুর্বলতাগুলো জানতে দিতে পারে। তাকে হত্যা করুন। তখন হযরত হাসসান ইবনে সাবিত রা. বলেছিলেন, তা করতে আমি সক্ষম নই। সাফিয়া রা. বলেন, এরপর একটি কাঠের টুকরো নিয়ে কোমরে কাপড় বেঁধে নেমে যাই। ওই ইহুদিকে আমি পিটিয়ে হত্যা করি। দুর্গে ফিরে হাসসানকে বললাম, হাসসান! তুমি তার অস্ত্র ও সামগ্রীগুলো নিয়ে নাও। তিনি বলেন, আবদুল মুত্তালিবের বেটি! আমার এ সবের দরকার নেই।’ লোকমুখে প্রচলিত এ বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়। এর কয়েকটি কারণ হচ্ছে:
সূত্রগত দিক থেকে এই বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়; বরং ত্রুটিপূর্ণ। এটা বর্ণনা করা বৈধ নয়। আজীবন ইসলামের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত একজন সাহাবীর ব্যাপারে এমন উক্তি মিথ্যা অপবাদ হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়াও বর্ণনা অনুযায়ী যেভাবে হাসসান ইবনে সাবিতকে কাপুরুষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদি বাস্তবে তাই হতো তাহলে তার শত্রুরা অবশ্যই তার এ দুর্বল দিক আলোচনা করে তার নিন্দা করত। বিশেষত সারাজীবন তিনি কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তার বিপরীত পক্ষের যেসব কবিদের নিন্দাবাদ করেছিলেন তারা অবশ্যই তার এই ত্রুটিটি তুলে ধরতে কার্পণ্য করত না। তিনি জাহেলি নেতাদের প্রত্যেকেরই নিন্দাবাদ করতেন। রসূলুল্লাহ সা. হাসসান ইবনে সাবিত রা.-এর জন্য দোয়া করতেন এবং তাকে সমর্থন করতেন। কাফেরদের বিরুদ্ধে তার নিন্দাসূচক কাব্যকে সাধুবাদ জানাতেন।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 প্রথম ইসলামী সামরিক চিকিৎসাকেন্দ্র

📄 প্রথম ইসলামী সামরিক চিকিৎসাকেন্দ্র


মুসলমানরা প্রথম সামরিক চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন গাযওয়ায়ে আহ্যাব চলাকালে। রসূলুল্লাহ সা. যুদ্ধ চলাকালে মসজিদে নববীতে আহতদের জন্য আলাদা একটি তাঁবু নির্মাণ করিয়েছিলেন। রুফাইদা আসলামীকে সে চিকিৎসাকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। এভাবেই মুসলিম নারীদের মধ্যে রুফাইদা রোগীদের নার্স হওয়ার সম্মানে ভূষিত হন।
সীরাতে ইবনে হিশাম-এ বলা হয়েছে, রসূলুল্লাহ সা. সা’আদ ইবনে মুআজকে মসজিদে নববীতে আসলাম গোত্রের একজন নারীর তাঁবুতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন; যাকে রুফাইদা নামে অভিহিত করা হতো। যিনি আহত অসহায় অসুস্থ ব্যক্তিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করতেন। খন্দকযুদ্ধ চলাকালীন সাআد ইবনে মুআয আঘাতপ্রাপ্ত হলে রসূলুল্লাহ সা. তার গোত্রের লোকদের বলেছিলেন, তাকে রুফাইদা'র তাঁবুতে রেখে আসো। যেন আমি সহজেই তার দেখাশোনা করতে পারি। ১৪৮
এ আলোচনা দ্বারা বোঝা যায়, مسلمانوں কেউ আহত হলে যদি তার বাসস্থান আশেপাশে থাকতো, তাহলে পরিবারের লোকেরা তার দেখাশোনা করতেন। কিন্তু যাদের বাসস্থান দূরে ছিল তাদের মসজিদে নববীতে সেবাদানের তাঁবুতে রাখা হতো। সাআد ইবনে মুআযের নিজস্ব বাসস্থান ছিল। কিন্তু রসূলুল্লাহ সা. তার শারীরিক অবস্থা দেখাশোনার জন্য তাকে মসজিদে নববীর তাঁবুতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই তাকে সেবাদানের তাঁবুতে রাখা হয়েছিল। কেননা, সে তাঁবুতে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিগণ রসূলুল্লাহ সা.-এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
সাআد ইবনে মুআযের আভিজাত্য, আল্লাহভীরুতা ও আল্লাহর পথে তার আত্মোৎসর্গের বিবেচনায় তাকে অত্যন্ত মর্যাদার চোখে দেখা হতো। নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যখন শুধু আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য আমল করেন এবং নিজেকে সাধারণ মানুষের কাতারে নামিয়ে আনেন তখন তাদের মর্যাদা আরও বেড়ে যায়। তাই তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা পাওয়ার উপযুক্ত হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন। ১৪৯
রসূলুল্লাহ সা. মর্যাদাবান ব্যক্তিদের এভাবে গুরুত্ব দিতেন।

টিকাঃ
১৪৮ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৬৩।
১৪৯ মুঈনুস সীরাহ: ২৯৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00