📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 আসসালাতুল উসতা

📄 আসসালাতুল উসতা


রসূলুল্লাহ সা. বলেন,
مَلَا اللهُ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا كَمَا شَغَلُوْنَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتْ الشَّمْسُ
আল্লাহ তাদের ঘরবাড়ি ও কবর আগুন দ্বারা ভরে দিন। কারণ তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী নামাযের সময় ব্যস্ত করে রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে। ৯০৯
উলামায়ে কেরামের একটি বৃহৎ অংশ এই হাদীসের আলোকে আসরের নামাযকে সালাতুল উসতা তথা উত্তম নামায বলেন। উক্ত হাদীসের বিশুদ্ধতার কারণে ইমাম মাওয়ারদী ইমাম শাফিয়ী-এর ‘সালাতুল উসতা দ্বারা আসরের নামায উদ্দেশ্য নয়’ এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেন। উলামায়ে কেরামের একটি দল উক্ত ঘটনাকে দলিল হিসেবে পেশ করে বলেন, যুদ্ধ ইত্যাদি ওজরের কারণে আসরের নামায দেরি করে পড়া বৈধ। ইমাম মাকহুল ও আওযায়ী রহ.ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ৯১০
ড. বুতী বলেন, অতি ব্যস্ততার দরুন সেদিনের আসরের নামায কাযা হয়ে গিয়েছিল। যা রসূলুল্লাহ সা. সূর্যাস্তের পর কাযা করেছিলেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য বর্ণনাসমূহ দ্বারা প্রতীয়মান হয়, একাধিক নামায কাজা হয়ে গিয়েছিল, যা সময়ের পর রসূলুল্লাহ সা. ধারাবাহিকভাবে আদায় করেছিলেন। এসব বর্ণনার প্রেক্ষিতে ছুটে যাওয়া নামায কাজা করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ৯১১

টিকাঃ
৯০৯ সহীহ বুখারী: ৪১১১।
৯১০ আল আসাসু ফিস সুন্নাহ: ৬৮২।
৯১১ ফিকহুস সীরাতিন নববিয়‍্যাহ: ২২৩।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 হালাল ও হারাম

📄 হালাল ও হারাম


কুরায়েש বংশের লোকেরা তাদের নিহত নেতা আমর ইবনে আবদুদের মৃতদেহ ফেরত নেওয়ার জন্য বিনিময় দেওয়ার প্রস্তাব দিলে রসূলুল্লাহ সা. বলেন, তাদের মৃতদেহ তাদের দিয়ে দাও। এটি একটি নিকৃষ্ট মৃতদেহ এবং তার বিনিময়ও নিকৃষ্ট। রসূলুল্লাহ সা. তার বিনিময়ে কোনো কিছু গ্রহণ করেননি।
এই ঘটনা এমন সময় সংঘটিত হয়েছিল যখন মুসলমানরা ভীষণ আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। কিন্তু ইসলামী বিধানমতে হালাল ও হারামের ব্যাপারে কোনো কিছুর সাথে আপোষ করা যায় না। চিন্তা করে দেখুন! নবীজির আদর্শ কেমন ছিল আর আমরা কোন পথে হাঁটছি! আমরা আজ যে কোনো অজুহাত দেখিয়ে সুদসহ যাবতীয় অবৈধ বিষয়কে বৈধ করার ফন্দি আঁটছি!৯৪২

টিকাঃ
১৪২ সহীহ আসসীরাতুন নাববিয়্যাহ: ৩৬১।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 রসূলুল্লাহ সা.-এর ফুফু সাফিয়্যার বীরত্ব

📄 রসূলুল্লাহ সা.-এর ফুফু সাফিয়্যার বীরত্ব


নারী ও শিশুদের যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রসূলুল্লাহ সা. তাদের একটি শক্তিশালী দুর্গে পৃথকভাবে রেখেছিলেন। কেননা, যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তাদের প্রতি লক্ষ রাখা मुसलमानों জন্য ছিল কষ্টসাধ্য। বনু কুরায়যার ইহুদিরা মুসলমান নারী ও শিশুদের দুর্গ পর্যবেক্ষণে একজন ইহুদিকে পাঠায়। রসূলুল্লাহ সা.-এর ফুফু সাফিয়া রা. তাকে দেখে ফেলেন। তিনি তাঁবুর একটি খুঁটি খুলে দুর্গ থেকে নিচে নেমে আসেন এবং তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। সাফিয়ার বীরত্বপূর্ণ এ কাজ মুসলমান নারী ও শিশুদের দুর্গে আক্রমণের পরিকল্পনা করা ইহুদিদের ভয় পাইয়ে দেয়। বনু কুরায়যা ধারণা করে, মুসলমান নারী ও শিশুদের দুর্গ مسلمانوں পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৪৩
সাফিয়া রা.-এর বীরত্বপূর্ণ এ ঘটনার মাধ্যমে একটি মাসআলা স্পষ্ট হয়ে যায়, পুরুষের অনুপস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলিম নারীরাও আত্মরক্ষায় প্রতিরক্ষা যুদ্ধ করতে পারবে। ৯৪৪

টিকাঃ
১৪৩ আবু ফারিস প্রণীত গাযওয়ায়ে আহ্যাব: [পৃষ্ঠা? দেয়া নেই]।
১৪৪ ড. আবদুল্লাহ সাঈদ প্রণীত আল মুস্তাফাদ মিনাল ইসলামিয়্যাতি: ৪০১।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 হাসান ইবনে সাবিত রা. সম্পর্কে অসত্য বর্ণনা

📄 হাসান ইবনে সাবিত রা. সম্পর্কে অসত্য বর্ণনা


হযরত সাফিয়া রা. এক ইহুদিকে ঘুরতে দেখে হযরত হাসসান ইবনে সাবিত রা.-কে বলেছিলেন, এক ইহুদি চারদিকে ঘোরাঘুরি করছে। সে আমাদের দুর্বলতাগুলো জানতে দিতে পারে। তাকে হত্যা করুন। তখন হযরত হাসসান ইবনে সাবিত রা. বলেছিলেন, তা করতে আমি সক্ষম নই। সাফিয়া রা. বলেন, এরপর একটি কাঠের টুকরো নিয়ে কোমরে কাপড় বেঁধে নেমে যাই। ওই ইহুদিকে আমি পিটিয়ে হত্যা করি। দুর্গে ফিরে হাসসানকে বললাম, হাসসান! তুমি তার অস্ত্র ও সামগ্রীগুলো নিয়ে নাও। তিনি বলেন, আবদুল মুত্তালিবের বেটি! আমার এ সবের দরকার নেই।’ লোকমুখে প্রচলিত এ বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়। এর কয়েকটি কারণ হচ্ছে:
সূত্রগত দিক থেকে এই বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়; বরং ত্রুটিপূর্ণ। এটা বর্ণনা করা বৈধ নয়। আজীবন ইসলামের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত একজন সাহাবীর ব্যাপারে এমন উক্তি মিথ্যা অপবাদ হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়াও বর্ণনা অনুযায়ী যেভাবে হাসসান ইবনে সাবিতকে কাপুরুষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদি বাস্তবে তাই হতো তাহলে তার শত্রুরা অবশ্যই তার এ দুর্বল দিক আলোচনা করে তার নিন্দা করত। বিশেষত সারাজীবন তিনি কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তার বিপরীত পক্ষের যেসব কবিদের নিন্দাবাদ করেছিলেন তারা অবশ্যই তার এই ত্রুটিটি তুলে ধরতে কার্পণ্য করত না। তিনি জাহেলি নেতাদের প্রত্যেকেরই নিন্দাবাদ করতেন। রসূলুল্লাহ সা. হাসসান ইবনে সাবিত রা.-এর জন্য দোয়া করতেন এবং তাকে সমর্থন করতেন। কাফেরদের বিরুদ্ধে তার নিন্দাসূচক কাব্যকে সাধুবাদ জানাতেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00