📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 কল্পনা ও বাস্তবতা

📄 কল্পনা ও বাস্তবতা


জনৈক কুফাবাসী হুযাইফা ইবনে ইয়ামানকে জিজ্ঞেস করলো, 'আপনি কি রসূলুল্লাহ সা.-কে দেখেছেন ও তার সাহচর্যে থেকেছেন?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' সে বললো, 'আপনারা তার সাথে কী রকম ব্যবহার করতেন।' হুযাইফা বললেন, 'আমরা তার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করার জন্য প্রস্তুত থাকতাম।' কুফাবাসী লোকটি বললো, 'খোদার কসম, যদি তাকে জীবিত পেতাম তাহলে তাকে মাটিতে হেঁটে চলতে দিতাম না, বরং ঘাড়ে চড়িয়ে রাখতাম।' হুযাইফা রা. বললেন, ভাতিজা, শোনো। রসূলুল্লাহ সা.-এর সঙ্গে আমরা পরিখায় ছিলাম। ৯৩৪
এরপর তিনি তাকে খন্দকযুদ্ধের পুরো ঘটনা শোনালেন।
এই তাবেয়ী রসূলুল্লাহ সা.-এর সাহাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করছিলেন যে, যদি তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর সাহচর্য পেতেন, তাহলে তার জন্য এত কিছু করতেন; যা সাহাবীরা করতে পারেননি। অথচ বাস্তবতা ও কল্পনার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। সাহাবীগণ সাধারণ মানুষ। তাদের মধ্যে মানবিক শক্তি-সামর্থ্য বিদ্যমান ছিল। তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর জন্য নিজেদের ধনসম্পদ বিসর্জন দিয়েছিলেন। নিজেদের সর্বস্ব বিলীন করে দিয়ে রসূলুল্লাহ সা.-এর সামনে নিজেদের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছিলেন। আর তাই রসূলুল্লাহ সা. সাহাবায়ে কেরামের আত্মোৎসর্গের মূল্যায়নে তাদের মর্যাদা বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, 'সর্বোত্তম যুগ আমার যুগ।' এ কথার দ্বারা রসূলুল্লাহ সা. বোঝাতে চেয়েছেন, কেউ কোনোভাবেই সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদায় পৌছতে সক্ষম হবে না।
সাহাবায়ে কেরামের পরবর্তী প্রজন্মে যে সকল মানুষ পৃথিবীতে এসেছিলেন, তারা ইসলামের মর্যাদা সমুন্নত দেখেছিলেন। নিরাপত্তা, স্বচ্ছলতা ও ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠিত দেখেছিলেন। যেখানে ইসলামের জন্য তাদেরকে কোনো পরীক্ষা ও বিপদের মুখোমুখী হতে হয়নি। জাহিলি যুগের ভ্রষ্টতা ও অজ্ঞতাকে দূর করে ইসলামগ্রহণের ভয়াবহ কষ্ট তাদের সহ্য করতে হয়নি। সাহাবায়ে কেরামের ত্যাগ-তিতীক্ষায় অর্জিত ইসলামের সুকোমল আবয়ব তারা দেখতে পেয়েছিলেন। ৯৩৫

টিকাঃ
৯৩৪ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৫৫।
১৩০০ মুঈনুস সীরাহ: ২৯১।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 সালমান আমার আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত

📄 সালমান আমার আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত


গাযওয়ায়ে আহযাবের দিন মুহাজিররা বলছিলেন, সালমান আমাদের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে আনসার সাহাবীরা বলছিলেন, না, তিনি আমাদের অন্তর্ভুক্ত। তাদের থামিয়ে দিয়ে রসূলুল্লাহ সা. বলছিলেন, সালমান আমার আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। ৯৩৭
সালমান ফারসী রা.-এর মর্যাদায় রসূলুল্লাহ সা.-এর পক্ষ থেকে উচ্চারিত এই অমীয় বাণী দ্বারা বুঝা যায়, সালমান ফারসী রা. মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত। কেননা, রসূলুল্লাহ সা.-এর আহলে বাইত মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ৯০৮

টিকাঃ
১৩৬ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৪৭।
১০৭ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৪৭।
৯০৮ আত তারীখুল ইসলামী: ৬/১০৮।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 আসসালাতুল উসতা

📄 আসসালাতুল উসতা


রসূলুল্লাহ সা. বলেন,
مَلَا اللهُ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا كَمَا شَغَلُوْنَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتْ الشَّمْسُ
আল্লাহ তাদের ঘরবাড়ি ও কবর আগুন দ্বারা ভরে দিন। কারণ তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী নামাযের সময় ব্যস্ত করে রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে। ৯০৯
উলামায়ে কেরামের একটি বৃহৎ অংশ এই হাদীসের আলোকে আসরের নামাযকে সালাতুল উসতা তথা উত্তম নামায বলেন। উক্ত হাদীসের বিশুদ্ধতার কারণে ইমাম মাওয়ারদী ইমাম শাফিয়ী-এর ‘সালাতুল উসতা দ্বারা আসরের নামায উদ্দেশ্য নয়’ এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেন। উলামায়ে কেরামের একটি দল উক্ত ঘটনাকে দলিল হিসেবে পেশ করে বলেন, যুদ্ধ ইত্যাদি ওজরের কারণে আসরের নামায দেরি করে পড়া বৈধ। ইমাম মাকহুল ও আওযায়ী রহ.ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ৯১০
ড. বুতী বলেন, অতি ব্যস্ততার দরুন সেদিনের আসরের নামায কাযা হয়ে গিয়েছিল। যা রসূলুল্লাহ সা. সূর্যাস্তের পর কাযা করেছিলেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য বর্ণনাসমূহ দ্বারা প্রতীয়মান হয়, একাধিক নামায কাজা হয়ে গিয়েছিল, যা সময়ের পর রসূলুল্লাহ সা. ধারাবাহিকভাবে আদায় করেছিলেন। এসব বর্ণনার প্রেক্ষিতে ছুটে যাওয়া নামায কাজা করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ৯১১

টিকাঃ
৯০৯ সহীহ বুখারী: ৪১১১।
৯১০ আল আসাসু ফিস সুন্নাহ: ৬৮২।
৯১১ ফিকহুস সীরাতিন নববিয়‍্যাহ: ২২৩।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 হালাল ও হারাম

📄 হালাল ও হারাম


কুরায়েש বংশের লোকেরা তাদের নিহত নেতা আমর ইবনে আবদুদের মৃতদেহ ফেরত নেওয়ার জন্য বিনিময় দেওয়ার প্রস্তাব দিলে রসূলুল্লাহ সা. বলেন, তাদের মৃতদেহ তাদের দিয়ে দাও। এটি একটি নিকৃষ্ট মৃতদেহ এবং তার বিনিময়ও নিকৃষ্ট। রসূলুল্লাহ সা. তার বিনিময়ে কোনো কিছু গ্রহণ করেননি।
এই ঘটনা এমন সময় সংঘটিত হয়েছিল যখন মুসলমানরা ভীষণ আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। কিন্তু ইসলামী বিধানমতে হালাল ও হারামের ব্যাপারে কোনো কিছুর সাথে আপোষ করা যায় না। চিন্তা করে দেখুন! নবীজির আদর্শ কেমন ছিল আর আমরা কোন পথে হাঁটছি! আমরা আজ যে কোনো অজুহাত দেখিয়ে সুদসহ যাবতীয় অবৈধ বিষয়কে বৈধ করার ফন্দি আঁটছি!৯৪২

টিকাঃ
১৪২ সহীহ আসসীরাতুন নাববিয়্যাহ: ৩৬১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00