📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 নবীজির মুজিযা

📄 নবীজির মুজিযা


রসূলুল্লাহ সা.-এর বিভিন্ন मुজিযা প্রকাশ পেয়েছিল পরিখা খননকালে। তম্মধ্যে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা.-এর প্রস্তুতকৃত খাবারে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ঘটনাটিও রয়েছে।
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ বলেন, খন্দকের দিন আমরা পরিখা খনন করছিলাম। এ সময় একখণ্ড কঠিন পাথর বেরিয়ে এলে সাহাবীরা রসূল সা.- এর কাছে এসে বললেন, খন্দকের ভিতর একটি শক্ত পাথর বেরিয়েছে। তখন তিনি বললেন, আমি নিজে খন্দকে নামবো। তিনি দাঁড়ালে দেখা গেলো তার পেটে একটি পাথর বাধা আছে। আমরাও তিন দিন ধরে অনাহারী ছিলাম। এ দিনগুলোতে আমরা কোনো খাবারের স্বাদ নিতে পারিনি। রসূল সা. একটি কোদাল হাতে নিয়ে পাথরটিতে আঘাত করলেন। তৎক্ষণাৎ তা চূর্ণ হয়ে বালুকারাশিতে পরিণত হলো। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে বাড়ি যাওয়ার জন্য অনুমতি দিন। বাড়ি পৌঁছে আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, রসূল সা.-কে এমন অবস্থায় দেখেছি-যা আমি সহ্য করতে পারছি না। তোমার কাছে কোনো খাবার আছে কি? সে বললো, আমার কাছে কিছু যব ও একটি বকরির বাচ্চা আছে। তখন বকরির বাচ্চাটি আমি জবেহ করলাম এবং সে যব পিষে দিলো। এরপর গোশত ডেকচিতে রান্নায় বসিয়ে আমি রসূল সা.-এর কাছে আসলাম। এ সময় আটা খামিরা হচ্ছিলো। ডেকচি চুলার ওপর ছিল এবং গোশত প্রায় রান্না হয়ে গিয়েছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার বাড়িতে সামান্য কিছু খাবার আছে। আপনি একজন বা দুজন সঙ্গে নিয়ে চলুন। তিনি বললেন, কী পরিমাণ খাবার আছে? আমি তার কাছে সব খুলে বললাম। তিনি বললেন, এ তো অনেক, বেশ ভালো। তিনি বললেন, তোমার স্ত্রীকে গিয়ে বলো, আমি না আসা পর্যন্ত উনুন থেকে ডেকচি ও রুটি যেন না নামায়। এরপর তিনি সবাইকে ডাকলেন। মুহাজির ও আনসারগণ নবীজির সাথে জাবেরের বাড়ির দিকে চললেন। জাবের রা. তার স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললেন, রসূল সা. তো সব মুহাজির, আনসারদের নিয়ে চলে আসছেন! জাবেরের স্ত্রী বললেন, তিনি কি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন কতটুকু খাবার আছে? জাবের বললেন, হ্যাঁ।
এরপর রসূল সা. উপস্থিত হলেন এবং বললেন, তোমরা সকলেই প্রবেশ করো। কিন্তু ভিড় কোরো না। এ কথা বলে তিনি রুটি টুকরো করে এর ওপর গোশত দিয়ে সাহাবীগণের মাঝে বিতরণ করতে শুরু করলেন। তিনি ডেকচি এবং উনুন ঢেকে রেখে রুটির টুকরো হাতভরে বিতরণ করতে লাগলেন। সকলে পেট পুরে খাওয়ার পরেও দেখা গেলো কিছু বাকি রয়ে গেছে। রসূল সা. জাবিরের স্ত্রীকে বললেন, এগুলো তুমি খাও এবং অন্যকে হাদিয়া দাও। সবাই এখন ক্ষুধার্ত। ১২৮
বুশাইর ইবনে সাআদ-এর কন্যা বর্ণনা করেন, আমার মা আমরা বিনতে রাওয়াহা আমাকে ডেকে পাঠালেন। উভয় হাত ভর্তি খেজুর আমার আঁচলে গুঁজে দিয়ে বললেন, হে কন্যা, এই খেজুরগুলো তুমি তোমার পিতা ও তোমার মামা আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার কাছে পৌঁছে দাও। আমি আমার মায়ের দেওয়া খেজুরগুলো নিয়ে তাদের সন্ধ্যানে বেরিয়ে পড়ি। পথিমধ্যে রসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়ে যায়। আমাকে দেখে রসূলুল্লাহ সা. ডেকে বলেন, তোমার হাতে কী? আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার হাতে কিছু খেজুর যা আমার মা আমাকে দিয়েছেন, যেন তা আমি আমার পিতা বুশাইর ইবনে সাআদ ও আমার মামা আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা-এর কাছে পৌঁছে দিই, তারা যেন আহার করতে পারেন।
রসূলুল্লাহ সা. বললেন, খেজুরগুলো আমাকে দাও। আমি রসূলুল্লাহ সা.- এর হাতে খেজুরগুলো দিলাম। খেজুর এতো কম ছিল যে তার দু'হাত ভরলো না। রসূলুল্লাহ সা. উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে একটি কাপড় চাইলেন। কাপড় রসূলুল্লাহ সা.-এর সামনে বিছিয়ে দেওয়া হলো। রসূলুল্লাহ সা. হাতের খেজুরগুলো কাপড়ের ওপর রাখলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সা. তার পাশের ব্যক্তিকে বললেন, 'তুমি খন্দকযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ডেকে বলো যেন তারা নাস্তা করার জন্য সমবেত হয়।'
যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সবাই সমবেত হয়ে সেখান থেকে খেজুর খাচ্ছিলেন আর তা ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছিলো। উপস্থিত সবাই পরিতৃপ্তির সঙ্গে আহার করার পরও খেজুর অবশিষ্ট রয়ে গেলো। ৯২৯
আলোচ্য দুটি ঘটনায় নবীজির দুটি মুজিযার কথা আলোচনা করা হয়েছে। এর দ্বারা বুঝা যায়, মুসলমান নারীরা পুরুষদের সফরসঙ্গী হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারে। মুসলমানরা পরিখা খননে ব্যস্ত ছিলেন। তারা তাদের উপার্জন ও খাদ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছিলেন না। সবাই ক্ষুৎপিপাসায় ভুগছিলেন। তীব্র ক্ষুধার যন্ত্রণায় রসূলুল্লাহ সা. ও অধিকাংশ মুসলমান যোদ্ধা পেটে পাথর বাঁধতে বাধ্য হয়েছিলেন। মুসলমান নারীরা এই কঠিন সময়ে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করার কাজে ব্যস্ত থাকেন। ৯৩০
নবুয়তের সত্যতার আরেকটি প্রমাণ পরিখা খননকালে প্রকাশ পায়। রসূলুল্লাহ সা. আম্মার ইবনে ইয়াসির রা.-কে পরিখা খননকালে জানিয়েছিলেন, হে আম্মার, পথভ্রষ্ট একটি দল তোমাকে হত্যা করবে। পরবর্তীতে আম্মার সিফফিনের যুদ্ধে আলী রা.-এর দলভুক্ত হয়ে যুদ্ধ করেন এবং শাহাদাত বরণ করেন। ৯৩১
পরিখা খননকালে সাহাবায়ে কেরামের সামনে একটি পাথরের বড় টুকরো বেরিয়ে আসে। রসূলুল্লাহ সা. সে পাথরের ওপর তিনবার আঘাত করেন। প্রচণ্ড আঘাতে পাথরখণ্ডটি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। প্রথম আঘাত করে রসূলুল্লাহ সা. বলেন, আল্লাহু আকবার! আমাকে সিরিয়ার ধনরাশির চাবিসমূহ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ! আমি এখান থেকেই সিরিয়ার লাল ইমারতগুলো দেখতে পাচ্ছি। দ্বিতীয়বার আঘাত করে রসূলুল্লাহ সা. বলেন, আল্লাহু আকবার! আমাকে পারস্যের ধনভান্ডারের চাবিসমূহ দেওয়া হয়েছে। আমি এখান থেকে মাদায়েন শহরের শুভ্র প্রাসাদসমূহ দেখতে পাচ্ছি। তৃতীয়বার পাথরে আঘাত করে রসূলুল্লাহ সা. বলেন, আল্লাহু আকবার! আল্লাহর শপথ! আমাকে ইয়েমেনের ধন ও রত্নভান্ডারের চাবি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ! আমি এখান থেকেই সানআ শহরের ফটকগুলো দেখতে পাচ্ছি। ১৩২
ইসলামের দিগ্বিজয়ের এসব সংবাদ রসূলুল্লাহ সা. مسلمانوں এমন সময় দিয়েছিলেন, যখন তারা মদীনায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। অত্যন্ত বিপৎসংকুল পরিস্থিতিতে শীতার্ত আবহাওয়ায় ক্ষুধার তাড়নায় যখন কাঁপছিলেন। ৯৩৩

টিকাঃ
১২৮ সহীহ বুখারী: ৪১০১।
১২৯ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৪১।
৯৩০ আল মারআতু ফি আহদিন নাবুওয়াহ: ১৭৫।
৯৩১ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ফি জুয়িল মাসাদিরিল আসলিয়্যাহ: ৪৪৮।
৯৩২ আসসীরাতুন নববিয়্যাহ ফি জুয়িল মাসাদিরিল আসলিয়্যাহ: ৪৪৮।
৯৩৩ নাদরাতুন নায়ীম: ১/৩২৫।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 কল্পনা ও বাস্তবতা

📄 কল্পনা ও বাস্তবতা


জনৈক কুফাবাসী হুযাইফা ইবনে ইয়ামানকে জিজ্ঞেস করলো, 'আপনি কি রসূলুল্লাহ সা.-কে দেখেছেন ও তার সাহচর্যে থেকেছেন?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' সে বললো, 'আপনারা তার সাথে কী রকম ব্যবহার করতেন।' হুযাইফা বললেন, 'আমরা তার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করার জন্য প্রস্তুত থাকতাম।' কুফাবাসী লোকটি বললো, 'খোদার কসম, যদি তাকে জীবিত পেতাম তাহলে তাকে মাটিতে হেঁটে চলতে দিতাম না, বরং ঘাড়ে চড়িয়ে রাখতাম।' হুযাইফা রা. বললেন, ভাতিজা, শোনো। রসূলুল্লাহ সা.-এর সঙ্গে আমরা পরিখায় ছিলাম। ৯৩৪
এরপর তিনি তাকে খন্দকযুদ্ধের পুরো ঘটনা শোনালেন।
এই তাবেয়ী রসূলুল্লাহ সা.-এর সাহাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করছিলেন যে, যদি তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর সাহচর্য পেতেন, তাহলে তার জন্য এত কিছু করতেন; যা সাহাবীরা করতে পারেননি। অথচ বাস্তবতা ও কল্পনার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। সাহাবীগণ সাধারণ মানুষ। তাদের মধ্যে মানবিক শক্তি-সামর্থ্য বিদ্যমান ছিল। তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর জন্য নিজেদের ধনসম্পদ বিসর্জন দিয়েছিলেন। নিজেদের সর্বস্ব বিলীন করে দিয়ে রসূলুল্লাহ সা.-এর সামনে নিজেদের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছিলেন। আর তাই রসূলুল্লাহ সা. সাহাবায়ে কেরামের আত্মোৎসর্গের মূল্যায়নে তাদের মর্যাদা বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, 'সর্বোত্তম যুগ আমার যুগ।' এ কথার দ্বারা রসূলুল্লাহ সা. বোঝাতে চেয়েছেন, কেউ কোনোভাবেই সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদায় পৌছতে সক্ষম হবে না।
সাহাবায়ে কেরামের পরবর্তী প্রজন্মে যে সকল মানুষ পৃথিবীতে এসেছিলেন, তারা ইসলামের মর্যাদা সমুন্নত দেখেছিলেন। নিরাপত্তা, স্বচ্ছলতা ও ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠিত দেখেছিলেন। যেখানে ইসলামের জন্য তাদেরকে কোনো পরীক্ষা ও বিপদের মুখোমুখী হতে হয়নি। জাহিলি যুগের ভ্রষ্টতা ও অজ্ঞতাকে দূর করে ইসলামগ্রহণের ভয়াবহ কষ্ট তাদের সহ্য করতে হয়নি। সাহাবায়ে কেরামের ত্যাগ-তিতীক্ষায় অর্জিত ইসলামের সুকোমল আবয়ব তারা দেখতে পেয়েছিলেন। ৯৩৫

টিকাঃ
৯৩৪ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৫৫।
১৩০০ মুঈনুস সীরাহ: ২৯১।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 সালমান আমার আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত

📄 সালমান আমার আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত


গাযওয়ায়ে আহযাবের দিন মুহাজিররা বলছিলেন, সালমান আমাদের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে আনসার সাহাবীরা বলছিলেন, না, তিনি আমাদের অন্তর্ভুক্ত। তাদের থামিয়ে দিয়ে রসূলুল্লাহ সা. বলছিলেন, সালমান আমার আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। ৯৩৭
সালমান ফারসী রা.-এর মর্যাদায় রসূলুল্লাহ সা.-এর পক্ষ থেকে উচ্চারিত এই অমীয় বাণী দ্বারা বুঝা যায়, সালমান ফারসী রা. মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত। কেননা, রসূলুল্লাহ সা.-এর আহলে বাইত মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ৯০৮

টিকাঃ
১৩৬ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৪৭।
১০৭ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৪৭।
৯০৮ আত তারীখুল ইসলামী: ৬/১০৮।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 আসসালাতুল উসতা

📄 আসসালাতুল উসতা


রসূলুল্লাহ সা. বলেন,
مَلَا اللهُ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا كَمَا شَغَلُوْنَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتْ الشَّمْسُ
আল্লাহ তাদের ঘরবাড়ি ও কবর আগুন দ্বারা ভরে দিন। কারণ তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী নামাযের সময় ব্যস্ত করে রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে। ৯০৯
উলামায়ে কেরামের একটি বৃহৎ অংশ এই হাদীসের আলোকে আসরের নামাযকে সালাতুল উসতা তথা উত্তম নামায বলেন। উক্ত হাদীসের বিশুদ্ধতার কারণে ইমাম মাওয়ারদী ইমাম শাফিয়ী-এর ‘সালাতুল উসতা দ্বারা আসরের নামায উদ্দেশ্য নয়’ এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেন। উলামায়ে কেরামের একটি দল উক্ত ঘটনাকে দলিল হিসেবে পেশ করে বলেন, যুদ্ধ ইত্যাদি ওজরের কারণে আসরের নামায দেরি করে পড়া বৈধ। ইমাম মাকহুল ও আওযায়ী রহ.ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ৯১০
ড. বুতী বলেন, অতি ব্যস্ততার দরুন সেদিনের আসরের নামায কাযা হয়ে গিয়েছিল। যা রসূলুল্লাহ সা. সূর্যাস্তের পর কাযা করেছিলেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য বর্ণনাসমূহ দ্বারা প্রতীয়মান হয়, একাধিক নামায কাজা হয়ে গিয়েছিল, যা সময়ের পর রসূলুল্লাহ সা. ধারাবাহিকভাবে আদায় করেছিলেন। এসব বর্ণনার প্রেক্ষিতে ছুটে যাওয়া নামায কাজা করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ৯১১

টিকাঃ
৯০৯ সহীহ বুখারী: ৪১১১।
৯১০ আল আসাসু ফিস সুন্নাহ: ৬৮২।
৯১১ ফিকহুস সীরাতিন নববিয়‍্যাহ: ২২৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00