📄 আল্লাহর কাছে নবীজির বিনীত দোআ
রসূলুল্লাহ সা. সবসময় আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দোআ করতেন। তার দোআ ও ক্রন্দন যুদ্ধকালীন সময়ে বহুগুনে বেড়ে যেতো। গাযওয়ায়ে আহযাবের সময় চারদিক থেকে মুসলমানরা সমস্যায় পতিত হলে তারা নবীজির কাছে এই দুঃসহ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য বিশেষ দোআ সম্পর্কে জানতে চান। তারা জিজ্ঞেস করছিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এ পরিস্থিতিতে কী দোআ করতে পারি। আমরা ভয়াবহ বিপদের সম্মুখিন। রসূল সা. বললেন, তোমরা এ দোআ করো, 'হে আল্লাহ, আমাদের দুর্বলতাগুলো গোপন রাখুন। বিপদে নিরাপদ রাখুন।' ১৮৯৫
সহীহ বুখারী ও মুসলিম-এ এসেছে: আবদুল্লাহ ইবনে আউফ রা. বলেন, গাযওয়ায়ে আহযাবের সময় রসূলুল্লাহ সা. দোআ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন, 'হে আল্লাহ, আমাদের প্রতি কিতাব অবতীর্ণকারী! হে দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী! কাফেরদের সমন্বিত বাহিনীকে পরাজিত করুন। হে আল্লাহ, তাদের পরাজিত করুন। যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের পদস্খলিত করুন।' ১৮৯৬
মহান আল্লাহ তার নবীর দোআ কবুল করেছিলেন। বিপদ কেটে গিয়ে উদিত হয়েছিল বিজয়ের সূর্য। আল্লাহ তাআলা শত্রুদের পিছু হটতে বাধ্য করেন। তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর ভয়াবহ হিমবায়ু চাপিয়ে দেন। তারা মানসিকভাবে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের পরাজিত করতে আল্লাহ তাআলা তার বিশেষ বাহিনী অবতীর্ণ করেন। এ মর্মে কুরআনে এসেছে:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءَتْكُمْ جُنُودُ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَجُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا وَ كَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِيرًا
হে মুমিনরা! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতকে স্মরণ কর, যখন সেনাবাহিনী তোমাদের কাছে এসে গিয়েছিল, তখন আমি তাদের উপর প্রবল বায়ু ও সেনাদল প্রেরণ করলাম যা তোমরা দেখনি। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। ৮৯৭
ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, শত্রুজোটের ওপর প্রবল ঝঞ্ঝাবায়ু ছিল মূলত রসূলুল্লাহ সা.-এর একটি মুজিযা। যেখানে কাফেরদের এ বায়ু আক্রান্ত করেছিল মুসলমানরা তার নিকটেই ছিল। শুধু একটি পরিখার ব্যবধানে অবস্থান করা কাফেররা যেখানে ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছিল, সেখানে मुसलमानों গায়ে এ বায়ুর সামান্য ঝাপটাও লাগেনি।
আল্লাহ তাআলা ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে ফেরেশতা পাঠান। তারা শত্রুসেনাদের তাঁবু ছিন্নভিন্ন করে দেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য জ্বালানো অগ্নিকুণ্ড নিভিয়ে দেন। উল্টে দেন তাদের খাদ্যদ্রব্য ও খাবারের পাত্র। তাদের ঘোড়া ও পশু দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে। শত্রুজোটের মধ্যে আল্লাহ তাআলা ভীতির সঞ্চার করে দেন। তাদের ছাউনির চারপাশে জোরে জোরে উচ্চৈঃস্বরে তাকবিরধ্বনি দিতে থাকেন ফেরেশতারা। গোত্রের নেতারা আতঙ্কিত হয়ে নিজেদের লোকদের ডাকতে থাকে, হে অমুক গোত্রের লোকেরা! এদিকে আসো। তারা একত্রিত হলে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে দেয়। ৮৯৮
এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱذْكُرُوا۟ نِعْمَةَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَآءَتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَجُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا ۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا
হে মুমিনরা! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতকে স্মরণ কর, যখন সেনাবাহিনী তোমাদের কাছে এসে গিয়েছিল, তখন আমি তাদের উপর প্রবল বায়ু ও সেনাদল প্রেরণ করলাম যা তোমরা দেখনি। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। ৮৯৯
আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ أَعَزَّ جُنْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَغَلَبَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ فَلَا شَيْءَ بَعْدَهُ
এক আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার অর্থে কোনো ইলাহ নেই। তিনিই তার বাহিনীকে মর্যাদাবান করেছেন, তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাভূত করেছেন। এরপর শত্রু ভয় বলতে আর কিছুই থাকলো না।১০০
আল্লাহর কাছে নবীজির দোআ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির সাথে সাংঘর্ষিক নয়। এই যুদ্ধে রসূলুল্লাহ সা. প্রয়োজনীয় যাবতীয় উপায় অবলম্বন করেছিলেন। শত্রুবাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করতে ও তাদের অবরোধ দূর করতে যাবতীয় প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। এছাড়া আরও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, যে ব্যাপারে ইতোপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। ১০১
রসূলুল্লাহ সা. আমাদের প্রয়োজনীয় উপকরন অবলম্বনের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। আল্লাহ তাআলার সামনে বিনয়াবনত হওয়া ও তার দাসত্ব স্বীকার করে নেওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। কেননা, আল্লাহ তাআলার সাহায্য ছাড়া কোনো ধরনের উপকরণ প্রকৃত সুফল দিতে পারে না। রসূলুল্লাহ সা. আজীবন আল্লাহ তাআলার কাছে দোআ করেছেন। তার দরবারে কান্নাকাটি করেছেন। তার সন্তুষ্টি অর্জনে ব্রতী হয়েছেন। ১০২
টিকাঃ
৮৯৫ মুসনাদে আহমদ: ২/৩।
৮৯৬ সহীহ বুখারী: ৪১১৪।
৮৯৭ সূরা আহযাব: ৯।
৮৯৮ তাফসীরে কুরতুবী: ১৪/১৪৪।
৮৯৯ সবা আহযাব: ৯।
৯০০ সহীহ বুখারী: ৪১১৪।
৯০১ আল কিয়াদাতুল আসকারীয়া ফি আহদির রসূল: ৪১০-৪১৬।
৯১০ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়্যাহ: ৩/৪৯।
📄 কাফেরদের সম্মিলিত বাহিনীর প্রত্যাবর্তনর সিদ্ধান্ত
রসূলুল্লাহ সা. শত্রুসেনাদের ওপর কড়া নজর রাখছিলেন। একদিন তিনি সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললেন, তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে আমার কাছে কাফেরদের সম্মিলিত বাহিনীর সংবাদ বহন করে আনবে? আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাকে আমার সঙ্গী হিসেবে নির্বাচিত করবেন। তিনি বারবার তাদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন। এভাবে তিনি তিনবার এ কথাটি বললেন, কিন্তু তাতে কেউ সাড়া দিলো না। এমতাবস্থায় তিনি স্বয়ং একজনকে নির্দিষ্ট করে বলেন, হে হুযায়ফা! দাঁড়াও। আমার জন্য শত্রুবাহিনীর সংবাদ নিয়ে এসো। তবে শত্রুবাহিনী আমাদের বিরুদ্ধে আবার উগ্র হয়ে যায় এমন কোনো কাজ করবে না। ১০৩
হুযায়ফা রা. বলেন, তাদের দিকে যাওয়ার সময় আমার মনে হলো যেন আমি গরম পানিতে গোসল করছি। অর্থাৎ আমার একটুও ঠান্ডা লাগছিল না। দেখলাম আবু সুফিয়ান তীব্র ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছে। আমি ধনুকে তীর তাক করে তার ওপর নিক্ষেপের পরিকল্পনা করছিলাম। তখনই রসূলুল্লাহ সা.-এর এই নির্দেশ মনে পড়লো, 'তাদেরকে আমার বিরুদ্ধে উসকে দিয়ো না।' তখন আমি তীর নিক্ষেপ করলে আবু সুফিয়ানকে হত্যা করে ফেলতে পারতাম। কিন্তু রসূলুল্লাহ সা.-এর নির্দেশ স্মরণ হওয়ায় আমি মত পরিবর্তন করলাম এবং ফিরে এলাম। রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে ফিরে আসা মাত্রই আমি তীব্র ঠান্ডা অনুভব করলাম। আমি তাকে যাবতীয় বিষয় জানালাম। তিনি তার নামায পড়ার চাদরের কিছু অংশ আমাকে দিলেন। আমি তা গায়ে জড়িয়ে সকাল পর্যন্ত ভালোভাবে ঘুমালাম। ফজরের নামাযের সময় হলে রসূলুল্লাহ সা. আমাকে ডাক দিয়ে বললেন, 'ওহে ঘুমকাতুরে, জাগো।'
টিকাঃ
৯১০ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/১১২।
📄 হুযায়ফা রা.-এর ঘটনা দ্বারা প্রাপ্ত শিক্ষা ও উপদেশ
১. রসূলুল্লাহ সা. মানুষের শক্তি-সামর্থ্যের ব্যাপারে যথেষ্ট ধারণা রাখতেন। তিনি হুযায়ফাকে কাফেরদের সম্মিলিত বাহিনীর তথ্য সংগ্রহে গুপ্তচরের দায়িত্ব দেন। কেননা, হুযায়ফা একদিকে অসাধারণ বীরত্বের অধিকারী ব্যক্তি ছিলেন। এ ধরনের কাজ সম্পাদনে সাহসী ব্যক্তির প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও বুদ্ধিমান। ভয়ঙ্কর প্রতিকূল পরিস্থিতিও তিনি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারতেন।
২. রণকৌশল সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত ছিলেন হুযায়ফা রা.। কাফের-সেনাপতিকে হত্যা করার পূর্ণ সুযোগ পেয়েও তিনি তাকে হত্যা করেননি। কেননা রসূলুল্লাহ সা.-এর এ নির্দেশ তার মনে পড়েছিল, 'তাদেরকে আমার বিরুদ্ধে উসকে দিয়ো না। তোমার কাজ শুধু তাদের সংবাদ আমার কাছে পৌঁছানো।' তাই তিনি হত্যার প্রস্তুতি নিয়েও তা থেকে বিরত থাকেন। ১০৪
৩. আলোচ্য ঘটনায় ওলীগণের কারামত-এর প্রমাণ পাওয়া যায়। হুযায়ফা রা. যখন শত্রুবাহিনীর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন, তখন ছিল প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ। বৃষ্টি ও পচণ্ড ঠাণ্ডা থাকা সত্ত্বেও তিনি মোটেও ঠাণ্ডা অনুভব করছিলেন না; বরং তিনি অনুভব করছিলেন, যেন গরম পানি দিয়ে গোসল করছেন। যতক্ষণ সেখানে ছিলেন, তিনি মোটেও ঠান্ডা অনুভব করেননি। এটিও ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তার মুমিন বান্দাদের ওপর বিশেষ অনুগ্রহ।৯০৫
৪. শত্রুবাহিনীর সংবাদ সংগ্রহ করে ফিরে আসার পর হুযায়ফার সাথে রসূলুল্লাহ সা.-এর আদুরে আচরণ থেকে বোঝা যায়, রসূলুল্লাহ সা. সবসময় তার সাহাবীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতেন। তিনি যে চাদর পরিধান করে নামায আদায় করতেন, তা হুযায়ফাকে দিয়েছিলেন। হুযায়ফা রসূলুল্লাহ সা.-এর চাদর মুড়ি দিয়ে ফজর পর্যন্ত নিদ্রামগ্ন ছিলেন। ফজরের নামাযের সময় হলে রসূলুল্লাহ সা. তাকে অত্যন্ত আদুরে ভঙ্গিতে ডেকেছিলেন, 'ওঠো, হে ঘুমকাতুরে।' রসূলুল্লাহ সা.-এর এমন আন্তরিকতাপূর্ণ সম্বোধন তার স্নেহ ও ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। ৯০৬
যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়। ৯০৭
৫. বিচক্ষণ এই সাহাবী খুব দ্রুত বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামলে নিতে পারতেন। যারকানীর বর্ণনামতে, হুযায়ফা যখন শত্রুদের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন, আবু সুফিয়ান তার সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে বলেছিল, প্রত্যেক ব্যক্তি যেন নিজের সাথে বসা ব্যক্তির হাত ধরে তার পরিচয় জেনে নেয়। হুযায়ফা রা. বলেন, আমি আমার এক হাত আমার ডান দিকে বসা ব্যক্তির হাতে স্পর্শ করি এবং তাকে জিজ্ঞেস করি, তুমি কে? উত্তরে সে আমাকে বলে, সে মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান। এদিকে আমি আমার বাম হাত দিয়ে বাম দিকে বসা ব্যক্তির হাত ধরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কে? উত্তরে সে বলে, আমি আমর ইবনুল আস। ৯০৮
এভাবেই তিনি তার পাশে বসা ব্যক্তিদের প্রথমেই প্রশ্ন করে তাদেরকে প্রশ্ন করার কোনো সুযোগই দিলেন না। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তিনি নিজের বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। অন্যথায় তার জীবন শঙ্কার মুখে পড়তো। ৯০৯
টিকাঃ
১০৪ ফিকহুস সীরাহ লিমুনির আল গাদবান: ৫০৫। আবু ফারিস প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ : ৩৬৭।
৯০৫ আবু ফারিস প্রণীত আসসীরাতুন নববি্যাহ : ৩৬৭।
৯০৬ সুয়ার ওয়া ইবার মিনাল জিহাদিন নববী ফিল মাদিনাহ: ২৪৬।
৯০৭ সূরা তাওবা: ১২৮।
৯০৮ শারহ্য যারকানী: ২/১২০।
৯০৯ মুঈনুস সীরাহ: ২৯৩।
📄 গাযওয়ায়ে আহযাবের ব্যাপারে কুরআনের বিবৃতি
গাযওয়ায়ে আহযাব সম্পর্কে বহু আলোচনা এসেছে কুরআনে। কুরআনে কারীমের পর্যালোচনাগুলো সাধারণত সর্বযুগ ও সর্বকালের বিবেচনায় করা হয়ে থাকে। পরবর্তী যুগে মুসলমানরা শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবেন। শত্রুবাহিনী আগ্রাসী হয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখতে পারে। এমনটিও সম্ভব যে, শত্রুবাহিনী তাদের পুরো বাহিনী নিয়ে মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করে বসবে। সর্বকালের সকল স্থানের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কুরআনে কারীম গাযওয়ায়ে আহযাব ও বনু কুরায়যা যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেছে। ১০
কুরআনে আলোচিত এ দুটি যুদ্ধের ঘটনাবলি থেকে উপদেশ গ্রহণ করা উচিত مسلمانوں। গাযওয়ায়ে আহযাব-সংক্রান্ত কুরআনে কারীমের অবতীর্ণ আয়াতসমূহ সম্পর্কে পর্যালোচনা করলে পাঠকদের সামনে যে বিষয়গুলো ফুটে উঠবে :
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের ওপর তার বিভিন্ন অনুগ্রহ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءَتْكُمْ جُنُودُ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَ جُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا وَ كَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِيرًا
হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিআমতকে স্মরণ কর, যখন সেনাবাহিনী তোমাদের কাছে এসে গিয়েছিল, তখন আমি তাদের উপর প্রবল বায়ু ও সেনাদল প্রেরণ করলাম যা তোমরা দেখনি। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। ৯১১
কাফেরদের সম্মিলিত বাহিনী কর্তৃক মদীনা মুনাওয়ারা অবরুদ্ধ করায় مسلمانوں ওপর অপতিত বিপদাপদের পরিপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছেন। যে ব্যাপারে কুরআনে কারীমে বর্ণিত হয়েছে:
إِذْ جَاءُوْكُمْ مِّنْ فَوْقِكُمْ وَ مِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَ بَلَغَتِ الْقُلُوْبُ الحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُوْنَا
যখন তারা তোমাদের কাছে এসেছিল তোমাদের উপরের দিক থেকে এবং তোমাদের নিচের দিক থেকে আর যখন চোখগুলো বাঁকা হয়ে পড়েছিল এবং প্রাণ কণ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকম ধারণা পোষণ করছিলে। ৯১২
মুনাফেকদের মন্দ চিন্তাভাবনা, নোংরা আচরণ, কাপুরুষতার প্রদর্শনী, মিথ্যা অজুহাত তৈরি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার প্রবণতার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থার চিত্রায়ন করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَإِذْ يَقُولُ الْمُنْفِقُوْنَ وَ الَّذِينَ فِي قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ مَّا وَعَدَنَا اللَّهُ وَ رَسُوْلُه إِلَّا غُرُورًا
আর স্মরণ কর, যখন মুনাফেকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি ছিল তারা বলছিল, আল্লাহ ও তার রসূল আমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। ৯১৩
সর্বত্র সব সময় সব সমস্যার সমাধানে ঈমানদার ব্যক্তিদের আল্লাহর রসূলের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে হবে। কুরআনে কারীমে এই ব্যাপারে এসেছে :
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا
অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। ৯১৪
প্রকৃত মুমিনদের গুণ তথা দৃঢ় মনোবলে শত্রুদের মোকাবিলায় যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া ও আল্লাহর সাথে তাদের কৃত প্রতিশ্রুতিপূরণের প্রশংসা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন:
مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوْا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَّنْ قَضَى نَحْبَه وَ مِنْهُمْ مَّنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا
মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের প্রতিশ্রুতি সত্যে বাস্তবায়ন করেছে। তাদের কেউ কেউ [যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করে] তার দায়িত্ব পূর্ণ করেছে, আবার কেউ কেউ [শাহাদাত বরণের] প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা (প্রতিশ্রুতিতে) কোনো পরিবর্তনই করেনি। ৯১৫
টিকাঃ
৯১০ আল আসাসু ফিস সুন্নাহ: ২/৬৬২।
৯১১ সূরা আহযাব: ৯।
৯১২ সূরা আহযাব: ১০।
৯১৩ সূরা আহযাব: ১২।
৯১৪ সূরা আহযাব: ২১।
৯১৫ সূরা আহযাব: ২৩।