📄 বনু কুরায়যার ইহুদিদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও আক্রমণের চাল
মদীনার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান করতো ইহুদি গোত্র বনু কুরায়যা। মুসলমানরা আগে থেকেই তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের আশঙ্কা করছিলেন। এমতাবস্থায় مسلمانوں উভয় সংকটে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। পেছন দিক থেকে বনু কুরায়যা ও সামনের দিক থেকে আরবের জোটবাহিনী আক্রমণ করলে মুসলমানরা কঠিন বিপদে পড়তেন।
ইহুদিরা এমন জাতি, যাদের কাছে অঙ্গীকার, চুক্তি বা প্রতিশ্রুতির তেমন কোনো মূল্য ছিল না। তাদের প্রতিশ্রুতিভঙ্গের গুজব ছড়িয়ে পড়লে রসূলুল্লাহ সা. যুবায়ের ইবনুল আওয়াম রা.-কে বিস্তারিত সংবাদ সংগ্রহের জন্য পাঠান। যুবায়ের রা. বনু কুরায়যার অঞ্চলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রসূলুল্লাহ সা.-কে জানান, হে আল্লাহর রসূল! তারা তাদের দুর্গগুলোর মেরামত করছে। রাস্তাঘাট সংস্কার করছে। গৃহপালিত প্রাণীগুলো দুর্গে নিয়ে জমা করছে। ৮৬৯
রসূলুল্লাহ সা. ও मुसलमानों নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি আউস গোত্রের তৎকালীন নেতা সাআদ ইবনে মুআয ইবনে নুমান রা., খাযরাজের নেতা সাআد ইবনে উবাদা ইবনে দুলাইম রা., আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. ও খাওয়াৎ ইবনে যুবায়ের রা.-কে পাঠালেন। তাদেরকে বলে দিলেন, 'তোমরা গিয়ে দেখো, যে খবরটা পেয়েছি তা সত্য কিনা। যদি সত্য হয় তাহলে ফিরে এসে সংকেতমূলক ধ্বনি দিয়ে আমাকে জানাবে। প্রকাশ্যে বলে সাধারণ मुसलमानों মনোবল ভেঙে দিওনা। আর যদি তারা চুক্তির অনুগত থাকে তাহলে ফিরে এসে সে কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করবে। ৮৭০
মুসলমানদের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল বনু কুরায়যা অভিমুখে এগিয়ে গেলেন। তারা সেখানে গিয়ে বুঝতে পারলেন তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সংবাদ সত্য। এরপর উভয় নেতা ও তাদের সঙ্গীদ্বয় রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে ফিরে এসে তাকে সালাম জানিয়ে বললেন, 'আজাল ও কারা।' অর্থাৎ আজাল ও কারার লোকেরা সাহাবী খুবাইব ও তার সঙ্গীদের প্রতি রাজী'তে যেরূপ বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, এরাও সেই পথ ধরেছে। রসূলুল্লাহ সা. তাদের ইঙ্গিতের অর্থ বুঝে নেন। ৮৭১
রসূলুল্লাহ সা. অত্যন্ত সতর্কতা ও দৃঢ়তার সাথে বনু কুরায়যার মুকাবেলা করেন। তিনি সালামা ইবনে আসলাম রা.-এর নেতৃত্বে দুইশো ও যায়েদ ইবনে হারেসা রা.-এর নেতৃত্বে তিনশো সৈন্য মদীনায় পাঠান। বনু কুরায়যার লোকদের ভীত সন্ত্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তাদের উচ্চৈঃস্বরে তাকবিরধ্বনি দিয়ে সেখানে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। এদিকে, বনু কুরায়যা শত্রুদের সহযোগিতার জন্য পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নেয়। কাফেরদের জোটের কাছে বিশটি উট, খেজুর, জব ও আনজির ফল পাঠায়। কিন্তু তাদের পাঠানো এসব সামগ্রী مسلمانوں হাতে চলে আসে। ৮৭২
টিকাঃ
৮৬৯ ওয়াকেদী প্রণীত মাগাযী: ২/৪৫৭।
৮৭০ ইবনে কাসীর প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ : ৩/১৯৯।
৮৭১ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৯৫।
৮৭২ আস সীরাতুল হালাবিয়া: ২/৩২৩।
📄 কঠিন অবরোধ ও মুনাফেকদের পলায়ন
কাফের জোট বাহিনী বনু কুরায়যার সমর্থন পায়। তাই অবরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। মুসলমানদের দুর্দশা বাড়তে থাকে। কুরআনে কারীমে مسلمانوں এই করুণ অবস্থার বিবরণ এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِذْ جَاءُوْكُمْ مِّنْ فَوْقِكُمْ وَ مِنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَ بَلَغَتِ الْقُلُوْبُ الْحَنَاجِرَ وَ تَظُنُّوْنَ بِاللَّهِ الظُّنُوْنَا هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُوْنَ وَ زُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا
তারা যখন তোমাদের কাছে এসেছিল তোমাদের উপর থেকে আর তোমাদের নীচের দিক থেকে, তখন তোমাদের চক্ষু হয়েছিল বিস্ফোরিত আর প্রাণ হয়েছিল কণ্ঠাগত; আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকম (খারাপ) ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছিলে। সে সময় মুমিনগণকে পরীক্ষা করা হয়েছিল আর তাদেরকে ভীষণ কম্পনে প্রকম্পিত করা হয়েছিল। ৮৭৩
মুসলমানরা এমন করুণ অবস্থাতেও আল্লাহ তাআলার ওপর পরিপূর্ণ ভরসা করেছিল। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الْأَحْзَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا
মুমিনরা যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখল তখন তারা বলে উঠল- আল্লাহ ও তাঁর রসূল এরই ওয়াদা আমাদেরকে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল সত্য বলেছেন। এতে তাদের ঈমান ও আনুগত্যের আগ্রহই বৃদ্ধি পেল। ৮৭৪
মুসলিম দলভুক্ত মুনাফেকদের মুনাফেকীও প্রকাশ পেতে আরম্ভ করলো। মুআত্তিব ইবনে কুশাইর তো বলেই ফেললো, মুহাম্মাদ আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, আমরা পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যের যাবতীয় ধন-দৌলতের মালিক হয়ে যাবো। অথচ আজ অবস্থা এই যে, আমরা নিরাপদে শৌচাগারেও যেতে পারছিনা।
কেউ কেউ বলতে লাগলো, আমাদের বাড়ি-ঘর তথা পরিবার-পরিজন অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। আমাদেরকে বাড়িতে ফিরে যেতে দিন। আমাদের বাড়ি-ঘর মদীনার বাইরে অবস্থিত। এ ধরনের আচরণে তাদের কাপুরুষতার পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তারা চেয়েছিল যেন মুসলমানরা শত্রুদের কবলে নিপতিত হয়। কিছু কিছু বর্ণনায় مسلمانوں বিদ্রূপ করা, ভীত-সন্ত্রস্ত করা ও মিত্রহীনভাবে রণাঙ্গনে ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও পাওয়া যায়- যদিও বর্ণনার সূত্রগুলোতে কিছুটা দুর্বলতা আছে। ৮৭৫
বিষয়টি আল্লাহ তাআলা উপস্থাপন করেছেন এভাবে:৮৭৬
وَإِذْ قَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ يَا أَهْلَ يَثْرِبَ لَا مُقَامَ لَكُمْ فَارْجِعُوا وَيَسْتَأْذِنُ فَرِيقُ مِنْهُمُ النَّبِيَّ يَقُولُونَ إِنَّ بُيُوتَنَا عَوْرَةٌ وَمَا هِيَ بِعَوْرَةٍ إِنْ يُرِيدُونَ إِلَّا فِرَارًا وَلَوْ دُخِلَتْ عَلَيْهِمْ مِنْ أَقْطَارِهَا ثُمَّ سُئِلُوا الْفِتْنَةَ لَآتَوْهَا وَمَا تَلَبَّثُوا بِهَا إِلَّا يَسِيرًا وَلَقَدْ كَانُوا عَاهَدُوا اللَّهَ مِنْ قَبْلُ لَا يُوَلُّونَ الْأَدْبَارَ وَكَانَ عَهْدُ اللَّهِ مَسْئُولًا قُلْ لَنْ يَنْفَعَكُمُ الْفِرَارُ إِنْ فَرَرْتُمْ مِنْ الْمَوْتِ أَوِ الْقَتْلِ وَإِذًا لَا تُمَتَّعُونَ إِلَّا قَلِيلًا قُلْ مَنْ ذَا الَّذِي يَعْصِمُكُمْ مِنَ اللَّهِ إِنْ أَرَادَ بِكُمْ سُوءًا أَوْ أَرَادَ بِكُمْ رَحْمَةً وَلَا يَجِدُونَ لَهُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الْمُعَوِّقِينَ مِنْكُمْ وَالْقَائِلِينَ لِإِخْوَانِهِمْ هَلُمَّ إِلَيْنَا وَلَا يَأْتُونَ الْبَأْسَ إِلَّا قَلِيلًا أَشِحَةٌ عَلَيْكُمْ فَإِذَا جَاءَ الْخَوْفُ رَأَيْتَهُمْ يَنْظُرُونَ إِلَيْكَ تَدُورُ أَعْيُنُهُمْ كَالَّذِي يُغْشَى عَلَيْهِ مِنَ الْمَوْتِ فَإِذَا ذَهَبَ الْخَوْفُ سَلَقُوكُمْ بِأَلْسِنَةٍ حِدَادٍ أَشِحَةً عَلَى الْخَيْرِ أُولَئِكَ لَمْ يُؤْمِنُوا فَأَحْبَطَ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ وَكَانَ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا يَحْسَبُونَ الْأَحْзَابَ لَمْ يَذْهَبُوا وَإِنْ يَأْتِ الْأَحْзَابُ يَوَدُّوا لَوْ أَنَّهُمْ بَادُونَ فِي الْأَعْرَابِ يَسْأَلُونَ عَنْ أَنْبَائِكُمْ وَلَوْ كَانُوا فِيكُمْ مَا قَاتَلُوا إِلَّا قَلِيلًا لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةً حَسَنَةً لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الْأَحْзَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا
স্মরণ কর, যখন তাদের একদল বলেছিল, হে ইয়াসরিববাসী! তোমরা (শত্রুর আক্রমণের বিরুদ্ধে) দাঁড়াতে পারবে না, কাজেই তোমরা ফিরে যাও। আর তাদের একদল এই বলে নবী (সা)-এর কাছে অব্যাহতি চাচ্ছিল যে, আমাদের বাড়িঘর অরক্ষিত অথচ ওগুলো অরক্ষিত ছিল না, আসলে পালিয়ে যাওয়াই তাদের ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য। যদি শত্রুপক্ষ (মদীনা নগরীর) চারদিক থেকে তাদের উপর আক্রমণ করতো, অতঃপর তাদেরকে কুফরীর আহবান করা হতো, তবে তারা তাই করে বসতো। তাতে তারা মোটেও বিলম্ব করতো না। অথচ তারা ইতোপূর্বে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে না। আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে। বলো, পলায়নে তোমাদের কোনই লাভ হবে না, যদি তোমরা মৃত্যু অথবা হত্যা থেকে পলায়ন কর তাহলে তোমাদেরকে সামান্যই ভোগ করতে দেয়া হবে। বলো, তোমাদেরকে আল্লাহর শাস্তি হতে কে রক্ষা করবে তিনি যদি তোমাদের অকল্যাণ চান অথবা তোমাদেরকে অনুগ্রহ করতে চান? তারা আল্লাহকে ছাড়া তাদের জন্য না পাবে কোনো অভিভাবক, আর না কোনো সাহায্যকারী। আল্লাহ তোমাদের মধ্যে তাদেরকে নিশ্চিতই জানেন কারা (যুদ্ধে অংশগ্রহণে) বাধা সৃষ্টিকারী আর কারা নিজেদের ভাইদেরকে বলে, আমাদের কাছে এসো। তারা কমই যুদ্ধে অংশ নেয়। তারা তোমাদের ব্যাপারে ঈর্ষাবোধ করে। যখন বিপদ আসে তখন তুমি দেখবে যে, মৃত্যুভয়ে অচেতন ব্যক্তির ন্যায় চক্ষু উল্টিয়ে তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু যখন বিপদ চলে যায় তখন তারা সম্পদের লোভে তোমাদের সাথে বাক চাতুরীতায় অবতীর্ণ হয়। তারা ঈমান আনেনি, এ জন্য আল্লাহ তাদের কার্যাবলী নিষ্ফল করে দিয়েছেন এবং আল্লাহর পক্ষে এটা সহজ। তারা মনে করে যে, সম্মিলিত বাহিনী চলে যায়নি। যদি সম্মিলিত বাহিনী আবার এসে পড়ে তখন তারা কামনা করবে যে, ভাল হতো যদি তারা যাযাবর মরুবাসীদের সাথে থেকে তোমাদের সংবাদ নিতো। তারা তোমাদের সাথে অবস্থান করলেও তারা যুদ্ধ অল্পই করতো।
তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। মু'মিনরা যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখলো তখন তারা বলে উঠলো- আল্লাহ ও তাঁর রসূল এরই ওয়াদা আমাদেরকে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল সত্য বলেছেন। এতে তাদের ঈমান ও আনুগত্যের আগ্রহই বৃদ্ধি পেল। ৮৭৭
মুনাফেকির কারণে যেসব কুপ্রভাব অন্তরকে দুর্বল করে দেয় সেসব বিষয় আলোচ্য আয়াতসমূহে বিবৃত হয়েছে। বলা হয়েছে, কঠিন পরিস্থিতিতে তারা আল্লাহর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। পরীক্ষার সময় আল্লাহ তাআলার দিকে ফেরার পরিবর্তে তারা বাকচাতুর্যের আশ্রয় নেয়। আমরা দেখতে পাই, তারা নবীজির কাছে রণাঙ্গন থেকে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চাচ্ছে। তুচ্ছ অজুহাত তৈরি করে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নের সংকল্প করছে। নিজেদের ঘরবাড়ির নিরাপত্তাহীনতার দোহাই দিচ্ছে। ঈমানের দুর্বলতার কারণেই তাদের মধ্যে এই প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। শুধু তাই নয় তারা অন্যান্য مسلمانوںকেও ঘরে ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। এক্ষেত্রে ইসলামের সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গেও তারা পিছপা হয়নি। ৮৭৮
অন্যদিকে, মুসলমানদের খননকৃত পরিখা পাড়ি দিয়ে মদীনায় পৌছার জন্য কাফেররা প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালাতে লাগলো। তাদের বিশাল অশ্বারোহী বাহিনী রাতভর পরিখার আশেপাশে আনাগোনা করতে থাকে। খালেদ ইবনে ওয়ালিদ-এর নেতৃত্বে অশ্বারোহী একটি দল পরিখার অপেক্ষাকৃত সরু অংশ দিয়ে পরিখা অতিক্রম করে মুসলমানদের ওপর অতর্কিতে আক্রমণের চেষ্টা করে। এ সময় উসাইদ ইবনে হুযাইর রা. দুইশো মুজাহিদের একটি বাহিনী নিয়ে তাদের প্রতিহত করেন। শত্রুদের সাথে ছোট ছোট মোকাবিলা চলতে থাকে। একপর্যায়ে হামযার হত্যাকারী ওয়াহশীর বর্শার আঘাতে তোফায়েল ইবনে নোমান শাহাদাত বরণ করেন। ৮৭৯
শত্রুসেনাদের পক্ষ থেকে হাব্বান ইবনে আরাকার নিক্ষিপ্ত তীরে সাআد ইবনে মুআয রা. বাহুতে আঘাত পান। তার হাতের রগ কেটে যায়। তীর নিক্ষেপ করার সময় হাব্বান চিৎকার করে বলছিল, ইবনে আরাকার পক্ষ থেকে এটি গ্রহণ করো। তীব্র যন্ত্রণায় সাআد ইবনে মুআয রা. দোআ করছিলেন, হে আল্লাহ! যদি কুরায়েশদের পক্ষ থেকে मुसलमानों বিরুদ্ধে আরও যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে আপনি আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন। কেননা, যারা আপনার রসূল সা.-কে কষ্ট দিয়েছে, মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে, নিজের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করেছে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাই। হে আল্লাহ! যদি আমাদের ও তাদের মধ্যকার যুদ্ধ সমাপ্ত হয়ে থাকে, তাহলে আপনি আমাকে শাহাদাত দান করুন। ৮৮০
তবে বনু কুরায়যার কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়ে নিজের চক্ষু শীতল করা পর্যন্ত আপনি আমার হায়াত দীর্ঘ করুন। আল্লাহ তাআলা তার এই প্রিয় বান্দার দোআ কবুল করেছিলেন। বনু কুরায়যার শাস্তি তাকেই ঘোষণা করতে হয়েছিল।
একদিন শত্রুসেনারা রসূলুল্লাহ সা.-এর তাঁবুর দিকে তাদের বিশেষ বাহিনী পাঠায়। মুসলমানরা তাদের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী যুদ্ধ করেন। আসরের সময় একটি বাহিনী রসূলুল্লাহ সা.-এর তাঁবুর নিকটে চলে এলে রসূলুল্লাহ সা. ও সাহাবীরা আসরের নামায আদায় করতে পারেননি। রাত ঘনিয়ে এলে শত্রুসেনারা ফিরে যায় নিজেদের অবস্থানে। রসূলুল্লাহ সা. বলেন,
مَلَا اللهُ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا كَمَا شَغَلُوْنَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتْ الشَّمْسُ
আল্লাহ তাদের ঘরবাড়ি ও কবর আগুন দ্বারা ভরে দিন। কারণ তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী সালাতের সময় ব্যস্ত করে রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে।
টিকাঃ
৮৭৩ সূরা আহযাব: ১০-১১।
৮৭৪ সূরা আহযাব: ২২।
৮৭৫ মুজামুল কাবির লিততাবরানি: ১১/৩৭৬।
৮৭৬ আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ: ২/৪২৪।
৮৭৭ সূরা আহযাব: ১৩-২০।
৮৭৮ আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ ২/৪২৫।
৮৭৯ হাদীসুল কুরআনিল কারীম আন গাযাওয়াতির রসূল: ২/৪২৪।
৮৮০ সহীহ মুসলিম: ১৭৬৯।
৮৮১ সহীহ বুখারী: ৪১১১।
📄 গাতফানদের সাথে নবীজির সন্ধি
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 গাতফান নেতাদের সাথে নবীজির প্রস্তাবিত কর্মপন্থা
গাতফান গোত্রের নেতাদের সাথে সন্ধিচুক্তির পরিকল্পনা গ্রহণ করে রসূলুল্লাহ সা. তার রাজনৈতিক দক্ষতার প্রমাণ দেন। রসূল সা. ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন, গাতফান কাফেরদের সম্মিলিত এ বাহিনীর সাথে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা উচ্চাভিলাসের কারণে আসেনি। তাদের উদ্দেশ্য শুধু মদীনায় লুটতরাজ করে নিজেদের কিছু ধন সম্পদ হাসিল করা। রসূলুল্লাহ সা. ইহুদি নেতা হুয়াই ইবনে আখতাব, কিনানা ইবনে রবী বা কুরায়েש সেনাপতি আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের সাথে সন্ধি করার ইচ্ছা পোষণ করেননি। কেননা, তারা অর্থনৈতিক লোভ-লালসা বা সম্পদের মোহে যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি। তারা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যুদ্ধে নেমেছিল। তারা চেয়েছিল মদীনার ইসলামী রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাক। এ কারণেই রসূলুল্লাহ সা. শুধু গাতফান গোত্রের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেন। গাতফানের দুজন প্রভাবশালী নেতা উয়ায়না ইবনে হাসান ও হারেস ইবনে আউফ কোনো ধরনের চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই রসূলুল্লাহ সা.-এর প্রস্তাবনা গ্রহণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা তাদের সমমনা কয়েকজন নেতাকে নিয়ে নবীজির কাছে উপস্থিত হয়। মুসলমানদের খননকৃত পরিখার পেছনে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তারা মতবিনিময় করে। রসূলুল্লাহ সা. তাদের সাথে সন্ধিচুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করতে থাকেন। এই চুক্তি মূলত কৃষিজাত পণ্যের বিনিময়ে সম্পন্ন হয়েছিল। সন্ধিচুক্তির মূল ধারাগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১. মুসলমান এবং শুধু গাতফান গোত্র যারা মিত্রবাহিনীর অংশ হিসেবে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে তাদের মধ্যে এ সন্ধিচুক্তি হবে।
২. গাতফান ও মুসলমান একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের যুদ্ধ করবে না। (বিশেষত এই সময়ে)
৩. গাতফান গোত্রের লোকেরা মদীনার অবরোধ তুলে নেবে এবং নিজেদের এলাকায় ফিরে যাবে।
৪. কাফেরদের সঙ্গ ত্যাগ করলে এবং অবরোধ উঠিয়ে ফিরে গেলে এর বিনিময়ে তাদেরকে مسلمانوں পক্ষ হতে মদীনার উৎপাদিত ফসলের এক তৃতীয়াংশ দেওয়া হবে।৮৮২
ওয়াকিদী রহ. বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সা. গাতফান নেতাদের প্রস্তাব দেন, মদীনায় উৎপাদিত ফসলের এক তৃতীয়াংশ তাদের দেওয়া হলে তারা কাফের জোট বাহিনীর সঙ্গ ত্যাগ করবে কিনা? গাতফান গোত্রের উভয় নেতা রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে মদীনায় উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক দাবি করে। তখন রসূলুল্লাহ সা. এক-তৃতীয়াংশের চাইতে বেশি দিতে অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত তারা তাতে রাজি হয়। চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য তারা তাদের গোত্রের দশজন লোককে নিয়ে রসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে আসে।৮৮৩
চুক্তির শর্তাবলী মেনে নেয় গাতফান নেতারা। এর মাধ্যমেই তাদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের মানসিকতা আঁচ করা যায়। তারা কেবল সম্পদ ও মদীনার ফসলের লোভেই যুদ্ধে এসেছিল। সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশে যদি সম্পদের মোহ থাকে, তাহলে যুদ্ধে পরাজয় অনিবার্য হয়ে ওঠে। রসূলুল্লাহ সা. শত্রুপক্ষের বিশাল একটি অংশের এই মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে একে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে জোটবাহিনীকে দুর্বল করে ফেলেন।৮৮৪
এই ঘটনা থেকে আমরা ভয়াবহ বিপদের মুখে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার শিক্ষা পাই। পাশাপাশি ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির লক্ষ্যে অপেক্ষাকৃত সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করা এবং শত্রুর দিকে মৈত্রীর হাত বাড়িয়ে দেওয়ার নীতি শিখতে পারি।৮৮৫
রসূলুল্লাহ সা. চুক্তিনামায় স্বাক্ষরের পূর্বে সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করেন। সাহাবায়ে কেরাম গাতফান গোত্রকে কোনোভাবেই মদীনার খাদ্যশস্য না দেওয়ার পরামর্শ দেন। আনসার গোত্রসমূহের নেতা সাআد ইবনে মুআয ও সাআد ইবনে উবাদা রসূলুল্লাহ সা.-এর সামনে আরজ করেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, এটা কি আমাদের কল্যাণার্থে আপনার প্রস্তাব, না আল্লাহ আপনাকে এজন্য নির্দেশ দিয়েছেন যা আমাদের করতেই হবে? তিনি বললেন, 'এটা আমার নিজের উদ্যোগ। কারণ আমি দেখছি গোটা আরব ঐক্যবদ্ধ হয়ে তোমাদের ওপর সর্বাত্মক হামলা চালিয়েছে এবং সবদিক দিয়ে তোমাদের ওপর দুর্লংঘ্য অবরোধ আরোপ করেছে। তাই যতটা পারা যায় আমি তাদের শক্তি খর্ব করতে চাচ্ছি।'
সাআد ইবনে মুআয বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইতোপূর্বে আমরা এবং এসব লোক শিরক ও মূর্তিপূজায় লিপ্ত ছিলাম। তখন আমরা আল্লাহকে চিনতাম না এবং আল্লাহর ইবাদাতও করতাম না। সে সময় তারা মেহমানদারী অথবা বিক্রয়ের সূত্র ছাড়া আমাদের একটা খোরমাও খেতে পারেনি। আর আজ আল্লাহ যখন আমাদেরকে ইসলামের গৌরব দান করেছেন, সত্যের পথে চালিত করেছেন, তখন তাদেরকে আমাদের ধন-সম্পদ দিতে হবে? আল্লাহর কসম, আমাদের এ চুক্তির কোন প্রয়োজন নেই। তরবারীর আঘাত ছাড়া তাদেরকে আমরা আর কিছুই দেবো না। এভাবেই আল্লাহ তাদের ও আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবেন।
রসূলুল্লাহ সা. বললেন, বেশ, তাহলে এ ব্যাপারে তোমার মতই মেনে নিলাম। এরপর সাআদ ইবনে মুআয চুক্তিপত্রটি হাতে নিয়ে সমস্ত লেখা মুছে ফেলে বললেন, ওরা যা পারে করুক। ৮৮৬
আনসারদের নেতা সাআد ইবনে উবাদা ও সাআد ইবনে মুআয রা. যদিও চুক্তির বিরোধী ছিলেন তবুও তাদের কথা থেকে রসূলুল্লাহ সা.-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পেয়েছে। তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর প্রতি পরিপূর্ণ শিষ্টাচার বজায় রেখেই কথা বলেছিলেন। গাতফান গোত্রের সাথে সন্ধিচুক্তিটি তিন রকম হওয়া সম্ভব বলে তারা ভেবেছিলেন। তাদের কথা থেকে বোঝা যায় একেক ক্ষেত্রে তাদের মতামত হতো একেক রকম।
১. যদি এ সিদ্ধান্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকতো, তাহলে এর বিরোধিতা করতেন না। আল্লাহর সিদ্ধান্তকে তারা অবনত মস্তকে মেনে নিতেন।
২. রসূলুল্লাহ সা. যদি কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতেন, তাহলে তারা তা নিঃসংকোচে মেনে নিতেন এবং সে অনুযায়ী কাজও করতেন।
৩. যেহেতু مسلمانوں কল্যাণার্থে এটি ছিল রসূলুল্লাহ সা.-এর নিজস্ব সিদ্ধান্ত, তাই এ ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ ছিল।
রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছ থেকে প্রশ্ন করে সাআد ইবনে মুআয ও সাআد ইবনে উবাদা রা. জেনে নিয়েছিলেন যে, এই পরিকল্পনাটি তৃতীয় পর্যায়ভুক্ত প্রস্তাবনার অন্তর্ভুক্ত। রসূলুল্লাহ সা. মদীনাবাসীকে উদ্ভূত সংকট থেকে সহজে মুক্তি দেওয়ার জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চাচ্ছিলেন। আর সে প্রেক্ষিতেই সাআد ইবনে মুআয রসূলুল্লাহ সা.-এর সামনে নিজের বক্তব্য পেশ করেন। এতে গাতফান নেতারা মাথা নত করতে বাধ্য হয়। সাআد ইবনে মুআয রা. বলেছিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইতোপূর্বে আমরা এবং এসব লোক শিরক ও মূর্তিপূজায় লিপ্ত ছিলাম। তখন আমরা আল্লাহকে চিনতাম না এবং আল্লাহর ইবাদাতও করতাম না। সে সময় তারা মেহমানদারী অথবা বিক্রয়ের সূত্র ছাড়া আমাদের একটা খোরমাও খেতে পারেনি। আর আজ আল্লাহ যখন আমাদেরকে ইসলামের গৌরব ও সম্মানে ভূষিত করেছেন, সত্যের পথে চালিত করেছেন, তখন তাদেরকে আমাদের ধন-সম্পদ দিতে হবে? আল্লাহর কসম, আমাদের এ সবের কোন প্রয়োজন নেই।
সাআد ইবনে মুআযের বক্তব্য ছিল যথার্থ। রসূলুল্লাহ সা. তার এই মতামত পছন্দ করেন। আনসারদের এ ধরনের দৃঢ় মনোবল ও উন্নত মানসিকতা দেখে তিনি গাতফান নেতাদের সাথে সন্ধিচুক্তি বাতিল করে দেন। ৮৮৭
রসূলুল্লাহ সা. সাহাবীদের উদ্দেশে বলেন, 'গোটা আরব একত্রিত হয়ে জোটবদ্ধ হয়ে তোমাদের ওপর আক্রমণ করে যাচ্ছে। ১৮৮৮
এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, রসূলুল্লাহ সা. চেয়েছিলেন যেন গোটা আরবের অধিবাসী একত্রিত হয়ে কখনও مسلمانوں ওপর আক্রমণ না করে। তার এই পরিকল্পনা থেকে مسلمانوں জন্য যে দিকনির্দেশনা রয়েছে তা হলো: * শত্রুদের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করা مسلمانوں জন্য জরুরি। * প্রতিপক্ষ কয়েকটি গোত্র ও গোষ্ঠীর জোট হলে তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা উচিত।
এ ক্ষেত্রে ইসলামী রাষ্ট্রের বর্তমান ও ভবিষ্যতের উপকারী দিক বিবেচনা করে মুসলিম নেতাদের পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ৮৮৯
রসূলুল্লাহ সা. সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করেন। এর মাধ্যমে তার কর্মপদ্ধতি অনুধাবন করা যায়। তিনি যুদ্ধাবস্থা ও অন্যান্য সকল পরিস্থিতিতে সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করতেন। আল্লাহ তাআলা مسلمانوں সকল ব্যাপারে পরামর্শের নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি তিনি তার রসূলকেও এ বিধানের আওতামুক্ত রাখেননি। কোনো ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহি না এলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো পরামর্শের মাধ্যম। ৮৯০
আলোচ্য ঘটনা থেকে আমরা এ শিক্ষাও পেলাম যে, একজন সফল নেতার সবসময় অধীনস্থদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা উচিত। অধীনস্থদের উচিত নেতার মর্যাদা ও গুরুত্ব অনুধাবন করা। অন্যদিকে নেতাও যেন তার অধীনস্থদের যোগ্যতা ও মর্যাদার যথাযোগ্য মূল্যায়ন করেন। তাদের মতামত ও মন্তব্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
গোত্রীয় সুযোগ-সুবিধার প্রতি পূর্ণ লক্ষ রেখে গাতফান নেতাদের সাথে রসূলুল্লাহ সা. সন্ধিচুক্তির পরিকল্পনা করেছিলেন। ৮৯১
এ সন্ধিচুক্তির ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান দ্বারা তিনটি বিষয় বুঝা যায়। যথা:
১. আদবের প্রতি লক্ষ রেখে সাহাবারা নবীজিকে যে পরামর্শ দেন, তাতে তাদের সাহসিকতা ও বীরত্বের যথেষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সবার সুবিধার প্রতি লক্ষ রেখে সাথিদের যে কোনো পরামর্শ দেওয়ার সুযোগদানের দৃষ্টান্তও আমরা আলোচ্য ঘটনায় দেখতে পাই।
২. সাহাবায়ে কেরামের এ ধরনের বক্তব্য থেকে আল্লাহ, তার রসূল এবং তার দীনের সাথে তাদের গভীর সম্পর্কের ব্যাপারটি আঁচ করা যায়।
৩. তাদের মনোবল অনুধাবন করা যায়। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তারা মনোবল হারাননি। শত্রুপক্ষ যেভাবেই সজ্জিত হয়ে জোটবদ্ধভাবে উপস্থিত হোক না কেন, তারা এসবের পরোয়া করতেন না। ৮৯২
টিকাঃ
৮৮২ মুহাম্মাদ আহমাদ বাשমীল প্রণীত গাযওয়ায়ে আহযাব: ২০১।
৮৮৩ ওয়াকেদী প্রণীত মাগাযী: ২/৪৭৭।
৮৮৪ আল কিয়াদাতুল আসকারীয়া ফি আহদির রসূল: ৪১৩।
৮৮৫ সাদিক উরজুন প্রণীত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ: ৪/১৭৬।
৮৮৬ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৫২।
৮৮৭ আত তারীখুল ইসলামী: ৬/১২৫।
৮৮৮ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪/১০৬।
৮৮৯ আল আসাসু ফিস সুন্নাহ: ২/৬৮৭।
৮৯০ আল আবকারিয়ুল আসকারীয়া ফি গাযাওয়াতির রসূল: ৪১৪।
৮৯১ আল কিয়াদাতুল আসকারীয়া ফি আহদির রসূল: ৪১৪।
৮৯২ আল কিয়াদাতুল আসকারীয়া ফি আহদির রসূল: ৪১৪-৪১৬।