📄 হাসান ইবনে সাবিত রা. এর ক্ষমা প্রার্থনা
বহু বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত, আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ছাড়া ইফকের ঘটনায় যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন, পরবর্তীতে তারা সবাই তাওবা করেছিলেন। হাসসান ইবনে সাবিত রা.-ও এ অপবাদে অংশগ্রহণের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। আয়েশা রা.-এর প্রশংসায় তিনি এই কবিতা রচনা করেন: ৮২৮
رأيتك وليغفر لك الله حرة من المحصنات غير ذات غوائل حصان رزان ما تزن بريبة وتصبح غرثى من لحوم الغوافل فإن الذي قد قيل ليس بلائط ولكنه قول امرئ بي ماحل فإن كنت قد قلت الذي قد زعمتم فلا رفعت سوطي إلي أنامل فكيف وودي ما حييت ونصرتي لال نبي الله زين المحافل وإن لهم عزا يرى الناس دونه قصارا وطال العز كل التطاول
মর্মার্থ: আপনাকে আমি সম্ভ্রান্ত নারী হিসেবে দেখেছি। আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। সন্দেহ নেই আপনি পুতঃপবিত্র ও জ্ঞানী। নির্দোষদের নিন্দা করে আপনি দিন শুরু করেন না। তিনি এমন এক বংশের সন্তান, যাদের মান-মর্যাদা বিলীন হওয়ার নয়।
তার সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। বরং তা এক নিন্দুকের উক্তি। যদি সে কথা আমি বলেই থাকি, যা তোমরা অনুমান করো; তাহলে আমি তো নিজের হাতে আমার ওপর কোড়া উত্তোলন করবো না।
তা কীভাবে হতে পারে, অথচ আমার ভালোবাসা আর সাহায্য তো রসূল সা.-এর পরিবার পরিজনের জন্য উৎসর্গিত। তিনিই তো মজলিসের দীপ্তি! তাদের জন্য রয়েছে সম্মান আর মর্যাদা, এর বাইরে লোকদেরকে তুমি দেখতে পাবে খর্বকায়। তাদের মর্যাদা সকলের উর্ধ্বে। ৮২৯
টিকাঃ
৮২৮ আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ: ২/২৬৩।
৮২৯ তারীখুল ইসলাম যাহাবী প্রণীত : ২৮১।
📄 গাযওয়ায়ে বনু মুসতালিক হতে প্রাপ্ত ইসলামী বিধিবিধান
যারা আগেই ইসলামের দাওয়াত পেয়েছে কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করেনি, তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ বৈধ। এছাড়া কাউকে মুক্ত করার বিনিময়কেই তার মোহর হিসেবে নির্ধারণ করার বৈধতা পাওয়া যায় আলোচ্য গাযওয়ায়। এ যুদ্ধে রসূলুল্লাহ সা. জুয়াইরিয়া বিনতে হারেসের মুক্তিকেই তার মোহর হিসেবে নির্ধারিত করেছিলেন।
আলোচ্য গাযওয়ার ঘটনা দ্বারা বোঝা যায়, সফরের ক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রীর মধ্যে নির্দিষ্ট একজনকে সফরসঙ্গী বানানোর জন্য লটারি করা জায়েয। আলোচ্য গাযওয়ার ঘটনা থেকে আরও বোঝা যায়, আরবের যুদ্ধবন্দীদেরও দাস বানানো জায়েয। জামহূর আলেমগণের অভিমতও এটাই। ৮৩০
উলামায়ে কেরামের ইজমা হলো, কুরআনে কারীমের বর্ণনায় যেভাবে স্পষ্টভাবে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা রা.-এর চারিত্রিক পবিত্রতার আলোচনা করা হয়েছে এবং তা প্রমাণ করা হয়েছে, তারপরেও কেউ যদি তার ব্যাপারে মন্দ মন্তব্য করে, তাহলে বোঝা যাবে সে কুরআনে কারীমের বিরুদ্ধাচরণ করে কুফরিতে লিপ্ত হয়েছে। ৮৩১
আলোচ্য গাযওয়ার ঘটনা থেকে আরও বোঝা যায়, নিজের স্ত্রীগণের সাথে আজল করা বৈধ। এ যুদ্ধে সাহাবায়ে কেরামের পক্ষ থেকে রসূলুল্লাহ সা.-কে আযল সম্পর্কে প্রশ্ন করা ও রসূলুল্লাহ সা.-এর অনুমতি প্রদানের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয়। আরও জানা যায় যে, কেয়ামত পর্যন্ত যতগুলো শিশু জন্ম নেবে বলে আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা যে কোনো ভাবেই হোক পৃথিবীতে আসবে। ৮৩২
তবে অধিকাংশ আলেমের অভিমত হচ্ছে, স্বাধীন নারীদের সাথে আজল করতে তাদের অনুমতি নিতে হবে। ৮৩৩
আলোচ্য গাযওয়ার সময়েই তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ হয়। পানি পাওয়া না গেলে বা ব্যবহার করতে না পারলে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করতে হবে। যেকোনো বিপদ ও ভয়ের সময়ও নামায পরিত্যাগ করা যাবে না। ৮৩৪
টিকাঃ
৮৩০ ইমাম শাফিয়ী প্রণীত কিতাবুল উম্ম: ৪/১৮৬।
৮৩১ শারহুন নববী আলা সহীহ মুসলিম: ৫/৬৪৩।
৮৩২ আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ: ২/৪১৫।
৮৩৩ নাইলুল আওতার: ৬/২২২-২২৪।
৮৩৪ সুয়ার ওয়া ইবার মিনাল জিহাদিন নববী ফিল মদীনা: ২১০-২১১।