📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 আমরা তার সাথে ভালো ব্যবহার করবো

📄 আমরা তার সাথে ভালো ব্যবহার করবো


ওমর রা. বললেন, আল্লাহর কসম, আমি জানি আল্লাহর রসূল সা.-এর সিদ্ধান্ত আমার সিদ্ধান্তের চাইতে অধিক কল্যাণকর। ৭৭৮
আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর ছেলে আবদুল্লাহ ছিলেন প্রকৃত মুসলমান। ছেলে আবদুল্লাহ তার পিতার ব্যাপারটা জানতে পেরে রসূলুল্লাহ সা.-কে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আমি শুনেছি আপনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে তার বিদ্বেষমূলক কথাবার্তার জন্য হত্যা করতে ইচ্ছুক। যদি সত্যিই তাই হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে নির্দেশ দিন আমি তার মাথা ধড় থেকে আলাদা করে আপনার কাছে পৌঁছে দিই। আল্লাহর কসম! খাযরাজ গোত্র জানে, ওই গোত্রে আমার চেয়ে পিতৃভক্ত লোক আর নেই। আমার আশংকা হয়, আপনি আমার পিতাকে হত্যার জন্য কাউকে নির্দেশ দেবেন আর সে তাকে হত্যা করবে, তখন আমার পিতৃহত্যাকারীকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখে হয়তো আমার প্রবৃত্তি কুপ্ররোচনা দিয়ে আমাকে অসহিষ্ণু করে তুলবে। ফলে তাকে হত্যা করে আমি জাহান্নামে যেতে বাধ্য হবো। কেননা সেক্ষেত্রে আমি একজন কাফিরের বদলায় একজন মুমিনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, না সে যতদিন আমাদের সাথে থাকবে, ততদিন তার প্রতি আমরা নমনীয় থাকবো এবং ভালো ব্যবহার করবো। ৭৭৯
মুসলমানগণ মদীনা মুনাওয়ারার নিকটবর্তী হলে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইর ছেলে আবদুল্লাহ তার পিতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান এবং তাকে মদীনায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে বলেন, আপনি থেমে যান। আল্লাহর শপথ! রসূলুল্লাহ সা.-এর অনুমতি ছাড়া আপনাকে আমি মদীনায় প্রবেশ করতে দেবো না। রসূলুল্লাহ সা. এসে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে মদীনায় প্রবেশের অনুমতি দেন। তখন তার ছেলে আবদুল্লাহ তাকে মদীনায় প্রবেশের সুযোগ দেয়। ৭৮০

টিকাঃ
৭৭৮ আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ: ২/২৫৭।
৭৭৯ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/৩২১।
৭৮০ আল ওলা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম: ২০৯।

ওমর রা. বললেন, আল্লাহর কসম, আমি জানি আল্লাহর রসূল সা.-এর সিদ্ধান্ত আমার সিদ্ধান্তের চাইতে অধিক কল্যাণকর। ৭৭৮
আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর ছেলে আবদুল্লাহ ছিলেন প্রকৃত মুসলমান। ছেলে আবদুল্লাহ তার পিতার ব্যাপারটা জানতে পেরে রসূলুল্লাহ সা.-কে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আমি শুনেছি আপনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে তার বিদ্বেষমূলক কথাবার্তার জন্য হত্যা করতে ইচ্ছুক। যদি সত্যিই তাই হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে নির্দেশ দিন আমি তার মাথা ধড় থেকে আলাদা করে আপনার কাছে পৌঁছে দিই। আল্লাহর কসম! খাযরাজ গোত্র জানে, ওই গোত্রে আমার চেয়ে পিতৃভক্ত লোক আর নেই। আমার আশংকা হয়, আপনি আমার পিতাকে হত্যার জন্য কাউকে নির্দেশ দেবেন আর সে তাকে হত্যা করবে, তখন আমার পিতৃহত্যাকারীকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখে হয়তো আমার প্রবৃত্তি কুপ্ররোচনা দিয়ে আমাকে অসহিষ্ণু করে তুলবে। ফলে তাকে হত্যা করে আমি জাহান্নামে যেতে বাধ্য হবো। কেননা সেক্ষেত্রে আমি একজন কাফিরের বদলায় একজন মুমিনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, না সে যতদিন আমাদের সাথে থাকবে, ততদিন তার প্রতি আমরা নমনীয় থাকবো এবং ভালো ব্যবহার করবো। ৭৭৯
মুসলমানগণ মদীনা মুনাওয়ারার নিকটবর্তী হলে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইর ছেলে আবদুল্লাহ তার পিতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান এবং তাকে মদীনায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে বলেন, আপনি থেমে যান। আল্লাহর শপথ! রসূলুল্লাহ সা.-এর অনুমতি ছাড়া আপনাকে আমি মদীনায় প্রবেশ করতে দেবো না। রসূলুল্লাহ সা. এসে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে মদীনায় প্রবেশের অনুমতি দেন। তখন তার ছেলে আবদুল্লাহ তাকে মদীনায় প্রবেশের সুযোগ দেয়। ৭৮০

টিকাঃ
৭৭৮ আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ: ২/২৫৭।
৭৭৯ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/৩২১।
৭৮০ আল ওলা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম: ২০৯।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 ওহী আসতে দেরি হওয়ায় সাহাবীদের সাথে নবীজির পরামর্শ

📄 ওহী আসতে দেরি হওয়ায় সাহাবীদের সাথে নবীজির পরামর্শ


অন্যদিকে ওহী আসতেও দেরি হচ্ছিলো। রসূলুল্লাহ সা. আলী ইবনে আবু তালিব রা. ও উসামা ইবনে যায়েদ রা.-কে ডাকলেন তার স্ত্রীর বিচ্ছেদের ব্যাপারে তাদের সাথে পরামর্শের জন্য। আয়েশা রা. বলেন, উসামা ইবনে যায়েদ আমার পবিত্রতার ব্যাপারে জানতেন। সে অনুযায়ী তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার স্ত্রী সম্পর্কে আমরা ভাল ধারণাই পোষণ করি। আলী ইবনে আবু তালিব রা. বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ্ আপনার উপর কোনো পথ সংকীর্ণ করে দেননি এবং তিনি ছাড়া বহু নারী রয়েছেন। আপনি যদি দাসীকে জিজ্ঞেস করেন, সে আপনার কাছে সত্য ঘটনা বলবে।
তারপর রসূলুল্লাহ সা. আয়েশা রা.-এর দাসী বারীরাকে ডাকলেন এবং বললেন, হে বারীরা! তুমি কি তার মধ্যে সন্দেহজনক কিছু দেখেছো? বারীরা বললেন, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তার কসম! আমি এমন কোনো কিছু তার মধ্যে দেখিনি, যা আমাকে গোপন করতে হবে। তবে তিনি একজন অল্পবয়স্কা বালিকা। কখনও কখনও আটার খামির রেখে ঘুমিয়ে পড়তেন, ছাগলের বাচ্চা এসে তা খেয়ে ফেলতো।
এরপরে রসূলুল্লাহ সা. মিম্বরে দাঁড়ালেন। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর বিরুদ্ধে তিনি সমর্থন চাইলেন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে কে ওই ব্যক্তি থেকে আমাকে নিস্কৃতি দিতে পারবে, যে আমার স্ত্রীর ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি আমার স্ত্রী সম্পর্কে ভালই জানি এবং তারা এমন এক পুরুষ সম্পর্কে অভিযোগ এনেছে, যার সম্পর্কে আমি ভাল ব্যতীত কিছু জানি না। সে কখনও আমার অনুপস্থিতিতে আমার ঘরে আসেনি।
এ কথা শুনে সাআদ ইবনে মুআয আনসারী রা. দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তার বিরুদ্ধে আমি আপনাকে সাহায্য করবো, যদি সে আউস গোত্রের হয়, তবে আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেবো। আর যদি আমাদের ভাই খাযরাজ গোত্রের লোক হয়, তবে আপনি নির্দেশ দিলে আমি আপনার নির্দেশ কার্যকর করব।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 ইফকের ফেনার প্রভাব

📄 ইফকের ফেনার প্রভাব


আয়েশা রা. বলেন, এরপর খাযরাজ গোত্রের সর্দার সাআদ ইবনে উবাদা দাঁড়ালেন। তিনি একজন নেককার ব্যক্তি। কিন্তু এ সময় স্বগোত্র-প্রীতি তাকে উত্তেজিত করে তোলে। তিনি সাআদকে বললেন, চিরঞ্জীব আল্লাহর কসম! তুমি মিথ্যা বলেছো, তুমি তাকে হত্যা করতে পারবে না এবং তাকে হত্যা করার ক্ষমতা তুমি রাখো না। তারপর উসায়েদ ইবনে হুযায়ের দাঁড়ালেন-যিনি সাআদের চাচাতো ভাই-তিনি সাআদ ইবনে উবাদাকে বললেন, চিরঞ্জীব আল্লাহর কসম! তুমি মিথ্যা বলছো। আমরা অবশ্যই তাকে হত্যা করবো।
তুমি নিজেও মুনাফেক এবং মুনাফেকের পক্ষে প্রতিবাদ করছো। এতে আউস এবং খাযরাজ উভয় গোত্রের লোকেরা উত্তেজিত হয়ে উঠলো। তাদের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার মতো অবস্থা হলো। রসূলুল্লাহ সা. মিম্বরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রসূলুল্লাহ সা. অনেক চেষ্টা করে তাদের থামালেন এবং নিজেও চুপ হয়ে গেলেন।
আয়েশা রা. বলেন, আমি অনবরত কেঁদেই যাচ্ছিলাম। দুই রাত এক দিন ধরে আমি কাঁদলাম। পরদিন সকালে আব্বা আম্মা আমার কাছে এলেন। তারা আশংকা করছিলেন, কাঁদতে কাঁদতে আমার কলজে ফেটে যাবে!
তারা আমার কাছে বসে ছিলেন। এ সময় এক আনসারী নারী আমার কাছে আসতে চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলাম। তিনিও বসে আমার সঙ্গে কাঁদতে লাগলেন। এ অবস্থার মধ্যেই রসূলুল্লাহ সা. আমাদের ঘরে এলেন এবং সালাম দিয়ে বসলেন। রটনা শুরু হওয়ার পর সেদিনই প্রথম তিনি আমার কাছে বসলেন।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 নবীজি আয়েশা-এর কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন

📄 নবীজি আয়েশা-এর কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন


আয়েশা রা. বলেন, রসূল সা. একমাস অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু আমার সম্পর্কে কোনো ওহী আসেনি। তিনি আমার কাছে বসে তাশাহুদ পাঠ করলেন। তারপর বললেন, হে আয়েশা! তোমার সম্পর্কে এরূপ এরূপ কথা আমার কাছে পৌঁছেছে, তুমি যদি নির্দোষ হয়ে থাক, তবে অচিরেই আল্লাহ তাআলা তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করে দেবেন। আর যদি তুমি কোনো পাপে লিপ্ত হয়ে থাকো, তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তার কাছে তাওবা করো। কেননা, বান্দা যখন তার পাপ স্বীকার করে নেয় এবং আল্লাহর কাছে তাওবা করে, তখন আল্লাহ্ তার তাওবা কবুল করেন। আয়েশা রা. বললেন, যখন রসূলুল্লাহ সা. তার কথা শেষ করলেন, তখন আমার চোখের পানি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলো। এক ফোঁটা পানিও আর ঝরলো না। আমি আমার পিতাকে বললাম, আপনি রসূলুল্লাহ সা.-এর কথার জবাব দিন। তিনি বললেন, কী জবাব দেবো বুঝতে পারছি না। আমি আম্মাকে বললাম, আপনি রসূল সা.-এর কথার জবাব দিন। ততক্ষণে তিনি বললেন, আমি বুঝতে পারছি না কী বলবো। আমি তখন একজন অল্প বয়স্কা বালিকা, কুরআন খুব অধিক পড়িনি। তবুও আমি নিজেই বললাম, আল্লাহর কসম! আমি জানি, আপনারা এ ঘটনা শুনেছেন, এমনকি তা আপনারা সত্য বলে বিশ্বাসও করে নিয়েছেন। এখন যদি আমি বলি, আমি নির্দোষ এবং আল্লাহ্ ভালভাবেই জানেন আমি নির্দোষ, তবে আপনারা তা বিশ্বাস করবেন না। আর আমি যদি আপনাদের কাছে এ বিষয় স্বীকার করে নেই, অথচ আল্লাহ্ জানেন আমি তা থেকে নির্দোষ, তবে আপনারা আমার কথা বিশ্বাস করে নেবেন। আল্লাহর কসম! এ ক্ষেত্রে আমি আপনাদের জন্য ইউসুফ আ.-এর পিতার উক্তির চেয়ে উত্তম কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছি না। তিনি বলেছিলেন, فَصَبْرٌ جَمِيلٌ وَاللهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تصِفُوْنَ (অর্থাৎ উত্তম ধৈর্য ধারণ করছি এবং তোমরা যা বলছো সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া যায়।
তিনি বলেন, এরপর আমি আমার চেহারা ঘুরিয়ে নিলাম এবং কাত হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। এ সময় আমার বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ তাআলা আমার নির্দোষিতা প্রকাশ করে দেবেন। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি তখন কল্পনাও করতে পারিনি যে, আল্লাহ্ আমার সম্পর্কে এমন ওহী অবতীর্ণ করবেন যা যুগ যুগ ধরে তিলাওয়াত করা হবে। আমার দৃষ্টিতে আমার মর্যাদা এর চাইতে অনেক কম ছিল। আমি আশা করেছিলাম, হয়ত রসূলুল্লাহ সা. কোন স্বপ্ন দেখবেন, যে স্বপ্নে আল্লাহ তাআলা আমার নির্দোষিতা তাকে জানিয়ে দেবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00