📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 রাজনৈতিক দুর্দশিতা ও ঐক্য রক্ষা

📄 রাজনৈতিক দুর্দশিতা ও ঐক্য রক্ষা


ওমর রা.-এর প্রস্তাবের জবাবে রসূলুল্লাহ সা. বলেছিলেন, ওমর! আমি যদি তা করি তাহলে লোকেরা বলবে, মুহাম্মাদ নিজেই তার সহচরদের হত্যা করছে। তা করা যায় না। ৭৭২
রসূলুল্লাহ সা.-এর এই উক্তি থেকে এই শিক্ষা পাওয়া যায় যে, যথাসম্ভব নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত রাখা জরুরি। কেননা, একদিকে সবাই বলে, মুহাম্মাদ সা.-এর সাহাবীরা তাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। কাফেরদের বড় সেনাপতি আবু সুফিয়ানও এমন স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বেই তিনি বলেছিলেন, আমি এমন ভালোবাসতে কাউকে দেখিনি, যেভাবে মুহাম্মাদকে তার সাথিরা ভালোবাসে। ৭৭৩
ওমর রা.-এর প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে কিছু মানুষ বলতো, মুহাম্মাদ নিজেই তার সহচরদের হত্যা করছে। উপরোক্ত দু'টি পদক্ষেপে আকাশ-পাতাল প্রভেদ রয়েছে। নিঃসন্দেহে এমনটি হলে লোকমুখে তা ছড়িয়ে পড়তো। তখন শত্রুবাহিনী مسلمانوں মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেতো। তারা তো মনেপ্রাণে এমন সুযোগেরই সন্ধান করে বেড়াচ্ছে। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ সা. বিজ্ঞোচিত পদক্ষেপ নিলেন। কাফেরদের আশা তিনি পুরন করলেন না। ৭৭৪
মুনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই مسلمانوں মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ছড়াবার চেষ্টা করে। সে জাহেলি যুগের সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিতে চায়। এ প্রেক্ষিতে রসূলুল্লাহ সা. যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তার ইতিবাচক দিকগুলো হচ্ছে:
১. উক্ত ঘটনার পরপরই রসূলুল্লাহ সা. বাহিনীকে যাত্রার আদেশ দেন। কাফেলার সবাই সারাদিন সারারাত যাত্রা অব্যাহত রাখে। পর দিন রৌদ্রতাপে সাহাবায়ে কেরামের কষ্ট হলে রসূলুল্লাহ সা. যাত্রাবিরতির নির্দেশ দেন। দীর্ঘক্ষণ পথ চলার কারণে সবাই তখন ক্লান্ত। ফলে যাত্রাবিরতির সাথে সাথেই তারা নিদ্রার কোলে ঢলে পড়েন। ৭৭৫
রসূল সা. প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে এভাবেই উপরোক্ত ফেতনাকে অংকুরেই বিনষ্ট করে দেন। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর কথোপকথন সম্পর্কে কানাঘুষার সুযোগও তিনি রাখেননি।
২. রসূলুল্লাহ সা. মুসলমানদের ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টায় সফল হন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর কূটচাল নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য শক্তি প্রয়োগের পন্থা অবলম্বন করেননি। কেননা, مسلمانوں সরলপ্রাণ কিছু সদস্য না-বুঝে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর পক্ষ নিয়েছিল। রসূলুল্লাহ সা. তাকে শাস্তি দিলে তাদের মধ্যে গোত্রপ্রীতি জেগে ওঠার আশঙ্কা ছিল। ফলে কিছু লোক তার পক্ষে দাঁড়িয়ে যেতো। এতে বিনষ্ট হতো مسلمانوں ঐক্য। উপকারের চাইতে ক্ষতিই হতো তখন বেশি। এ ক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সা. দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। তিনি বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে গোত্রীয় সাম্প্রদায়িকতা থেকে সবাইকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। ৭৭৬
তার এমন দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞা তার নবী হওয়ার প্রমাণও বটে। ৭৭৭
উম্মতের জন্য এতে শিক্ষার খোরাক রয়েছে।
মুনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর সাথে রসূলুল্লাহ সা.-এর এমন কোমল আচরণ ও তাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুফল ছিল লক্ষণীয়। এরপর থেকে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই যখনই কোন অঘটন ঘটাতো, তার গোত্রের লোকেরাই তাকে শায়েস্তা করতো। তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করতো এবং পাকড়াও করতো। এই অবস্থা দেখে একদিন রসূলুল্লাহ সা. ওমর ইবনুল খাত্তাবকে বললেন, ওমর! পরিস্থির পরিবর্তনটা দেখছো তো? তুমি যেদিন আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে হত্যার পরামর্শ দিয়েছিলে সেদিন যদি তাকে হত্যা করা হতো তাহলে অনেকেই অপছন্দ করতো। কিন্তু আজ যদি তাকে হত্যার নির্দেশ দিই, তাহলে সেদিন যারা অপছন্দ করতো তারাই আজ তাকে হত্যা করবে।

টিকাঃ
৭৭২ আস সীরাতুন নববিয়‍্যাহ আসসহীহাহ: ২/৪০৯।
৭৭৩ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়‍্যাহ ৩/৪৬৩।
৭৭৪ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়্যাহ ৩/৪৬৩।
775 আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ: ২/২৫৫।
776 সুয়ার ওয়া ইবার মিনাল জিহাদিন নববী ফিল মদীনা: ২০২।
777 ফিকহুস সীরাহ লিলবুতী: ৪০৯।

ওমর রা.-এর প্রস্তাবের জবাবে রসূলুল্লাহ সা. বলেছিলেন, ওমর! আমি যদি তা করি তাহলে লোকেরা বলবে, মুহাম্মাদ নিজেই তার সহচরদের হত্যা করছে। তা করা যায় না। ৭৭২
রসূলুল্লাহ সা.-এর এই উক্তি থেকে এই শিক্ষা পাওয়া যায় যে, যথাসম্ভব নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত রাখা জরুরি। কেননা, একদিকে সবাই বলে, মুহাম্মাদ সা.-এর সাহাবীরা তাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। কাফেরদের বড় সেনাপতি আবু সুফিয়ানও এমন স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বেই তিনি বলেছিলেন, আমি এমন ভালোবাসতে কাউকে দেখিনি, যেভাবে মুহাম্মাদকে তার সাথিরা ভালোবাসে। ৭৭৩
ওমর রা.-এর প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে কিছু মানুষ বলতো, মুহাম্মাদ নিজেই তার সহচরদের হত্যা করছে। উপরোক্ত দু'টি পদক্ষেপে আকাশ-পাতাল প্রভেদ রয়েছে। নিঃসন্দেহে এমনটি হলে লোকমুখে তা ছড়িয়ে পড়তো। তখন শত্রুবাহিনী مسلمانوں মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেতো। তারা তো মনেপ্রাণে এমন সুযোগেরই সন্ধান করে বেড়াচ্ছে। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ সা. বিজ্ঞোচিত পদক্ষেপ নিলেন। কাফেরদের আশা তিনি পুরন করলেন না। ৭৭৪
মুনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই مسلمانوں মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ছড়াবার চেষ্টা করে। সে জাহেলি যুগের সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিতে চায়। এ প্রেক্ষিতে রসূলুল্লাহ সা. যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তার ইতিবাচক দিকগুলো হচ্ছে:
১. উক্ত ঘটনার পরপরই রসূলুল্লাহ সা. বাহিনীকে যাত্রার আদেশ দেন। কাফেলার সবাই সারাদিন সারারাত যাত্রা অব্যাহত রাখে। পর দিন রৌদ্রতাপে সাহাবায়ে কেরামের কষ্ট হলে রসূলুল্লাহ সা. যাত্রাবিরতির নির্দেশ দেন। দীর্ঘক্ষণ পথ চলার কারণে সবাই তখন ক্লান্ত। ফলে যাত্রাবিরতির সাথে সাথেই তারা নিদ্রার কোলে ঢলে পড়েন। ৭৭৫
রসূল সা. প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে এভাবেই উপরোক্ত ফেতনাকে অংকুরেই বিনষ্ট করে দেন। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর কথোপকথন সম্পর্কে কানাঘুষার সুযোগও তিনি রাখেননি।
২. রসূলুল্লাহ সা. মুসলমানদের ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টায় সফল হন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর কূটচাল নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য শক্তি প্রয়োগের পন্থা অবলম্বন করেননি। কেননা, مسلمانوں সরলপ্রাণ কিছু সদস্য না-বুঝে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর পক্ষ নিয়েছিল। রসূলুল্লাহ সা. তাকে শাস্তি দিলে তাদের মধ্যে গোত্রপ্রীতি জেগে ওঠার আশঙ্কা ছিল। ফলে কিছু লোক তার পক্ষে দাঁড়িয়ে যেতো। এতে বিনষ্ট হতো مسلمانوں ঐক্য। উপকারের চাইতে ক্ষতিই হতো তখন বেশি। এ ক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সা. দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। তিনি বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে গোত্রীয় সাম্প্রদায়িকতা থেকে সবাইকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। ৭৭৬
তার এমন দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞা তার নবী হওয়ার প্রমাণও বটে। ৭৭৭
উম্মতের জন্য এতে শিক্ষার খোরাক রয়েছে।
মুনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর সাথে রসূলুল্লাহ সা.-এর এমন কোমল আচরণ ও তাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুফল ছিল লক্ষণীয়। এরপর থেকে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই যখনই কোন অঘটন ঘটাতো, তার গোত্রের লোকেরাই তাকে শায়েস্তা করতো। তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করতো এবং পাকড়াও করতো। এই অবস্থা দেখে একদিন রসূলুল্লাহ সা. ওমর ইবনুল খাত্তাবকে বললেন, ওমর! পরিস্থির পরিবর্তনটা দেখছো তো? তুমি যেদিন আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে হত্যার পরামর্শ দিয়েছিলে সেদিন যদি তাকে হত্যা করা হতো তাহলে অনেকেই অপছন্দ করতো। কিন্তু আজ যদি তাকে হত্যার নির্দেশ দিই, তাহলে সেদিন যারা অপছন্দ করতো তারাই আজ তাকে হত্যা করবে।

টিকাঃ
৭৭২ আস সীরাতুন নববিয়‍্যাহ আসসহীহাহ: ২/৪০৯।
৭৭৩ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়‍্যাহ ৩/৪৬৩।
৭৭৪ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়্যাহ ৩/৪৬৩।
775 আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ: ২/২৫৫।
776 সুয়ার ওয়া ইবার মিনাল জিহাদিন নববী ফিল মদীনা: ২০২।
777 ফিকহুস সীরাহ লিলবুতী: ৪০৯।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 আমরা তার সাথে ভালো ব্যবহার করবো

📄 আমরা তার সাথে ভালো ব্যবহার করবো


ওমর রা. বললেন, আল্লাহর কসম, আমি জানি আল্লাহর রসূল সা.-এর সিদ্ধান্ত আমার সিদ্ধান্তের চাইতে অধিক কল্যাণকর। ৭৭৮
আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর ছেলে আবদুল্লাহ ছিলেন প্রকৃত মুসলমান। ছেলে আবদুল্লাহ তার পিতার ব্যাপারটা জানতে পেরে রসূলুল্লাহ সা.-কে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আমি শুনেছি আপনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে তার বিদ্বেষমূলক কথাবার্তার জন্য হত্যা করতে ইচ্ছুক। যদি সত্যিই তাই হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে নির্দেশ দিন আমি তার মাথা ধড় থেকে আলাদা করে আপনার কাছে পৌঁছে দিই। আল্লাহর কসম! খাযরাজ গোত্র জানে, ওই গোত্রে আমার চেয়ে পিতৃভক্ত লোক আর নেই। আমার আশংকা হয়, আপনি আমার পিতাকে হত্যার জন্য কাউকে নির্দেশ দেবেন আর সে তাকে হত্যা করবে, তখন আমার পিতৃহত্যাকারীকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখে হয়তো আমার প্রবৃত্তি কুপ্ররোচনা দিয়ে আমাকে অসহিষ্ণু করে তুলবে। ফলে তাকে হত্যা করে আমি জাহান্নামে যেতে বাধ্য হবো। কেননা সেক্ষেত্রে আমি একজন কাফিরের বদলায় একজন মুমিনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, না সে যতদিন আমাদের সাথে থাকবে, ততদিন তার প্রতি আমরা নমনীয় থাকবো এবং ভালো ব্যবহার করবো। ৭৭৯
মুসলমানগণ মদীনা মুনাওয়ারার নিকটবর্তী হলে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইর ছেলে আবদুল্লাহ তার পিতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান এবং তাকে মদীনায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে বলেন, আপনি থেমে যান। আল্লাহর শপথ! রসূলুল্লাহ সা.-এর অনুমতি ছাড়া আপনাকে আমি মদীনায় প্রবেশ করতে দেবো না। রসূলুল্লাহ সা. এসে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে মদীনায় প্রবেশের অনুমতি দেন। তখন তার ছেলে আবদুল্লাহ তাকে মদীনায় প্রবেশের সুযোগ দেয়। ৭৮০

টিকাঃ
৭৭৮ আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ: ২/২৫৭।
৭৭৯ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/৩২১।
৭৮০ আল ওলা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম: ২০৯।

ওমর রা. বললেন, আল্লাহর কসম, আমি জানি আল্লাহর রসূল সা.-এর সিদ্ধান্ত আমার সিদ্ধান্তের চাইতে অধিক কল্যাণকর। ৭৭৮
আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর ছেলে আবদুল্লাহ ছিলেন প্রকৃত মুসলমান। ছেলে আবদুল্লাহ তার পিতার ব্যাপারটা জানতে পেরে রসূলুল্লাহ সা.-কে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আমি শুনেছি আপনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে তার বিদ্বেষমূলক কথাবার্তার জন্য হত্যা করতে ইচ্ছুক। যদি সত্যিই তাই হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে নির্দেশ দিন আমি তার মাথা ধড় থেকে আলাদা করে আপনার কাছে পৌঁছে দিই। আল্লাহর কসম! খাযরাজ গোত্র জানে, ওই গোত্রে আমার চেয়ে পিতৃভক্ত লোক আর নেই। আমার আশংকা হয়, আপনি আমার পিতাকে হত্যার জন্য কাউকে নির্দেশ দেবেন আর সে তাকে হত্যা করবে, তখন আমার পিতৃহত্যাকারীকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখে হয়তো আমার প্রবৃত্তি কুপ্ররোচনা দিয়ে আমাকে অসহিষ্ণু করে তুলবে। ফলে তাকে হত্যা করে আমি জাহান্নামে যেতে বাধ্য হবো। কেননা সেক্ষেত্রে আমি একজন কাফিরের বদলায় একজন মুমিনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, না সে যতদিন আমাদের সাথে থাকবে, ততদিন তার প্রতি আমরা নমনীয় থাকবো এবং ভালো ব্যবহার করবো। ৭৭৯
মুসলমানগণ মদীনা মুনাওয়ারার নিকটবর্তী হলে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইর ছেলে আবদুল্লাহ তার পিতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান এবং তাকে মদীনায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে বলেন, আপনি থেমে যান। আল্লাহর শপথ! রসূলুল্লাহ সা.-এর অনুমতি ছাড়া আপনাকে আমি মদীনায় প্রবেশ করতে দেবো না। রসূলুল্লাহ সা. এসে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে মদীনায় প্রবেশের অনুমতি দেন। তখন তার ছেলে আবদুল্লাহ তাকে মদীনায় প্রবেশের সুযোগ দেয়। ৭৮০

টিকাঃ
৭৭৮ আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ: ২/২৫৭।
৭৭৯ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/৩২১।
৭৮০ আল ওলা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম: ২০৯।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 ওহী আসতে দেরি হওয়ায় সাহাবীদের সাথে নবীজির পরামর্শ

📄 ওহী আসতে দেরি হওয়ায় সাহাবীদের সাথে নবীজির পরামর্শ


অন্যদিকে ওহী আসতেও দেরি হচ্ছিলো। রসূলুল্লাহ সা. আলী ইবনে আবু তালিব রা. ও উসামা ইবনে যায়েদ রা.-কে ডাকলেন তার স্ত্রীর বিচ্ছেদের ব্যাপারে তাদের সাথে পরামর্শের জন্য। আয়েশা রা. বলেন, উসামা ইবনে যায়েদ আমার পবিত্রতার ব্যাপারে জানতেন। সে অনুযায়ী তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার স্ত্রী সম্পর্কে আমরা ভাল ধারণাই পোষণ করি। আলী ইবনে আবু তালিব রা. বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ্ আপনার উপর কোনো পথ সংকীর্ণ করে দেননি এবং তিনি ছাড়া বহু নারী রয়েছেন। আপনি যদি দাসীকে জিজ্ঞেস করেন, সে আপনার কাছে সত্য ঘটনা বলবে।
তারপর রসূলুল্লাহ সা. আয়েশা রা.-এর দাসী বারীরাকে ডাকলেন এবং বললেন, হে বারীরা! তুমি কি তার মধ্যে সন্দেহজনক কিছু দেখেছো? বারীরা বললেন, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তার কসম! আমি এমন কোনো কিছু তার মধ্যে দেখিনি, যা আমাকে গোপন করতে হবে। তবে তিনি একজন অল্পবয়স্কা বালিকা। কখনও কখনও আটার খামির রেখে ঘুমিয়ে পড়তেন, ছাগলের বাচ্চা এসে তা খেয়ে ফেলতো।
এরপরে রসূলুল্লাহ সা. মিম্বরে দাঁড়ালেন। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর বিরুদ্ধে তিনি সমর্থন চাইলেন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে কে ওই ব্যক্তি থেকে আমাকে নিস্কৃতি দিতে পারবে, যে আমার স্ত্রীর ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি আমার স্ত্রী সম্পর্কে ভালই জানি এবং তারা এমন এক পুরুষ সম্পর্কে অভিযোগ এনেছে, যার সম্পর্কে আমি ভাল ব্যতীত কিছু জানি না। সে কখনও আমার অনুপস্থিতিতে আমার ঘরে আসেনি।
এ কথা শুনে সাআদ ইবনে মুআয আনসারী রা. দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তার বিরুদ্ধে আমি আপনাকে সাহায্য করবো, যদি সে আউস গোত্রের হয়, তবে আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেবো। আর যদি আমাদের ভাই খাযরাজ গোত্রের লোক হয়, তবে আপনি নির্দেশ দিলে আমি আপনার নির্দেশ কার্যকর করব।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 ইফকের ফেনার প্রভাব

📄 ইফকের ফেনার প্রভাব


আয়েশা রা. বলেন, এরপর খাযরাজ গোত্রের সর্দার সাআদ ইবনে উবাদা দাঁড়ালেন। তিনি একজন নেককার ব্যক্তি। কিন্তু এ সময় স্বগোত্র-প্রীতি তাকে উত্তেজিত করে তোলে। তিনি সাআদকে বললেন, চিরঞ্জীব আল্লাহর কসম! তুমি মিথ্যা বলেছো, তুমি তাকে হত্যা করতে পারবে না এবং তাকে হত্যা করার ক্ষমতা তুমি রাখো না। তারপর উসায়েদ ইবনে হুযায়ের দাঁড়ালেন-যিনি সাআদের চাচাতো ভাই-তিনি সাআদ ইবনে উবাদাকে বললেন, চিরঞ্জীব আল্লাহর কসম! তুমি মিথ্যা বলছো। আমরা অবশ্যই তাকে হত্যা করবো।
তুমি নিজেও মুনাফেক এবং মুনাফেকের পক্ষে প্রতিবাদ করছো। এতে আউস এবং খাযরাজ উভয় গোত্রের লোকেরা উত্তেজিত হয়ে উঠলো। তাদের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার মতো অবস্থা হলো। রসূলুল্লাহ সা. মিম্বরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রসূলুল্লাহ সা. অনেক চেষ্টা করে তাদের থামালেন এবং নিজেও চুপ হয়ে গেলেন।
আয়েশা রা. বলেন, আমি অনবরত কেঁদেই যাচ্ছিলাম। দুই রাত এক দিন ধরে আমি কাঁদলাম। পরদিন সকালে আব্বা আম্মা আমার কাছে এলেন। তারা আশংকা করছিলেন, কাঁদতে কাঁদতে আমার কলজে ফেটে যাবে!
তারা আমার কাছে বসে ছিলেন। এ সময় এক আনসারী নারী আমার কাছে আসতে চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলাম। তিনিও বসে আমার সঙ্গে কাঁদতে লাগলেন। এ অবস্থার মধ্যেই রসূলুল্লাহ সা. আমাদের ঘরে এলেন এবং সালাম দিয়ে বসলেন। রটনা শুরু হওয়ার পর সেদিনই প্রথম তিনি আমার কাছে বসলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00