📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 জুয়াইরিয়া বিনতে হারেস-এর সাথে রসূলুল্লাহ সা.-এর বিয়ে

📄 জুয়াইরিয়া বিনতে হারেস-এর সাথে রসূলুল্লাহ সা.-এর বিয়ে


রসূলুল্লাহ সা. مسلمانوں মধ্যে বনু মুসতালিকের যুদ্ধবন্দীদের বণ্টন করেন। যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন জুয়াইরিয়াও। তিনি তার গোত্রের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. বনু মুসতালিকের বন্দীদেরকে বণ্টন করলে জুয়াইরিয়া বিনতে হারেস সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস অথবা তার চাচাত ভাইয়ের ভাগে পড়েন। জুয়াইরিয়া নিজের জন্য মুক্তিপণ নির্ধারণ করিয়ে নেয়। ইনি ছিলেন রূপসী নারী। যে কেউ তাকে দেখলে মুগ্ধ হতো। তিনি রসূলুলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে মুক্তিপণ পরিশোধে তার সাহায্য কামনা করেন।
আয়েশা রা. বলেন, আল্লাহর কসম! আমার কক্ষের দ্বারে তাকে দেখে আমি পছন্দ করতে পারিনি। আমি বুঝতে পারছিলাম যে, আমার কাছে তাকে যেমন সুন্দর লাগছে রসূল সা.-এর কাছেও তেমন সুন্দর লাগবে। তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর সামনে উপস্থিত হয়ে নিবেদন করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি জুয়াইরিয়া বিনতুল হারেস। আমার বাবা গোত্রের নেতা। আমি এমন বিপদে পতিত হয়েছি, যা আপনার কাছে গোপন নেই। আমি সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস অথবা তার চাচাত ভাইয়ের হিস্যায় পড়েছি এবং নিজেকে মুক্ত করার জন্য তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। চুক্তির অর্থ শোধ করার জন্য আপনার কাছে সাহায্য চাইতে এসেছি।
জবাবে রসূল সা. বললেন, তোমার জন্য এর চেয়ে ভালো কিছু করা হলে? তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! তা কী? নবীজি সা. বললেন, আমি তোমার মুক্তিপণ পরিশোধ করে তোমাকে বিবাহ করবো। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি কবুল করলাম।
রাবী হযরত আয়েশা রা. বলেন, লোকজনের কাছে খবর পৌঁছে গেলো যে, রসূলুল্লাহ সা. জুয়াইরিয়াকে বিয়ে করেছেন। তখন তারা তাদের হাতে বন্দী বনু মুসতালিকের সব লোককে রসূলুল্লাহ সা.-এর আত্মীয় বিবেচনা করে মুক্ত করে দেন। এভাবে বনু মুসতালিকের একশ' বন্দী শুধু রসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে জুয়াইরিয়ার বিয়ে হওয়ার কারণে মুক্তিলাভ করে। নিজ গোত্রের জন্য জুয়াইরিয়ার চেয়ে বেশি কল্যাণকর প্রমাণিত হয়েছেন এমন কোনো নারীর কথা আমার জানা নেই। ৭৫৬
এদিকে হারেস ইবনে যিরার যুদ্ধের পর তার কন্যাকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণ নিয়ে মদীনায় এলে রসূলুল্লাহ সা. তাকে ইসলামের দাওয়াত দেন। ফলে তিনিও ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেন। ৭৫৭
এ যুদ্ধ এমন বিশেষ যুদ্ধসমূহের অন্তর্ভুক্ত - যে যুদ্ধের কারণে পুরো গোত্র ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়। রসূলুল্লাহ সা.-এর বিবাহ সম্পর্কিত আত্মীয়দের বন্দী বানিয়ে রাখা সাহাবায়ে কেরামের কাছে সমীচীন মনে হয়নি। তাই সকল যুদ্ধবন্দীদের মুক্ত করে দেন তাঁরা। রসূলুল্লাহ সা. এবং সাহাবাদের উত্তম আচরণের কারণে পুরো গোত্র ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়।
সাহাবায়ে কেরام রসূলুল্লাহ সা.-কে কী পরিমাণ ভালোবাসতেন, তার অনন্য নজির আমরা দেখতে পাই যে, বনু মুস্তালিক গোত্রের বন্দীদের মুক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে। তাঁরা রসূলুল্লাহ সা.-এর ব্যক্তিত্বের মর্যাদা ও সম্মান গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।
জুওয়াইরিয়া বিনতে হারেসকে কী কারণে রসূলুল্লাহ সা. বিয়ে করেছিলেন? এর পেছনে বেশ ক’টি কারণ ছিল। যার একটি হচ্ছে, এই বিয়ের কারণে যেন তাঁর গোত্রের লোকেরা ঈমান আনার প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়। এই উদ্দেশ্য যে কত সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হলো, তা আমরা দেখতে পেলাম। এই বিয়ের ফলে বনু মুস্তালিকের নেতা হারেস মুসলমান হন। শুধু তাই নয়, বনু মুস্তালিক গোত্রের সবাই ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়। এই বিয়ের ফলে অন্যান্য অনেক কল্যাণের পাশাপাশি مسلمانوں শক্তি অনেক বৃদ্ধি পায়।
জুওয়াইরিয়া রা. প্রিয়নবী সা.-এর সহধর্মিণী ও উম্মুল মুমিনীন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নতসমূহ আলোচনা করতেন এবং তার ওপর পরিপূর্ণভাবে আমল করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ইবাদতগুজার, মুত্তাকী, ধর্মীয় বিধিবিধান সম্পর্কে অবগত, পরিচ্ছন্ন অন্তর ও মেধাবী নারী। আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে খুব ভালোবাসতেন। সবসময় مسلمانوں কল্যাণ চাইতেন।
জুওয়াইরিয়া রা. রসূলুল্লাহ সা. থেকে বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। বিশিষ্ট সাহাবায়ে কেরামও তাঁর কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। ইলম ও আমলের মাধ্যমে যা ছড়িয়ে পড়েছে ইসলামী সমাজে।
তাঁর কাছ থেকে হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, উবায়েদ ইবনে সাব্বাক, ইবনে আব্বাস-এর মুক্তদাস কুরাইব, মুজাহিদ, আবু আইয়্যুব ও ইয়াহইয়া ইবনে মালেক উল্লেখযোগ্য। মুসনাদে বাকী ইবনে মাখলাদ-এ জুওয়াইরিয়া রা.-এর সূত্রে সাতটি বর্ণনা লিখিত আছে। যার চারটি সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর সূত্রে সহীহ বুখারীতে একটি এবং সহীহ মুসলিমে দুটি রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে। উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া রা.-এর বর্ণনার মধ্যে শুক্রবারকে রোজার জন্য বিশেষায়িত না-করা, দোআর অধ্যায় সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী আদাদা খালকিহী ওরিযা নাফসিহী-এর সাওয়াব-সংক্রান্ত একটি হাদীস ও যাকাত অধ্যায়ে সদকা গ্রহীতার জন্য রসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে তা হাদিয়া হিসেবে উপস্থাপন করা ও আল্লাহর রসূলের তা গ্রহণ করার বৈধতা সংক্রান্ত হাদীসগুলো বর্ণিত হয়েছে। রসূলুল্লাহ সা.-এর সান্নিধ্যে ও উম্মুল মুমিনীন হওয়ার সৌভাগ্যের পাশাপাশি এ সাতটি হাদীসের মাধ্যমে উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া বিনতে হারেস রা. মুসলিমদের মাঝে চির অম্লান রয়েছেন এবং নববী ইলম প্রচারের সাওয়াব লাভ করে চলেছেন। ৭৬১
তিনি ছিলেন আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী, অল্পেতুষ্ট ও ধৈর্যশীল। বেশি বেশি তাসবীহ-তাহলীলে মগ্ন থাকতেন। ৭৬২
জুয়াইরিয়া স্বয়ং বর্ণনা করেন, একবার রসূলুল্লাহ সা. তার ঘর থেকে ফজরের নামায পড়াতে যান। জুয়াইরিয়া রা. তখন নামাযের স্থানে বসা ছিলেন। রসূলুল্লাহ সা. যখন নামায পড়িয়ে ফিরে আসেন তখনও তিনি নামাযের স্থানেই বসা ছিলেন। রসূলুল্লাহ সা. তাকে এই অবস্থায় দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আমি মসজিদে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তুমি কি একই অবস্থায় বসে আছ? জুয়াইরিয়া রা. বললেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর আমি চারটি বাক্য তিন বার পাঠ করেছি। তোমার এই দীর্ঘ সময় ধরে পড়া তাসবীহগুলোর সাথে যদি এই বাক্যগুলোর পরিমাপ করা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে আমার পাঠ করা বাক্যগুলো ভারি হবে। বাক্যগুলো হলো:
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ ৭৬৩
তিনি ৫০ হিজরিতে ইহলোক ত্যাগ করেন। আরেক বর্ণনায় ৫৬ হিজরির কথা এসেছে। ৭৬৪

টিকাঃ
৭৫৬ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/১৬০-১৬১।
৭৫৭ হাদীসল করআনিল কারীম আন গাযাওয়াতির রসূল: ১/৩১৭।
৭৬১ দাওরুল মারআহ ফি খিদমাতিল হাদীস: ৮৮-৮৯।
৭৬২ সাদিক উরজুন প্রণীত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ: ৪/২৫০।
৭৬৩ সহীহ মুসলিম: ২৭২৬।
৭৬৪ ইবনে সাদ প্রণীত তাবাকাতে কুবরা: ৮/১২১।

রসূলুল্লাহ সা. مسلمانوں মধ্যে বনু মুসতালিকের যুদ্ধবন্দীদের বণ্টন করেন। যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন জুয়াইরিয়াও। তিনি তার গোত্রের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. বনু মুসতালিকের বন্দীদেরকে বণ্টন করলে জুয়াইরিয়া বিনতে হারেস সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস অথবা তার চাচাত ভাইয়ের ভাগে পড়েন। জুয়াইরিয়া নিজের জন্য মুক্তিপণ নির্ধারণ করিয়ে নেয়। ইনি ছিলেন রূপসী নারী। যে কেউ তাকে দেখলে মুগ্ধ হতো। তিনি রসূলুলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে মুক্তিপণ পরিশোধে তার সাহায্য কামনা করেন।
আয়েশা রা. বলেন, আল্লাহর কসম! আমার কক্ষের দ্বারে তাকে দেখে আমি পছন্দ করতে পারিনি। আমি বুঝতে পারছিলাম যে, আমার কাছে তাকে যেমন সুন্দর লাগছে রসূল সা.-এর কাছেও তেমন সুন্দর লাগবে। তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর সামনে উপস্থিত হয়ে নিবেদন করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি জুয়াইরিয়া বিনতুল হারেস। আমার বাবা গোত্রের নেতা। আমি এমন বিপদে পতিত হয়েছি, যা আপনার কাছে গোপন নেই। আমি সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস অথবা তার চাচাত ভাইয়ের হিস্যায় পড়েছি এবং নিজেকে মুক্ত করার জন্য তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। চুক্তির অর্থ শোধ করার জন্য আপনার কাছে সাহায্য চাইতে এসেছি।
জবাবে রসূল সা. বললেন, তোমার জন্য এর চেয়ে ভালো কিছু করা হলে? তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! তা কী? নবীজি সা. বললেন, আমি তোমার মুক্তিপণ পরিশোধ করে তোমাকে বিবাহ করবো। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি কবুল করলাম।
রাবী হযরত আয়েশা রা. বলেন, লোকজনের কাছে খবর পৌঁছে গেলো যে, রসূলুল্লাহ সা. জুয়াইরিয়াকে বিয়ে করেছেন। তখন তারা তাদের হাতে বন্দী বনু মুসতালিকের সব লোককে রসূলুল্লাহ সা.-এর আত্মীয় বিবেচনা করে মুক্ত করে দেন। এভাবে বনু মুসতালিকের একশ' বন্দী শুধু রসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে জুয়াইরিয়ার বিয়ে হওয়ার কারণে মুক্তিলাভ করে। নিজ গোত্রের জন্য জুয়াইরিয়ার চেয়ে বেশি কল্যাণকর প্রমাণিত হয়েছেন এমন কোনো নারীর কথা আমার জানা নেই। ৭৫৬
এদিকে হারেস ইবনে যিরার যুদ্ধের পর তার কন্যাকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণ নিয়ে মদীনায় এলে রসূলুল্লাহ সা. তাকে ইসলামের দাওয়াত দেন। ফলে তিনিও ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেন। ৭৫৭
এ যুদ্ধ এমন বিশেষ যুদ্ধসমূহের অন্তর্ভুক্ত - যে যুদ্ধের কারণে পুরো গোত্র ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়। রসূলুল্লাহ সা.-এর বিবাহ সম্পর্কিত আত্মীয়দের বন্দী বানিয়ে রাখা সাহাবায়ে কেরামের কাছে সমীচীন মনে হয়নি। তাই সকল যুদ্ধবন্দীদের মুক্ত করে দেন তাঁরা। রসূলুল্লাহ সা. এবং সাহাবাদের উত্তম আচরণের কারণে পুরো গোত্র ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়।
সাহাবায়ে কেরام রসূলুল্লাহ সা.-কে কী পরিমাণ ভালোবাসতেন, তার অনন্য নজির আমরা দেখতে পাই যে, বনু মুস্তালিক গোত্রের বন্দীদের মুক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে। তাঁরা রসূলুল্লাহ সা.-এর ব্যক্তিত্বের মর্যাদা ও সম্মান গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।
জুওয়াইরিয়া বিনতে হারেসকে কী কারণে রসূলুল্লাহ সা. বিয়ে করেছিলেন? এর পেছনে বেশ ক’টি কারণ ছিল। যার একটি হচ্ছে, এই বিয়ের কারণে যেন তাঁর গোত্রের লোকেরা ঈমান আনার প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়। এই উদ্দেশ্য যে কত সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হলো, তা আমরা দেখতে পেলাম। এই বিয়ের ফলে বনু মুস্তালিকের নেতা হারেস মুসলমান হন। শুধু তাই নয়, বনু মুস্তালিক গোত্রের সবাই ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়। এই বিয়ের ফলে অন্যান্য অনেক কল্যাণের পাশাপাশি مسلمانوں শক্তি অনেক বৃদ্ধি পায়।
জুওয়াইরিয়া রা. প্রিয়নবী সা.-এর সহধর্মিণী ও উম্মুল মুমিনীন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নতসমূহ আলোচনা করতেন এবং তার ওপর পরিপূর্ণভাবে আমল করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ইবাদতগুজার, মুত্তাকী, ধর্মীয় বিধিবিধান সম্পর্কে অবগত, পরিচ্ছন্ন অন্তর ও মেধাবী নারী। আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে খুব ভালোবাসতেন। সবসময় مسلمانوں কল্যাণ চাইতেন।
জুওয়াইরিয়া রা. রসূলুল্লাহ সা. থেকে বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। বিশিষ্ট সাহাবায়ে কেরামও তাঁর কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। ইলম ও আমলের মাধ্যমে যা ছড়িয়ে পড়েছে ইসলামী সমাজে।
তাঁর কাছ থেকে হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, উবায়েদ ইবনে সাব্বাক, ইবনে আব্বাস-এর মুক্তদাস কুরাইব, মুজাহিদ, আবু আইয়্যুব ও ইয়াহইয়া ইবনে মালেক উল্লেখযোগ্য। মুসনাদে বাকী ইবনে মাখলাদ-এ জুওয়াইরিয়া রা.-এর সূত্রে সাতটি বর্ণনা লিখিত আছে। যার চারটি সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর সূত্রে সহীহ বুখারীতে একটি এবং সহীহ মুসলিমে দুটি রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে। উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া রা.-এর বর্ণনার মধ্যে শুক্রবারকে রোজার জন্য বিশেষায়িত না-করা, দোআর অধ্যায় সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী আদাদা খালকিহী ওরিযা নাফসিহী-এর সাওয়াব-সংক্রান্ত একটি হাদীস ও যাকাত অধ্যায়ে সদকা গ্রহীতার জন্য রসূলুল্লাহ সা.-এর দরবারে তা হাদিয়া হিসেবে উপস্থাপন করা ও আল্লাহর রসূলের তা গ্রহণ করার বৈধতা সংক্রান্ত হাদীসগুলো বর্ণিত হয়েছে। রসূলুল্লাহ সা.-এর সান্নিধ্যে ও উম্মুল মুমিনীন হওয়ার সৌভাগ্যের পাশাপাশি এ সাতটি হাদীসের মাধ্যমে উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া বিনতে হারেস রা. মুসলিমদের মাঝে চির অম্লান রয়েছেন এবং নববী ইলম প্রচারের সাওয়াব লাভ করে চলেছেন। ৭৬১
তিনি ছিলেন আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী, অল্পেতুষ্ট ও ধৈর্যশীল। বেশি বেশি তাসবীহ-তাহলীলে মগ্ন থাকতেন। ৭৬২
জুয়াইরিয়া স্বয়ং বর্ণনা করেন, একবার রসূলুল্লাহ সা. তার ঘর থেকে ফজরের নামায পড়াতে যান। জুয়াইরিয়া রা. তখন নামাযের স্থানে বসা ছিলেন। রসূলুল্লাহ সা. যখন নামায পড়িয়ে ফিরে আসেন তখনও তিনি নামাযের স্থানেই বসা ছিলেন। রসূলুল্লাহ সা. তাকে এই অবস্থায় দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আমি মসজিদে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তুমি কি একই অবস্থায় বসে আছ? জুয়াইরিয়া রা. বললেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর আমি চারটি বাক্য তিন বার পাঠ করেছি। তোমার এই দীর্ঘ সময় ধরে পড়া তাসবীহগুলোর সাথে যদি এই বাক্যগুলোর পরিমাপ করা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে আমার পাঠ করা বাক্যগুলো ভারি হবে। বাক্যগুলো হলো:
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ ৭৬৩
তিনি ৫০ হিজরিতে ইহলোক ত্যাগ করেন। আরেক বর্ণনায় ৫৬ হিজরির কথা এসেছে। ৭৬৪

টিকাঃ
৭৫৬ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/১৬০-১৬১।
৭৫৭ হাদীসল করআনিল কারীম আন গাযাওয়াতির রসূল: ১/৩১৭।
৭৬১ দাওরুল মারআহ ফি খিদমাতিল হাদীস: ৮৮-৮৯।
৭৬২ সাদিক উরজুন প্রণীত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ: ৪/২৫০।
৭৬৩ সহীহ মুসলিম: ২৭২৬।
৭৬৪ ইবনে সাদ প্রণীত তাবাকাতে কুবরা: ৮/১২১।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 মুনাফেকদের কূটচাল

📄 মুনাফেকদের কূটচাল


গাযওয়ায়ে বনু মুসতালিকে বেশ কিছু মুনাফেক অংশ নেয়। অথচ এর আগের গাযওয়াগুলোতে তারা পেছনে পড়ে থাকতো। এর কারণ হচ্ছে, এ যুদ্ধে مسلمانوں বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল বেশি। তাই গণিমতের লোভে তারা مسلمانوں সাথে চলে আসে। ৭৬৫
মুরাইসি কূপের পাদদেশে তারা ইসলাম ও मुसलमानों বিরুদ্ধে নিজেদের চিরাচরিত ঘৃণ্য মানসিকতা দেখায়। মুসলমানরা কোথাও বিজয়ী হলে মুনাফেকরা ক্রোধে ফেটে পড়তো। মনেপ্রাণে তারা مسلمانوں পরাজয় দেখতে চাইতো। গাযওয়ায়ে বনু মুসতালিকেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তারা যখন দেখলো মুসলমানরা বিজয়ী হতে যাচ্ছে, তখন ভেতরে ভেতরে তারা ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিরোধ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। এরপর তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর পরিবারের ব্যাপারে বদনাম রটিয়ে তাকে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করে। मुसलमानों ভেতরে বিশৃঙ্খলা তৈরি করাই ছিল ইফকের ঘটনার উদ্দেশ্য। যায়েদ ইবনে আরকাম ছিলেন এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। ৭৬৬
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। একদিন আমি আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর কথাবার্তা শুনতে পেলাম। সে বলছিল, তোমরা রসূলুল্লাহ সা.-এর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের কোনো কিছু দেবে না। যাতে বিরক্ত হয়ে তারা তাকে ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। আল্লাহর কসম, এবার যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই তাহলে সেখান থেকে সবলরা দুর্বলদেরকে তাড়িয়ে দেবে।
যায়েদ ইবনে আরকাম বলেন, আমি তার এসব কথা শুনে ফিরে এলাম এবং আমার চাচা সাআদ ইবনে উবাদা রা.-কে এ সম্পর্কে অবহিত করলাম। তিনি রসূলুল্লাহ সা.-কে এসব কথা জানালেন। রসূলুল্লাহ সা. আমাকে ডেকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সা. আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার সঙ্গীদের ডাকেন। তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে শপথ করে বলতে লাগলো, আমরা এমন কথা বলিনি। তাদের কথা শুনে রসূলুল্লাহ সা. ইবনে উবাইকে সত্যবাদী ও আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করলেন। ফলে আমি যারপরনাই ব্যথিত হলাম। আমি নির্জনে বসবাস করতে লাগলাম। আমার চাচাও ধমকের সুরে আমাকে বললেন, তুমি কি এটাই চেয়েছিলে যে, রসূলুল্লাহ সা. তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে তোমার ওপর ক্ষুব্ধ হবেন? এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা নিম্নের আয়াত অবতীর্ণ করেন:
إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ
যখন তোমার কাছে মুনাফেকরা আসে, তখন বলে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রসূল এবং আল্লাহ জানেন যে, অবশ্যই তুমি তার রসূল। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, অবশ্যই মুনাফেকরা মিথ্যাবাদী। ৭৬৭
অতঃপর রসূলুল্লাহ সা. আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণী শুনিয়ে বলেন, হে যায়েদ, আল্লাহ তাআলা তোমাকে সত্যবাদী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ৭৬৮
মুরাইসি কূপের পাদদেশে ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধকে ছিন্নভিন্ন করে মুনাফেকরা যে জাহেলি যুগের সাম্প্রদায়িকতা জাগিয়ে তোলার ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালিয়েছিল, তার আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী হলেন জাবের রা.। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ঘটনাক্রমে কোনো এক মুহাজির সাহাবী একজন আনসারী সাহাবীকে লাথি মেরে বসেন। আনসারী ব্যক্তি চিৎকার করে বলে, হে আনসাররা! অন্যদিকে তাদের বিরুদ্ধে মুহাজির ব্যক্তি মুহাজিরদের আহ্বান করতে থাকে। তাদের এরকম ডাকাডাকি শুনে রসূলুল্লাহ সা. বলেন, জাহেলি যুগের ডাকাডাকি কেন?
রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করে লোকজন বলতে লাগলো, একজন মুহাজির ব্যক্তি কোনো এক আনসারী সাহাবীকে লাথি মেরেছে। যার ফলে এই ঘটনা ঘটেছে। জবাবে রসূলুল্লাহ সা. বলেন, এসব কথা বাদ দাও।
আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এ কথা শুনে বলে ওঠে, মুহাজির সাহাবীরা কি এমনটি করেছে? আল্লাহর কসম, এবার যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই তাহলে সবলরা দুর্বলদেরকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সা.-কে এ সম্পর্কে জানানো হয়। শুনে ওমর রা. আরজ করেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন এই মুনাফেককে হত্যা করার। রসূলুল্লাহ সা. তাকে এ বলে নিবৃত করেন, তাকে এড়িয়ে যাও। আমি যদি তা করি তাহলে লোকেরা বলবে, মুহাম্মাদ নিজেই তার সহচরদের হত্যা করছে। ৭৬৯
অন্য এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, তিনি যখন এই খবর শুনলেন তখন তার কাছে ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, আব্বাদ ইবনে বিশরকে নির্দেশ দিন তাকে যমের ঘরে পাঠাক। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, উমর! আমি যদি তা করি তাহলে লোকেরা বলবে, মুহাম্মাদ নিজেই তার সহচরদের হত্যা করছে। তা করা যায় না। তবে তুমি এখনই এখান থেকে রওনা হবার নির্দেশ সবাইকে জানিয়ে দাও।
যে সময় এ নির্দেশ দেয়া হলো সে সময় সাধারণত রসূলুল্লাহ সা. যাত্রা শুরু করতেন না। তথাপি সবাই রওনা হলো। ৭৭০
আবদুল্লাহ ইবনে উবাই যখন জানতে পারলো, যায়েদ ইবনে আরকাম তার কথাগুলো রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে বলে দিয়েছেন, তখন সে রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে ছুটে গিয়ে কসম খেয়ে বলতে লাগলো, যায়েদ যা বলেছে, আমি সেসব কথা বলিনি। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই যেহেতু স্বগোত্রে খুবই সম্মানিত লোক বলে গণ্য হতো, তাই রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট যেসব আনসারী সাহাবী ছিলেন তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যায়েদ হয়তো ভুল শুনেছে এবং সে যা শুনেছে তা হয়তো পুরোপুরি মনে রাখতে পারেনি। এভাবে তারা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের প্রতি একটু সৌজন্য দেখালেন এবং তাকে বাঁচিয়ে দিলেন।
রসূলুল্লাহ সা. রওনা হলেন। পথে তার সাথে দেখা করলেন উসাইদ ইবনে হুযাইর রা.। রসূল সা.-কে সালাম দিয়ে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল, আপনি বড়ই অসুবিধাজনক সময়ে যাত্রা করেছেন। সাধারণত এরকম সময়ে আপনি কোথাও যাত্রা করেন না। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তোমাদের সঙ্গী লোকটি কি বলেছে তা শোনোনি? তিনি বললেন, কোন সঙ্গী? রসূলুল্লাহ সা. বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে উবাই। উসায়েদ রা. বললেন, সে কী বলেছে? রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তার ধারণা সে যদি মদীনায় ফিরে যেতে পারে তাহলে সম্মানিতরা লাঞ্ছিতদের সেখান থেকে বের করে দেবে। উসায়েদ বললো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি চাইলে তাকে আমরা বের করে দিতে পারি। সত্যিই সে অত্যন্ত হীন ও নিচ প্রকৃতির লোক আর আপনি মহান। তিনি আরো বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তার প্রতি একটু নমনীয় হোন। আল্লাহর কসম, আপনাকে আল্লাহ এমন সময় এনেছেন, যখন তার গোত্র তাকে মুকুট পরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাই সে মনে করে আপনি তার থেকে রাজত্ব কেড়ে নিয়েছেন।
এরপর রসূলুল্লাহ সা. তার সাহাবীদের সাথে নিয়ে একদিন একরাত ধরে পথ চললেন। প্রচণ্ড রোদে পথ চলতে তাদের অসহনীয় কষ্ট হচ্ছিলো। তাই এক জায়গায় যাত্রাবিরতি করলেন। মাটিতে নামতেই সবাই ঘুমিয়ে পড়লো। আগের দিন আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের কথায় লোকদের মধ্যে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ার সম্ভাবনা ছিল, তা থেকে মনোযোগ ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই রসূলুল্লাহ সা. এভাবে অসময়ে যাত্রা করেছিলেন। কুরআন শরীফের সূরা মুনাফেকুনের উক্ত আয়াত আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার মতো লোকদের সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়। রসূলুল্লাহ সা. যায়েদ ইবনে আরকামের কানে হাত রেখে বললেন, এই ব্যক্তি তার কানের সাহায্যে আল্লাহর ওয়াদা পালন করেছে। ৭১

টিকাঃ
৭৮০ হাদীসুল কুরআনিল কারীম আন গাযাওয়াতির রসূল: ১/৩১৮।
৭৬৬ আস সিরাতুস সহীহাহ লিল উমরি: ২/৪০৮।
৭৬৭ সূরা মুনাফিকুন: ১।
৭৬৮ আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ ২/৪০৮।
৭৬৯ আস সীরাতুন নববি‍্যাহ আসসহীহাহ: ২/৪০৯।
৭৭০ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/৩১৯।
৭১ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/৩১৯-৩২০।

গাযওয়ায়ে বনু মুসতালিকে বেশ কিছু মুনাফেক অংশ নেয়। অথচ এর আগের গাযওয়াগুলোতে তারা পেছনে পড়ে থাকতো। এর কারণ হচ্ছে, এ যুদ্ধে مسلمانوں বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল বেশি। তাই গণিমতের লোভে তারা مسلمانوں সাথে চলে আসে। ৭৬৫
মুরাইসি কূপের পাদদেশে তারা ইসলাম ও मुसलमानों বিরুদ্ধে নিজেদের চিরাচরিত ঘৃণ্য মানসিকতা দেখায়। মুসলমানরা কোথাও বিজয়ী হলে মুনাফেকরা ক্রোধে ফেটে পড়তো। মনেপ্রাণে তারা مسلمانوں পরাজয় দেখতে চাইতো। গাযওয়ায়ে বনু মুসতালিকেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তারা যখন দেখলো মুসলমানরা বিজয়ী হতে যাচ্ছে, তখন ভেতরে ভেতরে তারা ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিরোধ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। এরপর তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর পরিবারের ব্যাপারে বদনাম রটিয়ে তাকে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করে। मुसलमानों ভেতরে বিশৃঙ্খলা তৈরি করাই ছিল ইফকের ঘটনার উদ্দেশ্য। যায়েদ ইবনে আরকাম ছিলেন এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। ৭৬৬
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। একদিন আমি আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর কথাবার্তা শুনতে পেলাম। সে বলছিল, তোমরা রসূলুল্লাহ সা.-এর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের কোনো কিছু দেবে না। যাতে বিরক্ত হয়ে তারা তাকে ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। আল্লাহর কসম, এবার যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই তাহলে সেখান থেকে সবলরা দুর্বলদেরকে তাড়িয়ে দেবে।
যায়েদ ইবনে আরকাম বলেন, আমি তার এসব কথা শুনে ফিরে এলাম এবং আমার চাচা সাআদ ইবনে উবাদা রা.-কে এ সম্পর্কে অবহিত করলাম। তিনি রসূলুল্লাহ সা.-কে এসব কথা জানালেন। রসূলুল্লাহ সা. আমাকে ডেকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সা. আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার সঙ্গীদের ডাকেন। তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এসে শপথ করে বলতে লাগলো, আমরা এমন কথা বলিনি। তাদের কথা শুনে রসূলুল্লাহ সা. ইবনে উবাইকে সত্যবাদী ও আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করলেন। ফলে আমি যারপরনাই ব্যথিত হলাম। আমি নির্জনে বসবাস করতে লাগলাম। আমার চাচাও ধমকের সুরে আমাকে বললেন, তুমি কি এটাই চেয়েছিলে যে, রসূলুল্লাহ সা. তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে তোমার ওপর ক্ষুব্ধ হবেন? এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা নিম্নের আয়াত অবতীর্ণ করেন:
إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ
যখন তোমার কাছে মুনাফেকরা আসে, তখন বলে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আপনি আল্লাহর রসূল এবং আল্লাহ জানেন যে, অবশ্যই তুমি তার রসূল। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, অবশ্যই মুনাফেকরা মিথ্যাবাদী। ৭৬৭
অতঃপর রসূলুল্লাহ সা. আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণী শুনিয়ে বলেন, হে যায়েদ, আল্লাহ তাআলা তোমাকে সত্যবাদী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ৭৬৮
মুরাইসি কূপের পাদদেশে ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধকে ছিন্নভিন্ন করে মুনাফেকরা যে জাহেলি যুগের সাম্প্রদায়িকতা জাগিয়ে তোলার ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালিয়েছিল, তার আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী হলেন জাবের রা.। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ঘটনাক্রমে কোনো এক মুহাজির সাহাবী একজন আনসারী সাহাবীকে লাথি মেরে বসেন। আনসারী ব্যক্তি চিৎকার করে বলে, হে আনসাররা! অন্যদিকে তাদের বিরুদ্ধে মুহাজির ব্যক্তি মুহাজিরদের আহ্বান করতে থাকে। তাদের এরকম ডাকাডাকি শুনে রসূলুল্লাহ সা. বলেন, জাহেলি যুগের ডাকাডাকি কেন?
রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করে লোকজন বলতে লাগলো, একজন মুহাজির ব্যক্তি কোনো এক আনসারী সাহাবীকে লাথি মেরেছে। যার ফলে এই ঘটনা ঘটেছে। জবাবে রসূলুল্লাহ সা. বলেন, এসব কথা বাদ দাও।
আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এ কথা শুনে বলে ওঠে, মুহাজির সাহাবীরা কি এমনটি করেছে? আল্লাহর কসম, এবার যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই তাহলে সবলরা দুর্বলদেরকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সা.-কে এ সম্পর্কে জানানো হয়। শুনে ওমর রা. আরজ করেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন এই মুনাফেককে হত্যা করার। রসূলুল্লাহ সা. তাকে এ বলে নিবৃত করেন, তাকে এড়িয়ে যাও। আমি যদি তা করি তাহলে লোকেরা বলবে, মুহাম্মাদ নিজেই তার সহচরদের হত্যা করছে। ৭৬৯
অন্য এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, তিনি যখন এই খবর শুনলেন তখন তার কাছে ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, আব্বাদ ইবনে বিশরকে নির্দেশ দিন তাকে যমের ঘরে পাঠাক। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, উমর! আমি যদি তা করি তাহলে লোকেরা বলবে, মুহাম্মাদ নিজেই তার সহচরদের হত্যা করছে। তা করা যায় না। তবে তুমি এখনই এখান থেকে রওনা হবার নির্দেশ সবাইকে জানিয়ে দাও।
যে সময় এ নির্দেশ দেয়া হলো সে সময় সাধারণত রসূলুল্লাহ সা. যাত্রা শুরু করতেন না। তথাপি সবাই রওনা হলো। ৭৭০
আবদুল্লাহ ইবনে উবাই যখন জানতে পারলো, যায়েদ ইবনে আরকাম তার কথাগুলো রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে বলে দিয়েছেন, তখন সে রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে ছুটে গিয়ে কসম খেয়ে বলতে লাগলো, যায়েদ যা বলেছে, আমি সেসব কথা বলিনি। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই যেহেতু স্বগোত্রে খুবই সম্মানিত লোক বলে গণ্য হতো, তাই রসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট যেসব আনসারী সাহাবী ছিলেন তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যায়েদ হয়তো ভুল শুনেছে এবং সে যা শুনেছে তা হয়তো পুরোপুরি মনে রাখতে পারেনি। এভাবে তারা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের প্রতি একটু সৌজন্য দেখালেন এবং তাকে বাঁচিয়ে দিলেন।
রসূলুল্লাহ সা. রওনা হলেন। পথে তার সাথে দেখা করলেন উসাইদ ইবনে হুযাইর রা.। রসূল সা.-কে সালাম দিয়ে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল, আপনি বড়ই অসুবিধাজনক সময়ে যাত্রা করেছেন। সাধারণত এরকম সময়ে আপনি কোথাও যাত্রা করেন না। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তোমাদের সঙ্গী লোকটি কি বলেছে তা শোনোনি? তিনি বললেন, কোন সঙ্গী? রসূলুল্লাহ সা. বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে উবাই। উসায়েদ রা. বললেন, সে কী বলেছে? রসূলুল্লাহ সা. বললেন, তার ধারণা সে যদি মদীনায় ফিরে যেতে পারে তাহলে সম্মানিতরা লাঞ্ছিতদের সেখান থেকে বের করে দেবে। উসায়েদ বললো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি চাইলে তাকে আমরা বের করে দিতে পারি। সত্যিই সে অত্যন্ত হীন ও নিচ প্রকৃতির লোক আর আপনি মহান। তিনি আরো বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তার প্রতি একটু নমনীয় হোন। আল্লাহর কসম, আপনাকে আল্লাহ এমন সময় এনেছেন, যখন তার গোত্র তাকে মুকুট পরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাই সে মনে করে আপনি তার থেকে রাজত্ব কেড়ে নিয়েছেন।
এরপর রসূলুল্লাহ সা. তার সাহাবীদের সাথে নিয়ে একদিন একরাত ধরে পথ চললেন। প্রচণ্ড রোদে পথ চলতে তাদের অসহনীয় কষ্ট হচ্ছিলো। তাই এক জায়গায় যাত্রাবিরতি করলেন। মাটিতে নামতেই সবাই ঘুমিয়ে পড়লো। আগের দিন আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের কথায় লোকদের মধ্যে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ার সম্ভাবনা ছিল, তা থেকে মনোযোগ ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই রসূলুল্লাহ সা. এভাবে অসময়ে যাত্রা করেছিলেন। কুরআন শরীফের সূরা মুনাফেকুনের উক্ত আয়াত আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার মতো লোকদের সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়। রসূলুল্লাহ সা. যায়েদ ইবনে আরকামের কানে হাত রেখে বললেন, এই ব্যক্তি তার কানের সাহায্যে আল্লাহর ওয়াদা পালন করেছে। ৭১

টিকাঃ
৭৮০ হাদীসুল কুরআনিল কারীম আন গাযাওয়াতির রসূল: ১/৩১৮।
৭৬৬ আস সিরাতুস সহীহাহ লিল উমরি: ২/৪০৮।
৭৬৭ সূরা মুনাফিকুন: ১।
৭৬৮ আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ ২/৪০৮।
৭৬৯ আস সীরাতুন নববি‍্যাহ আসসহীহাহ: ২/৪০৯।
৭৭০ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/৩১৯।
৭১ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/৩১৯-৩২০।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 রাজনৈতিক দুর্দশিতা ও ঐক্য রক্ষা

📄 রাজনৈতিক দুর্দশিতা ও ঐক্য রক্ষা


ওমর রা.-এর প্রস্তাবের জবাবে রসূলুল্লাহ সা. বলেছিলেন, ওমর! আমি যদি তা করি তাহলে লোকেরা বলবে, মুহাম্মাদ নিজেই তার সহচরদের হত্যা করছে। তা করা যায় না। ৭৭২
রসূলুল্লাহ সা.-এর এই উক্তি থেকে এই শিক্ষা পাওয়া যায় যে, যথাসম্ভব নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত রাখা জরুরি। কেননা, একদিকে সবাই বলে, মুহাম্মাদ সা.-এর সাহাবীরা তাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। কাফেরদের বড় সেনাপতি আবু সুফিয়ানও এমন স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বেই তিনি বলেছিলেন, আমি এমন ভালোবাসতে কাউকে দেখিনি, যেভাবে মুহাম্মাদকে তার সাথিরা ভালোবাসে। ৭৭৩
ওমর রা.-এর প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে কিছু মানুষ বলতো, মুহাম্মাদ নিজেই তার সহচরদের হত্যা করছে। উপরোক্ত দু'টি পদক্ষেপে আকাশ-পাতাল প্রভেদ রয়েছে। নিঃসন্দেহে এমনটি হলে লোকমুখে তা ছড়িয়ে পড়তো। তখন শত্রুবাহিনী مسلمانوں মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেতো। তারা তো মনেপ্রাণে এমন সুযোগেরই সন্ধান করে বেড়াচ্ছে। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ সা. বিজ্ঞোচিত পদক্ষেপ নিলেন। কাফেরদের আশা তিনি পুরন করলেন না। ৭৭৪
মুনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই مسلمانوں মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ছড়াবার চেষ্টা করে। সে জাহেলি যুগের সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিতে চায়। এ প্রেক্ষিতে রসূলুল্লাহ সা. যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তার ইতিবাচক দিকগুলো হচ্ছে:
১. উক্ত ঘটনার পরপরই রসূলুল্লাহ সা. বাহিনীকে যাত্রার আদেশ দেন। কাফেলার সবাই সারাদিন সারারাত যাত্রা অব্যাহত রাখে। পর দিন রৌদ্রতাপে সাহাবায়ে কেরামের কষ্ট হলে রসূলুল্লাহ সা. যাত্রাবিরতির নির্দেশ দেন। দীর্ঘক্ষণ পথ চলার কারণে সবাই তখন ক্লান্ত। ফলে যাত্রাবিরতির সাথে সাথেই তারা নিদ্রার কোলে ঢলে পড়েন। ৭৭৫
রসূল সা. প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে এভাবেই উপরোক্ত ফেতনাকে অংকুরেই বিনষ্ট করে দেন। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর কথোপকথন সম্পর্কে কানাঘুষার সুযোগও তিনি রাখেননি।
২. রসূলুল্লাহ সা. মুসলমানদের ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টায় সফল হন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর কূটচাল নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য শক্তি প্রয়োগের পন্থা অবলম্বন করেননি। কেননা, مسلمانوں সরলপ্রাণ কিছু সদস্য না-বুঝে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর পক্ষ নিয়েছিল। রসূলুল্লাহ সা. তাকে শাস্তি দিলে তাদের মধ্যে গোত্রপ্রীতি জেগে ওঠার আশঙ্কা ছিল। ফলে কিছু লোক তার পক্ষে দাঁড়িয়ে যেতো। এতে বিনষ্ট হতো مسلمانوں ঐক্য। উপকারের চাইতে ক্ষতিই হতো তখন বেশি। এ ক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সা. দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। তিনি বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে গোত্রীয় সাম্প্রদায়িকতা থেকে সবাইকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। ৭৭৬
তার এমন দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞা তার নবী হওয়ার প্রমাণও বটে। ৭৭৭
উম্মতের জন্য এতে শিক্ষার খোরাক রয়েছে।
মুনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর সাথে রসূলুল্লাহ সা.-এর এমন কোমল আচরণ ও তাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুফল ছিল লক্ষণীয়। এরপর থেকে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই যখনই কোন অঘটন ঘটাতো, তার গোত্রের লোকেরাই তাকে শায়েস্তা করতো। তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করতো এবং পাকড়াও করতো। এই অবস্থা দেখে একদিন রসূলুল্লাহ সা. ওমর ইবনুল খাত্তাবকে বললেন, ওমর! পরিস্থির পরিবর্তনটা দেখছো তো? তুমি যেদিন আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে হত্যার পরামর্শ দিয়েছিলে সেদিন যদি তাকে হত্যা করা হতো তাহলে অনেকেই অপছন্দ করতো। কিন্তু আজ যদি তাকে হত্যার নির্দেশ দিই, তাহলে সেদিন যারা অপছন্দ করতো তারাই আজ তাকে হত্যা করবে।

টিকাঃ
৭৭২ আস সীরাতুন নববিয়‍্যাহ আসসহীহাহ: ২/৪০৯।
৭৭৩ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়‍্যাহ ৩/৪৬৩।
৭৭৪ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়্যাহ ৩/৪৬৩।
775 আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ: ২/২৫৫।
776 সুয়ার ওয়া ইবার মিনাল জিহাদিন নববী ফিল মদীনা: ২০২।
777 ফিকহুস সীরাহ লিলবুতী: ৪০৯।

ওমর রা.-এর প্রস্তাবের জবাবে রসূলুল্লাহ সা. বলেছিলেন, ওমর! আমি যদি তা করি তাহলে লোকেরা বলবে, মুহাম্মাদ নিজেই তার সহচরদের হত্যা করছে। তা করা যায় না। ৭৭২
রসূলুল্লাহ সা.-এর এই উক্তি থেকে এই শিক্ষা পাওয়া যায় যে, যথাসম্ভব নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত রাখা জরুরি। কেননা, একদিকে সবাই বলে, মুহাম্মাদ সা.-এর সাহাবীরা তাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। কাফেরদের বড় সেনাপতি আবু সুফিয়ানও এমন স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বেই তিনি বলেছিলেন, আমি এমন ভালোবাসতে কাউকে দেখিনি, যেভাবে মুহাম্মাদকে তার সাথিরা ভালোবাসে। ৭৭৩
ওমর রা.-এর প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে কিছু মানুষ বলতো, মুহাম্মাদ নিজেই তার সহচরদের হত্যা করছে। উপরোক্ত দু'টি পদক্ষেপে আকাশ-পাতাল প্রভেদ রয়েছে। নিঃসন্দেহে এমনটি হলে লোকমুখে তা ছড়িয়ে পড়তো। তখন শত্রুবাহিনী مسلمانوں মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেতো। তারা তো মনেপ্রাণে এমন সুযোগেরই সন্ধান করে বেড়াচ্ছে। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ সা. বিজ্ঞোচিত পদক্ষেপ নিলেন। কাফেরদের আশা তিনি পুরন করলেন না। ৭৭৪
মুনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই مسلمانوں মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ছড়াবার চেষ্টা করে। সে জাহেলি যুগের সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিতে চায়। এ প্রেক্ষিতে রসূলুল্লাহ সা. যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তার ইতিবাচক দিকগুলো হচ্ছে:
১. উক্ত ঘটনার পরপরই রসূলুল্লাহ সা. বাহিনীকে যাত্রার আদেশ দেন। কাফেলার সবাই সারাদিন সারারাত যাত্রা অব্যাহত রাখে। পর দিন রৌদ্রতাপে সাহাবায়ে কেরামের কষ্ট হলে রসূলুল্লাহ সা. যাত্রাবিরতির নির্দেশ দেন। দীর্ঘক্ষণ পথ চলার কারণে সবাই তখন ক্লান্ত। ফলে যাত্রাবিরতির সাথে সাথেই তারা নিদ্রার কোলে ঢলে পড়েন। ৭৭৫
রসূল সা. প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে এভাবেই উপরোক্ত ফেতনাকে অংকুরেই বিনষ্ট করে দেন। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর কথোপকথন সম্পর্কে কানাঘুষার সুযোগও তিনি রাখেননি।
২. রসূলুল্লাহ সা. মুসলমানদের ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টায় সফল হন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর কূটচাল নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য শক্তি প্রয়োগের পন্থা অবলম্বন করেননি। কেননা, مسلمانوں সরলপ্রাণ কিছু সদস্য না-বুঝে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর পক্ষ নিয়েছিল। রসূলুল্লাহ সা. তাকে শাস্তি দিলে তাদের মধ্যে গোত্রপ্রীতি জেগে ওঠার আশঙ্কা ছিল। ফলে কিছু লোক তার পক্ষে দাঁড়িয়ে যেতো। এতে বিনষ্ট হতো مسلمانوں ঐক্য। উপকারের চাইতে ক্ষতিই হতো তখন বেশি। এ ক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সা. দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। তিনি বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে গোত্রীয় সাম্প্রদায়িকতা থেকে সবাইকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। ৭৭৬
তার এমন দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞা তার নবী হওয়ার প্রমাণও বটে। ৭৭৭
উম্মতের জন্য এতে শিক্ষার খোরাক রয়েছে।
মুনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর সাথে রসূলুল্লাহ সা.-এর এমন কোমল আচরণ ও তাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুফল ছিল লক্ষণীয়। এরপর থেকে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই যখনই কোন অঘটন ঘটাতো, তার গোত্রের লোকেরাই তাকে শায়েস্তা করতো। তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করতো এবং পাকড়াও করতো। এই অবস্থা দেখে একদিন রসূলুল্লাহ সা. ওমর ইবনুল খাত্তাবকে বললেন, ওমর! পরিস্থির পরিবর্তনটা দেখছো তো? তুমি যেদিন আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে হত্যার পরামর্শ দিয়েছিলে সেদিন যদি তাকে হত্যা করা হতো তাহলে অনেকেই অপছন্দ করতো। কিন্তু আজ যদি তাকে হত্যার নির্দেশ দিই, তাহলে সেদিন যারা অপছন্দ করতো তারাই আজ তাকে হত্যা করবে।

টিকাঃ
৭৭২ আস সীরাতুন নববিয়‍্যাহ আসসহীহাহ: ২/৪০৯।
৭৭৩ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়‍্যাহ ৩/৪৬৩।
৭৭৪ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়্যাহ ৩/৪৬৩।
775 আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ: ২/২৫৫।
776 সুয়ার ওয়া ইবার মিনাল জিহাদিন নববী ফিল মদীনা: ২০২।
777 ফিকহুস সীরাহ লিলবুতী: ৪০৯।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 আমরা তার সাথে ভালো ব্যবহার করবো

📄 আমরা তার সাথে ভালো ব্যবহার করবো


ওমর রা. বললেন, আল্লাহর কসম, আমি জানি আল্লাহর রসূল সা.-এর সিদ্ধান্ত আমার সিদ্ধান্তের চাইতে অধিক কল্যাণকর। ৭৭৮
আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর ছেলে আবদুল্লাহ ছিলেন প্রকৃত মুসলমান। ছেলে আবদুল্লাহ তার পিতার ব্যাপারটা জানতে পেরে রসূলুল্লাহ সা.-কে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আমি শুনেছি আপনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে তার বিদ্বেষমূলক কথাবার্তার জন্য হত্যা করতে ইচ্ছুক। যদি সত্যিই তাই হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে নির্দেশ দিন আমি তার মাথা ধড় থেকে আলাদা করে আপনার কাছে পৌঁছে দিই। আল্লাহর কসম! খাযরাজ গোত্র জানে, ওই গোত্রে আমার চেয়ে পিতৃভক্ত লোক আর নেই। আমার আশংকা হয়, আপনি আমার পিতাকে হত্যার জন্য কাউকে নির্দেশ দেবেন আর সে তাকে হত্যা করবে, তখন আমার পিতৃহত্যাকারীকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখে হয়তো আমার প্রবৃত্তি কুপ্ররোচনা দিয়ে আমাকে অসহিষ্ণু করে তুলবে। ফলে তাকে হত্যা করে আমি জাহান্নামে যেতে বাধ্য হবো। কেননা সেক্ষেত্রে আমি একজন কাফিরের বদলায় একজন মুমিনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, না সে যতদিন আমাদের সাথে থাকবে, ততদিন তার প্রতি আমরা নমনীয় থাকবো এবং ভালো ব্যবহার করবো। ৭৭৯
মুসলমানগণ মদীনা মুনাওয়ারার নিকটবর্তী হলে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইর ছেলে আবদুল্লাহ তার পিতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান এবং তাকে মদীনায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে বলেন, আপনি থেমে যান। আল্লাহর শপথ! রসূলুল্লাহ সা.-এর অনুমতি ছাড়া আপনাকে আমি মদীনায় প্রবেশ করতে দেবো না। রসূলুল্লাহ সা. এসে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে মদীনায় প্রবেশের অনুমতি দেন। তখন তার ছেলে আবদুল্লাহ তাকে মদীনায় প্রবেশের সুযোগ দেয়। ৭৮০

টিকাঃ
৭৭৮ আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ: ২/২৫৭।
৭৭৯ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/৩২১।
৭৮০ আল ওলা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম: ২০৯।

ওমর রা. বললেন, আল্লাহর কসম, আমি জানি আল্লাহর রসূল সা.-এর সিদ্ধান্ত আমার সিদ্ধান্তের চাইতে অধিক কল্যাণকর। ৭৭৮
আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর ছেলে আবদুল্লাহ ছিলেন প্রকৃত মুসলমান। ছেলে আবদুল্লাহ তার পিতার ব্যাপারটা জানতে পেরে রসূলুল্লাহ সা.-কে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, আমি শুনেছি আপনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে তার বিদ্বেষমূলক কথাবার্তার জন্য হত্যা করতে ইচ্ছুক। যদি সত্যিই তাই হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে নির্দেশ দিন আমি তার মাথা ধড় থেকে আলাদা করে আপনার কাছে পৌঁছে দিই। আল্লাহর কসম! খাযরাজ গোত্র জানে, ওই গোত্রে আমার চেয়ে পিতৃভক্ত লোক আর নেই। আমার আশংকা হয়, আপনি আমার পিতাকে হত্যার জন্য কাউকে নির্দেশ দেবেন আর সে তাকে হত্যা করবে, তখন আমার পিতৃহত্যাকারীকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখে হয়তো আমার প্রবৃত্তি কুপ্ররোচনা দিয়ে আমাকে অসহিষ্ণু করে তুলবে। ফলে তাকে হত্যা করে আমি জাহান্নামে যেতে বাধ্য হবো। কেননা সেক্ষেত্রে আমি একজন কাফিরের বদলায় একজন মুমিনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবো। রসূলুল্লাহ সা. বললেন, না সে যতদিন আমাদের সাথে থাকবে, ততদিন তার প্রতি আমরা নমনীয় থাকবো এবং ভালো ব্যবহার করবো। ৭৭৯
মুসলমানগণ মদীনা মুনাওয়ারার নিকটবর্তী হলে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইর ছেলে আবদুল্লাহ তার পিতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান এবং তাকে মদীনায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে বলেন, আপনি থেমে যান। আল্লাহর শপথ! রসূলুল্লাহ সা.-এর অনুমতি ছাড়া আপনাকে আমি মদীনায় প্রবেশ করতে দেবো না। রসূলুল্লাহ সা. এসে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে মদীনায় প্রবেশের অনুমতি দেন। তখন তার ছেলে আবদুল্লাহ তাকে মদীনায় প্রবেশের সুযোগ দেয়। ৭৮০

টিকাঃ
৭৭৮ আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ: ২/২৫৭।
৭৭৯ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/৩২১।
৭৮০ আল ওলা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম: ২০৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00