📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 প্রতিক্রিত গাযওয়ায়ে বদর

📄 প্রতিক্রিত গাযওয়ায়ে বদর


গাযওয়ায়ে উহুদ শেষে আবু সুফিয়ান পুনরায় যুদ্ধের হুমকি দিয়েছিল। সে অনুযায়ী নবীজি সা. চতুর্থ হিজরিতে মদীনা থেকে দেড় হাজার মুজাহিদকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হন। তাদের মধ্যে অশ্বারোহী ছিলেন দশ জন। কাফেলার পতাকা অর্পণ করা হয় হযরত আলী রা.-এর হাতে। নবীজির বাহিনী বদর প্রান্তরে আট দিন অবস্থান করার পরও মক্কার মুশরিকদের দেখা পেলেন না।
কুরায়েש ও তাদের মিত্রদের দুই হাজার সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে আবু সুফিয়ান রওয়া হয়েছিল। তাদের কাফেলায় অশ্বারোহী ছিল পঞ্চাশজন। কিন্তু বাহিনীটি যখন মক্কা থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাররুজ যাহরান নামক এলাকার মাজান্নাহ কূপের পাদদেশে যাত্রাবিরতি করে, তখন আবু সুফিয়ান সৈন্যদের সামনে দাঁড়িয়ে ৭২৮
এক বক্তৃতায় বলে, হে কুরায়েשগণ, যে বছর ভালো ফসল ফলে, সে বছর যুদ্ধ করা যায়। যখন তোমাদের ঘর ফসলে পূর্ণ থাকে এবং তোমরা দুধ পান করতে পারো। কিন্তু এটা তো অজন্মার বছর। আমি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তোমরাও ফিরে চলো। ৭২৯
এই সময় মাখশা ইবনে আমর দামরী রসূল সা.-এর কাছে এলো। ওয়াদ্দান অভিযানে এই ব্যক্তিই বনু দামরা গোত্রের পক্ষে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সন্ধি করেছিল। সে বললো, হে মুহাম্মাদ, আপনি কুরায়েשদের মুকাবিলা করতে এই জলাশয়ের পাশে এসেছেন? রসূলুল্লাহ সা. বললেন, সেজন্যই এসেছি হে বুন দামরার ভাই! কিন্তু তুমি যদি চাও তবে তোমাদের সাথে আমাদের যে সন্ধি রয়েছে, তা বাতিল করে যুদ্ধ করতে আমরা প্রস্তুত। তুমি যদি চাও যুদ্ধের মাধ্যমেই আল্লাহ তোমাদের ও আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিন, তাহলে তাতে আমাদের অমত নেই।
সে বললো, না, হে মুহাম্মাদ, আল্লাহর শপথ, আমরা যুদ্ধ চাই না। ৭৩০
রসূলুল্লাহ সা. মুসলমানদের শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে এমনটি বলেছিলেন। এ কথার মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, উভয় দলের মধ্যে যে সন্ধিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল তা مسلمانوں করুনা ও সদিচ্ছার প্রকাশ ছাড়া কিছুই নয়। শত্রুরা প্রস্তাব দিয়েছে বলে শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা সন্ধিচুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। এখানে তাদের কোনো দুর্বলতা ছিল না। নবীজি সা. শত্রুদের মনে ভীতির সঞ্চার করতে मुसलमानों শক্তি ও সাহস প্রকাশ করেছিলেন। ৭৩১
মুসলিম মুজাহিদরা অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে মদীনা থেকে বদর প্রান্তর পর্যন্ত আসে। এটা ছিল প্রকৃতপক্ষে সমগ্র আরব উপদ্বীপের মানুষদের কাছে মুসলিম বাহিনীর দুর্দমনীয় শক্তি ও সাহস সম্পর্কে একটি বার্তা। আরব ভূখণ্ডের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্প্রদায় কুরায়েשের নেতার পক্ষ থেকেই উহুদের যুদ্ধ শেষে এ যুদ্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাদের এমন পিছু হটে যাওয়ায় আরবে मुसलमानों প্রভাব অনেক বেড়ে গিয়েছিল। ৭৩২
গাযওয়ায়ে উহুদে কুরায়েש বাহিনী যে শক্তির দম্ভ দেখিয়ে বিজয়ের শ্লোগান তুলেছিল, সেটা তাদের গলার কাঁটা হয়ে যায়। গোটা আরববাসীর কাছে তারা পরিণত হয় হাসির পাত্রে। উহুদে সাময়িক পিছু হটা এবং কিছু মুজাহিদদের শাহাদাত যে مسلمانوں পরাজয় ছিল না, একথা আবারও প্রমাণিত হয়। ৭৩৩
যাই হোক প্রতিশ্রুত গাযওয়ায়ে বদরে যুদ্ধ ছাড়াই মুসলমানরা শত্রুপক্ষের ওপর বিশাল বিজয় লাভ করে। তারা বদরের বাণিজ্যিক মেলায় অংশগ্রহণ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবানও হয়। ৭৩৪

টিকাঃ
৭২৮ নাদরাতুন নায়ীম: ১/৩১৮-৩১৯।
৭২৯ মুহাম্মাদ আহমাদ বাশমীল প্রণীত গাযওয়ায়ে আহযাব: ৮৮।
৭৩০ সীরাতে ইবনে হিশাম: ৩/২৩২।
৭০১ মুঈনুস সীরাহ: ২৬৪-২৬৫।
৭৩২ মুহাম্মাদ আহমাদ বাশমীল প্রণীত গাযওয়ায়ে আহযাব: ৮৮-৮৯।
৭৩৩ আত তারীখুল ইসলামী: ৬/৬৬।
৭৩৪ আত তারীখুল ইসলামী: ৬/৬৭।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 দাওমাতুল জান্দাল অভিযান

📄 দাওমাতুল জান্দাল অভিযান


সামরিক কর্মসূচির ভেতর দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি দৃঢ় করাই ছিল দাওমাতুল জান্দাল অভিযানের লক্ষ্য। দ্বিতীয় গাযওয়ায়ে বদরের পর মুসলিম মুজাহিদরা রসূলুল্লাহ সা.-এর নেতৃত্বে বনু কুযাআর উদ্দেশে রওনা হয়। বনু কুযাআর অবস্থান ছিল বনু আসাদ ও গাতফান গোত্রের উত্তর প্রান্তে গাসসান গোত্রের সীমান্তবর্তী বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের এলাকায়। এদের নেতৃত্বে আয়োজিত হতো বিখ্যাত দাওমাতুল জান্দাল মেলা। উল্লেখ্য, হিজরি পঞ্চম বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসে (আগস্ট, ৬২৬ খ্রি.) মুসলমানরা সর্বপ্রথম আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করেছিল এদের বিরুদ্ধে। নবীজি সা. এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। ৭৩৫
এই অভিযানের হেতু হচ্ছে, মদীনায় খবর আসে যে, দাওমাতুল জানদাল এলাকার কয়েকটি গোত্র তাদের পার্শ্ববর্তী রাস্তা দিয়ে গমনকারী বণিকদের ওপর আক্রমণের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে। এছাড়া মদীনায় আক্রমণের পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে। ৭৩৬
মদীনা থেকে দাওমাতুল জানদাল অনেক দূরে। এর অবস্থান ছিল হিজায ভূমি ও সিরিয়া সীমান্তে মদীনা থেকে প্রায় ষোল দিনের দূরত্বে লোহিত সাগর ও আরব সাগরের মধ্যবর্তী এলাকায় দাওমাতুল জান্দাল। মুসলমানরা যদি ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা নাও করতো, তবুও তেমন কোনো ক্ষতির আশঙ্কা ছিল না। কিন্তু নবীজি সা. এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। ভবিষ্যতে যেন এমন শত্রুর উত্থান না ঘটে, এ বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। যেসব কারণে অভিযানটি পরিচালিত হয়, তা হলো:
১. মুসলমানরা যখন জানতে পারলো, তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ আক্রমণের পরিকল্পনা চলছে, এমতাবস্থায় বিষয়টিকে হালকা করে দেখলে বা চুপ করে থাকলে শত্রুরা আরও শক্তিশালী হয়ে যেতো। এতে দুর্বল হয়ে পড়তো مسلمانوں প্রভাব। শত্রুরাও সুযোগ হাতছাড়া করতো না।
২. মদীনা থেকে সিরিয়া যাওয়ার পথে শত্রুদের এমন অপ্রীতিকর আচরণে مسلمانوں অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা ছিল। এমতাবস্থায় গোড়াতেই তাদের নির্মূল করা না গেলে অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীরাও মুসলিম কাফেলায় ডাকাতি করার সাহস পেয়ে যেতো। এতে মুসলমানরা পড়ে যেতো আর্থিক ও সামাজিক সঙ্কটে। এমনকি রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল।
৩. এসব এলাকায় মুসলমানরা কেনো তাদের প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল? এর জবাবে বলা যায়, এখানকার অধিবাসীরা যেন ভালোভাবে এ কথা বুঝতে পারে যে, তারা مسلمانوں কারণে অত্যন্ত সুখে স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে পারছে। এদের কারণে এখানে পথঘাটে নিরাপত্তা বজায় রয়েছে। এখানকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের দমনে মুসলমানরা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। ৭৩৭
৪. অর্থনৈতিকভাবে কুরায়েশ মুশরিকদের চাপে রাখাও এই অভিযানের একটি উদ্দেশ্য। তারা যেন এই বাণিজ্যকেন্দ্র ত্যাগ করতে বাধ্য হয় এবং ইসলামী রাষ্ট্রের প্রভাবে শত্রুরা যেন মানসিক পীড়ায় ভোগে।
৫. আরবরা মনে করতো, রোমানদের বিরোধিতা ও তাদের প্রতিহত করার সাহস কারো নেই। তাদের এই ভীতি দূর করাও ছিল উক্ত অভিযানের একটি লক্ষ্য। ৭৩৮
ইমাম যাহাবী, ওয়াকেদী ও মুহাম্মাদ বাশমিলের বর্ণনা অনুসারে বোঝা যায়, এ যুদ্ধের আরও একটি লক্ষ্য ছিল, রোমানদের সীমান্তে সেনাসমাবেশের মাধ্যমে তাদের ভীত সন্ত্রস্ত করে রাখা। কারণ, মুসলিম বাহিনী যেখানে সেনা ছাউনি গেড়েছিল, সেটা ছিল রোমানদের প্রাদেশিক রাজধানী দামেস্ক থেকে মাত্র পাঁচ দিনের দূরত্বে অবস্থিত। ৭৩৯
রসূলুল্লাহ সা. এক হাজার মুজাহিদের একটি বাহিনী গঠন করে রওনা হন। ৭৪০
শত্রুরা যেন এই অভিযানের খবর জানতে না পারে, এ লক্ষ্যে রাতের বেলা মুজাহিদদের পদযাত্রা চলতো। দিনের বেলায় তারা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতো। ৭৪১
রসূলুল্লাহ সা. বনু আযরা গোত্রের 'মাযকূরা' নামের এক লোককে নিযুক্ত করেন পথপ্রদর্শক হিসেবে। এক সময় তারা শত্রুদেশে এসে উপস্থিত হন। মুসলমানদের হঠাৎ আগমনে শত্রুরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। এদের কেউ মুসলমানদের হাতে ধরা না পড়লেও তাদের রেখে যাওয়া প্রাণী ও গবাদি পশুগুলো পেয়ে যায় মুসলমানরা। সাহাবীরা তাদের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে রসূলুল্লাহ সা.-এর সামনে উপস্থিত করেন। রসূলুল্লাহ সা. তাকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, আমার গোত্রের লোকেরা আপনাদের আগমনের কথা জানতে পেরে পালিয়ে গেছে। রসূলুল্লাহ সা. তার সামনে ইসলামের বাণী উপস্থাপন করলে সে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়।
রসূলুল্লাহ সা. চারদিকে মুজাহিদদের পাঠান। কিন্তু শত্রুপক্ষের কারও দেখা পাওয়া গেলো না। অবশেষে রসূলুল্লাহ সা. ফিরে আসেন মদীনায়। উয়ায়না ইবনে হাসান ফাজারী রসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করে মিত্রতার প্রস্তাব দেয়। পরে সে মদীনা থেকে ছত্রিশ মাইল দূরে একটি স্থানে নিজের গবাদি পশু চরানোর অনুমতি চায়।
আমরা দেখতে পাচ্ছি, রসূল সা. মদীনা থেকে বহু দূরের এলাকা দাওমাতুল জান্দাল পর্যন্ত অভিযান চালান। এদিকে, উয়ায়না ইবনে হাসান ফাজারীও মিত্রতার প্রস্তাব দেয় এবং মদীনা থেকে ছত্রিশ মাইল দূরে গবাদি পশু চরানোর অনুমতি চায়। এসব কিসের আলামত? অবশ্যই এটা মুসলমানদের প্রভাবের স্পষ্ট আলামত। এখানকার অধিবাসীদের নিরাপত্তাবিধানে মুসলমানরা কী পরিমাণ আগ্রহী ও সোচ্চার ছিল, তার প্রমাণ আমরা উপরোক্ত ঘটনায় দেখতে পাই। দূরবর্তী এসব এলাকাও ছিল ইসলামী রাষ্ট্রের অংশ। ততদিনে মদীনা একটি সুসংহত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। যে রাষ্ট্রকে চোখ রাঙানোর সাহস কারো ছিল না। যেমন উয়াইনা ইবনে হাসান ফাজারীর মতো ব্যক্তি যার এক আহ্বানেই যুদ্ধের জন্য বেরিয়ে পড়তো দশ হাজার যুবক, সে এখন উট চরাতে রসূল সা.- এর অনুমতির প্রয়োজন বোধ করেছে। ৭৪২
মদীনা থেকে বহু দূরে অবস্থিত সিরিয়ার সীমান্তে দাওমাতুল জান্দালে অভিযান পরিচালিত হয়। দামেস্ক ওই এলাকা থেকে মাত্র পাঁচ দিনের দূরত্বে অবস্থিত। মদীনার উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ডের জন্য এ ছিল এক নয়া পয়গাম। এর মাধ্যমে রোমান-সাম্রাজ্যাধীন এলাকায় মুসলমানরা নিজেদের শক্তি দেখাবার প্রয়াস পায়। পরবর্তীতে আরো দূরে অভিযান চালানোর অনুশীলনও হয়। আরবের বাইরে অভিযান পরিচালনার সূচনা হয়েছিল এ যুদ্ধের মাধ্যমে। এর পথ ধরেই পরবর্তীতে এশিয়া ও আফ্রিকায় বড় বড় অভিযান পরিচালিত হয়। ৭৪৩
এই অভিযান পরিচালনার পেছনে রসূলুল্লাহ সা.-এর আরো যেসব উদ্দেশ্য ছিল তা হলো, সামরিক প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের পাশাপাশি আরবের দূরবর্তী এলাকা সম্পর্কে যেন মুসলমানরা অবগতি লাভ করে। আরবের ক্ষমতাধরদের শক্তি-সাহস কেমন, তারও একটা যাচাই হয়ে যায় এর মাধ্যমে। প্রতিশ্রুত গাযওয়ায়ে বদরের পরপরই এই অভিযান পরিচালনা ছিল এক ধরনের প্রচার। কোনোরূপ মুখোমুখী যুদ্ধে জড়ানো ছাড়াই মুসলমানরা বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করে। একই সাথে শত্রুদের মনোবল ভেঙে দেওয়া ও ভীত-সন্ত্রস্ত করে তোলা ছিল এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য। ইতোপূর্বে আমরা জেনে এসেছি, এখানকার কিছু গোত্র মদীনায় আক্রমণের পরিকল্পনা করে। গাযওয়ায়ে উহুদে মুসলমানরা যখন সাময়িক পরাজয় বরণ করে, তখন থেকেই মদীনায় আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল বিভিন্ন গোত্র। দাওমাতুল জান্দাল অভিযানের ফলে তারা ভীত হয়ে পড়ে। ৭৪৪
মুসলমানরা এই অভিযানের ফলে রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছ থেকে সরাসরি শিক্ষা-দীক্ষা নেওয়ার সুযোগ লাভ করে। এক হাজার সাহাবার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল এই বাহিনী। সারাক্ষণ তারা নবীজির সাথে থেকে শারীরিক কষ্ট সহ্য করার ও জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের বিপদাপদ মোকাবিলা করার দীক্ষা গ্রহণ করে। রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছ থেকে দিকনির্দেশনা পায় বৈধ-অবৈধ বিষয়াবলী সম্পর্কে। অনারবদের সাথে 'আল-ওয়ালা ওয়াল বারা' তথা আল্লাহর জন্য শত্রুতা-মিত্রতার ব্যাপারে তারা নবীজির সরাসরি দিকনির্দেশনা লাভ করে। তারা এই শিক্ষা লাভ করে যে, জাতীয়তাবাদ নয়; বরং ইসলামী ভ্রাতৃত্বই গ্রহণীয়। যারা নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাদের জন্যও এই অভিযান ব্যাপক ফলপ্রসূ বিবেচিত হয়। দুর্বল হৃদয়ের অধিকারীরা এতে পায় হিম্মত। আর উন্মোচিত হয় মুনাফেকদের মুখোশ।
এই অভিযানের ব্যাপ্তি ছিল এক মাসের। এতো দীর্ঘ সময় নবীজির সাহচর্যে থেকে সাহাবীদের চারিত্রিক ও মনস্তাত্ত্বিক উন্নতি ঘটে। রসূলুল্লাহ সা. তাদের ভেতরের অবস্থা দেখে তাদের ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেন। পাশাপাশি নেতৃত্বের জন্য কারা উপযুক্ত, তারও একটি সমীক্ষা চালানো সম্ভব হয়।
সার্বিক বিবেচনায় এই অভিযানকে বলা যায় এক নিরব যুদ্ধ ও প্রশিক্ষণ। প্রধান সিপাহসালারের সাহচর্যে মুসলিম মুজাহিদরা হাজার মাইল মরুভূমির পথ পাড়ি দেয়ার ফলে পরবর্তী যুদ্ধের জন্য অভিজ্ঞতা লাভ করে। ৭৪৫
অভিযানের আগে নতুন পরীক্ষা হিসেবে সিবা ইবনে আরফাতা গিফারী রা.-কে মদীনার গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন রসূলুল্লাহ সা.। সিবা গিফারী রা. আউস ও খাজরাজ গোত্রের সাথে সম্পর্কিত ছিলেন না। তিনি ছিলেন কুরায়েש বংশোদ্ভূত। নেতা যে বংশেরই হোক, তার আনুগত্য করা সবার জন্য আবশ্যক-এটা ছিল मुसलमानों জন্য রসূল সা.-এর শিক্ষা। এভাবেই তিনি তার উম্মতকে মহত্বের পথ প্রদর্শন করছিলেন। তিনি যখন পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকবেন না, তখন জাতি গঠনে কী ভূমিকা নিতে হবে, আল্লাহর আইন ও রসূলের সুন্নাহ কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে; তার একটি অনুশীলন ছিল সিবা ইবনে আরফাতা গিফারী রা.-এর নেতৃত্বে। ৭৪৬

টিকাঃ
৭৩৫ দিরাসাত ফি আহদিন নাবুওয়াতি লিশশুজা: ১৪৪।
৭৩৬ তাআম্মুলাত ফি সীরাতির রসূল: ১৬৯।
৭৩৭ তাআম্মুলাত ফি সীরাতির রসূল: ১৬৯।
৭৩৮ দিরাসাত ফি আহদিন নাবুওয়াতি লিশশুজা : ১৪৪-১৪৫।
৭৩৯ মুহাম্মাদ আহমাদ বাশমীল প্রণীত গাযওয়ায়ে আহযাব : ৯৩।
৭৪০ তাআম্মুলাত ফি সীরাতির রসূল : ১৭০।
৭৪১ আর ফারিস পনীত গায়ওয়াসে আোহমান ।
৭৪২ তাআম্মুলাত ফি সীরাতির রসূল: ১৭০।
৭৪৩ আবু শাহবা প্রণীত আসসীরাতুন নববিয়াহ: ২৫১-২৫২।
৭৪৪ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়‍্যাহ: ৩/৩৭২।
৭৪৫ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়্যাহ: ৩৭৩।
৭৪৬ আত তারবিয়াতুল কিয়াদিয়্যাহ : ৩৭৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00