📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 মদ্যপান হারাম

📄 মদ্যপান হারাম


বনু নাযিরের দুর্গ অবরোধের সময় মদ নিষিদ্ধ করা হয়। ৬৮৮
সময়টি ছিল হিজরি চতুর্থ সনের রবিউল আউয়াল মাস। ৬৮৯
আমরা জানি মদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিধান ক্রমান্বয়ে নাযিল হয়। শেষ পর্যায়ে সূরা মায়েদার এই আয়াতের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে মদ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়:
فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ
অতএব, তোমরা কি বিরত হবে না? ৬৯০
ঈমানদারেরা তখন দৃঢ়চিত্তে বলেছিল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা বিরত হলাম। ৬৯১
আল্লাহ তাআলা বলেন :
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرُ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِنْ نَفْعِهِمَا وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ
মাদকদ্রব্য ও জুয়া খেলা সম্বন্ধে তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে। তুমি বলো, এ দু'টোর মধ্যে গুরুতর পাপ রয়েছে এবং কোনো কোনো লোকের (কিছু) উপকার আছে, কিন্তু ও দু'টোর লাভ অপেক্ষা পাপই গুরুতর; তারা তোমাকে (আরও) জিজ্ঞেস করছে, তারা কি (পরিমান) ব্যয় করবে? তুমি বলো, যা তোমাদের উদ্ধৃত্ত; এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নিদর্শনাবলী ব্যক্ত করেন যেন তোমরা চিন্তা-ভাবনা করো। ৬৯২
সাইয়েদ কুতুব বলেন, এ আয়াতটি মদের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে প্রথম নির্দেশনা। আমরা দেখতে পাই, কিছু কিছু জিনিস সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিকর হয় না। ভালোমন্দের মিশ্রণ থাকে তাতে। কিন্তু ভালোমন্দের মাত্রার আধিক্যের উপরই বৈধ বা অবৈধের বিধান আরোপিত হয়ে থাকে। মদ ও জুয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমন। কুরআনে বলা হয়েছে, ভালোর চেয়ে মন্দের পরিমাণ বেশি হওয়াই এগুলো অবৈধ হওয়ার কারণ।
এই বিধানের মাধ্যমে আমরা মহান রবের প্রজ্ঞার একটি অনুপম নীতি দেখতে পাই। কেবল এখানেই নয়, শরীয়তের বেশির ভাগ বিধানের ক্ষেত্রে এ নীতিটি ক্রিয়াশীল। মদ ও জুয়ার দিকে খেয়াল করুন। বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ বিষয়গুলো গোড়াতেই সেটা নিষিদ্ধ করে দিয়েছে ইসলাম। কিন্তু ইবাদত, সামাজিক বিধিবিধান বা ব্যক্তিগত জীবনপদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রতি খেয়াল করে ইসলাম মানুষকে সুযোগ দিয়েছে। ক্রমান্বয়ে বিধান প্রয়োগের পরিবেশ প্রস্তুত করে বিধান অবতীর্ণ হয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাই, তাওহীদ ও শিরকের ক্ষেত্রে ইসলাম শুরু থেকেই স্পষ্ট বিধান প্রয়োগ করেছে। এতে কোনো ধরনের সন্দেহ বা ভাবনা-চিন্তার সুযোগ রাখা হয়নি। এমনকি মধ্যপন্থা অবলম্বন বা নিরপেক্ষ থাকার সুযোগও থাকেনি। কারণ, সেটি ছিল ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগত বিধান। এটা ছাড়া ঈমান পরিপূর্ণ হতে পারে না। ইসলামের ওপর থাকা যায় না।
কিন্তু মানুষের অভ্যাসের সাথে সম্পৃক্ত মদ বা জুয়ার বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ধীরলয়ের চিকিৎসাপদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। শুরুতে বলা হয়েছে এগুলোতে ভালোর চেয়ে মন্দের পরিমাণ বেশি। ব্যস! মুসলমানরা বুঝতে পেরেছে, এটা ছেড়ে দেওয়াই মঙ্গল।
এরপর মদ-সংক্রান্ত দ্বিতীয় প্রেসক্রিপসন দেওয়া হয়। যা বিবৃত হয়েছে সূরা নিসায়। ইরশাদ হচ্ছে:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَا مَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًا غَفُورًا
হে মুমিনগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের কাছেও যেও না, যখন নিজের উচ্চারিত বাক্যের অর্থ নিজেই বুঝতে সক্ষম নও-এ অবস্থায় অথবা গোসল জরুরি হলে তা সমাপ্ত না করে নামাযের জন্য দান্ডায়মান হয়ো না। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র। যদি তোমরা পীড়িত হও, কিংবা প্রবাসে অবস্থান কর অথবা তোমাদের মধ্যে কেউ যখন শৌচাগার থেকে আসে কিংবা নারী স্পর্শ করে এবং পানি না পাওয়া যায় তাহলে বিশুদ্ধ মাটির অন্বেষণ করো, তদ্বারা তোমাদের মুখমন্ডল ও হাতসমূহ মাসেহ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল। ৬৯৩
নামায পাঁচ ওয়াক্ত। বেশিরভাগ নামাযের মধ্যবর্তী বিরতিও কম। এই সময়ের মধ্যে মদ খেয়ে নামাযের আগে নেশা থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন। তাই উপরোক্ত নির্দেশের মাধ্যমে নেশার অভ্যাসকে কঠিন করে তোলা হয়েছে। কিছু মানুষ এতে আসক্ত ছিল। আল্লাহ চেয়েছেন তারা যেন এই অভ্যাস ছেড়ে দেয়। নামাযের সময় নেশাগ্রস্ত থাকার ভয়ে মদ্যপান থেকে বিরত থেকে ধীরে ধীরে যেন এর প্রতি আসক্তি কেটে যায় এবং এক সময় তা ছেড়ে দেওয়া সহজ হয়।
এরপর আল্লাহ তাআলা সর্বশেষ নীতির মাধ্যমে মদ ও জুয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করেন। ৬৯৪
তিনি বলেন:
إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ
শয়তান শুধু মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চার করতে চায়। আর (চায়) আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদের বাধা দিতে। অতএব, তোমরা কি বিরত হবে না? ৬৯৫

টিকাঃ
৬৮৮ হাদীসুল কুরআনিল কারীম আন গাযাওয়াতির রসূল: ১/২৫৩।
৬৮৯ তাফসীরে কুরতুবী: ১৮/১০।
৬৯০ সূরা মায়িদা: ৯০।
৬৯১ আল খাসায়েসুল আম্মাহ লিলকারযাবী: ১৮১।
৬৯২ সূরা বাকারা: ২১৯।
৬৯৩ সূরা নিসা: ৪৩।
৬৯৪ ফি যিলালিল কুরআন: ১/২২৯।
৬৯৫ সূরা মায়িদা: ৯১।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 চক্রান্তকারীরা নিজের তৈরি গর্তেই পতিত হবে

📄 চক্রান্তকারীরা নিজের তৈরি গর্তেই পতিত হবে


ধোঁকাবাজি ও চক্রান্ত করা যাদের অভ্যাস, তারা এক সময় অন্যের জন্য বানানো গর্তে নিজেরাই পতিত হয়। আলোচ্য গাযওয়ায় আমরা দেখতে পাই, রসূলুল্লাহ সা.-কে হত্যা এবং মদীনায় কর্তৃত্বের অভিলাসে এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র তারা করেছিল। কিন্তু আল্লাহ তাদের চক্রান্ত থেকে তার রসূল ও मुसलमानों বাঁচিয়েছেন। তাদের সামাজিক মর্যাদা ও সম্পদ ধ্বংস করে দিয়েছেন। তারা লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়েছে। দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছে তারা। মুসলমানদের যুদ্ধ করতে হয়নি। আল্লাহ তাদের অন্তরে मुसलमानों ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। এতে তারা হয়ে যায় মনোবলশূন্য। হারায় ধন-সম্পদ। হারায় বাস্তুভিটা। مسلمانوں হাতে আসে তাদের মূল্যবান সম্পদগুলো। আল্লাহ বলেন :
هُوَ الَّذِي أَخْرَجَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ دِيَارِهِمْ لِأَوَّلِ الخَشْرِ مَا ظَنَنْتُمْ أَنْ يَخْرُجُوا وَظَنُّوا أَنَّهُمْ مَانِعَتُهُمْ حُصُونُهُمْ مِنَ اللَّهِ فَأَتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ حَيْثُ لَمْ يَحْتَسِبُوا وَقَذَفَ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ يُخْرِبُونَ بُيُوتَهُمْ بِأَيْدِيهِمْ وَأَيْدِي الْمُؤْمِنِينَ فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ
আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল তিনিই তাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন প্রথমবারের মত। তোমরা ধারণাও করনি যে, তারা বেরিয়ে যাবে। আর তারা ধারণা করেছিল যে, তাদের দুর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু আল্লাহর আযাব এমন এক দিক থেকে আসল যা তারা কল্পনাও করতে পারেনি এবং তিনি তাদের অন্তরসমূহে ত্রাসের সঞ্চার করলেন, ফলে তারা তাদের বাড়ি-ঘর আপন হাতে ও মুমিনদের হাতে ধ্বংস করতে শুরু করলো। অতএব হে দৃষ্টিমান লোকেরা তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। ৬৯৬
এভাবে তারা নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই আটকে পড়ে। কুরআন এই ঘটনার উল্লেখযোগ্য শিক্ষনীয় উপদেশ গ্রহণের উপাদানগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে অত্যন্ত চমৎকার ভঙ্গিতে স্পষ্ট ভাষায় ধোঁকাবাজির মন্দ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ৬৯৭
আল্লাহ বলেছেন :
فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ
অতএব হে দৃষ্টিমান লোকেরা তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।
এ আয়াতের মাধ্যমে আমরা যেসব শিক্ষা পাই, তা হলো:
১. হকের পথে যে বাধা দেয় তার পতন নিশ্চিত। মহান আল্লাহ বলেনন :
قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا سَتُغْلَبُونَ وَتُحْشَرُونَ إِلَى جَهَنَّمَ وَبِئْسَ الْمِهَادُه
তুমি কাফেরদেরকে বলো, তোমরা অচিরেই পরাজিত হবে এবং তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে সমবেত করা হবে। আর সেটি কতইনা নিকৃষ্ট আবাসস্থল! ৬৯৮
২. হক-বাতিলের লড়াই কেয়ামত পর্যন্ত চলবেই। ভবিষ্যতেও কখনও সত্যের বিজয় হবে আবার কখনও বাতিলের বিজয় হবে। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে বিজয়ী হবে হকপন্থীরাই।
৩. ইহুদিদের চক্রান্ত থেকেও আমরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারি। এমন চক্রান্তের আশ্রয় নেওয়া কখনো বাঞ্ছনীয় হতে পারে না। কেউ এমনটি করলে তাদের করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। ৬৯৯

টিকাঃ
৬৮৬ সূরা হাশর: ২।
৬৯৭ সুয়ার ওয়া ইবার মিনাল জিহাদিন নববী ফিল মাদিনাহ: ১৬৭-১৬৮।
৬৯৮ সূরা আলে ইমরান: ১২।
৬৯৯ আবু ফারিস প্রণীত আসসুরা মাআল ইয়াহুদ: ১৭৯।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 ‘দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই’

📄 ‘দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই’


বনু নাযির গোত্রের ইহুদিদের তত্ত্বাবধানে কিছু আনসারী শিশু লালিত-পালিত হচ্ছিলো। তারা ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করে। ইহুদিরা যখন দেশান্তরী হয়ে যায় তখন মুসলমান আত্মীয়রা তাদেরকে ইহুদিদের সাথে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হেদায়াত স্পষ্ট হয়েছে ভ্রষ্টতা থেকে। অতএব, যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, অবশ্যই সে মজবুত রশি আঁকড়ে ধরে, যা ছিন্ন হবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন। ৭০০
সুনানে আবু দাউদে এসেছে: আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, তৎকালীন সময়ে নারীদের গর্ভের সন্তান না বাঁচলে তারা হবু সন্তানকে ইহুদি বানানোর মানত করতো। যখন বনু নাযির গোত্রকে নির্বাসিত করা হয়; তখন তাদের তত্ত্বাবধানে কিছু আনসারী শিশু লালিত-পালিত হচ্ছিলো। আনসাররা বলছিলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের এভাবে চলে যেতে দেবো না। এ সময় আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেন:
لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ
দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হেদায়াত স্পষ্ট হয়েছে ভ্রষ্টতা থেকে।৭০১

টিকাঃ
৭০০ সূরা বাকারা: ২৫৬।
৭০১ সুনানে আবু দাউদ: ৩/১৩৩। হাদীস নং: ২৬৮২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00