📄 ইসলামী রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামো
বনু নাযিরের লোকেরা দেশান্তরী হওয়ার পর তাদের যেসব ধন-সম্পদ مسلمانوں হাতে আসে, তা বণ্টনের নীতিমালার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُه
আল্লাহ তার রসূলকে তাদের কাছ থেকে যে ফায় (বিনা যুদ্ধে পাওয়া সম্পদ) দিয়েছেন তার জন্য তোমরা ঘোড়াও দৌড়াওনি, আর উটেও চড়োনি; বরং আল্লাহ তার রসূলগণকে যার উপর ইচ্ছে আধিপত্য দান করেন; আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। ৬৬৯
আল্লাহ এখানে বলেছেন, বনু নাযিরে কোনো বড় যুদ্ধ ছাড়াই مسلمانوں তিনি সম্পদ দান করেছেন। মুসলমানরা শুধু বনু নাযিরের দিকে যুদ্ধের জন্য যাত্রা করেছিল। কিন্তু যুদ্ধ করতে হয়নি। যুদ্ধ ছাড়াই রসূল সা. ইহুদিদের পতন নিশ্চিত করেছেন। তাদের নির্বাসনে পাঠিয়ে গণিমতের সম্পদ লাভ করেছেন। তিনি আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সম্পদ ব্যয় করেন। আল্লাহ তাআলা বনু নাযির গোত্রের সম্পদগুলো দিয়েছেন তার রসূলকে। যার মাধ্যমে নবীজি সা. নিজের বাৎসরিক ব্যয় নির্বাহ করতেন এবং মুসলিম মুজাহিদদের জন্য অস্ত্রশস্ত্র কিনতেন। ৬৭০
আল্লাহ তাআলা কাফেরদের অন্যান্য এলাকা থেকে বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত 'মালে ফায়'-এর বিধান সম্পর্কে ইরশাদ করেন:
لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ
এই সম্পদ অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি হতে উৎখাত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আল্লাহ ও তার রসূলের সাহায্য করে। তারাই তো সত্যাশ্রী। ৬৭১
বনু নাযির গোত্রের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বিশেষভাবে রসূলুল্লাহ সা.-কে দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী তা থেকে নিজের জন্য ব্যয় করতেন। মুসলমানদের জন্যও ব্যয় করতেন। আরো ব্যয় করতেন আল্লাহ তাআলার নির্দেশিত বিভিন্ন প্রয়োজনে। বনু নাযির থেকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ পাওয়ার পর নবীজি সা. সাআদ ইবনে কায়েসকে ডেকে বলেন, তুমি তোমার গোত্রের লোকদের ডাকো। সাবিত জানতে চাইলেন, শুধু খাজরাজদের? রসূলুল্লাহ সা. বলেন, না, সকল আনসারীকে ডেকে আনো। অতঃপর তিনি আউস-খাজরাজ নির্বিশেষে সবাইকে ডেকে আনেন।
সবাই সমবেত হলে রসূলুল্লাহ সা. প্রথমে আল্লাহর হামদ পাঠ করেন। অতঃপর আনসার এবং মুহাজিরদের পারস্পরিক হৃদ্যতা ও ভালোবাসার বিষয়টি তুলে ধরেন। নিজেদের ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রেও আনসাররা যেভাবে মুহাজিরগণকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়টিও তুলে ধরেন। এরপর তিনি বলেন, যদি তোমরা চাও তাহলে বনু নাযির হতে প্রাপ্ত যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আমি তোমাদের ও মুহাজিরগণের মধ্যে বণ্টন করে দেবো। এ ক্ষেত্রে মুহাজিররা তোমাদের যেসব আবাসন ব্যবহার করছে বা তোমাদের যেসব সম্পত্তিতে অংশীদার হয়েছে, তা সেভাবেই বহাল থাকবে।
অথবা তোমরা যদি চাও তবে এসব সম্পদ আমি শুধু তাদের মধ্যে বণ্টন করে দিতে পারি। তাহলে তোমাদের যেসব সম্পদ তারা উপভোগ করছে, তা তারা তোমাদের ফিরিয়ে দেবে।
জবাবে সাআদ ইবনে মুআয ও সাআد ইবনে উবাদা রা. সমস্বরে বলে ওঠেন, হে আল্লাহর রসূল, আমরা বরং এসব সম্পত্তি মুহাজিরগণের মধ্যে বণ্টন করে দিচ্ছি এবং তারা অতীতের মতো আমাদের যেসব সম্পদ ভোগ-দখল করে আসছিলেন, তাও সেভাবে বহাল থাকুক। সকল আনসারী সাহাবী অতঃপর সমস্বরে বলে ওঠেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এ বণ্টনে একমত ও সন্তুষ্ট। ৬৭২
এরপর রসূলুল্লাহ সা. সব সম্পদ মুহাজিরগণের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন এবং আনসারদের মধ্যে আবু দুজানা ও সাহাল ইবনে হুনাইফ ছাড়া কাউকে কিছুই দিলেন না। ৬৭৩
রসূলুল্লাহ সা. ভালোভাবেই জানতেন, এ সম্পদ যে কোনোভাবে ব্যয় করার পূর্ণ এখতিয়ার তার রয়েছে। তবুও তিনি আনসারদের খুশি করতে তাদের সমবেত করেছিলেন এবং সম্পদ বণ্টন সম্পর্কে তাদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে রসূলুল্লাহ সা.-এর এমন উত্তম আচরণ অহরহ দেখা যেতো।
আনসারী সাহাবীদের কষ্ট কিছুটা কমে যায় এমন বণ্টনের ফলে। বনু নাযিরের এলাকায় মুহাজির সাহাবীরা ঘর তৈরি করেন। আনসারীদের যেসব সম্পদ তাদের দখলে ছিল, তা ফিরিয়ে দেন। অবশ্য মুহাজিরগণের মধ্যে যেসব সাহাবীর বনু নাযিরের সম্পদের প্রয়োজন ছিল না, তারা সেখান থেকে কোনো অংশ নেননি। এভাবে অর্থনৈতিকভাবে ক্রমান্বয়ে সচ্ছল হন মুহাজির সাহাবীরা। ৬৭৪
ইসলামী রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এই বণ্টন ছিল এক বিরাট মাইলফলক। এর আগে যুদ্ধলব্ধ যাবতীয় সম্পদ আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিতে এক পঞ্চমাংশ ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে বণ্টন করা হতো। কিন্তু বনু নাযির যুদ্ধের পর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনে নতুন নীতি অনুসরণ করা হয়। কাফেরদের থেকে অধিকৃত সম্পদ দুই প্রকার:
এক. মুসলিম মুজাহিদরা যুদ্ধের মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে পরাজিত করে যেসব সম্পদ অর্জন করেন। এই সম্পদের এক পঞ্চমাংশ ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য রেখে অবশিষ্ট সম্পদ মুসলিম মুজাহিদদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়।
দুই. বিনাযুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ। এই সম্পদ ব্যবহারের পরিপূর্ণ অধিকার ইসলামী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতার। তিনি প্রয়োজন মাফিক নিজের ইচ্ছে মতো তা ব্যয় করবেন। ইচ্ছে করলে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, রণসরঞ্জাম ক্রয়, শহর পুনঃগঠন বা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে ব্যয় করতে পারবেন। এক কথায় ইসলামী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতার হাতে রিজার্ভ বাজেট হিসেবে এই সম্পদ রক্ষিত থাকবে। ৬৭৫
সূরা হাশরে বনু নাযির গোত্রের সম্পদ বণ্টন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সম্পদ যেন কেবল বিত্তশালীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়, এ লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা কাউকে দিতে আর কাউকে না দিতে বলেছেন। এ মর্মে ইরশাদ হয়েছে:
مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
আল্লাহ জনপদবাসীদের নিকট থেকে তার রসূলকে ফায় হিসেবে যা দিয়েছেন তা আল্লাহর, রসূলের, আত্মীয়-স্বজনদের, এতিমদের, মিসকীন ও মুসাফিরদের এটি এ জন্য যে, যাতে ধন-সম্পদ তোমাদের মধ্যকার বিত্তশালীদের মাঝেই কেবল আবর্তিত না থাকে। রসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর। ৬৭৬
সম্পদ ধনাঢ্যদের মাঝেই ঘুরপাক না খাওয়ার হেকমতের কথা এ আয়াতে বলা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় ইসলামী অর্থনীতির অন্যতম মূলনীতি এটা। ধনী-নির্ধন তথা বিভিন্ন স্তরের মানুষকে পরস্পরের কাছাকাছি আনার এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে একতা ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করার চেষ্টা করে ইসলাম। এক কথায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে যেন ইনসাফময় জীবনব্যবস্থা জারি থাকে, এটা ইসলামী অর্থনীতির অন্যতম লক্ষ্য।
প্রকৃত প্রস্তাবে, মানুষ যদি ইসলামী অর্থনীতি পরিপূর্ণভাবে মেনে চলে, যেমন জাকাত আদায় করে, সুদের কারবার বন্ধ করে, অন্যায়ভাবে স্টক কারসাজি না করে; তাহলে নিঃসন্দেহে মানুষের অর্থনৈতিক জীবনব্যবস্থা উন্নতির উচ্চশিখরে পৌঁছবে। অর্থনৈতিক দিক থেকে স্তরগত তারতম্য বিদ্যমান থাকলে সমাজের প্রতিটি মানুষ স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। ৬৭৭
আল্লাহ তাআলা সম্পদ বণ্টনের নীতিমালা আলোচনা করেছেন। আরো বলেছেন কী কারণে এভাবে সম্পদ বণ্টন করতে হবে। এরপর মানুষ যেন রসূলুল্লাহ সা.-এর আদিষ্ট বিষয়সমূহ পালন করে ও তার বারণকৃত বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকে, এ ব্যাপারে তিনি مسلمانوں নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ঈমান পরিপূর্ণ হয়। আল্লাহ তাআলা তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, যারা আল্লাহকে ভয় করে না, তাদেরকে আল্লাহ তাআলা কঠিন শাস্তি দেন। তিনি বলেন:
مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةٌ بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
আল্লাহ জনপদবাসীদের নিকট থেকে তার রসূলকে ফায় হিসেবে যা দিয়েছেন তা আল্লাহর, রসূলের, আত্মীয়-স্বজনদের, এতিমদের, মিসকীন ও মুসাফিরদের এটি এ জন্য যে, যাতে ধন-সম্পদ তোমাদের মধ্যকার বিত্তশালীদের মাঝেই কেবল আবর্তিত না থাকে। রসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও এবং আল্লাহকেই ভয় করো, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর। ৬৭৮
অর্থাৎ, রসূলের কথা মতো চলো। কারণ, তিনি নিঃসন্দেহে তোমাদেরকে ভালো কাজের আদেশ দেন এবং মন্দ কাজ করতে বারণ করেন।
اتَّقُوا اللَّهَ 'আল্লাহকেই ভয় করো' অর্থাৎ, আদেশ-নিষেধসমূহ পালনের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার ভয় অন্তরে সজাগ রাখো। إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ 'নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা কঠোর শাস্তিদাতা।' যারা আল্লাহর কথা মানবে না, তাদের শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। তাফসীরকারকগণ বলেন, এ আয়াত যদিও 'মালে ফায়' তথা বিনাযুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদের সাথে সম্পৃক্ত কিন্তু এর বিধান শরীয়তের যাবতীয় বিধিবিধান ও আদেশ-নিষেধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। চাই সেটি ওয়াজিব বিধান হোক অথবা মুস্তাহাব বা হারাম। ৬৭৯
পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে এভাবেই সর্বাবস্থায় আল্লাহ ও তার রসূলের আনুগত্য ও তাদের নির্দেশিত পথে চলার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
অতএব তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে, তারপর তুমি যে ফয়সালা দেবে সে ব্যাপারে নিজদের অন্তরে কোনো দ্বিধা অনুভব না করে এবং পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়। ৬৮০
রসূলুল্লাহ সা. বলেন, আমি যেসব কাজ করতে তোমাদের বাধা দিই, তা থেকে বিরত থাকো। আর যেসব কাজ করার নির্দেশ দিই, তা যথাসম্ভব পালন করো। কেননা, তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবীদের বেশি বেশি প্রশ্ন করতো ও মতবিরোধে জড়াতো আর এটাই ছিল তাদের ধ্বংসের কারণ। ৬৮১
টিকাঃ
৮৬৯ সূরা হাশর: ৬।
৬৭০ সহীহ মুসলিম: ১৭৫৭।
৬৭১ সূরা হাশর: ৮।
৬৭২ সহীহ মুসলিম: ১৭৫৭।
৬৭০ শারহুজ জারকানি আলাল মাওয়াহিব: ২/৮৬।
৬৭৪ সালিহ আশশামী প্রণীত আস সীরাতুন নববিয়াহ: ২২২।
৬৭৫ কিরাআতুন সিয়াসিয়াতুন লিস সীরাতিন নববিয়াহ: ১৬৯।
৬৭৬ সূরা হাশর: ৭।
৬৭৭ ফিকহুস সীরাহ লিলবুতী: ১৯৪।
৬৭৮ সূরা হাশর: ৭।
৬৭৯ তাফসীরে রাজী: ২৯/২৮। সাফওয়াতুত তাফাসীর: ৩/৩৫১।
৬৮০ সূরা নিসা: ৬৫।
৬৮১ সহীহ মুসলিম: ১৮৩০।
📄 মুহাজির, আনসার ও তাবেয়ীদের মর্যাদা
১. মুহাজিরদের মর্যাদা
পবিত্র কুরআনের এ সূরায় অন্যান্যদের চেয়ে মুহাজির সাহাবীদের অধিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে তারা মর্যাদায় সবার ওপরে। বিভিন্ন আয়াতে তাদের সুন্দর সুন্দর গুণাবলির কথা আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাদের সত্যতার সাক্ষ্য দেন এভাবে:
لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ
এই সম্পদ অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি হতে উৎখাত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আল্লাহ ও তার রসূলের সাহায্য করে। তারাই তো সত্যাশ্রী। ৬৮২
২. আনসারদের মর্যাদা
আনসারী সাহাবীদের মর্যাদা সম্পর্কেও আল্লাহ তাআলা আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাদের মর্যাদার সাক্ষ্য দেন এভাবে :
وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
(আর এ সম্পদ তাদের জন্যও) যারা মুহাজিরদের আসার আগে থেকেই (মদীনা) নগরীর বাসিন্দা ছিল আর ঈমান গ্রহণ করেছে। তারা তাদেরকে ভালোবাসে যারা তাদের কাছে হিজরত করে এসেছে। মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে তা পাওয়ার জন্য তারা নিজেদের অন্তরে কোনো কামনা রাখে না, আর তাদেরকে (অর্থাৎ মুহাজিরদেরকে) নিজেদের উপর অগ্রাধিকার দেয়-নিজেরা যতই অভাবগ্রস্ত হোক না কেন। বস্তুত যাদেরকে হৃদয়ের সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে তারাই সফলকাম। ৬৮৩
৩. তাবেয়ীদের মর্যাদা
সুরা হাশরের কয়েকটি আয়াতে মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের পাশাপাশি তাদের অনুসারী তাবেয়ীগণের মর্যাদার কথাও এসেছে। যারা মুহাজির ও আনসারদের উন্নত গুণে গুণান্বিত ছিলেন ও তাদের অনুসৃত পথে চলেছিলেন। যারা নিজেদের পূর্ববর্তী মুমিনদের ব্যাপারে নির্জনে ও প্রকাশ্যে মহান আল্লাহর দরবারে দোআ করতেন। ৬৮৪
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ
যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু। ৬৮৫
এভাবে এই সূরায় মুহাজির, আনসার ও তাদের অনুসারী তাবেয়ীদের মর্যাদার কথা আলোচনা করা হয়েছে।
টিকাঃ
৬৮২ সূরা হাশর: ৮।
৬৮৩ সূরা হাশর: ৯।
৬৮৪ হাদীসুল কুরআনিল কারীম আন গাযাওয়াতির রসূল: ১/২৯১।
৬৮৫ সূরা হাশর: ১০।
📄 মদীনার মুনাফেকদের ভূমিকা
পবিত্র কুরআনের এ সূরায় মুনাফেকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে ইহুদিদের সাথে তাদের মিত্রতা ও مسلمانوں বিরুদ্ধে তাদের চক্রান্তের কথা। ইহুদিদের ভেতরকার বিভিন্ন খবরও জানানো হয়েছে এই সূরায়। ৬৮৬
ইরশাদ হচ্ছে:
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ نَافَقُوا يَقُولُونَ لِإِخْوَانِهِمُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَئِنْ أُخْرِجْتُمْ لَنَخْرُجَنَّ مَعَكُمْ وَلَا تُطِيعُ فِيكُمْ أَحَدًا أَبَدًا وَإِنْ قُوتِلْتُمْ لَتَنْصُرَنَّكُمْ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ
তুমি কি মুনাফেকদেরকে দেখনি যারা আহলে কিতাবের মধ্য হতে তাদের কাফের ভাইদেরকে বলে, তোমাদেরকে বের করে দেয়া হলে আমরাও তোমাদের সাথে অবশ্য বেরিয়ে যাবো এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনোই কারো আনুগত্য করবো না। আর তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা হলে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করবো। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা মিথ্যাবাদী। ৬৮৭
আল্লাহ তাআলা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ও তার সমমনা মুনাফেকদের ভূমিকা তুলে ধরেছেন। ইতোপূর্বে আমরা জেনে এসেছি, এসব মুনাফেক বনু নাযিরের ইহুদিদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল। যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'আহলে কিতাবের মধ্য হতে তাদের কাফের ভাইদেরকে বলে' অর্থাৎ কুফুরির প্রকৃতি ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও এখানে মুনাফেক ও ইহুদিদেরকে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিকাঃ
৬৮৬ হাদীসুল কুরআনিল কারীম আন গাযাওয়াতির রসূল: ১/২৬৪।
৬৮৭ সূরা হাশর: ১১।
📄 মদ্যপান হারাম
বনু নাযিরের দুর্গ অবরোধের সময় মদ নিষিদ্ধ করা হয়। ৬৮৮
সময়টি ছিল হিজরি চতুর্থ সনের রবিউল আউয়াল মাস। ৬৮৯
আমরা জানি মদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিধান ক্রমান্বয়ে নাযিল হয়। শেষ পর্যায়ে সূরা মায়েদার এই আয়াতের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে মদ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়:
فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ
অতএব, তোমরা কি বিরত হবে না? ৬৯০
ঈমানদারেরা তখন দৃঢ়চিত্তে বলেছিল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা বিরত হলাম। ৬৯১
আল্লাহ তাআলা বলেন :
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرُ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِنْ نَفْعِهِمَا وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ
মাদকদ্রব্য ও জুয়া খেলা সম্বন্ধে তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে। তুমি বলো, এ দু'টোর মধ্যে গুরুতর পাপ রয়েছে এবং কোনো কোনো লোকের (কিছু) উপকার আছে, কিন্তু ও দু'টোর লাভ অপেক্ষা পাপই গুরুতর; তারা তোমাকে (আরও) জিজ্ঞেস করছে, তারা কি (পরিমান) ব্যয় করবে? তুমি বলো, যা তোমাদের উদ্ধৃত্ত; এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নিদর্শনাবলী ব্যক্ত করেন যেন তোমরা চিন্তা-ভাবনা করো। ৬৯২
সাইয়েদ কুতুব বলেন, এ আয়াতটি মদের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে প্রথম নির্দেশনা। আমরা দেখতে পাই, কিছু কিছু জিনিস সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিকর হয় না। ভালোমন্দের মিশ্রণ থাকে তাতে। কিন্তু ভালোমন্দের মাত্রার আধিক্যের উপরই বৈধ বা অবৈধের বিধান আরোপিত হয়ে থাকে। মদ ও জুয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমন। কুরআনে বলা হয়েছে, ভালোর চেয়ে মন্দের পরিমাণ বেশি হওয়াই এগুলো অবৈধ হওয়ার কারণ।
এই বিধানের মাধ্যমে আমরা মহান রবের প্রজ্ঞার একটি অনুপম নীতি দেখতে পাই। কেবল এখানেই নয়, শরীয়তের বেশির ভাগ বিধানের ক্ষেত্রে এ নীতিটি ক্রিয়াশীল। মদ ও জুয়ার দিকে খেয়াল করুন। বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ বিষয়গুলো গোড়াতেই সেটা নিষিদ্ধ করে দিয়েছে ইসলাম। কিন্তু ইবাদত, সামাজিক বিধিবিধান বা ব্যক্তিগত জীবনপদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রতি খেয়াল করে ইসলাম মানুষকে সুযোগ দিয়েছে। ক্রমান্বয়ে বিধান প্রয়োগের পরিবেশ প্রস্তুত করে বিধান অবতীর্ণ হয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাই, তাওহীদ ও শিরকের ক্ষেত্রে ইসলাম শুরু থেকেই স্পষ্ট বিধান প্রয়োগ করেছে। এতে কোনো ধরনের সন্দেহ বা ভাবনা-চিন্তার সুযোগ রাখা হয়নি। এমনকি মধ্যপন্থা অবলম্বন বা নিরপেক্ষ থাকার সুযোগও থাকেনি। কারণ, সেটি ছিল ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগত বিধান। এটা ছাড়া ঈমান পরিপূর্ণ হতে পারে না। ইসলামের ওপর থাকা যায় না।
কিন্তু মানুষের অভ্যাসের সাথে সম্পৃক্ত মদ বা জুয়ার বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ধীরলয়ের চিকিৎসাপদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। শুরুতে বলা হয়েছে এগুলোতে ভালোর চেয়ে মন্দের পরিমাণ বেশি। ব্যস! মুসলমানরা বুঝতে পেরেছে, এটা ছেড়ে দেওয়াই মঙ্গল।
এরপর মদ-সংক্রান্ত দ্বিতীয় প্রেসক্রিপসন দেওয়া হয়। যা বিবৃত হয়েছে সূরা নিসায়। ইরশাদ হচ্ছে:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّى تَغْتَسِلُوا وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَا مَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًا غَفُورًا
হে মুমিনগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের কাছেও যেও না, যখন নিজের উচ্চারিত বাক্যের অর্থ নিজেই বুঝতে সক্ষম নও-এ অবস্থায় অথবা গোসল জরুরি হলে তা সমাপ্ত না করে নামাযের জন্য দান্ডায়মান হয়ো না। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র। যদি তোমরা পীড়িত হও, কিংবা প্রবাসে অবস্থান কর অথবা তোমাদের মধ্যে কেউ যখন শৌচাগার থেকে আসে কিংবা নারী স্পর্শ করে এবং পানি না পাওয়া যায় তাহলে বিশুদ্ধ মাটির অন্বেষণ করো, তদ্বারা তোমাদের মুখমন্ডল ও হাতসমূহ মাসেহ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল। ৬৯৩
নামায পাঁচ ওয়াক্ত। বেশিরভাগ নামাযের মধ্যবর্তী বিরতিও কম। এই সময়ের মধ্যে মদ খেয়ে নামাযের আগে নেশা থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন। তাই উপরোক্ত নির্দেশের মাধ্যমে নেশার অভ্যাসকে কঠিন করে তোলা হয়েছে। কিছু মানুষ এতে আসক্ত ছিল। আল্লাহ চেয়েছেন তারা যেন এই অভ্যাস ছেড়ে দেয়। নামাযের সময় নেশাগ্রস্ত থাকার ভয়ে মদ্যপান থেকে বিরত থেকে ধীরে ধীরে যেন এর প্রতি আসক্তি কেটে যায় এবং এক সময় তা ছেড়ে দেওয়া সহজ হয়।
এরপর আল্লাহ তাআলা সর্বশেষ নীতির মাধ্যমে মদ ও জুয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করেন। ৬৯৪
তিনি বলেন:
إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ
শয়তান শুধু মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চার করতে চায়। আর (চায়) আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদের বাধা দিতে। অতএব, তোমরা কি বিরত হবে না? ৬৯৫
টিকাঃ
৬৮৮ হাদীসুল কুরআনিল কারীম আন গাযাওয়াতির রসূল: ১/২৫৩।
৬৮৯ তাফসীরে কুরতুবী: ১৮/১০।
৬৯০ সূরা মায়িদা: ৯০।
৬৯১ আল খাসায়েসুল আম্মাহ লিলকারযাবী: ১৮১।
৬৯২ সূরা বাকারা: ২১৯।
৬৯৩ সূরা নিসা: ৪৩।
৬৯৪ ফি যিলালিল কুরআন: ১/২২৯।
৬৯৫ সূরা মায়িদা: ৯১।