📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 ‘উহুদ আমাদের ভালোবাসে, আমরা উহুদকে ভালোবাসি’

📄 ‘উহুদ আমাদের ভালোবাসে, আমরা উহুদকে ভালোবাসি’


আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা.-এর সামনে উহুদ পাহাড় দৃশ্যমান হলে তিনি বলেন, এটি এমন পাহাড় যে আমাদের ভালোবাসে, আমরাও তাকে ভালোবাসি। ৬০৯
তিনি উহুদ পাহাড়কে مسلمانوں প্রতিরক্ষার মাধ্যম বানিয়েছিলেন এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছিলেন। আল্লাহ তাআলাও এ পাহাড়কে প্রতিরক্ষা গ্রহণের উপযুক্ত করেই যেন তৈরি করেছেন। সুতরাং যিনি একটি জড় পদার্থের মর্যাদার স্বীকৃতি দিচ্ছেন এবং তার সাথে ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন, মানুষের প্রতি তিনি কতটা আন্তরিক ও বন্ধুবৎসল ছিলেন তা সহজেই অনুমান করা যায়। ৬১০
এই হাদীসের কয়েক রকম বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তন্মধ্যে ইমাম হুমাইদী কয়েকটি উল্লেখ করেছেন। শায়েখ সালেহ আহমদ শামী এ প্রসঙ্গে বলেন, সাধারণত মানুষ কোনো সময় দুর্দশায় পতিত হলে স্থান ও কালের সাথে বিপদের একধরনের সম্পৃক্ততার সন্ধান করে। রসূলুল্লাহ সা. এই কথা বলে বুঝিয়েছিলেন যে, مسلمانوں জন্য এমন চিন্তার অবকাশ নেই। এই জায়গা ও সময় আল্লাহরই সৃষ্টি। এগুলোকে অশুভ মনে করা যাবে না। ঘটনার সাথে স্থান-কালের কোনো সম্পর্ক থাকে না। সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তিনিই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক।
এছাড়া আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া একটি সম্মানের বিষয়। এ কারণেও উহুদ পাহাড় সম্মানিত হওয়া এবং ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মর্যাদা পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। ৬১১

টিকাঃ
৬০৯ সহীহ বুখারী: ৪০৮৪।
৬১০ আত তারীখুল ইসলামী লিলহুমাইদী: ৫/১৯৮।
৬১১ মুঈনুস সীরাহ: ৪২৭।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 গাযওয়ায়ে উহুদে ফেরেশতা

📄 গাযওয়ায়ে উহুদে ফেরেশতা


সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. বলেন, আমি গাযওয়ায়ে উহুদের দিন রসূলুল্লাহ সা.-এর ডানে ও বামে দুজন ব্যক্তিকে দেখেছিলাম যাঁরা সাদা পোশাক পরা ছিলেন। তারা নবীজির পক্ষে প্রচণ্ড যুদ্ধ করছিলেন। আমি এর আগে তাদের দেখিনি এবং পরেও দেখিনি। তিনি সেদিন জিবরাইল ও মিকাইলকে দেখেছিলেন। ৬১২
শুধু রসূলুল্লাহ সা.-এর নিরাপত্তায় আল্লাহ তাআলা দু'জন ফেরেশতা পাঠিয়েছিলেন। কারণ আল্লাহ রসূল সা.-কে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এছাড়া গাযওয়ায়ে উহুদে ফেরেশতাদের অংশগ্রহণের আর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে আল্লাহ তিনটি শর্তের ভিত্তিতে مسلمانوں সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই তিনটি শর্ত হচ্ছে : ধৈর্যধারণ, তাকওয়া অবলম্বন ও শত্রুদের পক্ষ থেকে অতর্কিত আক্রমণ। এ শর্তগুলো সামগ্রিকভাবে পূরণ না হওয়ায় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সেদিন সাহায্য আসেনি। ৬১৩
এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন :
إِذْ تَقُوْلُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَنْ يَكْفِيَكُمْ أَنْ يُمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلَثَةِ الْفِ مِّنَ الْمَلْئِكَةِ مُنْزَلِينَ بَلَى إِنْ تَصْبِرُوا وَ تَتَّقُوا وَ يَأْتُوْكُمْ مِّنْ فَوْرِهِمْ هُذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ الْفٍ مِّنَ الْمَلْيكَةِ مُسَوَّمِينَ
স্মরণ কর, যখন তুমি মুমিনদেরকে বলছিলে, তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে তিন হাজার নাযিলকৃত ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন? হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, আর তারা হঠাৎ তোমাদের মুখোমুখি এসে যায়, তবে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। ৬১৪

টিকাঃ
৬১২ সহীহ মুসলিম: ১৮০২।
৬১৩ আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ: ২/৩৯১।
৬১৪ সূরা আলে ইমরান: ১২৪-১২৫।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 সূরা আনফাল ও আলে ইমরানের আলোকে জয়-পরাজয়

📄 সূরা আনফাল ও আলে ইমরানের আলোকে জয়-পরাজয়


সুরা আনফালে গাযওয়ায়ে বদর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সূরা আলে ইমরানে গাযওয়ায়ে উহুদ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এর দ্বারা মুসলিম জাতিকে মানুষের জীবন-মৃত্যু, জয়-পরাজয়, লাভ-ক্ষতি, ঈমান-কুফর ও তাকদিরের বাস্তবতা শেখানো হয়েছে। একই সাথে পরীক্ষায় সফল হওয়া, শত্রুদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়ার পদ্ধতিও বাতলে দেওয়া হয়েছে। গাযওয়ায়ে উহুদ ও বদরের আলোচনায় সূরা আনফাল ও আলে ইমরান থেকে সাহাবায়ে কেরام এই সকল আয়াতের আলোকে জয়-পরাজয়ের নীতিমালা শেখেন। সেসব নীতিমালার মধ্যে রয়েছে:
ক. আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী। তিনি কোনো সৃষ্টিজীবের অধীনে নন। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে দান করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তার ওপর থেকে নিজের সাহায্য ফিরিয়ে নেবেন। এক কথায়, আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্তি, রিযিক, জীবন-মৃত্যুর মতো গায়বি বিষয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا جَعَلَهُ اللهُ إِلَّا بُشْرَى وَلِتَطْمَئِنَّ بِهِ قُلُوْبُكُمْ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
আর আল্লাহ তো তা করেছেন কেবল সুসংবাদস্বরূপ এবং যাতে এর দ্বারা তোমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয় এবং সাহায্য তো আল্লাহর পক্ষ থেকেই। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ৬১৫
খ. কারও জন্য যখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্য বা বিজয় নির্ধারিত হয়, পৃথিবীর কোনো শক্তি বাধা দিয়ে রাখতে পারে না। অনুরূপভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে কারও জন্য যখন পরাজয় নির্ধারিত থাকে পৃথিবীর কোনো জাতি বা শক্তি তা খণ্ডন করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنْ يَنْصُرْكُمُ اللهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِنْ يَخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِي يَنْصُرُكُمْ مِّنْ بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُوْنَ
যদি আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করেন তবে তোমাদের উপর বিজয়ী কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমাদেরকে লাঞ্ছিত করেন তবে কে এমন আছে যে, তোমাদেরকে এর পরে সাহায্য করবে? আর আল্লাহর উপরই যেন মুমিনগণ তাওয়াক্কুল করে। ৬১৬
গ. আল্লাহর সাহায্য করার কিছু শর্ত রয়েছে। আমাদের উচিত তা বোঝা। আমাদের পতাকা শুধু আল্লাহর জন্যই হওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন :
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ
হে মুমিনগণ, যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর তবে আল্লাহও তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করে দেবেন। ৬১৭
আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া, তার দেখানো পথে অবিচল থাকা এবং তার পথে জিহাদের মাধ্যমেই সাহায্যের আশা করা যেতে পারে।
ঘ. একতা, একাগ্রতা ও একনিষ্ঠতার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য আসে আর মতবিরোধ ডেকে আনে ধ্বংস। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَ أَطِيعُوا اللهَ وَرَسُولَهُ وَ لَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَ تَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَ اصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّبِرِينَ
আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর এবং পরস্পর ঝগড়া করো না, তাহলে তোমরা সাহসহারা হয়ে যাবে এবং তোমাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। তোমরা ধৈর্য ধরো, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। ৬১৮
ঙ. আল্লাহ ও রসূলের নির্দেশ মান্য করা তাদের আদেশের লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকলেই সাহায্যপ্রাপ্তির আশা করা যায়। পাপ পরাজয় ডেকে আনে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَ أَطِيعُوا اللهَ وَرَسُولَهُ وَ لَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَ تَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَ اصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّبِرِينَ
আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর এবং পরস্পর ঝগড়া করো না, তাহলে তোমরা সাহসহারা হয়ে যাবে এবং তোমাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য ধরো, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। ৬১৯
চ. জাগতিক মোহ-মায়াও আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
حَتَّى إِذَا فَشِلْتُمْ وَ تَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَ عَصَيْتُمْ مِّنْ بَعْدِ مَا أَرَىكُمْ مَّا تُحِبُّوْنَ مِنْكُمْ مِّنْ يُرِيدُ الدُّنْيَا وَ مِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الْآخِرَةَ
অবশেষে যখন তোমরা দুর্বল হয়ে গেলে এবং নির্দেশ সম্পর্কে বিবাদ করলে আর তোমরা অবাধ্য হলে তোমরা যা ভালোবাসতে তা তোমাদেরকে দেখানোর পর। তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া চায় আর কেউ চায় আখেরাত। ৬২০
ছ. পরাজয়ের মৌলিক কারণ সংখ্যাস্বল্পতা বা সরঞ্জামের অভাব নয়। আল্লাহ তাআলা এ ব্যাপারে বলেন:
وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَّ أَنْتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُوْنَ
আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছেন অথচ তোমরা ছিলে হীনবল। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায়, তোমরা শোকরগুজার হবে। ৬২১
জ. তবে শত্রুদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য রণসরঞ্জাম তৈরি ও পরিপূর্ণ মানসিক প্রস্তুতি আবশ্যক। ৬২২
আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَ أَعِدُّوا لَهُمْ مَّا اسْتَطَعْتُمْ مِّنْ قُوَّةٍ وَ مِنْ رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُوْنَ بِهِ عَدُوَّ اللهِ وَ عَدُوَّكُمْ وَ اخَرِيْنَ مِنْ دُوْنِهِمْ لَا تَعْلَمُوْنَهُمْ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ وَ مَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُظْلَمُوْنَ
আর তাদের মোকাবেলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও অশ্ব বাহিনী প্রস্তুত কর, তা দ্বারা তোমরা ভয় দেখাবে আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদেরকে এবং এরা ছাড়া অন্যদেরকেও, যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ তাদেরকে জানেন। আর তোমরা যা আল্লাহর রাস্তায় খরচ কর, তা তোমাদেরকে পরিপূর্ণ দেয়া হবে, আর তোমাদের ওপর যুলুম করা হবে না। ৬২৩
ঝ. শত্রুর মোকাবেলায় ধৈর্যশীল হতে হবে। অবিচল থাকতে হবে। এটাও সাহায্যপ্রাপ্তির অন্যতম উপায়। আল্লাহ তাআলা বলেন :
يُأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيْتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَ اذْكُرُوا اللهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে মুমিনগণ, যখন তোমরা কোন দলের মুখোমুখি হও, তখন অবিচল থাক, আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হও। ৬২৪
يُأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوْا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوْهُمُ الْأَدْبَارَه
হে মুমিনগণ, তোমরা যখন কাফেরদের মুখোমুখি হবে বিশাল বাহিনী নিয়ে, তখন তাদের থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো না। ৬২৫
ঞ. শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দৃঢ়তার সাথে ধৈর্যধারণের পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার যিকিরও সাহায্যপ্রাপ্তির অন্যতম নিয়ামক। আল্লাহ তাআলার প্রতি মনোযোগী হওয়া একান্ত জরুরি। কেননা, তিনি সাহায্যকারী। তার ওপর ভরসা করা উচিত। তার সামনে নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ করে বিনম্রচিত্তে দোআ করা উচিত। শুধু নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য ও সেনাবাহিনীর ওপর ভরসা করা উচিত নয়। এগুলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্য আসার উপায় মাত্র। ৬২৬
আল্লাহ বলেন:
يَآ أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا إِذَا لَقِيْتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوْا وَ اذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে মুমিনগণ, যখন তোমরা কোন দলের মুখোমুখি হও, তখন অবিচল থাক, আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হও। ৬২৭

টিকাঃ
৬১৫ সূরা আনফাল: ১০।
৬১৬ সূরা আলে ইমরান: ১৬০।
৬১৭ সূরা মুহাম্মদ: ৭।
৬১৮ সূরা আনফাল: ৪৬।
৬১৯ সূরা আনফাল: ৪৬।
৬২০ সূরা আলে ইমরান: ১৫২।
৬২১ সূরা আলে ইমরান: ১২৩।
৬২২ ফিকহুস সীরাহ লিমুনির আল গাদবান: ৪৬১-৪৬২।
৬২৩ সূরা আনফাল: ৬০।
৬২৪ সূরা আনফال: ৪৫।
৬২৫ সূরা আনফাল: ১৫।
৬২৬ ফিকহুস সীরাহ লিমুনির আল গাদবান: ৪৬৩।
৬২৭ সূরা আনফাল: ৪৫।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 শহীদদের মর্যাদা

📄 শহীদদের মর্যাদা


রসূলুল্লাহ সা. বলেন, গাযওয়ায়ে উহুদে যখন তোমাদের ভাইয়েরা শাহাদাতবরণ করেছেন আল্লাহ তাআলা তাদের আত্মাসমূহকে সবুজ পাখির দেহাভ্যন্তরে স্থাপন করেছেন। তারা জান্নাতের ঝরনাসমূহে অবগাহন করে, ফল ভক্ষণ করে। আরশের ছায়ায় স্বর্ণের খাঁচায় বসবাস করে। নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ ও খাদ্যদ্রব্যের স্বাদ আস্বাদন করে। তারা বলছে, হায়! যদি আমাদের ভাইয়েরা জানতো, আল্লাহ তাআলা আমাদের কতটা সম্মানিত করেছেন, তাহলে তারা কখনও যুদ্ধ থেকে বিমুখ হতো না। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'তোমাদের এ কথা আমি তাদের কাছে পৌঁছাবো।' আল্লাহ তাআলা বলেন:৬২৮
وَ لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُوْنَ فَرِحِيْنَ بِمَا آتَهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَ يَسْتَبْشِرُوْنَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِمْ مِّنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ يَسْتَبْشِرُوْنَ بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَ فَضْلٍ وَ أَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ
আর যারা আল্লাহর পথে জীবন দিয়েছে, তাদেরকে তুমি মৃত মনে করো না, বরং তারা তাদের রবের নিকট জীবিত। তাদেরকে রিযিক দেয়া হয়। আল্লাহ তাদেরকে যে অনুগ্রহ করেছেন, তাতে তারা খুশি। আর তারা উৎফুল্ল হয়, পরবর্তীদের থেকে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি তাদের বিষয়ে। এজন্য যে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিআমত ও অনুগ্রহ লাভে খুশি হয়। আর নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের প্রতিদান নষ্ট করেন না। ৬২৯
এ আয়াতসমূহের তাফসীরে ইমাম ওয়াহেদী সাঈদ ইবনে যুবায়ের রা. থেকে বর্ণনা করেন, হামযা ইবনে আবদুল মুত্তালিব ও মুসআব ইবনে উমায়ের রা. গাযওয়ায়ে উহুদে শহীদ হন। জান্নাতে তাদের যে মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল তা দেখে তারা এই আশা প্রকাশ করেন, হায়! আমাদের ভাইয়েরা যদি আমাদের মর্যাদা সম্পর্কে জানতো, তাহলে তাদের মধ্যে যুদ্ধের আগ্রহ আরও বেড়ে যেতো। আল্লাহ তাদের বলেন, 'তোমাদের পক্ষ থেকে এই বাণী তাদের কাছে পৌঁছে দেবো।' অতঃপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেন। ৬৩০
ইমাম মুসলিম রহ. হযরত মাসরুক রহ.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি এ আয়াত সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর কাছে জানতে চেয়েছিলাম। তিনি বললেন, আমরা নবীজিকে এ প্রশ্ন করলে তিনি বলেছেন, 'শহীদদের আত্মাসমূহ সবুজ পাখির অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। আরশের সাথে তাদের জন্য সোনালি পিঞ্জিরা স্থাপন করা হয়। তারা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে বিচরণ করতে পারে। অতঃপর আবার পুনরায় সে পিঞ্জিরায় এসে বিশ্রাম নেন। একবার তাদের রব তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে বলেন, তোমরা কি আমার কাছে কিছু চাও? উত্তরে তারা বলেন, আমরা এখন আর কী চাইবো! আমরা তো জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা সেখানে বিচরণ করতে পারি। আল্লাহ তাআলা তাদের তিনবার প্রশ্ন করেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে যখন প্রার্থনা করার সুযোগ বারবার আসতে থাকলো, তখন তারা বলেন, হে আমাদের পরওয়ারদেগার, আমরা চাই আমাদের যেন পুনরায় জীবিত করে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমরা আবারও আপনার রাস্তায় শহীদ হতে চাই। যখন আল্লাহ তাআলা দেখলেন তাদের বিশেষ কোনো চাহিদা নেই, তখন তাদের আর প্রশ্ন করা হয়নি। ৬৩১

টিকাঃ
৬২৮ তাফসীরে তাবারী: ৪/১৭০।
৬২৯ সূরা আলে ইমরান: ১৬৯-১৭১।
৬৩০ তাফসীরে ওয়াহেদী: ১৪০।
৬৩১ সহীহ মুসলিম: ১৮৮৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00