📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 তীরন্দাজ ও মুনাফেকদের ব্যাপারে রসূলের দৃষ্টিভঙ্গি

📄 তীরন্দাজ ও মুনাফেকদের ব্যাপারে রসূলের দৃষ্টিভঙ্গি


ক. তীরন্দজা বাহিনী
গাযওয়ায়ে উহুদে যেসব তীরন্দাজরা ভুল করেছিলেন রসূলুল্লাহ সা. তাদেরকে সেনাবাহিনী থেকে বের করে দেননি। রসূলুল্লাহ সা. তাদের এ কথা বলেননি যে, যুদ্ধক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও ত্রুটির কারণে তোমরা আমাদের সাথে থাকার উপযুক্ত নও, বরং তাদের ত্রুটি সত্ত্বেও রসূল সা. তাদেরকে নিজের সাথেই রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত ভালোবাসা ও দোআর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সবাইকে সাধারণভাবে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। অথচ তাদের ভুলের কারণে সব মুসলমান দুর্দশায় পড়েছিলেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَ لَقَدْ صَدَقَكُمُ اللهُ وَعْدَه إِذْ تَحُسُّوْنَهُمْ بِإِذْنِهِ حَتَّى إِذَا فَشِلْتُمْ وَ تَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَ عَصَيْتُمْ مِّنْ بَعْدِ مَا أَرْىكُمْ مَّا تُحِبُّوْنَ مِنْكُمْ مَّنْ يُرِيدُ الدُّنْيَا وَ مِنْكُمْ مَّنْ يُرِيدُ الْآخِرَةَ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ وَلَقَدْ عَفَا عَنْكُمْ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ
আর আল্লাহ তোমাদের কাছে তার ওয়াদা সত্যে পরিণত করেন, যখন তোমরা তাদেরকে হত্যা করছিলে তার নির্দেশে। অবশেষে যখন তোমরা দুর্বল হয়ে গেলে এবং নির্দেশ সম্পর্কে বিবাদ করলে আর তোমরা অবাধ্য হলে তোমরা যা ভালোবাসতে তা তোমাদেরকে দেখানোর পর। তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া চায় আর কেউ চায় আখেরাত। তারপর আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন। আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আল্লাহ মুমিনদের উপর অনুগ্রহশীল। ৬০২
আল্লাহর ক্ষমা ছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের মনে ভয় কাজ করছিল। সেটি ছিল, তাদের ভ্রান্তির বিষয়ে রসূলুল্লাহ সা.-এর মনোভাব। তাই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ক্ষমা ঘোষণার পাশাপাশি নবীজির পক্ষ থেকেও ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। আল্লাহ তাআলা এটাও বলেছেন, এসব ত্রুটির কারণে তাদের পরামর্শ ও মতামত যেন উপেক্ষা করা না হয়। বরং তাদের মতামত ও পরামর্শের প্রতি যেন সম্মান দেখানো হয়। ৬০০
আল্লাহ বলেন:
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَ لَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نُفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَ اسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَ شَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكَّلِينَ
অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের কারণে তুমি তাদের জন্য নম্র হয়েছিলে। আর যদি তুমি কঠোর স্বভাবের, কঠিন হৃদয়সম্পন্ন হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর। অতঃপর যখন সংকল্প করবে তখন আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালোবাসেন। ৬০৪

টিকাঃ
৬০২ সূরা আলে ইমরান: ১৫২।
৬০০ গাযওয়ায়ে উহুদ দিরাসাতুন দাবিয়াহ: ২১৬।
৬০৪ সূরা আলে ইমরান: ১৫৯।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 মুনাফেক ইবনে উবাইয়ের সঙ্গত্যাগ

📄 মুনাফেক ইবনে উবাইয়ের সঙ্গত্যাগ


মুনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই তিন শত মুনাফেক নিয়ে আলাদা হয়ে যায়। সে মুসলিম বাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও দুর্বলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। ইসলামকে দুর্বল করে দিতে কঠিন পরিস্থিতিতে مسلمانوں সঙ্গে তার প্রতারণা ছিল অত্যন্ত ঘৃণ্য। আবদুল্লাহ ইবনে হারাম রা. তাদেরকে বিরত রাখতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মুনাফেকরা তার ডাকে সাড়া দেয়নি। ৬০৫
তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَ مَا أَصَابَكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعُنِ فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَ لِيَعْلَمَ الْمُؤْمِنِينَ وَ لِيَعْلَمَ الَّذِينَ نَافَقُوْا وَقِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا قَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوِ ادْفَعُوْا قَالُوا لَوْ نَعْلَمُ قِتَالًا لَّا تَبَعْنَكُمْ هُمْ لِلْكُفْرِ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلْإِيْمَانِ يَقُوْلُوْنَ بِأَفْوَاهِهِمْ مَّا لَيْسَ فِي قُلُوْبِهِمْ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يَكْتُمُوْنَ
আর তোমাদের উপর যে বিপদ এসেছিল দুই দল মুখোমুখি হওয়ার দিন তা আল্লাহর অনুমতিক্রমে এবং যাতে তিনি মুমিনদেরকে জেনে নেন। আর যাতে তিনি জেনে নেন মুনাফেকদেরকে। আর তাদেরকে বলা হয়েছিল, 'এসো, আল্লাহর পথে লড়াই কর অথবা প্রতিরোধ কর'। তারা বলেছিল, 'যদি আমরা লড়াই হবে জানতাম তবে অবশ্যই তোমাদেরকে অনুসরণ করতাম'। সেদিন তারা কুফরীর বেশি কাছাকাছি ছিল তাদের ঈমানের তুলনায়। তারা তাদের মুখে বলে, যা তাদের অন্তরসমূহে নেই। আর তারা যা গোপন করে সে সম্পর্কে আল্লাহ অধিক অবগত। ৬০৬
মুসলমানদের সৈন্যসংখ্যা কাফেরদের তুলনায় খুবই কম থাকায় তাদের আরও সৈন্যের প্রয়োজন ছিল। তারপরও রসূলুল্লাহ সা. মুনাফেকদের চলে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। শুধু মানুষদের সামনে তাদের অপদস্থ হওয়াকেই তিনি যথেষ্ট মনে করেছিলেন। ৬০৭
রসূলুল্লাহ সা. তাদের চলে যাওয়াকে গুরুত্ব দেননি, এটাই ইবনে উবাইয়ের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিষয়টি ফুটে ওঠে নিম্নের ঘটনায় :
মদীনায় আবদুল্লাহ ইবন উবাই ইবনে সুলুল প্রত্যেক জুমআর দিন তখন রসূলুল্লাহ সা. যখনই জনগণের সামনে ভাষণ দিতে শুরু করতেন, তখন সে নিজেকে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী জাহির করার জন্য উঠে দাঁড়িয়ে বলতো, 'হে জনমণ্ডলী, এই যে আল্লাহর রসূল তোমাদের সামনে উপস্থিত। তার দ্বারা আল্লাহ তোমাদের শক্তি ও সম্মান বৃদ্ধি করেছেন। সুতরাং তোমরাও তাঁকে সাহায্য ও সহযোগিতা করো, তার কথা শোনো এবং মেনে চলো।' এই বলেই সে বসে পড়তো।
উহুদ যুদ্ধের আগে এতে কেউ আপত্তি করতো না। কিন্তু উহুদ যুদ্ধে সে জঘন্য বিশ্বাসঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং বহু সংখ্যক লোককে যুদ্ধের পথ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এরপরও সে একদিন রসূলুল্লাহ সা.-এর ভাষণ দেয়ার সময় জুমআর দিন আগের মতই উঠে দাঁড়ালো। মুসলমানগণ তৎক্ষণাৎ চারদিক থেকে তার কাপড় টেনে ধরে বললেন, আল্লাহর দুশমন, বস্। তুই যা করেছিস এরপরে তোর মুখে আর ওসব কথা শোভা পায় না।
তখন সে সমবেত মুসল্লীদের ঘাড়ের ওপর দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যেতে যেতে বললো, রসূলুল্লাহ সা.-এর সমর্থন করার জন্য যে কথাটি বলছিলাম তা যেন খারাপ কথা হয়ে গেলো। মসজিদের দরজায় জনৈক আনসারী সাহাবীর সাথে তার দেখা হলো। তিনি বললেন, তোমার কী হলো? সে বললো, রসূলুল্লাহ সা.-কে সমর্থন করার চেষ্টা করছিলাম। তাতে তার সহচরগণ আমার ওপর চড়াও হয়ে আমাকে টেনে বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলো এবং তিরস্কার করতে লাগলো। আনসারী সাহাবী বললেন, তোমার জন্য আফসোস! তুমি মসজিদে ফিরে যাও। রসূলুল্লাহ সা. তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন। সে বললো, আমি চাই না তিনি আমার জন্য ক্ষমা চান। ৬০৮

টিকাঃ
৬০৫ গাযওয়ায়ে উহুদ দিরাসাতুন দাবিয়াহ: ২১৯।
৬০৬ সূরা আলে ইমরান : ১৬৬-১৬৭।
৬০৭ গাযওয়ায়ে উহুদ দিরাসাতুন দাবিয়াহ : ২২০।
৬০৮ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৪/৫৩।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 ‘উহুদ আমাদের ভালোবাসে, আমরা উহুদকে ভালোবাসি’

📄 ‘উহুদ আমাদের ভালোবাসে, আমরা উহুদকে ভালোবাসি’


আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা.-এর সামনে উহুদ পাহাড় দৃশ্যমান হলে তিনি বলেন, এটি এমন পাহাড় যে আমাদের ভালোবাসে, আমরাও তাকে ভালোবাসি। ৬০৯
তিনি উহুদ পাহাড়কে مسلمانوں প্রতিরক্ষার মাধ্যম বানিয়েছিলেন এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছিলেন। আল্লাহ তাআলাও এ পাহাড়কে প্রতিরক্ষা গ্রহণের উপযুক্ত করেই যেন তৈরি করেছেন। সুতরাং যিনি একটি জড় পদার্থের মর্যাদার স্বীকৃতি দিচ্ছেন এবং তার সাথে ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন, মানুষের প্রতি তিনি কতটা আন্তরিক ও বন্ধুবৎসল ছিলেন তা সহজেই অনুমান করা যায়। ৬১০
এই হাদীসের কয়েক রকম বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তন্মধ্যে ইমাম হুমাইদী কয়েকটি উল্লেখ করেছেন। শায়েখ সালেহ আহমদ শামী এ প্রসঙ্গে বলেন, সাধারণত মানুষ কোনো সময় দুর্দশায় পতিত হলে স্থান ও কালের সাথে বিপদের একধরনের সম্পৃক্ততার সন্ধান করে। রসূলুল্লাহ সা. এই কথা বলে বুঝিয়েছিলেন যে, مسلمانوں জন্য এমন চিন্তার অবকাশ নেই। এই জায়গা ও সময় আল্লাহরই সৃষ্টি। এগুলোকে অশুভ মনে করা যাবে না। ঘটনার সাথে স্থান-কালের কোনো সম্পর্ক থাকে না। সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তিনিই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক।
এছাড়া আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া একটি সম্মানের বিষয়। এ কারণেও উহুদ পাহাড় সম্মানিত হওয়া এবং ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মর্যাদা পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। ৬১১

টিকাঃ
৬০৯ সহীহ বুখারী: ৪০৮৪।
৬১০ আত তারীখুল ইসলামী লিলহুমাইদী: ৫/১৯৮।
৬১১ মুঈনুস সীরাহ: ৪২৭।

📘 নবীজির যুদ্ধ জীবন পাঠ ও পর্যালোচনা > 📄 গাযওয়ায়ে উহুদে ফেরেশতা

📄 গাযওয়ায়ে উহুদে ফেরেশতা


সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. বলেন, আমি গাযওয়ায়ে উহুদের দিন রসূলুল্লাহ সা.-এর ডানে ও বামে দুজন ব্যক্তিকে দেখেছিলাম যাঁরা সাদা পোশাক পরা ছিলেন। তারা নবীজির পক্ষে প্রচণ্ড যুদ্ধ করছিলেন। আমি এর আগে তাদের দেখিনি এবং পরেও দেখিনি। তিনি সেদিন জিবরাইল ও মিকাইলকে দেখেছিলেন। ৬১২
শুধু রসূলুল্লাহ সা.-এর নিরাপত্তায় আল্লাহ তাআলা দু'জন ফেরেশতা পাঠিয়েছিলেন। কারণ আল্লাহ রসূল সা.-কে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এছাড়া গাযওয়ায়ে উহুদে ফেরেশতাদের অংশগ্রহণের আর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে আল্লাহ তিনটি শর্তের ভিত্তিতে مسلمانوں সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই তিনটি শর্ত হচ্ছে : ধৈর্যধারণ, তাকওয়া অবলম্বন ও শত্রুদের পক্ষ থেকে অতর্কিত আক্রমণ। এ শর্তগুলো সামগ্রিকভাবে পূরণ না হওয়ায় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সেদিন সাহায্য আসেনি। ৬১৩
এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন :
إِذْ تَقُوْلُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَنْ يَكْفِيَكُمْ أَنْ يُمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلَثَةِ الْفِ مِّنَ الْمَلْئِكَةِ مُنْزَلِينَ بَلَى إِنْ تَصْبِرُوا وَ تَتَّقُوا وَ يَأْتُوْكُمْ مِّنْ فَوْرِهِمْ هُذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ الْفٍ مِّنَ الْمَلْيكَةِ مُسَوَّمِينَ
স্মরণ কর, যখন তুমি মুমিনদেরকে বলছিলে, তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে তিন হাজার নাযিলকৃত ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন? হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, আর তারা হঠাৎ তোমাদের মুখোমুখি এসে যায়, তবে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। ৬১৪

টিকাঃ
৬১২ সহীহ মুসলিম: ১৮০২।
৬১৩ আস সীরাতুন নববিয়্যাহ আসসহীহাহ: ২/৩৯১।
৬১৪ সূরা আলে ইমরান: ১২৪-১২৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00