📄 ভুল সংশোধনের ধারণা
গাযওয়ায়ে উহুদে মুসলমানরা যেসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, কুরআনে কারীমে বদর যুদ্ধের বিপরীতে তার বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত কোমল ভাষা ব্যবহার করেছেন। বদরের যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে রসূল সা.-এর সিদ্ধান্তের সমালোচনায় কুরআনে তুলনামূলক কঠিন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। বদরযুদ্ধের যুদ্ধবন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
مَا كَانَ لِنَبِيٌّ أَنْ يَكُوْنَ لَه أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ تُرِيدُوْنَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَ اللهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ وَ اللهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ لَوْلَا كِتَبٌ مِّنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيْمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
কোনো নবীর জন্য সঙ্গত নয় যে, তার নিকট যুদ্ধবন্দী থাকবে (এবং পণের বিনিময়ে তিনি তাদেরকে মুক্ত করবেন) যতক্ষণ না তিনি যমীনে (তাদের) রক্ত প্রবাহিত করেন। তোমরা দুনিয়ার সম্পদ কামনা করছো, অথচ আল্লাহ চাচ্ছেন আখেরাত। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান। আল্লাহর লিখন অতিবাহিত না হয়ে থাকলে, অবশ্যই তোমরা যা গ্রহণ করেছো, সে বিষয়ে তোমাদেরকে মহা আযাব স্পর্শ করতো। ৫৭৫
গাযওয়ায়ে উহুদ সম্পর্কে বলা হয়েছে:
وَ لَقَدْ صَدَقَكُمُ اللهُ وَعْدَه إِذْ تَحُسُّوْنَهُمْ بِإِذْنِهِ حَتَّى إِذَا فَشِلْتُمْ وَ تَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَ عَصَيْتُمْ مِّن بَعْدِ مَا أَرْىكُمْ مَّا تُحِبُّوْنَ مِنْكُمْ مَّنْ يُرِيدُ الدُّنْيَا وَ مِنْكُمْ مَّنْ يُرِيدُ الْآخِرَةَ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ وَ لَقَدْ عَفَا عَنْكُمْ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ
আর আল্লাহ তোমাদের কাছে তার ওয়াদা সত্যে পরিণত করেন, যখন তোমরা তাদেরকে হত্যা করছিলে তাঁর নির্দেশে। অবশেষে যখন তোমরা দুর্বল হয়ে গেলে এবং নির্দেশ সম্পর্কে বিবাদ করলে আর তোমরা অবাধ্য হলে তোমরা যা ভালোবাসতে তা তোমাদেরকে দেখানোর পর। তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া চায় আর কেউ চায় আখেরাত। তারপর আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন। আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আল্লাহ মুমিনদের উপর অনুগ্রহশীল। ৫৭৬
কুরআন এভাবেই ব্যবহারিকভাবে শিক্ষা দিয়েছে। শিক্ষা-দীক্ষা ও দাওয়াতি কাজে নিয়োজিত ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের জন্য এখানে অনেক উপদেশ রয়েছে। ৫৭৭
টিকাঃ
৫৭৫ সূরা আনফাল: ৬৭-৬৮।
৫৭৬ সূরা আলে ইমরান: ১৫২।
৫৭৭ সুয়ার ওয়া ইবার মিনাল জিহাদিন নববী ফিল মাদিনাহ: ১৩৭।
📄 আগের যুগের মুজাহিদদের উদাহরণ
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَ كَأَيِّنْ مِّنْ نَّبِيَّ قُتَلَ مَعَه رَبَّيُّوْنَ كَثِيرُ فَمَا وَ هَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيْلِ اللهِ وَ مَا ضَعُفُوا وَ مَا اسْتَكَانُوا وَ اللهُ يُحِبُّ الصَّبِرِينَ وَ مَا كَانَ قَوْلَهُمْ إِلَّا أَنْ قَالُوا رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَ إِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَ ثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَ انْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَفِرِينَ فَاتْهُمُ اللهُ ثَوَابَ الدُّنْيَا وَ حُسْنَ ثَوَابِ الْآخِرَةِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
আর কত নবী ছিল, যার সাথে থেকে অনেক আল্লাহওয়ালা লড়াই করেছে। তবে আল্লাহর পথে তাদের উপর যা আপতিত হয়েছে তার জন্য তারা হতোদ্যম হয়নি। আর তারা দুর্বল হয়নি এবং তারা নত হয়নি। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে ভালোবাসেন। আর তাদের কথা শুধু এই ছিল যে, তারা বললো, 'হে আমাদের রব, আমাদের পাপ ও আমাদের কর্মে আমাদের সীমালঙ্ঘন ক্ষমা করুন এবং আমাদের পা দৃঢ় রাখুন, আর কাফের কওমের উপর আমাদেরকে সাহায্য করুন'। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে দিলেন দুনিয়ার প্রতিদান এবং আখেরাতের উত্তম সওয়াব। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন। ৫৭৮
ইবনে কাসীর রহ. বলেন, গাযওয়ায়ে উহুদে যেসব সাহাবী পিছু হটেছেন, এ আয়াত এবং পূর্বোক্ত আয়াতসমূহে আল্লাহ তাদের ভর্ৎসনা করেছেন। ৫৭৯
আল্লাহ তাআলা তাদের সামনে পূর্ববর্তী উম্মতের মুজাহিদদের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে বলেছেন, তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ক্ষেত্রে নিজেদের নবীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন। সে পথে চলতে গিয়ে তারা কখনও নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ করেননি। আহত হয়েও তারা যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ করেননি এবং শত্রুপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি; বরং যুদ্ধক্ষেত্রে তারা দৃঢ় ও অবিচল ছিলেন। উল্লেখিত আয়াতে মূলত ওই মুমিনদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যাঁরা রসূলুল্লাহ সা.-এর শাহাদাতের মিথ্যা প্রপাগান্ডা শুনে মানসিক দুর্বলতার শিকার হয়েছিলেন এবং যুদ্ধে দুর্বলতা-অলসতা প্রদর্শন করেছিলেন। তাই আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী যুগে দীনের জন্য আত্মোৎসর্গকারী ব্যক্তিদের বাণী উদ্ধৃত করেছেন যেন মুসলমানরা তা থেকে শিক্ষা অর্জন করেন এবং দৃঢ়তার সবক গ্রহণ করতে পারেন। ইরশাদ হয়েছে, 'হে আমাদের রব, আমাদের পাপ ও সীমালঙ্ঘন ক্ষমা করুন এবং আমাদের অবিচল রাখুন, আর কাফের কওমের উপর আমাদেরকে সাহায্য করুন।'
পূর্ববর্তী মুজাহিদরা দোয়ায় অপরাধ ও বাড়াবাড়ি নিজেদের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন অথচ তারা আল্লাহর বাহিনী ছিলেন। নিজেদের দুর্বলতাগুলো তারা নিজেদের দিকেই সম্পৃক্ত করেছেন। এমনিভাবে তারা শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দৃঢ়পদ থাকার দোআর আগে আল্লাহর দরবারে নিজেদের কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, যেন পাপমুক্ত হয়ে বিনয়ের সাথে আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করা সম্ভব হয়। এ থেকে এই উম্মতের শিক্ষা হচ্ছে, ক্ষমাপ্রার্থনা এবং তাওবা করতে হবে বিনয়ের সাথে। এসব গুণ অর্জনের প্রতিদান হিসেবে শত্রুদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য আসার সংবাদ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে দিলেন দুনিয়ার প্রতিদান এবং আখেরাতের উত্তম সওয়াব। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন।৫৮০
মোটকথা, উপরোক্ত গুণের কারণে তারা ইহকাল ও পরকালে মুক্তি পেয়েছেন। এগুলো ইখলাসের প্রতিদান। এছাড়া মুজাহিদদের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পেশ করা উত্তম দৃষ্টান্ত হওয়াও ছিল তাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। ইহকালীন প্রাপ্তির বিবরণের পর পরকালীন প্রাপ্তির বিবরণের সময় তার চাইতেও উত্তম শব্দ ব্যবহার করেছেন। আল্লাহ তাআলা বুঝিয়েছেন যে, পরকালীন প্রাপ্তি তাদের জন্য ইহকালীন প্রাপ্তির চাইতেও উত্তম হবে। ৫৮১
টিকাঃ
৫৭৮ সূরা আলে ইমরান: ১৪৬-১৪৮।
৫৭৯ তাফসীরে ইবনে কাসীর: ১/৪১০।
৫৮০ সূরা আলে ইমরান: ১৪৮।
৫৮১ আল মুসতাফাদ মিন কাসাসিল কুরআন: ২/২০৪।
📄 নেতার আদেশের লংঘন যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের কারণ
রণাঙ্গনে তীরন্দাজ বাহিনী রসূলুল্লাহ সা.-এর নির্দেশ অমান্য করা ও ভ্রান্তির শিকার হওয়ার কারণে যুদ্ধের ফল পাল্টে যায়। ফলে মুসলমানদের চরম দুর্দশায় পড়তে হয়। এ ঘটনার শিক্ষা হলো, রণাঙ্গনে নেতার আদেশ লঙ্ঘন পরাজয়ের কারণ হয়। এ ঘটনা থেকে একটি কাফেলার আমীরের আদেশ অমান্য করার ভয়াবহতা বোঝা যায়। মুনাফেক নেতা জিহাদের ময়দান থেকে সাথিদের নিয়ে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছে। তাতে যুদ্ধে কোনো প্রভাব পড়েনি। কিন্তু রসূলুল্লাহ সা. যেসব তীরন্দাজকে রণাঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তারা আদেশ অমান্য করার কারণে মুসলমানরা ভয়ঙ্কর বিপদে পড়েছিলেন। তাদের এ ভ্রান্তির কারণে আল্লাহ তাআলা শত্রুদের আপতিত করেন مسلمانوں ওপর। ময়দানের পুরো দৃশ্য পালটে যায়। মুসলিম বাহিনী চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ইসলামের চারাগাছটি সেদিনই উপড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
গাযওয়ায়ে উহুদের আলোচনা থেকে বোঝা যায়া, যতক্ষণ পর্যন্ত তীরন্দাজরা রসূলুল্লাহ সা.-এর নির্দেশনা ও তাদের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা.-এর কথা যথাযথভাবে পালন করেছিলেন ততক্ষণ পর্যন্ত তারা বিজয়ী ছিলেন। কিন্তু যখন তারা রসূলুল্লাহ সা.-এর নির্দেশ অমান্য করেন, অন্যান্যদের সাথে মিলে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহ করতে নিজেদের নির্ধারিত স্থান থেকে সরে যান, ৫৮২
তখনই তারা পরাজয়ের মুখে পড়েন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِذْ تُصْعِدُوْنَ وَ لَا تَلُونَ عَلَى أَحَدٍ وَ الرَّسُوْلُ يَدْعُوْكُمْ فِي أُخْرُىكُمْ فَأَثَابَكُمْ غَمَّا بِغَمَّ لَكَيْلَا تَحْزَنُوا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَ لَا مَا أَصَابَكُمْ وَ اللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُوْنَ
স্মরণ কর, যখন তোমরা উপরে উঠছিলে এবং কারো দিকে ফিরে দেখছিলে না, আর রসূল তোমাদেরকে ডাকছিল তোমাদের পেছন থেকে। ফলে তিনি তোমাদেরকে দুশ্চিন্তার পর দুশ্চিন্তা দিয়েছিলেন, যাতে তোমাদের যা হারিয়ে গিয়েছে এবং তোমাদের উপর যা আপতিত হয়েছে তার জন্য দুঃখ না করো। আর তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত। ৫৮৩
শায়েখ মুহাম্মাদ ইবনে উসাইমীন বলেন, রসূলুল্লাহ সা.-এর আদেশ মাত্র কয়েকজন সাহাবী লঙ্ঘন করেছেন। কিন্তু এর করুণ ফল সবাইকে ভোগ করতে হয়। অথচ আল্লাহ তাআলার দীনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন তারা। প্রথমে মুসলমানদের বিজয়ের আলামত স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছিল। তীরন্দাজ সাহাবীরা মুশরিকদের পরাজিত দেখতে পাচ্ছিলেন। কিন্তু তারা যখন সেই আদেশটি লঙ্ঘন করেন, তখন পেছন দিক থেকে তাদের ওপর শত্রুরা আক্রমণ চালায় এবং মুসলমানদের ওপর তখন মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসে। বিষয়টি আল্লাহ তাআলা উপস্থাপন করেছেন এভাবে:
وَ لَقَدْ صَدَقَكُمُ اللهُ وَعْدَه إِذْ تَحُسُّوْنَهُمْ بِإِذْنِهِ حَتَّى إِذَا فَشِلْتُمْ وَ تَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَ عَصَيْتُمْ مِّنْ بَعْدِ مَا أَرْىكُمْ مَّا تُحِبُّوْنَ مِنْكُمْ مِّنْ يُرِيدُ الدُّنْيَا وَ مِنْكُمْ مَّنْ يُرِيدُ الْآخِرَةَ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ وَ لَقَدْ عَفَا عَنْكُمْ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ
আর আল্লাহ তার ওয়াদা সত্যে পরিণত করেন, যখন তোমরা তাদেরকে হত্যা করছিলে তার নির্দেশে। অবশেষে যখন তোমরা দুর্বল হয়ে গেলে এবং নির্দেশ সম্পর্কে বিবাদ করলে আর তোমরা অবাধ্য হলে তোমরা যা ভালোবাসতে তা তোমাদেরকে দেখানোর পর। তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া চায় আর কেউ চায় আখেরাত। তারপর আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন। আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আল্লাহ মুমিনদের উপর অনুগ্রহশীল। ৫৮৪
নিশ্চিত বিজয় পরাজয়ে রূপান্তরিত হয়েছিল এই একটি ভুলের কারণে। রসূলুল্লাহ সা.-এর উপস্থিতিতে তারা কেবল একটিমাত্র ভুলই করেছিলেন। চিন্তা করে দেখুন! আমরা তো অসংখ্য পাপে লিপ্ত, এর পরিণام কত করুণ হতে পারে? সুতরাং এটা নিশ্চিত যে, আমাদের পাপের কারণেই আল্লাহ তাআলা অত্যাচারীদের একদলকে আরেক দলের ওপর লেলিয়ে দেন। আমরা যতো বেশি পাপ করি, ততো বেশি দূরে সরে যায় আল্লাহর সাহায্য। ৫৮৫
টিকাঃ
৫৮২ গাযওয়ায়ে উহুদ দিরাসাতুন দা'বিয়্যাতুন: ২০৭-২০৯।
৫৮৩ সূরা আলে ইমরান: ১৫৩।
৫৮৪ সূরা আলে ইমরান: ১৫২।
৫৮৫ আত তাআতু ওয়াল মাসিয়াহ ও আছারুহুমা ফিল মুজতামা: ২১১।
📄 দুনিয়াকে আখেরাতের ওপর প্রাধান্য দেওয়া
পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও বহু হাদীসে আল্লাহ তাআলার চোখে পৃথিবীর গুরুত্ব কতোটুকু তা তুলে ধরা হয়েছে। এই জগতকে মহব্বত করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন:
زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَ الْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَ الْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الحيوة الدُّنْيَا وَاللَّهُ عِنْدَه حُسْنُ الْمَابِ
মানুষের কাছে সুশোভিত করা হয়েছে নারী, সন্তান, স্তূপীকৃত স্বর্ণ ও রৌপ্যভান্ডার, চিহ্নযুক্ত অশ্বরাজি, গৃহপালিত পশু এবং শস্যক্ষেত্র, এসব পার্থিব জীবনের সম্পদ, আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম আশ্রয়স্থল। ৫৮৬
রসূলুল্লাহ সা. তার উম্মতকে বারবার জাগতিক মোহ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীস : আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, পৃথিবী অত্যন্ত সুমিষ্ট এবং শস্যশ্যামল। আল্লাহ তাআলা তোমাদের পৃথিবীতে তার প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছেন। তোমরা কেমন কাজ করো, তা তিনি দেখতে চান। তাই তোমরা দুনিয়া এবং নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা, বনী ইসরাইলের প্রথম ফেতনা সংঘটিত হয়েছিল নারীদের কারণেই। ৫৮৭
যে কোনো সীরাত পাঠক গাযওয়ায়ে উহুদের ঘটনাপ্রবাহে দুনিয়ার প্রতি মোহের ভয়াবহ ফল দেখতে পাবে।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, গাযওয়ায়ে উহুদের দিন শত্রুসেনারা রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে পরাজিত হলে তীরন্দাজরা পরস্পর বলাবলি করছিলেন, চলো রসূল সা. এবং অন্যান্য মুজাহিদদের সাথে মিলিত হই। তারা যেন আমাদের আগে গণিমতের সম্পদ সংগ্রহ করতে না পারেন এবং আমাদের ভাগে যেন তাদের চেয়ে কম সম্পদ না পড়ে। তীরন্দাজদের কয়েকজন মতামত দিচ্ছিলেন যে, রসূলুল্লাহ সা. সরাসরি অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই দৃঢ়ভাবে অবস্থান করবো। ৫৮৮
এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা বলেন :
مِنْكُمْ مَّنْ يُرِيدُ الدُّنْيَا وَ مِنْكُمْ مَّنْ يُرِيدُ الْآخِرَةَ
তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া চায় আর কেউ চায় আখেরাত। ৫৮৯
ইমাম তাবারী রহ. বলেন, আয়াতে 'দুনিয়া' অর্থ গণিমত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আমরা কল্পনাও করতাম না যে রসূলুল্লাহ সা.-এর সাহাবাদের মধ্যে দুনিয়া-প্রত্যাশী কেউ আছেন। ৫৯০
গাযওয়ায়ে উহুদে সংঘটিত ঘটনাবলীর মাঝে মুসলিম দায়ীদের জন্য বহু শিক্ষা ও উপদেশ রয়েছে। ঈমানদারদের অন্তরে কীভাবে জাগতিক মোহ-মায়া স্থান করে নেয়, কীভাবে এক পর্যায়ে তারা দুনিয়াকে আখেরাতের ওপর প্রাধান্য দিতে শুরু করে, এ সব আমরা এখানে পাই। তীরন্দাজ সাহাবীরা জাগতিক মোহে রসূলুল্লাহ সা.-এর স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করেছিলেন। ভুল ব্যাখ্যার দ্বারা প্রবৃত্তির চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। ফলে যা হবার তাই হয়েছিল। ঈমানদারদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ধীরে ধীরে এমন মোহ তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে। দীন ও শরীয়ত পালনে এসব কারণ যেন প্রতিবন্ধক হয়ে না দাঁড়ায়। প্রবৃত্তির চাহিদায় ভ্রান্তব্যাখ্যা ও জাগতিক ভোগবিলাসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে শরীয়তবিরোধী কাজ কিছুতেই করা যাবে না। ৫৯১
টিকাঃ
৫৮৬ সূরা আলে ইমরান: ১৪।
৫৮৭ সহীহ মুসলিম: ২৭৪২।
৫৮৮ তাফসীরে তাবারী: ৩/৪৭৪।
৫৮৯ সূরা আলে ইমরান: ১৫২।
৫৯০ তাফসীরে তাবারী: ৩/৪৭৪।
৫৯১ আল মুসতাফাদ মিন কাসাসিল কুরআন: ২/১৯৭।