📄 মুমিনদেরকে পূর্ববর্তীগণের ঘটনাবলি স্মরণ করানো
আল্লাহ তাআলা বলেন:
قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ سُنَنٌ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِيْنَ هُذَا بَيَانُ للنَّاسِ وَ هُدًى وَ مَوْعِظَةٌ لِّلْمُتَّقِينَ وَ لَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِينَ
অবশ্যই তোমাদের পূর্বে অনেক রীতি-নীতি অতিবাহিত হয়েছে, অতএব তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর, দেখ অস্বীকারকারীদের পরিণতি কিরূপ হয়েছিল। এটা মানুষের জন্য স্পষ্ট বর্ণনা ও হেদায়াত এবং উপদেশ মুত্তাকীদের জন্য। আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, আর তোমরাই বিজয়ী যদি মুমিন হয়ে থাক। ৫৬৭
পবিত্র কুরআনের এ আয়াতগুলো দেখলে বোঝা যায় আল্লাহ তাআলা গাযওয়ায়ে উহুদে অংশগ্রহণকারীদের অন্তরে শয়তানের প্ররোচণা দেওয়ার সুযোগ রাখেননি। বরং তাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে যেভাবে, তাতে আশা জাগে। দৃঢ়তার সঙ্গে আল্লাহর পথে চলার নির্দেশনা পাওয়া যায়। এই নির্দেশনা নিঃসন্দেহে তাদের বিপদে ধৈর্যধারণ এবং তাদের দুশ্চিন্তা লাঘবে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, এই আয়াতসমূহে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মুমিনদের সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে। ৫৬৮
যেসব জাতি অতীতে আল্লাহ তাআলার ডাকে সাড়া দেয়নি এবং তার অবাধ্যতা করেছিল, উপরোক্ত আয়াতে তাদের পরিণতি সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করতে বলা হয়েছে; অন্যায় পাপাচার ও কুফুরির কারণে কীভাবে তারা আল্লাহর শাস্তিতে নিপতিত হয়েছিল এবং তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছিল। আয়াতে প্রশ্ন বোধক 'কাইফা' শব্দটি এসেছে আল্লাহ তাআলার বাণী মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী গোত্রসমূহের পরিণতি যে আশ্চর্যজনক ও বিস্ময়কর হয়েছিল তা বোঝাতে। এতে মুমিনদের জন্য রয়েছে উপদেশ। কেননা, আল্লাহ তাআলা এই ধরনের মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীদের পৃথিবীতে শক্তি-সামর্থ্য দান করেছেন। তাদের বিভিন্ন নেয়ামত দান করেছেন। কিন্তু তারা এর মূল্যায়ন করেনি। আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতা করেছে। পাপাচারে লিপ্ত হয়েছে। ফলে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। ৫৬৯
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِين
আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, আর তোমরাই বিজয়ী যদি মুমিন হয়ে থাক। ৫৭০
মুসলমানরা যেন অলসতা না করে, মানসিকভাবে দুর্বল ও ভীত না হয়, এ আয়াতে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারণ, ঈমানের বদৌলতে চূড়ান্ত বিজয় তাদেরই হবে।
টিকাঃ
৫৬৬ ফি যিলালিল কুরআন: ১/৫৩২।
৫৬৭ সূরা আলে ইমরান: ১৩৭-১৩৯।
৫৬৮ তাফসীরে কুরতুবী: ৪/২১৬।
৫৬৯ হাদীসুল কুরআনিল কারীম আন গাযাওয়াতির রসূল: ১/১৯১।
৫৭০ সূরা আলে ইমরান: ১৩৯।
📄 উহুদে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণ
আল্লাহ তাআলা বলেন :
إِنْ يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مَّثْلُهُ وَ تِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّلِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَ يَمْحَقَ الْكَفِرِينَ أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَ لَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جُهَدُوا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّبِرِينَ وَلَقَدْ كُنْتُمْ تَمَنَّوْنَ الْمَوْتَ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَلْقَوْهُ فَقَدْ رَأَيْتُمُوهُ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُوْنَ
যদি তোমাদেরকে কোনো আঘাত স্পর্শ করে থাকে তবে তার অনুরূপ আঘাত উক্ত কওমকেও স্পর্শ করেছে। আর এইসব দিন আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন করি এবং যাতে আল্লাহ ঈমানদারদেরকে জেনে নেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহীদদেরকে গ্রহণ করেন। আর আল্লাহ জালিমদেরকে ভালোবাসেন না। আর যাতে আল্লাহ পরিশুদ্ধ করেন ঈমানদারদেরকে এবং ধ্বংস করে দেন কাফেরদেরকে। তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনো জানেননি তাদেরকে যারা তোমাদের মধ্য থেকে জিহাদ করেছে এবং জানেননি ধৈর্যশীলদেরকে। মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার আগে তোমরা মৃত্যু কামনা করতে, এখন তো তোমরা তা স্বচক্ষে দেখলে। ৫৭২
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, উহুদে বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে মুসলমানরা যেন যুদ্ধবিমুখ না হয়, কেননা, মুসলমানরা যেমন ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে শত্রুপক্ষও তো ইতোপূর্বে এরকম ক্ষয় ক্ষতির শিকার হয়েছিল, তারপরও যদি তারা নিজেদের পথভ্রষ্টতার পরিণام জেনেও যুদ্ধ করে, সত্যপথের ওপর অবিচল থাকার ফলাফল জানার পর তোমরা কেন যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে? আল্লামা যামাখশারী রহ. এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, যদি গাযওয়ায়ে উহুদে তারা তোমাদের ক্ষতি করে থাকে, তোমরাও তাদেরকে বদরযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ করেছো। তারা যদি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পরও বিরত না থাকে, তাহলে তোমরা কেনো দুর্বলতা দেখাবে? তোমাদের দুর্বলতা প্রদর্শন না করাই উত্তম। ৫৭২
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, গাযওয়ায়ে উহুদ ছিল প্রকৃতপক্ষে বদরের বদলা। উহুদের দিন মুমিনদের মধ্যে যাঁরা শাহাদাতবরণ করেছিলেন আল্লাহ তাআলা তাদের শাহাদাতের জন্য নির্বাচিত করেছিলেন। গাযওয়ায়ে বদরের দিন রসূলুল্লাহ সা. মুশরিকদের ওপর বিজয়ী হয়েছিলেন। ৫৭৩
গাযওয়ায়ে উহুদে ঈমানদার ব্যক্তিদের ওপর অপতিত বিপর্যয়ের চারটি হেকমত বর্ণনা করেছেন আল্লাহ। এক. মুমিনদের এটা জানিয়ে দেওয়া যে, আল্লাহ তাআলা যে বিষয়ে জ্ঞাত ছিলেন, তারই বাস্তবায়ন হয়েছে। দুই. মুমিনদের একাংশকে শাহাদাত দান করা, যার মাধ্যমে তারা উচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছিলেন। তিন. মুমিনদের ক্ষমা ও মুনাফেকদের থেকে পৃথকীকরণ। চার. কাফেরদের নিশ্চিহ্ন করা এবং পর্যায়ক্রমে তাদের ধ্বংস করা। ৫৭৪
টিকাঃ
৫৭১ সূরা আলে ইমরান : ১৪০-১৪২।
৫৭২ তাফসীরে কাশশাফ : ১/৪৬৫।
৫৭৩ তাফসীরে রাযী: ৪/১০৫।
৫৭৪ হাদীসুল কুরআনিল কারীম আন গাযাওয়াতির রসূল: ১/১৯৯।
📄 ভুল সংশোধনের ধারণা
গাযওয়ায়ে উহুদে মুসলমানরা যেসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, কুরআনে কারীমে বদর যুদ্ধের বিপরীতে তার বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত কোমল ভাষা ব্যবহার করেছেন। বদরের যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে রসূল সা.-এর সিদ্ধান্তের সমালোচনায় কুরআনে তুলনামূলক কঠিন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। বদরযুদ্ধের যুদ্ধবন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
مَا كَانَ لِنَبِيٌّ أَنْ يَكُوْنَ لَه أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ تُرِيدُوْنَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَ اللهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ وَ اللهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ لَوْلَا كِتَبٌ مِّنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيْمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
কোনো নবীর জন্য সঙ্গত নয় যে, তার নিকট যুদ্ধবন্দী থাকবে (এবং পণের বিনিময়ে তিনি তাদেরকে মুক্ত করবেন) যতক্ষণ না তিনি যমীনে (তাদের) রক্ত প্রবাহিত করেন। তোমরা দুনিয়ার সম্পদ কামনা করছো, অথচ আল্লাহ চাচ্ছেন আখেরাত। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান। আল্লাহর লিখন অতিবাহিত না হয়ে থাকলে, অবশ্যই তোমরা যা গ্রহণ করেছো, সে বিষয়ে তোমাদেরকে মহা আযাব স্পর্শ করতো। ৫৭৫
গাযওয়ায়ে উহুদ সম্পর্কে বলা হয়েছে:
وَ لَقَدْ صَدَقَكُمُ اللهُ وَعْدَه إِذْ تَحُسُّوْنَهُمْ بِإِذْنِهِ حَتَّى إِذَا فَشِلْتُمْ وَ تَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَ عَصَيْتُمْ مِّن بَعْدِ مَا أَرْىكُمْ مَّا تُحِبُّوْنَ مِنْكُمْ مَّنْ يُرِيدُ الدُّنْيَا وَ مِنْكُمْ مَّنْ يُرِيدُ الْآخِرَةَ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ وَ لَقَدْ عَفَا عَنْكُمْ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ
আর আল্লাহ তোমাদের কাছে তার ওয়াদা সত্যে পরিণত করেন, যখন তোমরা তাদেরকে হত্যা করছিলে তাঁর নির্দেশে। অবশেষে যখন তোমরা দুর্বল হয়ে গেলে এবং নির্দেশ সম্পর্কে বিবাদ করলে আর তোমরা অবাধ্য হলে তোমরা যা ভালোবাসতে তা তোমাদেরকে দেখানোর পর। তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া চায় আর কেউ চায় আখেরাত। তারপর আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের থেকে ফিরিয়ে দিলেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন। আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আল্লাহ মুমিনদের উপর অনুগ্রহশীল। ৫৭৬
কুরআন এভাবেই ব্যবহারিকভাবে শিক্ষা দিয়েছে। শিক্ষা-দীক্ষা ও দাওয়াতি কাজে নিয়োজিত ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের জন্য এখানে অনেক উপদেশ রয়েছে। ৫৭৭
টিকাঃ
৫৭৫ সূরা আনফাল: ৬৭-৬৮।
৫৭৬ সূরা আলে ইমরান: ১৫২।
৫৭৭ সুয়ার ওয়া ইবার মিনাল জিহাদিন নববী ফিল মাদিনাহ: ১৩৭।
📄 আগের যুগের মুজাহিদদের উদাহরণ
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَ كَأَيِّنْ مِّنْ نَّبِيَّ قُتَلَ مَعَه رَبَّيُّوْنَ كَثِيرُ فَمَا وَ هَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيْلِ اللهِ وَ مَا ضَعُفُوا وَ مَا اسْتَكَانُوا وَ اللهُ يُحِبُّ الصَّبِرِينَ وَ مَا كَانَ قَوْلَهُمْ إِلَّا أَنْ قَالُوا رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَ إِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَ ثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَ انْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَفِرِينَ فَاتْهُمُ اللهُ ثَوَابَ الدُّنْيَا وَ حُسْنَ ثَوَابِ الْآخِرَةِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
আর কত নবী ছিল, যার সাথে থেকে অনেক আল্লাহওয়ালা লড়াই করেছে। তবে আল্লাহর পথে তাদের উপর যা আপতিত হয়েছে তার জন্য তারা হতোদ্যম হয়নি। আর তারা দুর্বল হয়নি এবং তারা নত হয়নি। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে ভালোবাসেন। আর তাদের কথা শুধু এই ছিল যে, তারা বললো, 'হে আমাদের রব, আমাদের পাপ ও আমাদের কর্মে আমাদের সীমালঙ্ঘন ক্ষমা করুন এবং আমাদের পা দৃঢ় রাখুন, আর কাফের কওমের উপর আমাদেরকে সাহায্য করুন'। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে দিলেন দুনিয়ার প্রতিদান এবং আখেরাতের উত্তম সওয়াব। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন। ৫৭৮
ইবনে কাসীর রহ. বলেন, গাযওয়ায়ে উহুদে যেসব সাহাবী পিছু হটেছেন, এ আয়াত এবং পূর্বোক্ত আয়াতসমূহে আল্লাহ তাদের ভর্ৎসনা করেছেন। ৫৭৯
আল্লাহ তাআলা তাদের সামনে পূর্ববর্তী উম্মতের মুজাহিদদের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে বলেছেন, তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ক্ষেত্রে নিজেদের নবীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন। সে পথে চলতে গিয়ে তারা কখনও নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ করেননি। আহত হয়েও তারা যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ করেননি এবং শত্রুপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি; বরং যুদ্ধক্ষেত্রে তারা দৃঢ় ও অবিচল ছিলেন। উল্লেখিত আয়াতে মূলত ওই মুমিনদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যাঁরা রসূলুল্লাহ সা.-এর শাহাদাতের মিথ্যা প্রপাগান্ডা শুনে মানসিক দুর্বলতার শিকার হয়েছিলেন এবং যুদ্ধে দুর্বলতা-অলসতা প্রদর্শন করেছিলেন। তাই আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী যুগে দীনের জন্য আত্মোৎসর্গকারী ব্যক্তিদের বাণী উদ্ধৃত করেছেন যেন মুসলমানরা তা থেকে শিক্ষা অর্জন করেন এবং দৃঢ়তার সবক গ্রহণ করতে পারেন। ইরশাদ হয়েছে, 'হে আমাদের রব, আমাদের পাপ ও সীমালঙ্ঘন ক্ষমা করুন এবং আমাদের অবিচল রাখুন, আর কাফের কওমের উপর আমাদেরকে সাহায্য করুন।'
পূর্ববর্তী মুজাহিদরা দোয়ায় অপরাধ ও বাড়াবাড়ি নিজেদের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন অথচ তারা আল্লাহর বাহিনী ছিলেন। নিজেদের দুর্বলতাগুলো তারা নিজেদের দিকেই সম্পৃক্ত করেছেন। এমনিভাবে তারা শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দৃঢ়পদ থাকার দোআর আগে আল্লাহর দরবারে নিজেদের কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, যেন পাপমুক্ত হয়ে বিনয়ের সাথে আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করা সম্ভব হয়। এ থেকে এই উম্মতের শিক্ষা হচ্ছে, ক্ষমাপ্রার্থনা এবং তাওবা করতে হবে বিনয়ের সাথে। এসব গুণ অর্জনের প্রতিদান হিসেবে শত্রুদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য আসার সংবাদ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: 'অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে দিলেন দুনিয়ার প্রতিদান এবং আখেরাতের উত্তম সওয়াব। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন।৫৮০
মোটকথা, উপরোক্ত গুণের কারণে তারা ইহকাল ও পরকালে মুক্তি পেয়েছেন। এগুলো ইখলাসের প্রতিদান। এছাড়া মুজাহিদদের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পেশ করা উত্তম দৃষ্টান্ত হওয়াও ছিল তাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। ইহকালীন প্রাপ্তির বিবরণের পর পরকালীন প্রাপ্তির বিবরণের সময় তার চাইতেও উত্তম শব্দ ব্যবহার করেছেন। আল্লাহ তাআলা বুঝিয়েছেন যে, পরকালীন প্রাপ্তি তাদের জন্য ইহকালীন প্রাপ্তির চাইতেও উত্তম হবে। ৫৮১
টিকাঃ
৫৭৮ সূরা আলে ইমরান: ১৪৬-১৪৮।
৫৭৯ তাফসীরে ইবনে কাসীর: ১/৪১০।
৫৮০ সূরা আলে ইমরান: ১৪৮।
৫৮১ আল মুসতাফাদ মিন কাসাসিল কুরআন: ২/২০৪।